নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

করুণাধারা

করুণাধারা

জীবন যখন শুকাইয়া যায় করুণাধায় এসো

করুণাধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

ডায়োজেনিস সিন্ড্রম

০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:০১



ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর

আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে পারি Diogenes syndrome সম্পর্কে।

গত কয়েকদিন ধরে যে মায়ের মৃত্যু নিয়ে সরব হয়ে আছে মিডিয়া এবং সামাজিক মাধ্যম, সেই মায়ের ঘরের ছবি দেখে আবার মনে পড়লো Diogenes syndrome এর কথা। ঘরের ছবি দেখে মনে হয়েছে সেই মা Diogenes syndrome এ ভুগছিলেন।view this link

গুগলকে প্রশ্ন করার পর Diogenes syndrome সম্পর্কে যা জানায় তা কপি- পেস্ট করে দিলাম নিচে:

মানুষের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার এই অবস্থাকে চিকিৎসা ও মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ডায়োজেনিস সিনড্রোম (Diogenes syndrome) বলা হয়। এটিকে অনেক সময় 'সেনাইল স্কোয়ালর সিনড্রোম' বা 'হোর্ডিং ডিসঅর্ডার'-এর একটি চরম পর্যায়ও বলা হয়ে থাকে।

এটি মূলত একটি আচরণগত ব্যাধি। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১) চরম আত্ম-অবহেলা: আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে পড়েন। তারা নিয়মিত গোসল করেন না, অপরিচ্ছন্ন পোশাক পরেন এবং খাওয়া-দাওয়ারও কোনো যত্ন নেন না।

২) অপরিচ্ছন্ন বাসস্থান: ঘরবাড়ি অত্যন্ত নোংরা, অগোছালো ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রাখেন এবং ময়লা-আবর্জনা জমিয়ে রাখেন।

৩) সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন এবং পরিবার বা বন্ধুদের থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নেন।

৪) সমস্যা অস্বীকার করা: নিজের এই নোংরা জীবনযাপন সম্পর্কে তাদের মধ্যে কোনো লজ্জা বা সমস্যাবোধ থাকে না। কেউ সাহায্য করতে বা পরিষ্কার করতে চাইলে তারা তীব্র বাধা দেন।

গ্রিক দার্শনিক ডায়োজেনিসের নামানুসারে এই সিনড্রোমের নামকরণ করা হয়েছে, কারণ তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে ও ন্যূনতম সুবিধায় জীবনযাপন করতেন। এই অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে Wikipedia এবং Healthline দেখুন। এটি সাধারণত বিষণ্নতা, ডিমেনশিয়া, বা মানসিক আঘাতের (trauma) কারণে বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।


এই সবগুলো বৈশিষ্ট্যই দেখা যায় আমার সেই আত্মীয়র মধ্যে। তিনি নিজের বিশাল এপার্টমেন্টে থাকেন একাকী, তিনি অকৃতদার। তার বয়স এখন ৭৭ বছর, তিনি কোন কাজের লোক রাখেন না। ফলে তাঁর বাসস্থান অপরিচ্ছন্ন (বৈশিষ্ট্য ২)। পাড়া-প্রতিবেশী আত্মীয়-স্বজন কেউ তার ঘরে ঢুকতে পারে না। একসময় আত্মীয়দের সাথে যাতায়াত ছিল। গত চার বছর ধরে সেই যাতায়াত কমতে কমতে এখন একেবারে বন্ধ, কাউকেই বাসায় ঢুকতে দেন না (বৈশিষ্ট্য ৩)।

অথচ এই বাসাটি এক সময় বেশ সাজানো গোছানো ছিল। তারপর একসময় দেখা গেল ঘর ভরে গেছে জঞ্জাল দিয়ে। পলিথিনের প্যাকেট, তেলের বোতল, মিষ্টির বাক্স, মিল্ক ভিটার প্যাকেট এধরণের জিনিস বছরের পর বছর জমতে থাকলে একসময় ঘরে আর পা ফেলার জায়গা থাকলো না! এই সময়ও কাউকে কাউকে তিনি বাসায় আসতে দিতেন, তাঁরা তাকে বলতেন এসব জিনিস ফেলে দিতে। তাতে তিনি প্রচন্ড রেগে যেতেন, যেন তার মহামূল্যবান সম্পদ কিছু ফেলে দিতে বলা হয়েছে (বৈশিষ্ট্য ৪)! যেহেতু তিনি নিজে রান্না করে খেতেন, তাই যারা তাকে দেখতে যেতেন তারা উনার জন্য খাবার দাবার নিয়ে যেতেন। এই খাবারও তিনি খেতেন না ঠিকমতো। দুইটা বড় ফ্রিজে সব ঠেসে রাখতেন।‌ ফলে ফ্রিজ খুললেই পঁচা খাবারের গন্ধ পাওয়া যেত। তিনি সেগুলোই খেতেন, সম্ভবত তাজা খাবার খুব কমই খেয়েছেন (বৈশিষ্ট্য ১)।

তিনি বিমান বাহিনীতে চাকরি করতেন, রিটারমেন্ট নিয়ে সরকারি চাকরি করেন কয়েক বছর। শারীরিক এবং মানসিক ভাবে সুস্থ একজন মানুষ। তিনি অনেক সম্পদেরও মালিক যদিও কাউকে বলেননি কোথায় কোথায় তাঁর কী আছে! সম্ভবত এ ব্যাপারে কাউকে বিশ্বাস করতে পারেন না।

আগে তাঁকে ফোন করলে মাঝে মাঝে ফোন ধরতেন। কিন্তু বছরখানেক থেকে ফোন ধরাও বন্ধ করে দিয়েছেন। তবু আমি মাঝে মাঝে ফোন করি, আজকেও করেছি। ফোনের রিং হওয়া শুনে বুঝতে পারি যে তিনি সুস্থ আছেন, যেহেতু ফোনে চার্জ দিতে পারছেন।

বাসায় গেলে দরজা খোলেন না। কয়েকবার এমন হবার পর এখন আর বাসায় যাই না, কারণ এত কষ্ট করে যাবার পর দরজা না খোলায় মন খারাপ হয়।

