| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
খায়রুল আহসান
অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।
আমার সর্বশেষ পাসপোর্টটি করেছিলাম ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। ততদিনে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা শুরু হয়ে গিয়েছিল। ই-পাসপোর্টের অন্যতম একটি বাড়তি সুবিধে ছিল এই যে চাইলে সেটা একসাথে দশ বছরের জন্য ইস্যু করিয়ে নেয়া যেত। আর পাসপোর্টের মেয়াদ দশ বছরের জন্য কার্যকর থাকলে কিছু কিছু দেশ ভিসাও দিত দশ বছরের জন্য, অথবা যতদিন পাসপোর্টের মেয়াদ কার্যকর থাকে, ততদিনের জন্য। অর্থাৎ একসাথে দু’তরফা শ্রম, সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের একটা সুযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তাই আমি উৎফুল্ল হয়ে দশ বছরের মেয়াদের জন্যই অনলাইনে আবেদন করে, আবেদন ঠিকমত করা হয়েছে কিনা তা দেখানোর জন্য পাসপোর্ট অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানে একজন স্টাফ আমার আবেদনপত্রটি পরীক্ষা করে কিছুটা কর্কশ স্বরেই আমাকে জানালো, “আপনি দশ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট পাবেন না”। কেন তা পাব না জিজ্ঞেস করলে সে উত্তর দিল, “কারণ আপনার বয়স ৬৫ এর বেশি”। উল্লেখ্য, তখন আমার বয়স ছিল ৬৬ বছর হতে ঠিক তিন মাস কম। ৬৫+ ব্যক্তিগণকে দশ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট প্রদান করতে কেন সরকারের আপত্তি থাকবে সে কথাটা আর তাকে জিজ্ঞেস করলাম না। তবে নিজের কাছে মনে হলো তাদেরকেই এ সুবিধেটুকু সর্বাগ্রে প্রদান করা উচিত, কারণ বয়সের কারণে চলাফেরা করতে, পাসপোর্ট অফিসে যাতায়াত করতে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে তাদেরই বেশি অসুবিধে হবার কথা। যাহোক, বিফল মনোরথে মনে মনে এর কারণসমূহ অনুসন্ধান করতে করতে যখন বাড়ি ফিরে আসছিলাম, তখন অনুভব করলাম, এর কারণগুলো অহেতুক বৈষম্যমূলক, তাই আমার আর জানতে ইচ্ছে করছে না। ওগুলো না হয় যে যেভাবে ভাবে, ভাবুক।
সেই পাসপোর্টটির মেয়াদ শেষ হবে আর মাত্র মাস দেড়েক পর। তাই পুনরায় একটি নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করানোর জন্য অফলাইনে একটি আবেদনপত্র পূরণ করে গতকাল আবার একই পাসপোর্ট অফিসে গিয়েছিলাম। গতবারের অভিজ্ঞতার আলোকে এবারে ৫ বছরের মেয়াদের জন্যই আবেদন করেছিলাম। কিন্তু এবারের অভিজ্ঞতাটা একটু বিপরীত ধরণের ছিল। এবারে যার কাছে গেলাম, সে এবং তার অন্যান্য সহকর্মীরা সবাই আমাকে একজন সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে যথেষ্ট সম্মান দিল। আমার কাগজপত্রে কিছু ঘাটতি ছিল। সেগুলো আনতে গেলে আমাকে পুনরায় বাসায় গিয়ে নিয়ে আসতে হতো। কম্পিউটারের কাজ করে, এমন দোকানে গিয়ে কিছু কাগজ প্রিন্ট ও ফটোকপি করতে হতো। আমার অসুবিধার কথা ভেবে সে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার আমাকে দেখিয়ে বললো, স্যার, আপনার ফোনে যদি ঐ কাগজগুলোর কোন সফট কপি থাকে তবে এই নম্বরটাতে পাঠিয়ে দেন, আমি কপি করে নিব। সৌভাগ্যক্রমে আমার সেলফোনে সেগুলো ছিল, তাই আমি খুঁজে বের করে সেগুলো পাঠিয়ে দিলাম। সে পরবর্তী যা করণীয় ছিল, তা করে নিলো।
