নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

https://www.facebook.com/profile.php?id=100011347907691

ছোবল নৃত্য

https://www.facebook.com/profile.php?id=100011347907691

ছোবল নৃত্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভালবাসা ও আমাদের প্রতারক হৃদয়ের প্রান্তিক দ্বন্ধ.

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:৫৮



ভালবাসা কী... ?? ......এর সঠিক তত্ত্ব উদঘাটনে বিজ্ঞানীরা আজো চেষ্টা করে যাচ্ছেন । কেউ বলেন শব্দটি হাবাব শব্দ থেকে উদ্ভুত হয়েছে । কারো মতে হুবুব থেকে, আবার কারো মতে হিব্বাব থেকে উদ্ভুত হয়েছে।

.. বিজ্ঞানীদের সামগ্রিক তথ্যের ভিত্তিতে আমরা যে অর্থ পাই তা হলো এটা এমন এক কামনা বা বাসনা যা প্রেমিক যুগলকে পারস্পরিক চিন্তায় মশগুল করে দেয়,এবং মন থেকে অন্যসব চিন্তা দূর করে দেয়।

..ভালবাসার স্বরুপ আমরা কিছুটা উপলব্ধি করতে পারি রাবেয়া বসরীর অশ্রুভেজা নয়নে তার প্রভুর কাছে হৃদয়নিংড়ানো এই আকুতির মাধ্যমে। তিনি বলেন……… “হে আমার প্রভু,আসমানের বুকে যখন তারকার মালা জ্বলমলিত,মানবের আখিঁ যখন মুদ্রিত,রাজবাড়ীর প্রাসাদ দ্বার যখন রুদ্ধ,প্রত্যেক পেমিক যখর তার প্রেমিকার সাথে নির্জন মিলনে তুষ্ট,এহেন রজনীতে ,হে আমার অন্তরযামী,আমি একাকিনী তোমারই সকাশে ”।

..আধুনিক গবেষক Z.Rubin বলেন, ভালবাসা হচ্ছে Caring, attachment, intimacy এ তিনটি শব্দের সমন্বয় । নানা প্রকার ভালবাসার মধ্যে রোমান্টিক প্রেম সবচেয়ে মধুর । কোমলতা ও যৌনতা উল্লাস ও বেদনা, উৎকন্ঠা ও নিশ্চিন্ততা মঙ্গলকামনা ও ঈর্ষার এক বিভ্রান্তিকর চিত্তাচ্ছন্নকারক অনুভুতরি নাম রোমান্টিক প্রেম ।

..প্রশ্ন হলো রোমান্টিক প্রেম এত আকর্ষনীয় কিন্তু এত বিভ্রান্তিকর কেন? টাইম ম্যাগাজিন The chemistry of love –scientist are discovering that romance is biological affair নামক একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করে ১৯৯৩ সালে ।সেখানে দেখানো হয় অ্যামফিটামিন,ডোপামিন,নোরপাইনাফ্রিন নামক পদার্থ মানব মানবীর মনে ভালবাসার বীজ উৎপাদন করে । সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন হলো ফেনিলিথাইলামিন নামক পদার্থ ।যাকে সংক্ষেপে পী বলা হয় ।

প্রেমিক প্রেমিকার মাঝে উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টির পিছনে পী সবচেয়ে বেশি কাজ করে থাকে । এতে যুগলরা একে অন্যকে দেখে বোকার মত হাসে আনন্দে আত্বহারা হয়, আবার একে অন্যের দ্বারা প্রতারিত হওয়ার ভয়ে সবসময় চিন্তাগ্রস্ত থাকে । কিন্তু কয়েক বছর পর শরীর আর পী নামক পদার্থটি সৃষ্টি করতে পারেনা । ফলে নারী পুরুষ ক্রমান্বয়ে একে অন্যের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে । তখন মস্তিষ্কে এনডরফিনস নামক পদার্থ প্রেমিক প্রেমিকার মাঝে প্রগাড় শান্তি,সাম্য,আর নিরাপত্তার অনুভুতির সৃষ্টি করে যা তাদেরকে বহু যুগ এক সাথে থাকতে সাহায্য করে ।ভালবাসার পরম প্রাপ্তি হলো নারী পুরুষ একে অন্যের সান্নিধ্যে থাকার সুযোগ পাওয়া । যার সমাজ স্বীকৃত পথ হলো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ।

ভালবাসা সম্পর্কে আলোচনার উদ্দেশ্য হলো, নারী ও পুরুষের বিবাহের উদ্দেশ্যই যে হলো ভালবাসা তা উম্মোচন করা ।তাই আমরা বলতে পারি ,ভালবাসাহীন বিবাহ অর্থহীন ।তাহলে প্রশ্ন হলো প্রবল ভালাবাসা থাকা সত্তে ও কেন নারী পুরুষ একে অন্যের সাথে প্রতারনা করে ? পরকীয়া করে কেন ??