উনার প্রায় সব siblings বিদেশে থাকেন। তারা সকলেই উনার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন, কিন্তু কিছুই করতে পারেন না! তিনি অসুস্থ হলেও কেউ জানতে পারে না, কারণ তিনি জানতে দিতে চান না। এখন উনি যদি অসুস্থ হয়ে মারা যান, ঘরের ভেতরে মরে পড়ে থাকলেও কেউ জানতে পারবে না! তখন ঘর ভেঙে তাঁর লাশ উদ্ধার হবে, সকলে উঠে পড়ে লাগবে তার জীবিত ভাই-বোনদের দোষারোপ করতে যে কেন তাঁর খোঁজ খবর রাখা হয় নি, ঠিক যেমন এখন নুরজাহান বেগমের ছেলেমেয়েদের দোষারোপ করা হচ্ছে। আসলে এমন মানুষের খোঁজ নিতে গেলে দরজা ভেঙে ঢুকতে হয়। আবার মানসিক সমস্যার চিকিৎসা করতে গেলেও জোর করে ধরে নিয়ে যেতে হবে, তখন আত্মীয়-স্বজন আর পাড়া প্রতিবেশীরা বলবে অসহায় মানুষটাকে পাগল সাজাতে চাচ্ছে!!

এই মানসিক ব্যাধি সম্পর্কে অনেকেই জানেন না, অথচ আমাদের আশেপাশেই এমন অনেক মানুষ দেখা যায়। ইদানিং আমারও Hoarding disorder শুরু হয়েছে!



নুরজাহান বেগমের ঘরের ছবি। যুগান্তর অনলাইন থেকে নেয়া।

প্রথম ছবির সূত্র: view this link

মন্তব্য ৩৩ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (৩৩) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৪

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: মিরপুরে বসবাসরত বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের মৃ'ত্যুর ঘটনায় তার ছেলে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বি'রুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মংলা বন্দর থেকে তাকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে ।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আনিসুর রহমান আগামী ৪ জুনের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল হতে অবমুক্ত হয়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করবেন; অন্যথায় তিনি ৪ জুন অপরাহ্ণে বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিক অ'বমুক্ত (Stand Released) বলে গণ্য হবেন।

০৪ ঠা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯

করুণাধারা বলেছেন: মিরপুরে বসবাসরত বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের মৃ'ত্যুর ঘটনায় তার ছেলে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বি'রুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
খবরটা আমিও দেখেছি সৈয়দ কুতুব। আমাদের দেশীয় আইনে পিতা-মাতার ভরণপোষণের দায়িত্ব সন্তানের এমন বিধান আছে, তবে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে কী শাস্তি হবে তার বিধান বলা আছে কিনা জানিনা। যেমন একজন সরকারি কর্মকর্তাকে তার কর্মস্থল থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার বিধান আছে কিনা... আমার মনে হয় তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া দরকার ছিল।

মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ সৈয়দ কুতুব।

২| ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ২:৫১

প্রজ্জলিত মেশকাত বলেছেন: আপনি কিভাবে নিশ্চিত হচ্ছেন যে নুরজাহান বেগমের হোর্ডিং ডিসর্ডার ছিলো!! না জেনেই অতিরিক্ত উদারমনা হয়ে জাজমেন্ট দিয়ে দেন। আপনার আত্মীয়ের যে বর্ণনা দিয়েছেন সেটা হোর্ডিং ডিসর্ডারের মধ্যেই পড়ে। আর ডায়োজেনিস সিনড্রোম কোন সাইকিয়াট্রিক টার্ম না।

০৪ ঠা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৪

করুণাধারা বলেছেন: আপনি কিভাবে নিশ্চিত হচ্ছেন যে নুরজাহান বেগমের হোর্ডিং ডিসর্ডার ছিলো!! না জেনেই অতিরিক্ত উদারমনা হয়ে জাজমেন্ট দিয়ে দেন।
আমি পোস্টে কোথায় বলিনি যে নুরজাহান বেগমের হোর্ডিং ডিসঅর্ডার ছিল। আমি বলেছি, ছবিতে নুরজাহান বেগমের ঘর, যা প্রচন্ড অপরিচ্ছন্ন, তা দেখে মনে হয়েছে তিনি ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে ভুগছিলেন।

তার ছেলেমেয়েরা অবশ্যই দোষী তাকে দেখাশোনা করেন নি তাই। কিন্তু কোনো আত্মীয় বা পাড়া প্রতিবেশীও কেন তাকে কখনো দেখতে যাননি? তার এই সামাজিক বিচ্ছিন্নতাও ডায়াজেনিস সিনড্রমের লক্ষণের সাথে মিলে যায়।

আর ডায়োজেনিস সিনড্রোম কোন সাইকিয়াট্রিক টার্ম না।

ডায়োজেনিস সিনড্রোম কোন সাইক্রিয়াটিক টার্ম হওয়া না হওয়ায় কি আসে যায়? গুগল করে দেখতে পেয়েছি এটা একটা আচরণগত ব্যাধি, সেটার লিংকও আমি দিয়ে দিয়েছি।

৩| ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ৩:৫২

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সাধারণত বিষণ্নতা, ডিমেনশিয়া, বা মানসিক আঘাতের (trauma)
কারণে বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

.........................................................................................
আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন যেভাবে ভেঙ্গে যাচ্ছে
তাতে সমাজে এই ধরনের অভিশাপ , ব্যধি আরও বাড়তে থাকবে ।
আমাদের সূধী ও জ্ঞানী লোকের উচিৎ বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে
কথা বলা এবং সূদুর প্রসারী সমাধান করা আবশ্যক ।

০৪ ঠা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

করুণাধারা বলেছেন: আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন যেভাবে ভেঙ্গে যাচ্ছে
তাতে সমাজে এই ধরনের অভিশাপ , ব্যধি আরও বাড়তে থাকবে ।


আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন ভেঙে যাচ্ছে। এক সময় পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এখন আমরা অনেকে জানিনা পাশের ফ্ল্যাটে কে থাকেন, মরে গেলে কখনো জানতে পারি কখনো জানতে পারি না। আমরা কেবল ছুটে চলেছি, হারিয়ে ফেলেছি বেশিরভাগ মানবিক গুণাবলী। :(