আমার কাগজপত্রগুলো গুছিয়ে সে শেষবারের মত তার উপর একবার চোখ বুলিয়ে নিচ্ছিল। কাগজগুলো দেখতে দেখতে সে আমাকে বললো, “স্যার, আপনার তো বয়স হয়েছে। ৫ বছর পরপর পাসপোর্ট অফিসে যাতায়াত করতে তো নিশ্চয়ই অসুবিধে হয়। আপনি ৫ বছরের জন্য আবেদন করেছেন কেন, আপনি তো চাইলে ১০ বছর মেয়াদের জন্য আবেদন করতে পারতেন”। আমি তখন তাকে বললাম, “গতবার করেছিলাম, কিন্তু বয়স ৬৫+ হবার কারণে আমাকে দেয়া হয়নি”। তখন সে বললো, “এখন আর সে বিধিনিষেধ নেই, এখন আপনি চাইলে ১০ বছরের জন্য আবেদন করতে পারেন”। যাদের বোধোদয়ের কারণে সরকারের এই নীতির পরিবর্তন হয়েছে, মনে মনে তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আমি তাকে বললাম, “সেটা করতে হলে কি আমাকে পুনরায় নতুন করে ফর্ম পূরণ করতে হবে”? সে বললো, “না স্যার, আপনি ব্যাংকে গিয়ে দশ বছরের জন্য নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করে চালান নিয়ে আসুন, আমি অনলাইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে নিচ্ছি”। আমি অবিলম্বে ব্যাংকের পথে রওনা হলাম।
গতবার ব্যাংকের কাজটা করেছিলাম ট্রাস্ট ব্যাংক এর প্রধান শাখা থেকে। সেবারে কাজটা কোন লাইন ছাড়াই খুব সহজে হয়েছিল বলে এবারেও সেখানেই গেলাম। কিন্তু এবারে বিধি বাম! যে মহিলা এ কাজটা করেন, তিনি বিনয়ের সাথে আমাকে জানালেন যে সেই মুহূর্তে তাদের সার্ভার ডাউন ছিল। কখন সেটা ঠিক হবে তা বলা যাচ্ছে না। কাজটি যদি জরুরী হয়ে থাকে, তবে আমি যেন নিকটস্থ সোনালী ব্যাংক থেকে কাজটি করিয়ে নেই। আমি তাকে বললাম, “রাস্তায় গাড়ি থেকে দেখলাম যে সোনালী ব্যাংকের ইমারত ভেঙে ফেলার কাজ চলছে। ব্যাংকটির নতুন লোকেশন কোথায়, তা আমি জানিনা”। উনি আমাকে নতুন লোকেশন জানালেন। ভাগ্যক্রমে সেটা অতি নিকটেই ছিল। আমি পায়ে হেঁটেই সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজটুকু করে আনলাম। তারপর বাসায় এসে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে পুনরায় পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ব্যাংকের চালান জমা দিয়ে ছবি তোলার জন্য লাইনে অপেক্ষমান থাকলাম। ছবি তোলার পর ফাইনাল চেকিং এর জন্য সংশ্লিষ্ট স্টাফ ইম্প্রিন্টেড ছবিসহ ফর্মটা আমাদের হাতে দিয়ে পুনরায় সকল তথ্য পরীক্ষা করে নিতে বললো। আমি দেখলাম যে সকল তথ্য ঠিক আছে, তবে এটাও লক্ষ্য করলাম যে আমার স্ত্রীর ছবিটা স্পষ্ট, স্বচ্ছ ও সুন্দর এসেছে, আমারটা অস্পষ্ট ও আবছা। একটু হাল্কা রসিকতা করে তাকে বললাম, ম্যাডামের ছবিটা এত সুন্দর এসেছে, আমারটার এই অবস্থা কেন”? সে হেসে বললো, “স্যার, আসলে আপনারটা আরও সুন্দর হয়েছে। আমার প্রিন্টারে কালি কমে এসেছে বলে এ রকম দেখাচ্ছে। সফট কপিতে সবকিছু ঠিক আছে, আপনার ছবির কোয়ালিটি খুব ভালো এসেছে। যারা পাসপোর্ট প্রিন্ট করবে, তাদের প্রিন্টারের মান ভালো। তাদের প্রিন্টে এটা ভালো আসবে”। এই বলে সে সফট কপিটা দেখালো; আমি সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ধন্যবাদ জানালাম। বেলা চারটা নাগাদ পাসপোর্ট অফিসের সব কাজ শেষ করে বাসার পথে রওনা হলাম। এক অনিশ্চয়তা, দুশ্চিন্তা ও কাগুজে কর্মযজ্ঞের অবসান হলো। এবারে নতুন পাসপোর্ট হাতে পাবার পালা।