...১৯৬৭ সালে ডেসমন্ড মরিস তার বিখ্যাত গ্রন্হ the Naked Ape জোর দিয়ে বলেছেন প্রানীর মধ্যে জোট বাধার অন্যতম কারন হলো তাদের প্রবৃত্তি ।এই প্রবৃত্তিই তাদেরকে কাছে টানে বা দূরে ঠেলে দেয় ।প্রতারনার কারন উদঘাটনে আমরা বিজ্ঞানীদের মতামত পরযালোচনা করে দেখতে পারি ……….

.বিজ্ঞানীরা বলেন,মানব সমাজের বিবর্তন ধারায় পুরুষের সুযোগ রয়েছে তার বীজকে দুর থেকে দুরান্তরে পৌছিয়ে দেয়ার ।আর মেয়েরা খোজে সংগী হিসেবে এমর পুরুষ যে তাকে দিতে পারবে সর্বোৎকৃষ্ট জীন ও ভবিষৎ সন্তানের জন্য সম্পদ । এই কুট কৌশলের ফলে নারী পুরুষের মাঝে শুরু হয় দ্বন্দ্ব যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভালবাসা । এতে একগামিতা বা বহুগামিতা,এক বিবাহ বা বহু বিবাহের পথ উম্মোচিত হয় । নৃবিজ্ঞানীরা ১১৫৪ টি মানব বিবর্তন ধারা পরযালোচনা করে বলেন ১১৫৪ টি ধারার মধ্যে ১০০০ টি ছিল শিকারী সংগ্রাহক সমাজ যারা ছিল বহুগামী । তারা পাখির উপর গবেষনা করে দেখালেন যে ৪০% পাখির জম্ম হয়েছে জুটি বন্ধনের বাহিরে । এর কারন সম্ভবত নারী পুরুষের হরমোন পরিবর্তন আর অবিশ্বাস।

...ডোনাল্ড সাইমনস ১৯৭৯ সালে তার বিখ্যাত গ্রন্হ The Evolution of Human Sexuality তে দেখিয়েছেন ,পুরুষ স্বভাবতই তার সংগীনিকে পরিত্যাগ করেনা বরং সে অন্য নারীতে বৈচিত্র খোঁজে ।আধুনিক বিশ্বে ও আমরা দেখতে পাই সমাজে অর্থ ও ক্ষমতার বৃদ্ধির সাথে সাথে পুরুষরা নিজ স্ত্রীর চেয়ে অন্য নারী থেকে তৃপ্তি নিতে বেশী পছন্দ করে ।কারন পুরুষের একেকটি বিজয় তার মাঝে টেসটোসটেরম হরমোন বাড়িয়ে দেয় যা তার যৌনক্ষুধা বাড়িয়ে দেয় ।ফলে সে অধিক নারীতে তৃপ্তি খোঁজে । বারাক ওবামা,বিল ক্লিনটন সহ পশ্চিমা নেতা বা ধনকুবদের জীবনের অন্তরালে প্রবেশ করলে দেখবেন কত শত নারী তাদের মনোরন্জনে ব্যাস্ত ।

...অন্যদিকে নারী খোজে এমন এক পুরুষ যে উৎকৃষ্ট সন্তান জম্ম দিতে পারবে এবং যার থাকবে অনেক সম্পদ ও মেধা । নারী যদি সেরকম পুরুষ না পায় তাহলে পরবর্তীতে সে রকম কাউকে পেলে তার সাথে সহবাস করে সন্তান জম্ম দিয়ে তা স্বামীর বলে চালিয়ে দিতে চায় ।



....সামগ্রিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি সমাজে ভালবাসা,বহুবিবাহ বা বহুগামিতা মানব সমাজ তার প্রকৃতিগত ভাবেই পেয়েছে যা তার পূর্বপুরুষের “জীন” দ্বারা প্রবাহিত হয়ে আসছে ।এক্ষেত্রে জীনের প্রভাব প্রতারনার জন্য বহুলাংশে দায়ী ।ফলে সমাজে ভালবাসা ও আসবে আবার তা ভাঙ্গার প্রবনতা ও থাকবে । এই অবস্হায় সমাজ বা মানব সভ্যতা বহুবিবাহ প্রথা (যা সর্বোচ্ছ ৪ টি বিয়ে শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন করে ) গ্রহন করবে নাকি প্রথাবদ্ধ এক স্ত্রী রেখে শত নারী বা পুরুষগমনকে গ্রহন করবে তা এখন বিবেচ্য বিষয়। তবে এটা মনে রাখতে হবে , প্রকৃতি তার দেয়া নিয়মের বাহিরে গেলে প্রতিশোধ নিতে কখোনই ভুল করেনা ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.