৪| ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৩৩

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আমি কিছু বলতে গেলেই সেটা রাজনৈতিক ব্ক্তব্য হয়ে যায় রাজশাহীর সেই অতি প্রচলিত বাণীর মতো......বুইল্লে পরে বুইলবেহিনি বুইলছিলো!!! তারপরেও কিছু কথা বলা উচিত। B-)

আমাদের সমাজে মোটা দাগে মানসিক সমস্যা বলতে আমরা একমাত্র বুঝি 'পাবনার পাগলা গারদ' অথবা 'নাঙ্গা হয়ে ভর দুপুরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ'। এর বাইরে 'মানসিক সমস্যা কাহাকে বলে, কতো প্রকার ও কি কি' আমরা ঠিক মতো জানিই না। এর জন্য মূলতঃ দায়ী আমাদের পশ্চাৎপদ মানসিকতা। এই মানসিকতা আসে প্রকৃত শিক্ষার অভাব থেকে আর সেই প্রকৃত শিক্ষা সমাজে ছড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমাদের রাজনীতিবিদদের। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে, আগে একবার ''হিচকি'' নিয়ে লিখেছিলাম!!! তাছাড়া আমাদের ব্লগেও তো বেশকিছু মানসিক রোগী আছে..........তাদের খবর কে রাখে? কে তাদের দুঃখ, ব্যথা-বেদনা বোঝে!!! :P

নুরজাহান বেগমের বিষয়টা অতি বেদনার। আমাদের সমাজে বৃদ্ধ মা-বাবাকে অবহেলা করার পরিমান দিন দিন বাড়ছে। এখন তদন্ত করে দেখতে হবে, উনি কোন মানসিক সমস্যায় (Hoarding disorder বা অন্য কিছু) ভুগছিলেন কিনা, ভুগে থাকলে উনার চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল কিনা। আর কোন মানসিক সমস্যা না থেকে থাকলে উনার এই অবস্থার জন্য সন্তানদেরকে অবশ্যই কঠোর শাস্তির আওতায় আনা দরকার।

ইদানিং আমারও Hoarding disorder শুরু হয়েছে! যে কোনও মানসিক সমস্যার প্রাথমিক ধাপ আমাদের অনেকের মধ্যেই থাকে। এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নাই; এর সহজ সমাধান আছে। তবে কোন বিষয় জটিলতার দিকে গেলেই চিন্তার বিষয়। BTW, Hoarding disorder এর প্রাথমিক পর্যায়ে আমিও আছি। দুঃখের বিষয় হলো, আমার বউ কিছুদিন পর পর সব অপ্রয়োজনীয় জিনিস (তার ভাষায়) বাড়ি থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করে!!! :`>

০৪ ঠা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২৯

করুণাধারা বলেছেন: আমি কিছু বলতে গেলেই সেটা রাজনৈতিক ব্ক্তব্য হয়ে যায় শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আপনি কথা বললে তো রাজনৈতিক বক্তব্য বলেই ধরা হবে। B-)

আমি আপনার সাথে ১০০% সহমত। শিক্ষার অভাবেই আমাদের মধ্যে পশ্চাৎপদ মানসিকতা গড়ে উঠেছে। কিন্তু শিক্ষার উন্নয়ন কখনোই হবে না। কারণ শিক্ষার উন্নয়ন যারা করতে পারে সেই বিশেষ মানুষেরা সাধারণ মানুষ সম্পর্কে মনে করেন, "যত কম জানে, তত বেশি মানে"।

মানসিক সমস্যা নিয়ে কাজ করার সবচেয়ে বড় সমস্যা, যিনি এই সমস্যায় ভুগছেন তিনি কখনোই বুঝতে পারেন না যে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। তারপর আমাদের দেশে মানসিক সমস্যা নিয়ে অজ্ঞতার কারণে এটা একটা লজ্জার বিষয় বলে মনে করা হয়। তাই পরিবারের কেউ মানসিক অসুস্থ বলে বোঝা গেলেও পরিবারের বাকিরা তাকে জোর করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান না। ধরুন আমাদের সেই আত্মীয়র কথা। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকা, নষ্ট হয়ে খাদ্য খাবার ফলে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তিনি এটা স্বাভাবিক বিষয় বলে মনে করেন তাই ধরে বেঁধে না নিলে তাকে চিকিৎসার জন্য নেয়া সম্ভব না। বয়োজ্যেষ্ঠ বলে সম্মান করে তাঁকে ধরে বেঁধে নেয়াও যায় না।

নুরজাহান বেগমের প্রতি অবহেলা হয়েছে কিনা তা যাচাই করে দেখতে হবে। যদি দেখা যায় সন্তানদের অবহেলা ছিল, তাহলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমার আগ্রহ সবসময় আছে। আপনার পোস্টে এ নিয়ে মন্তব্য করতে যাবো!

৫| ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩১

নূর আলম হিরণ বলেছেন: এই সমস্যার শুরু হওয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়ার সময় তার সন্তানদের কি ভূমিকা ছিল?
দীর্ঘদিনের একাকীত্ব
বয়সজনিত মানসিক পরিবর্তন
কোনো বড় মানসিক আঘাত বা শোক থেকেও এই সমস্যার উদ্ভব হতে পারে। মা যতই যোগাযোগ না করুক, ঘরে না ডুকতে দিক তার খবরাখবর কোনো বা কোনোভাবে নিতেই হবে। মরে ৭দিন হয়ে গেল অসুস্থ মায়ের(আপনার ভাষ্যমতে অসুস্থ্য) খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না! মায়ের ঘরে একটা সিসি ক্যামেরা লাগিয়েও মাকে দুর থেকে পর্যবেক্ষণ করতে পারতো।

০৪ ঠা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৪

করুণাধারা বলেছেন: এই সমস্যার শুরু হওয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়ার সময় তার সন্তানদের কি ভূমিকা ছিল?