জীবনটা কত দ্রুত বয়ে যায়! মনে হচ্ছে চোখের পলকেই যেন শৈশব থেকে বার্ধক্যে পৌঁছে গেছি। অথচ এটাও মনে হচ্ছে, সামনের দশটা বছর চোখের পলকে যাবে না। সেটা হতে পারে আমার জন্য দীর্ঘ এক পথ। গতবারে দশ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে না পেরে মন খারাপ হয়েছিল। এবারে তা করতে পেরে খুব যে উৎফুল্ল হয়েছি, সেটাও ভাবতে পারছি না, কারণ মনে সে রকমের কোন অনুভূতি নেই। আগামী দশ বছরে এ পাসপোর্টটি কতবার ব্যবহার করতে পারবো, জানিনা। তবে পাসপোর্ট প্রাপ্তির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলের যে অকুণ্ঠ সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছি, তা বাকি সারাটা জীবন কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণে রাখবো। পাসপোর্ট হাতে পাবার পর শুরু হবে ভিসার জন্য আবেদনের প্রস্তুতি। নিজ দেশের বাইরে অন্য যে কোন বহির্দেশে যেতে হলে প্রত্যেকবারই তো পাসপোর্ট ও ভিসার প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি মানুষের জন্ম থেকেই প্রত্যেকের জন্যই তার চক্ষুর অগোচরে অনন্তলোকের উদ্দেশ্যে যাত্রার জন্য ভিসাহীন এক অদৃশ্য পাসপোর্ট তৈরি হয়েই থাকে। কার জন্য কোন পাসপোর্টটি আগে ব্যবহৃত হবে, সেটা জানা থাকে একমাত্র অন্তর্যামীর, কোন পাসপোর্ট কর্মকর্তা বা শাসনকর্তার নয়। সুতরাং, যার বয়স যতই হোক, শুধুমাত্র বয়সের কারণে পাসপোর্ট প্রদানে কোন বৈষম্য রাখাটা একেবারেই অনুচিত। পূর্বের এই অনভিপ্রেত বৈষম্য দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।
ঢাকা
২৭ জুলাই ২০২৬
শব্দসংখ্যাঃ ৯৭২
২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:১৩
খায়রুল আহসান বলেছেন: ভালো ও মন্দ, উভয় প্রকার মানুষের জন্য আপনার শুভকামনাটাও খুব সুন্দর হয়েছে। +
পোস্টে প্রথম মন্তব্যটি দিয়ে উৎসাহ ও প্রেরণা রেখে গেলেন, এজন্য অশেষ ধন্যবাদ।
২|
২৮ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১
নতুন নকিব বলেছেন:
চমৎকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন। অশেষ মোবারকবাদ। আপনার সুস্থ এবং দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করছি।
২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১০
খায়রুল আহসান বলেছেন: লেখাটা পড়ার জন্য এবং পড়ে পোস্টে মন্তব্য ও 'লাইক' রেখে যাবার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
শুভকামনার জন্য কৃতজ্ঞতা।
৩|
২৮ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২১
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: যার বয়স যতই হোক, শুধুমাত্র বয়সের কারণে পাসপোর্ট প্রদানে
কোন বৈষম্য রাখাটা একেবারেই অনুচিত।
.......................................................................................
আমাদের দেশে কোন একটি কাজ করতে গেলে বিশেষজ্ঞর পরামর্শ
নেয়া হয়না । ফলে এতসব কষ্ট পেতে হয় । আমি যেদিন জানলাম
১০ বৎসর মেয়াদী পাসপোর্ট হচ্ছে, বিলম্ব না করে পরিবারের সবার
পাসপোর্ট করায়ে নিয়েছি ।
.........................................................................................
আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ !
৩০ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৫৪
খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনি ঠিক কাজটিই করেছিলেন।
আমাদের দেশে ছোট্ট একটি কাজের জন্যেও কোন সরকারি অফিসে যেতে হলে অনেক বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হয়। তবে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হচ্ছে বলে মনে হয়।
মন্তব্যের জন্যে আপনাকেও ধন্যবাদ।
৪|
২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:০০
গোবিন্দলগোবেচারা বলেছেন: পৃথিবীতে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি দেশ এখনো মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ইস্যু করে বাকি সমস্ত দেশ বেশ ইতোমধ্যে বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট ইস্যু করে আসছে। মানুষের হাতের ছাপ আইরিশ স্ক্যান এগুলো পরিবর্তন হয় না বলে বায়োমেট্রিক পাসপোর্টে কোন মেয়াদ দিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক । পৃথিবীর সব দেশেই আমলারা মানুষকে জিম্মি করে রাখতে চায়, এই জন্যই মনে হয় পাসপোর্টে মেয়াদ দিয়ে রাখা হয়।
আপনার সকল রকমের যাত্রা সহজ আনন্দদায়ক নির্বিঘ্ন হোক এই কামনা করি।
৩০ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৩০
খায়রুল আহসান বলেছেন: "এগুলো পরিবর্তন হয় না বলে বায়োমেট্রিক পাসপোর্টে কোন মেয়াদ দিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক" - জ্বী, সেটাই হওয়া উচিত। আর দিলেও ন্যূনতম দশ বছরের মেয়াদ সবার জন্যই হওয়া উচিত। একজন মানুষ বয়স্ক (৬৫+) হলেই তাকে দশ বছরের মেয়াদের জন্য পাসপোর্ট্ না দেয়ার পেছনে যুক্তি কী? ভাবখানা যেন এই যে ব্যাটা তো ৫ বছরের মধ্যেই পটল তুলতে পারে, তাই তাকে দশ বছরের মেয়াদের জন্য পাসপোর্ট্ দেয়া মানে সরকারি সম্পদের অপচয় মাত্র!
৫|
২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০২
করুণাধারা বলেছেন: ই- পাসপোর্ট করা নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা পড়ে ভালো লাগলো। পঁয়ষট্টির বেশি বয়সীদের দশ বছরের পাসপোর্ট দেয়া যাবে না, এই উদ্ভট নিয়ম কার মাথা থেকে বের হয়েছিল জানিনা। কিন্তু পরবর্তীতে এটা বাতিল করা হয়েছে বলে শুনেছিলাম। ই- পাসপোর্ট করতে গিয়ে পাসপোর্ট কর্মকর্তাদের বানানো এক নিয়মের বেড়াজালে পড়ে আমার খুব কষ্টকর অভিজ্ঞতা হয়েছিল। আপনার পোস্ট পড়ে মনে পড়ল সেটা।
প্রথম এমআরপি করতে যাই ২০১০ সালে। তখন এমআরপি নতুন চালু হয়েছে এবং এর দায়িত্ব ছিল আর্মির কাছে এবং ফলে খুব সহজেই পাসপোর্ট করতে পেরেছিলাম। এরপর ২০২১ সালের নভেম্বরে আমার স্বামীর চিকিৎসার জন্য বাইরে যাবো, পাসপোর্ট রিনিউ করতে গিয়ে দেখলাম ই-পাসপোর্ট করতে হবে। আমি সমস্ত নিয়ম কানুন ভালোভাবে দেখে অনলাইনে আবেদন করলাম, আবেদনের প্রিন্ট আউট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নির্দিষ্ট দিন সকাল ৯ টায় আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে গেলাম। নির্দেশনা ছিল, এমআরপিতে দেয়া সমস্ত তথ্য অবিকৃত রাখতে হবে, কারণ এগুলো সংরক্ষিত আছে। আমি তাই সেই তথ্য অপরিবর্তিত রেখে পাসপোর্ট এর ফরম পূরণ করেছিলাম।
সকাল নয়টায় লাইনে দাঁড়িয়ে, পাসপোর্ট অফিসের একতলা থেকে পাঁচ তলা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় কয়েকবার সমস্ত কাগজপত্র চেক করিয়ে যখন ছবি তোলা/বায়োমেট্রিকের জন্য পাঁচ তলায় আসলাম তখন শুনলাম লাঞ্চ টাইম বলে কাজ বন্ধ। দুই ঘণ্টা প্রচন্ড ভিড়ে ঠাসা এক ঘরে আঁকাবাঁকা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলাম, চারটার সময় আমার আমার ডাক পড়ল। ছবি তোলা ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়া শেষে কর্মকর্তা আমার কাগজ পরীক্ষা করে বললেন আমার ঠিকানা ভুল আছে, (৩০ নাকি ৪০) ক্যারেক্টারের বেশি ক্যারেক্টার সম্পন্ন ঠিকানা হলে সেই ঠিকানা ই- পাসপোর্টে দেয়া যাবে না। আমি বললাম, নির্দেশনা অনুযায়ী এমআরপিতে দেয়া ঠিকানাই হুবহু আমি দিয়েছি, এমন নির্দেশনা কোথাও পাইনি যে ৩০/৪০ ক্যারেক্টারের মধ্যে ঠিকানা রাখতে হবে। তিনি খুব রেগে গিয়ে বললেন, আমার সাথে তর্ক করার মত সময় তার নেই, বাইরে অনেক মানুষ অপেক্ষা করছেন। তিনি ঘষঘষ করে আমার ঠিকানার কিছু অংশ কেটে ছোট একটা ঠিকানা বানিয়ে সেটা তার কম্পিউটারে এন্ট্রি করলেন, আমাকে রিসিট ধরণের কিছু দিলেন। আমি জানতে পারলাম না তিনি তাড়াহুড়া করে আমার ঠিকানা কী বানালেন!
কয়েকদিন পর থানা থেকে আমার নম্বরে ফোন করে আমার ঠিকানা জেনে নিয়ে একজন পুলিশ দেখা করতে আসলেন। তিনি জানালেন, পাসপোর্টের জন্য আমি ভুল ঠিকানা দিয়েছি, পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে যেন এটা ঠিক করে আসি।
পরবর্তী দেড় মাস ধরে শুরু হলো আমার পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ধর্ণা দেয়া। মনে হচ্ছিল আমি অনেক বড় অপরাধ করে ফেলেছি। পাসপোর্ট অফিসের এক জায়গায় গেলে সেখান থেকে আরেক জায়গায় পাঠানো হতো, আমি বারবার তাদের বোঝাতে চাইতাম যে আমি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন অন্যায় করিনি। আমি বলতাম যে আমার এই ঠিকানা তাদের কর্মকর্তাই বানিয়েছেন। আমি যে অনলাইনে যে ফরম ফিলাপ করেছিলাম সেখানে যে ঠিকানা দিয়েছিলাম সেটা দেখাতাম, কিন্তু তাতে কোনও লাভ হলো না। তাদের এক কথা, এত বড় ঠিকানা দেবার নিয়ম নেই ই-পাসপোর্টে। কেউ কেউ আমাকে জানালেন, রাষ্ট্রের কাছে মিথ্যা তথ্য দেবার কারনে আমাকে পাসপোর্ট দেয়া দূরের কথা, আমার শাস্তিও হতে পারে। আমি বিভিন্ন লোকের সাথে দেখা করে অনুরোধ করলাম, এমনকি সর্বোচ্চ পদাধিকারীর সাথে দেখা করেও অনুরোধ করলাম আমার জন্য পাসপোর্ট করার একটা ব্যবস্থা করতে, কারণ আমার এটা খুবই প্রয়োজন। তিনি বললেন, নিয়ম অনুযায়ী, আমাকে পাসপোর্ট দেয়া সম্ভব না।