আমি জানি না সন্তানদের ভূমিকা কি ছিল। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে তাঁরা মাকে চরম অবহেলা করেছেন। অবশ্যই ছেলেরা সিসিটিভি লাগাতে পারতেন। মায়ের দেখাশোনা করাটা তাদের দায়িত্ব ছিল। কেন সেটা তারা পালন করলেন না সেটা অনুসন্ধান করে দেখতে হবে।

তবে আমার মনে হচ্ছে, তার ছেলেরা ভেবেছেন তাদের মা তাঁর মেয়ের সাথে ভালো আছেন, তাই তেমন ভাবে মায়ের খোঁজখবর করতেন না। কিন্তু সম্ভবত মেয়েও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন, তিনিও মায়ের দেখাশোনা করতে পারতেন না। মিরপুরের উচ্চ শিক্ষিত দুই বোন রিতা মিতাও কিন্তু মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

অসুস্থ মায়ের(আপনার ভাষ্যমতে অসুস্থ্য)

অসুস্থ্য, ভুল বানান যুক্ত এই ভাষ্য আমি কোথাও দেইনি। আপনি কারো প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতে পারেন, কিন্তু মিথ্যা দোষারোপ করা অনভিপ্রেত।

৬| ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫

শ্রাবণধারা বলেছেন: পত্রিকায় পড়ে জানলাম, নুরজাহান বেগম মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তিনি তাঁর মেয়ের সাথে থাকতেন, আর তাঁর মেয়েও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু এ কারণে তাঁদের কখনো চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়নি। সেই মেয়ে মায়ের মৃত্যুর সময় কোথায় ছিল সেটা অবশ্য জানা যায়নি।

তাঁর ঘরের ভেতরের ছবিটি দেখলে আতঙ্কিত হতে হয়। কী ভয়াবহ দৃশ্য! ডায়োজেনিসকে অবশ্য আমি চিনতাম। গ্রিক দর্শনের ইতিহাসে তাঁর মতো সাধুস্বভাবের দার্শনিক বোধ হয় আর একজনও নেই। তবে ডায়োজেনিস সিনড্রোম নামে যে একটি সিনড্রোম আছে, এবং সেটি যে এত ভয়াবহ হতে পারে, তা আমার জানা ছিল না।

০৪ ঠা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১

করুণাধারা বলেছেন: খবর পড়ে এবং মেয়ের ভিডিও দেখে আমার মনে হয়েছে মেয়েও মানসিকভাবে অসুস্থ। দুই নারীর জীবনেই ছিল একাকীত্ব। আপনার কি মনে আছে মিরপুরের ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার দুই বোন রিতা মিতার কথা। তাঁরাও দুজন মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

মনে হচ্ছে, নুরজাহান বেগমের ছেলেরা বোনের কাছে মাকে রেখে দিয়েই নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। ঈদের দিন ছেলে এই ঘরে মায়ের জন্য খাবার নিয়ে এসে খাইয়েছেন! এই ঘরে কোনো সুস্থ মানুষ বসে থাকতে পারে!! এমন অবস্থা হতে অন্তত কয়েক মাস লেগেছে। মেয়ের ছবি দেখে মনে হয়েছে তিনিও অপুষ্টিতে ভুগছেন।

ডায়োজেনিস সিনড্রোম সম্পর্কে প্রথম জেনে আমিও অবাক হয়েছিলাম। আমার ধারণা একাকীত্ব থেকে এই অবস্থার উদ্ভব হয়।

আরেকটা কথা বলি, দেশে যেমন আমার একজন নিকটাত্মীয় সম্পর্কে আমি মনে করি যে তিনি ডায়োজেনিস সিনড্রোমে আক্রান্ত, আমেরিকায় তেমনি আমার একজন নিকটাত্মীয়া এতে আক্রান্ত বলে মনে হয়। তিনিও মা মেয়ে দুজন থাকেন। সেখানে সুবিধা এটাই যে, নিয়মিতভাবে সোশ্যাল ওয়ার্কার এসে ঘরের পরিচ্ছন্নতা, তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যান। ফলে তারা ভালই আছেন। আমাদের দেশে সেই সুবিধা নেই।

৭| ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ৮:০২

রাজীব নুর বলেছেন: আমি কোনো মন্তব্য করবো না।

০৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:২০

করুণাধারা বলেছেন: হায়! হায়!

ঠিক আছে। কে কি মন্তব্য করল সেটা দেখতে আসবেন আবার।

৮| ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ৮:২০

নূর আলম হিরণ বলেছেন: আপনি বলেছেন, অসুস্থ্য, ভুল বানান যুক্ত এই ভাষ্য আমি কোথাও দেইনি। আপনি কারো প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতে পারেন, কিন্তু মিথ্যা দোষারোপ করা অনভিপ্রেত।
তাহলে তাহলে এখানে কি বুঝাতে চেয়েছেন?
ঘরের ছবি দেখে মনে হয়েছে সেই মা Diogenes syndrome এ ভুগছিলেন।view this linkঘরের ছবি দেখে মনে হয়েছে সেই মা Diogenes syndrome এ ভুগছিলেন।view this link

০৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:২১

করুণাধারা বলেছেন: ওকে

৯| ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫২

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আপনার লেখা থেকে ডায়োজেনিস সিন্ড্রোম সম্পর্কে জানলাম। অনেক বছর আগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা দুই উচ্চশিখিত বোন রিতা আর মিতার কাহিনীর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। আপনিও উল্লেখ করেছেন।

আমার ধারণা মিরপুরের ঘটনায় ভাইদের দোষ আছে। বোনটা সম্ভবত মানসিক সমস্যায় জর্জরিত। মায়েরও মানসিক সমস্যা আছে। হয়তো সেটা ডায়োজেনিস সিন্ড্রোমও হতে পারে। কিন্তু ভাইরা কেন জেনে শুনে বোন আর মাকে এভাবে রাখলো। তারা সামর্থ্যবান ছিল। প্রয়োজনে মনঃচিকিৎসকের সাহায্য নিতে পারতো। তারা কয়েক বছরে ঐ বাড়িতে গিয়েছিল কি না সন্দেহ হয়। একটা রুমের এতো ভয়ংকর নোংরা অবস্থা হতে পারে কল্পনাও করা যায় না। তারা কি এই অবস্থা দেখে নাই। এই ধরণের রোগীদেরকে দেখাশোনার জন্য টাকা দিয়ে লোক রাখার সামর্থ্য ভাইদের ছিল।

০৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:১৯

করুণাধারা বলেছেন: বোনটা সম্ভবত মানসিক সমস্যায় জর্জরিত।

বোনের আগের ছবি আর এখনকার ছবিতে আকাশ-পাতাল তফাৎ! সম্ভবত বোনও মানসিকভাবে সুস্থ নন। আগেই বলেছি ঘরের ছবি একেবারে হুবহু ডায়োজেনিস সিনড্রোমে থাকা মানুষের ঘরের মতো। যারা এই সিনড্রোমে আক্রান্ত তাঁরা বুঝতেই পারেন না যে তারা অস্বাভাবিক পরিবেশে বাস করেন। তাঁরা মানুষের সংস্পর্শে আসতে চান না, কারণ সন্দেহ করেন মানুষ তাদের ক্ষতি করার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে! ঘর পরিষ্কার করার, অর্থাৎ ঘর থেকে কিছু ফেলে দেবার কথা বললে তারা প্রচন্ড এংজাইটিতে ভুগতে থাকেন এবং মনে করেন তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ‌ এটা বইয়ের কথা নয়, নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।

আমার ধারণা ভাইরা পরিস্থিতি কতটা গুরুতর তা বুঝতে পারেন নি, কারণ মাত্র দুই বছরের মধ্যে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কোট। সামর্থ্য হয়তো ছিল কিন্তু সাধ্য ছিল না সম্ভবত। আমি পোস্টে উল্লেখ করেছি, ডায়োজেনিস সিনড্রোমে থাকা মানুষেরা কাউকে তাদের বাড়িতে ঢুকতে দিতে চান না, সন্দেহ বাতিকতার কারণে। একান্ত আত্মীয় কেউ হয়তো দেখা করতে পারে, যেমন ঈদের দিনে ছেলে দেখা করতে পেরেছে। আর মানসিক রোগী স্বেচ্ছায় না গেলে তাকে ধরে বেঁধে ছাড়া ডাক্তারের কাছে নেয়া সম্ভব হয় না। হয়তো এই জন্যই ছেলেরা ডাক্তারের কাছে নিতে পারেনি।

অনেকদিন পর আপনার দেখা পেয়ে ভালো লাগছে।

১০| ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫

শায়মা বলেছেন: আমিও প্রথমেই ছেলেদের দোষ নিয়ে সবাই চিল্লাচ্ছে সেটা মেনে নিতে পারিনি-

প্রথমেই মনে হয়েছে মায়ের কোনো না কোনো মানসিক সমস্যা আছে যেখানে ছেলেমেয়েদের প্রবেশ নিষেধ! যেমন সিজোফ্রেনিয়া বা তোমার লেখা ডায়োজেনিস সিন্ড্রোম টাইপ কিছু তো আছেই। যেখানে রোগী সিজোফ্রেনিয়া বা ডিমেনশিয়ার মত কোনো রোগে কাউকে পছন্দ করে না, সন্দেহ করে, কাছে ঘেষতে দেয় না, তাদের দেওয়া খাবার খায় না, ভাবে সবাই তাকে বিষ খাইয়ে দেবে এসব। এইভাবে মানুষজন এভোয়েড করতে করতে শেষে নিজেই এবনরমাল হয়ে যায়। বাইরে যায় না, সবার থেকে লুকায় থাকে, ঘরবাড়ি পরিষ্কার বা নিজের জন্য রান্নাও করতে ভালো লাগে না, লুকায় চুরায় কোনো ভাবে খানা দানা কিনে জীবন যাপন করে এসব। যেমনটা মিরপুরের রিতা মিতার বেলাতেও দেখা গেছে।

প্রথমেই আমাদের দেশের অতি পণ্ডিত সাংবাদিক ও পাড়া প্রতিবেশী বানিয়ে দিয়েছে তারে কেউ দেখে না শোনে না যা কখনই সত্য নহে বলেই আমার ধারনা। তার মেয়ে যেখানে একই বাড়িতে থাকে কেনো দেখবে না? তাছাড়া অনেক সংবাদে দেখা যাচ্ছে কোরবনীর মাংস পর্যন্ত খাইয়ে গেছে তার ছোট ছেলে। আরেক ছেলে টাকা পাঠিয়েছে সে সব। সবচেয়ে বড় কথা তার মেয়েই তার সঙ্গে ছিলো। সেদিনই নাকি উনি মারা গেছেন এবং সাথে সাথে বোন তার ভাইকে ডেকে এনেছে। এবং নিজেও নার্স এনেছে।

সবাই জোর করে ধরে ছেলেমেদেরকে দোষী বানাচ্ছে। অথচ সত্যতা বিচার করা উচিৎ ছিলো। আড় অপরিষ্কার ঘর দেখে সবার মত আমিও অবাক! তবে সেটার কারণ মহিলার মানসিক রোগ তাতে কোনো সন্দেহ নাই। এইখানে ছেলেমেয়েরা চেষ্টা করে ঘর পরিষ্কার করাতে পারতো, মানসিক ডক্টরের কাছে নিতে পারত সেটা পারেনি ! এবং এটাই দোষ হতে পারে।


তবে বোনটা সাথে ছিলো বলে হয়ত এ ব্যাপারে গা করেনি। সবচেয়ে বড় কথা মেয়েরও যে এই রোগ অল্প হলেও আছে তাতে আমারও কোনো সন্দেহ নেই। সত্যিকারের তদন্ত হলে সবই পরিষ্কার হবে। তবে আমরা আবার অতি উৎসাহী এবং পণ্ডিত! যেমন আমিও পণ্ডিতি করলাম!!!!!!!


তবে যাই বলো আর তাই বলো ডক্টরদেরকে আমার বিশ্বাস নেই এবং সেটাও কারণ বশত। যদিও ডক্টরদেরকে বিশ্বাস না করাও এক মানসিক রোগের মধ্যে পড়ে এটা জানো???? :P

০৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:২৭

করুণাধারা বলেছেন: আমাদের দেশে কি একটা মব কালচার শুরু হলো দ্যাখো, একজন একটা আওয়াজ তুললেই হল, সবাই রে রে করে তেড়ে আসে মারতে! এখানেও সাংবাদিকের ক্যামেরা দেখেই পাড়া প্রতিবেশীদের মুখে খই ফুটল, "ছেলেরা দেখতে আসে না..." ছেলে ছাড়াও পরিবারের আত্মীয়-স্বজন কিংবা পাড়া প্রতিবেশী খোঁজখবর নেয়, কিন্তু এদের কেন কেউ দেখতে আসতো না!!

যেখানে রোগী সিজোফ্রেনিয়া বা ডিমেনশিয়ার মত কোনো রোগে কাউকে পছন্দ করে না, সন্দেহ করে, কাছে ঘেষতে দেয় না, তাদের দেওয়া খাবার খায় না, ভাবে সবাই তাকে বিষ খাইয়ে দেবে এসব। এইভাবে মানুষজন এভোয়েড করতে করতে শেষে নিজেই এবনরমাল হয়ে যায়।

সিজোফ্রেনিয়া, প্যারানোয়া, ডিপ্রেশন এসব ডায়োজেনিস সিনড্রোমের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তুমি যে অবস্থার বর্ণনা দিয়েছো, এই ধরনের মানুষেরা এমনই হয়ে থাকে। এমনকি কলের পানি খেতে গেলেও মনে হয় পানিতে কিছু মেশানো আছে। ফলে না খেতে পেয়ে তারা অপুষ্টিতে ভোগে।

মায়ের মৃতদেহের ছবি, মেয়ের ছবি দেখে মনে হয়েছে দুজনেই অপুষ্টিতে ভুগছিলেন। ‌ তাছাড়া মেয়েকে দেখেও মানসিক রোগী বলে মনে হয়েছে। শুনলাম স্বামীর হঠাৎ মৃত্যু এবং নিঃসন্তান হবার কারণে তার স্বামীর সম্পত্তি নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল আত্মীয়দের সাথে। হয়তো এই চাপ নিতে পারে নি!

ছেলেরা কেন ঘর পরিষ্কার করায়নি? কারণ বাইরের লোককে ঘরে ঢুকতে দেওয়া হতো না। কেন তাদের যত্নের জন্য নার্স রাখেনি বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়নি? একই উত্তর, তারা রাজি হন নি।

আমার মনে হয় ছেলেরা ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি কি করে এটা হ্যান্ডেল করা যায়। তারা এটাও বুঝতে পারেনি যে অপুষ্টিতে ভুগলে শরীরে অনেক রকম রোগ বাসা বাঁধে। বুঝলে হয়তো ধরে বেঁধে চিকিৎসা করতে নিয়ে যেত।

তবে বোনটা সাথে ছিলো বলে হয়ত এ ব্যাপারে গা করেনি। সবচেয়ে বড় কথা মেয়েরও যে এই রোগ অল্প হলেও আছে তাতে আমারও কোনো সন্দেহ নেই। ঠিক বলেছ। না পন্ডিতি করনি! সবাই যদি তোমার মত করে ভাবতো... এতটা জাজমেন্টাল না হতো...

তবে যাই বলো আর তাই বলো ডক্টরদেরকে আমার বিশ্বাস নেই আমারও বিশ্বাস নেই। কেন বিশ্বাস চলে গেল সম্ভব হলে একদিন সেই গল্প করব।

১১| ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯

শায়মা বলেছেন: অদ্ভুত একজন মানুষ ছিলেন ডায়োজিনিস। পোশাক পরতেন যৎসামান্য, থাকতেন রাস্তার ধারে একটা টবে। আমাদের দেশে ড্রেনের বড় পাইপের ভেতর যেমনটি থাকতে দেখা যায়, খানিকটা সেরকম। নিজের সম্পদ বলতে ছিলো শুধু একটা লাঠি, লণ্ঠন, পরনের সামান্য শতছিদ্র কাপড় আর একটা খাবার পাত্র। খেতেন ভিক্ষা করে। ভিক্ষা করার সময় বলতেন, “তুমি যদি অন্য কাউকে ভিক্ষা দিয়ে থাকো, তবে আমাকেও দাও। আর আজ অব্দি যদি কাউকে না দিয়ে থাকো, তবে আমাকে দিয়ে শুরু করো!”

মাঝে মধ্যে চুরি করতেন বা অন্য কারো জিনিস কেড়ে নিতেন! তাকে প্রশ্ন করা হলো, “আপনি তো প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে বসবাস করেন, তো মানুষের জিনিস কেড়ে নেন কেন?” ডায়োজিনিস বললেন, “আমি অহেতুক প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে বসবাস করি। এ জগতের সমস্ত জিনিস হচ্ছে ঈশ্বরের। আর জ্ঞানীরা ঈশ্বরের বন্ধু। তাই এ জগতের সব কিছুতেই জ্ঞানীদের অধিকার আছে!”


শ্রাবনধারা ভাইয়ার কথা শুনে পড়ে এলাম ......

০৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:২৯

করুণাধারা বলেছেন: শুভ রাত্রি! :)

০৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

করুণাধারা বলেছেন: ডায়োজেনিস সম্পর্কে এত জানিয়ে খুব ভালো করেছো। যাদের ডায়োজেনিস সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা হবে, তাঁরা তোমার এই মন্তব্য পড়েই সব জানতে পারবে।

আমি জানিনা কেন এর নাম ডায়োজেনিস সিন্ড্রম হলো। কারণ যাদেরকে এই সিন্ড্রমে আক্রান্ত বলা হয়, তাদের বৈশিষ্ট্য কিন্তু কাপড় চোপড় খাওয়া সবকিছু জমানো এবং কিপটেমি করা। এই জমানো প্রতিটি জিনিস তাঁর কাছে অমূল্য সম্পদ এর কোন কিছুতে কাউকে হাত দিতে দেবে না।

খুবই অদ্ভুত আচরণ। আমার সেই আত্মীয়টি এক সময় ছিলেন পোশাক আশাকে অতি ধোপদুরস্ত। কয়েক বছর আগেও তার বাসায় যাওয়া যেত, বাইরের মানুষ বসার জন্য বসার ঘরটা মোটামুটি পরিষ্কার ছিল। তারপর দেখা গেল সমস্ত জানালা বন্ধ করে তার মধ্যে পলিথিনের পোটলা গুঁজে দেয়া, কয়েক বছরের খবরের কাগজ জমে স্তুপ হয়ে যাওয়া... ঘরে মানুষ বসার জায়গা থাকলো না এবং তখন তিনি কাউকে ঘরে ঢুকতে দিতেন না। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক জুতা ঘড়ি তিনি নিয়মিত উপহার পেতেন। সেগুলো সব জমাতে শুরু করলেন। এখন তার পোশাক হলো নানা জায়গায় ছেঁড়া শার্ট প্যান্ট, সেফটিপিন দিয়ে ফিতা আটকানো স্পঞ্জের স্যান্ডেল!