এই দীর্ঘ সময়ে ক্রমাগত বিফল চেষ্টার পর আমার ব্লাড প্রেসার বেড়ে গেল এবং ভার্টিগো শুরু হল। পাসপোর্টের আশা ছেড়ে আমার স্বামীকে দেশেই ডাক্তার দেখাতে লাগলাম, নিজে তো অসুস্থ হয়ে পড়েছিলামই। এরকম একদিন সন্ধ্যাবেলা পত্রিকা পড়তে গিয়ে দেখি একটা রিপোর্ট বের হয়েছে ২৮/২৯ বছরের একজন তরুণীকে পাসপোর্ট দেয়া হয়নি কারণ তার একটা চোখ কৃত্রিম এবং "নিয়মানুযায়ী" তা স্ক্যান করা যায়নি বলে। উচ্চশিক্ষিতা এবং দায়িত্বশীল পদে কর্মরতা, এমআরপি পাসপোর্টধারী এই তরুণী পাসপোর্ট অফিসের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেস করার পর তাঁকে পাসপোর্ট দেয়া হয়। খবরটা পড়ার পর আমি পত্রিকার ফোন নাম্বার বের করে তারপর সেই খবরের রিপোর্টারের সাথে যোগাযোগ করলাম। তাকে জানালাম আমার দুর্দশার কথা। তিনি বললেন তিনি আমাকে সাহায্য করার চেষ্টা করবেন এবং আমার সমস্ত ডিটেইলস জেনে নিলেন। আমি তাঁর উপর ভরসা করতে পারিনি, কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি পরদিন রাতে আমাকে ফোনে জানালেন, তার পরেরদিন সকালবেলা গিয়ে যেন আমি পাসপোর্ট অফিসের সর্বোচ্চ পদাধিকারীর সাথে দেখা করি, (তাঁর রেফারেন্স দিয়ে)। পরদিন দেখা করতে গেলাম, তিনি জানতে চাইলেন কি সমস্যা, আমি জানালাম, যেমন আগে জানিয়েছিলাম। কিন্তু এবার উনি আমাকে 'আপনি কী ঠিকানা রাখতে চান সেটা কাগজে লিখে দিন' বলে এক টুকরা কাগজ বাড়িয়ে দিলেন। এমআরপিতে লেখা ঠিকানা লিখে দেবার পর একজন লোক ডেকে তিনি সেই ঠিকানা লেখা কাগজটি তাঁকে দিয়ে বললেন আমার পাসপোর্ট রেডি করে দিতে। পরের দিনেই আমি পাসপোর্ট পেয়ে গেলাম, ঠিকানায় কাটছাঁট ছাড়াই ...
অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, আমার ছেলে মেয়েরা এই একই ঠিকানা দিয়ে কোন ঝামেলা ছাড়াই ই-পাসপোর্ট পেয়েছে, পরবর্তী সময়ে এবং অন্য দেশে! আমার সাথে কেন এমন করা হলো তার কোন ব্যাখ্যা পাইনি। সম্ভবত মাঝে মাঝে ক্ষমতাশালীরা ক্ষমতার দাপট দেখান।
২০২১ সালে অনলাইনে আবেদন করার পরে অনেকগুলো কাগজপত্র এটেস্টেড করে নিয়ে যেতে হতো, পুলিশ ভেরিফিকেশন হত তখন, এবং দালালেরা দাপটের সাথে কাজ করত। এখন এগুলো করা লাগেনা তাই পাসপোর্ট করতে গিয়ে ঝামেলা কমেছে। তবে আপনার পোস্ট পড়ে মনে হচ্ছে, পাসপোর্ট অফিসের মানুষজন এখন পাসপোর্ট প্রার্থীদের হয়রানি না করে প্রকৃতভাবে সেবা করছেন।
আরো পাঁচ বছর বেঁচে থাকলে হয়তো আরেকটি পাসপোর্ট করতে পারি। আশাকরি তখন আপনার মতই এমন সন্তোষজনক অভিজ্ঞতা হবে।
দুঃখিত, সুযোগ পেয়ে নিজের দুঃখের কাহিনী এই দীর্ঘ মন্তব্যে বলে ফেললাম! আশাকরি বেশি বিরক্ত হবেন না!
৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৪৮
খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার এই নিদারুন ভোগান্তির কথা জেনে খারাপ লাগল।
যাক, আপনার বয়স ৬৫ এর (অনেক?) কম হওয়াতে বোধকরি সে যাত্রায় ভোগান্তি হলেও দশ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট টা হাতে পেয়েছিলেন। নতুবা এই আসছে নভেম্বরের আগেই পুনরায় আপনাকে নতুন করে যুদ্ধযাত্রায় অবতীর্ণ হতে হতো। সেই উদ্ভট নিয়মটা ইতোমধ্যে বাতিল হয়েছে বলেই আমি এবারে দশ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট এর অধিকারী হতে পারলাম।
"আমার সাথে কেন এমন করা হলো তার কোন ব্যাখ্যা পাইনি" - উনি এবং ওনাদের অনেকেই মনে করেন, ওনারা কাউকেই কোন প্রকার ব্যাখ্যা প্রদান করতে বাধ্য নন। অবশ্য ব্যতিক্রম তো আছেই।
"তবে আপনার পোস্ট পড়ে মনে হচ্ছে, পাসপোর্ট অফিসের মানুষজন এখন পাসপোর্ট প্রার্থীদের হয়রানি না করে প্রকৃতভাবে সেবা করছেন" - এবারে আমি ওয়ান টু অল, সকলের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা পেয়েছি, যা বাংলাদেশের মানদণ্ডে অবিশ্বাস্য।
"আশাকরি তখন আপনার মতই এমন সন্তোষজনক অভিজ্ঞতা হবে" - আমিও সেটাই আশা ও কামনা করছি।
পরিশেষে, বিরক্ত হবার প্রশ্ন আসে না; বরং আপনার দুঃসহ অভিজ্ঞজ্ঞতার কথা জেনে নিজেকে এখন বড়ই সৌভাগ্যবান মনে করছি।
৬|
২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৯
জুন বলেছেন: @ করুনাধারা ওরা মনে করে ৬৫ বছর অথবা টাইনা টুইনা ৬৭/৬৮তেই জনগণ মরে সাফ হবে। তাই দশ বছরের জন্য দেয়ার কি দরকার
আমার অবশ্য ই- পাসপোর্ট দশবছর মেয়াদী
০১ লা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:০২
খায়রুল আহসান বলেছেন: যাকে উদ্দেশ্য করে লিখা হয়েছে এ মন্তব্যটি, আশাকরি তিনি পুনরায় এ পোস্টে আসলে এর উত্তর দিয়ে যাবেন।
৭|
২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:০৭
মেহবুবা বলেছেন: সরকারী ব্যবস্থাপনায় অনেক ক্ষেত্রে নানা অসংগতি। মানুষের দুর্ভোগ।
কদিন আগে আমার ছেলের পাসপোর্ট নবায়ন করতে গিয়ে দেখেছি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা উমরাতে যাবেন, পাসপোর্ট নবায়ন করতে গিয়েছেন; ওনাকে অনেকটা সময় বসে থাকতে হোল তারপর ঠিকমত না বোঝার কারনে উনি কোন একটা জাগজ আনেননি বলে ওনাকে ফিরে যেতে হোল। আমি প্রতিবাদ করিনি কারন আমার পায়ে ব্যথায় একটু কষ্ট পাচ্ছিলাম তখন। স্বার্থপরের মত নিজেদের কাজ গুছিয়ে চলে এলাম। তবে সেই বয়োজ্যেষ্ঠ ভদ্রলোকের জন্য খারাপ লাগছিল।
০১ লা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮
খায়রুল আহসান বলেছেন: বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সৌজন্য, সম্মান ও ভালোবাসা আমি স্বদেশে না যতটা, বিদেশে পথে ঘাটে অজানা, অচেনা মানুষের কাছে তার চেয়ে অনেক বেশি পেয়েছি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, তাদের কাছ থেকে সেটা অতটা আশা করিনি বলেই হয়তো অনেক বেশি মনে হয়েছে। নিজেদেরটা অনেকটা দাবীর মধ্যে পড়ে, তাই না পেলে সেটা বড় বেশি বাজে।
৮|
২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৩০
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: বাংলাদেশে সরকারি অফিসগুলোতে কাজ কখনোই ঠিক মতো হতে দেখিনি। তবে আপনার লিখা পড়ে কিছুটা হলেও আশার বাণী শুনতে পেলাম মনে হলো। প্রতিবারই বাংলাদেশে আসার সময় মনটা বেশ উৎফুল্ল হয়ে থাকে তবে সে উচ্ছ্বাস কমে যেতে শুরু করে বাংলাদেশের এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করার পর থেকেই।
আমেরিকায় পাসপোর্ট করাতে ঝামেলা নেই বললেই চলে। পোস্ট অফিসে গিয়ে ছবি আর প্রয়োজনীয় ফর্ম ফিলাপ করে পাঠিয়ে দিলেই হলো। সময়মতো বাসায় পাসপোর্ট ডেলিভারী দিয়ে যায়। ঝামেলা হয় আমেরিকায় বাংলাদেশের কনস্যুলেটে গিয়ে ভিসার (এন.ভি.আর.) জন্য পাসপোর্ট দিয়ে আসাতে। এটা লাগবে ওটা লাগবে, কাহিনীর শেষ নেই। আমার পাসপোর্টের মেয়াদও শেষ হয়ে আসছে। কিভাবে দশ বছর পেরিয়ে গেল বুঝতে পারিনি। খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ ছাড়তে হবে ভেবে কিছুটা মন খারাপ লাগছে বৈ কি! তবে আবারো ফিরে আসবো কোন একদিন এ আশাতেই থাকছি আপাতত। আপনার সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি। ধন্যবাদ।
০১ লা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪
খায়রুল আহসান বলেছেন: "তবে আপনার লিখা পড়ে কিছুটা হলেও আশার বাণী শুনতে পেলাম মনে হলো" - ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে একটা আশার বাণী ছড়িয়ে দিতেই আমিও এ লেখাটি লিখেছি।
আপনি আর কতদিন দেশে থাকবেন?
৯|
৩০ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯
রাজীব নুর বলেছেন: সময় খুব দ্রুত যায়। খুব দ্রুত।
আমার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ। রিনিউ করতে হবে।
০১ লা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৮
খায়রুল আহসান বলেছেন: "সময় খুব দ্রুত যায়। খুব দ্রুত।" - হুম্ম!
১০|
৩১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
মালয়েশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশ যখন এমআরপি পাসপোর্ট চালু করে তখন মালয়েশিয়ার মানুষ ই পাসপোর্ট ব্যবহার করছিল। অথচ বাংলাদেশ তখন ই পাসপোর্টে না গিয়ে এমআরপি তে গেল।
জনগণের টাকার অপচয় এক মাত্র বাংলাদেশেই করা সহজ।
০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:০৩
খায়রুল আহসান বলেছেন: "জনগণের টাকার অপচয় এক মাত্র বাংলাদেশেই করা সহজ" - কারণ, এখানে জবাবদিহিতার কোন সুদৃঢ় ব্যবস্থা নেই। এমনকি জাতীয় সংসদেও তেমন নেই।
১১|
৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৩
কাছের-মানুষ বলেছেন: আমি অফলাইনে পড়েছিলাম লেখাটা কিন্তু তখন মন্তব্য করা হয়ে উঠেনি।
এর আগেরবার আপনাকে কেন ১০ বছরের জন্য পাসপোর্ট দেয়নি অবাক হয়েছিলাম !
যাইহোক এবার সব কিছু ভাল মত হয়েছি শুনে খুশি হলাম। পাসপোর্ট নাগরিক অধিকার সবারই নির্বিঘ্নে পাওয়ার অধিকার আছে!
১২|
০১ লা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৯
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
পাসপোর্ট অবশ্যই দশ বছর মেয়াদের হতে হবে। পাসপোর্ট জনিত সমস্যায় পাসপোর্ট অফিসের যে কোনো একজন ডিরেক্টরের সাথে দেখা করবেন। আপনার সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ভালো মানুষগুলো দীর্ঘজীবী হোক, যেন তারা অন্য মানুষের সেবা করতে পারে।
খারাপ মানুষগুলোও দীর্ঘজীবী হোক, যেন তারা ভালো হবার জন্য যথেষ্ট সময় পায়।
সুন্দর একটা পোস্ট। খুব ভালো লাগলো স্যার।