কী যে একটা অদ্ভুত আচরণ!

১২| ০৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: করুণাধারা,



ওহ মাই গড! ইদানিং আপনার Hoarding disorder শুরু হয়েছে ? তাহলে তো সেরেছে!!!! :P
এরপর আপনিও কি আমাদের কাছে ঘেষতে না দিয়ে ব্লগ থেকে দূরে সরে যাবেন? :(( "ইদানিং আমারও Hoarding disorder শুরু হয়েছে" এটা কি সেই আগাম ঘোষনা ? :|

যাকগে!!!!!! যদ্দিন আছেন ব্লগে লিখতে থাকুন তাহলে বোঝা যাবে Hoarding disorder আপনাকে দড়ি দিয়ে বাঁধতে পারেনি!

পোস্টের বিষয় প্রসঙ্গে ভুয়া মফিজ এর মতো বলি- "আমাদের সমাজে মোটা দাগে মানসিক সমস্যা বলতে আমরা একমাত্র বুঝি 'পাবনার পাগলা গারদ' অথবা 'নাঙ্গা হয়ে ভর দুপুরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ'। এর বাইরে 'মানসিক সমস্যা কাহাকে বলে, কতো প্রকার ও কি কি' আমরা ঠিক মতো জানিই না।"
ভালো থাকুন আর সুস্থ্যে.......

০৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০০

করুণাধারা বলেছেন: ইদানিং আপনার Hoarding disorder শুরু হয়েছে ? তাহলে তো সেরেছে!!!!

আমার সত্যিই Hoarding disorder হয়েছে। :( কোনো কিছুই ফেলতে ইচ্ছা করেনা, মনে হয় পরে কখনো কাজে লাগবে।

তবে আমি যখন বুঝতে পেরেছি যে এটা একটা অস্বাভাবিক আচরণ, তাই আশা রাখি যে এটা কাটিয়ে উঠতে পারবো। অতএব ব্লগ ছেড়ে যাব, এমন ভাবনা কখনো মনে আনি না! B-)

মানসিক সমস্যা নিয়ে আমাদের শিক্ষিতদের মধ্যেও সচেতনতা নেই। জীবনের নানা জটিলতায় অথবা জিনগত কারণে আমাদের মধ্যে অনেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগি। অজ্ঞতা অথবা অবহেলায় এই মানসিক সমস্যা চিকিৎসা হয় না। ফলে তা দিনে দিনে বাড়তে থাকে, একসময় তা জটিল আকার ধারণ করে। এই বিষয়ে আমরা কি সচেতন হবো না!! :|

১৩| ০৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:৪৬

শায়মা বলেছেন: তোমারও Hoarding disorde !!!!!!!!!!!!!!!!!! এ ছি ছি ছি ছি ছি!!!!!!!!!!! ছি ছি ছি

কি বলো এইসব!!!!!!!!! কিছু না ফেলো নো প্রবলেম আমিও ফেলিনা। তাই বলে গুছিয়ে রাখবে না এটা যেন ভেবোনা কিছু না ফেলেও রিসাইকেল করা যায় রিইউজ করা যায় তাই বলে এখানে সেখানে ফেলে রাখতে হবে নাকি!!! Hoarding disorde এর একটা সৌন্দর্য্য আছে না??? :P

এই জন্য কবি বলিয়াছেন হাসি মুখে মরিবো ( মানে যেন দেখতে পঁচা না লাগে) হাসতে হাসতে গলায় দড়ি নেবো ( মানে যেন কেউ না বুঝে কত ভুই লাগছে)

তাই যেই ডিসঅর্ডারই হোক সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে হবে। এই ডিজঅর্ডারকে সৌন্দর্য্য দান করিতে হইবেক যেন সবাই ঐ ডিসঅর্ডারে পড়তে চায়!!! হা হা

আমি দুইটা অল্ড জ্যুয়েলারী আর্ট বানিয়েছি সেখানে আমাকে যত মানুষ ভালোবেসে যত জ্যুয়েলারী দিয়েছিলো কোনোটা ভেঙ্গে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে বা পুরোনো জানিয়া আর পরিনা সে সব দিয়ে একটা সুন্দর আর্ট বানিয়েছি । এটা বানাবার আগে আমি জানতাম না এই আর্টের কথা আমার মতই গিয়ানি গুনি ক্রিয়েটিভ পিপলরা ভেবেছে আমার আগেও।

যাইহোক আমি ফেলতে পারিনা জিনিসগুলো তাহা নহে আমি ফেলতে পারিনা স্মৃতি! সেই আর্টে তাই ধরে রাখলাম আর টাঙ্গিয়ে দিলাম দেওয়ালে। এখন যখন তখন চোখে পড়িয়া যায় কবে কে আমাকে দিয়েছিলো সেই দেবদাস ম্যুভির ঐশ্বরিয়ার মত টান দিয়ে খুলে ফেলা যায় চুড়িটা বা নাকের নথ বা পায়েলটা...... আহা স্মৃতি তুমি বেদনা ...... সব ফেলে দিলেও তাহা কেমনে ফেলি!!

০৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

করুণাধারা বলেছেন: কি বলো এইসব!!!!!!!!! কিছু না ফেলো নো প্রবলেম আমিও ফেলিনা। তাই বলে গুছিয়ে রাখবে না এটা যেন ভেবোনা কিছু না ফেলেও রিসাইকেল করা যায় রিইউজ করা যায় তাই বলে এখানে সেখানে ফেলে রাখতে হবে নাকি!!! Hoarding disorde এর একটা সৌন্দর্য্য আছে না??? :P

তোমাকে তো "লেডি রাজিব নুর" পদক দিতে হবে দেখছি!! পোস্ট আর মন্তব্য থেকে খামচা দিয়ে কিছুটা পড়েই মন্তব্য করে বসলে!!

আমার পোস্টের শেষে, আর আহমেদ জী এসের মন্তব্যের উত্তরে আমিও Hoarding disorder এ ভুগতে শুরু করেছি বলেছি, কিন্তু বলিনি তো যে আমার বাড়ি পোস্টে দেয়া ছবির মতো অগোছালো! এমন চরম অবস্থা অগোছালো হয় ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে, পোস্টে বলেছি সেটা হয় Hoarding disorder চরম অবস্থায় পৌঁছালে।‌ আমার তেমন কিছু হয়নি, আমি এভাবে ঘর জুড়ে কিছু ছড়িয়ে রাখি না। শুধু যারা একসময় বাড়িতে থাকতো কিন্তু এখন নেই, তাদের সমস্ত জিনিস রেখে দিয়েছি মহামূল্যবান সম্পদ হিসেবে। অথচ আমি ছাড়া আর কারো কাছে এর কানাকড়িও দাম নেই। :||

আবার ধরো, আমার অনেক ডায়েরি ছিল। সেগুলো Hoarding করিনি। কুচি কুচি করে কেটে ফেলে দিয়েছি।

অদরকারি কিছু জিনিস জমিয়ে রাখি কখনো যদি তোমার মত ক্রিয়েটিভিটি আসে মাথায় তাহলে হয়তো কিছু বানাতে পারবো সেই আশায়। ধরো এই নেইলপলিশ গুলো,



এগুলো দিয়ে কাঁচের বোতল রঙ করা যাবে, আমার বুদ্ধির দৌড় এটুকুই। রঙ করবো কিভাবে বা কী নকশায় তেমন কিছু মাথায় আসে না!! ততদিন পর্যন্ত Hoarding করি... :|

১৪| ০৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০২

শায়মা বলেছেন:


আপুনি সেই ওল্ড জ্যুয়েলারী আর্টের ছবিটাও দিয়ে গেলাম!!!

০৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৬

করুণাধারা বলেছেন: অতি চমৎকার শিল্পকর্ম!! মুগ্ধ হয়ে দেখলাম। মিশরের রানী...

১৫| ০৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮

মিরোরডডল বলেছেন:





ধারাপু, চারদিকে যা হচ্ছে শুধু দেখি, কিছু আর বলার নেই। কেমন যেন স্পিচলেস হয়ে যাচ্ছি।
শুধু এটুকুই বলবো, এমন মৃত্যু কারো জন্য কাম্য না।

ভুম বলেছে:
দুঃখের বিষয় হলো, আমার বউ কিছুদিন পর পর সব অপ্রয়োজনীয় জিনিস (তার ভাষায়) বাড়ি থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করে!!!


ভুমি যেন কবে আবার আমাদের ভুমকেই এভাবে …………………………

আমি কিন্তু কিছু বলিনি #:-S


০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৩৫

করুণাধারা বলেছেন: ভুমি যেন কবে আবার আমাদের ভুমকেই এভাবে …………………………

এভাবে তো ভেবে দেখিনি!! এমন সম্ভাবনা তো উড়িয়ে দেয়া যায় না! দেখি ভুমের বক্তব্য কী এ ব্যাপারে!

১৬| ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:৩৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: অতি সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া এবং প্রাসঙ্গিক একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, ধন্যবাদ।
আমরা আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী নিয়ে কত সহজেই জাজমেন্টাল মন্তব্য করে ফেলি! বিশেষ করে অপরের মানসিক রোগ কিংবা মানসিক অস্বাভাবিক অবস্থার প্রতি উদাসীন থেকে তার অস্বাভাবিক আচরণের প্রতি আমরা অনেকেই খুবই নিষ্ঠুর মন্তব্য, এমন কি আচরণও করে থাকি।
১ নং প্রতিমন্তব্যের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
Hoarding disorder এমনি এমনিতেই হয় না। এর পেছনে কারণ থাকে। একজন লে-ম্যান হিসেবে অনুমান করি, এর পেছনের মূল কারণ ফীলিংস অভ ইনসিকিউরিটি।

ব্লগার শ্রাবণধারা'র পড়াশুনার বিস্তৃত পরিধির পরিচয় পেয়ে আমি মুগ্ধ। তার নিজস্ব বিভিন্ন পোস্ট পড়ে এবং অন্যান্য লেখকদের পোস্টে তার মন্তব্যে আমি প্রায়ই তার এই গুণটির পরিচয় পাই। বিশেষ করে দর্শন শাস্ত্রের উপর তার অনেক আকর্ষণ রয়েছে এবং এ নিয়ে অনেক পড়াশুনাও রয়েছে বলে আমার মনে হয়।
১০ নং মন্তব্য ও প্রতিমন্তব্য উভয়টির জন্য আপনাকে ও শায়মাকে ধন্যবাদ। সংবেদনশীল মন ছাড়া অন্যের অস্বাভাবিক আচরণগত অসুবিধা নিয়ে এতটা ভাবা যায় না।




১৭| ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ব্লগার শ্রাবণধারা'র, আমার ব্লগে আর উত্তর না আসায়, কবিতাটি দিয়ে গেলাম ।
..............................................................................................................
করুণাধারার ক্যানভাস জুড়ে,
রূপালী তারারা জ্বলে দূরে।
চাঁদের আলোয় শান্ত মায়া,
মুছে দেয় সব ক্লান্তির ছায়া।
ধীরে ধীরে কেটে যায় আঁধার কালো,
স্বাগত জানাতে ভোরের আলো।
ঝড় এসে যে মন ভেঙে দিতে চায়,
সেই মনই শেষে নতুন শক্তি পায়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.