নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাজিদ উল হক আবির

সাধু সাবধান ! ব্লগের মালিক বঙ্গালা সাহিত্যকে ধরিয়া বিশাল মাপের ঝাঁকি দিতে নিজেকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে প্রস্তুত করিতেছেন। সেই মর্মে তিনি এখন কিটো ডায়েটিং, ডন-বৈঠক ও ভারোত্তলন প্রশিক্ষণে ব্যস্ত। প্রকাশিত গ্রন্থঃ১। শেষ বসন্তের গল্প । (২০১৪)২। মিসিং পারসন - প্যাত্রিক মোদিয়ানো, ২০১৪ সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী (অনুবাদ, ২০১৫) ৩। আয়াজ আলীর ডানা (গল্পগ্রন্থ - ২০১৬ ৪। কোমা ও অন্যান্য গল্প(গল্প গ্রন্থ, ২০১৮) ৫। হেমন্তের মর্সিয়া (কবিতা, ২০১৮) ৬। কাঁচের দেয়াল (গল্পগ্রন্থ, ২০১৯) ৭।শহরনামা (উপন্যাস, মাওলা ব্রাদার্স, ২০২২), ৮। মুরাকামির শেহেরজাদ ও অন্যান্য গল্প (অনুবাদ, ২০২৩), ৯। নির্বাচিত দেবদূত(গল্পগ্রন্থ, ২০২৪), ১০। দেওয়ানেগির চল্লিশ কানুন/ফরটি রুলস অফ লাভ (অনুবাদ, ঐতিহ্য, ২০২৪)

সাজিদ উল হক আবির › বিস্তারিত পোস্টঃ

"ইরান গাজা নয়" - অরুন্ধতী রয়, (মার্চ ৯, ২০২৬)

১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৬


ছবিসূত্র

আমার কিছু বলার আছে - কারণ আমি আমার মায়ের মেয়ে, এবং বুক চিতিয়ে কাঁধ সোজা করে দাঁড়িয়ে এই কথাগুলো বলার গভীর প্রয়োজন এই মুহূর্তে আমি বোধ করছি। সমগ্র পৃথিবীকে গ্রাস করতে চলেছে যে যুদ্ধ, সে সম্পর্কেই এটা একটি ছোট বক্তব্য। আমি জানি আজ আমরা এখানে Mother Mary Comes to Me (অরুন্ধতী রয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত আত্মজৈবনিক বই) নিয়ে কথা বলতে এসেছি। কিন্তু তেহরান, ইসফাহান এবং বৈরুতের মতো কাব্যিক সুন্দর শহরগুলো, যারা আজ আগুনে জ্বলছে, তাদের সম্পূর্ণ উহ্য রেখে আমরা কীভাবে এই আলাপ শেষ করতে পারি?

আমার মা মেরির স্পষ্টবাদিতা এবং রাখঢাকহীন দুঃসাহসকে চেতনায় ধারণ করে আমি এই মঞ্চকে ব্যবহার করতে চাই, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর চালানো উসকানিবিহীন এবং বেআইনি আক্রমণ সম্পর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য। ইজরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা নিঃসন্দেহে গাজায় তাদের চলমান গণহত্যারই ধারাবাহিকতা। তাদের কৌশল পুরনো, নকশাও বহুল ব্যবহৃত - নারী ও শিশুদের হত্যা করা, হাসপাতাল বোমা মারা, শহরজুড়ে নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করা, তারপর আবার নিজেদেরই ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করা।

কিন্তু ইরান গাজা নয়।

এই নতুন যুদ্ধের মঞ্চ এমনভাবে বিস্তৃত হতে পারে, যা হয়তো গোটা বিশ্বকেই গ্রাস করে ফেলবে। আমরা সামগ্রিকভাবে পারমাণবিক বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক পতনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। যে দেশ একদিন হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা ফেলেছিল, সেই দেশই এখন হয়তো পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতাগুলোর একটির ওপর বোমা ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই বিষয়ে বিস্তারিতভাবে বলার আরও অনেক সুযোগ আসবে। তাই এখানে আমি শুধু এতটুকু বলব - আমি দ্বিধাহীনভাবে ইরানের পাশে দাঁড়াচ্ছি। যেসব দেশে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন - যেমন কি নাঃ যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং আমাদের নিজেদের দেশ ভারত - সেগুলোর শাসনক্ষমতার পরিবর্তন জনগণকেই করতে হবে। কোনো ফাঁপা, মিথ্যাবাদী, প্রতারক, লুম্পেন, সম্পদ-লুটকারী, বোমা ফেলতে থাকা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এবং তার মিত্রদের দ্বারা নয়, যারা পুরো পৃথিবীকে জোর করে বশ্যতা স্বীকার করাতে চাইছে।

ইরান সেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সম্মুখে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ করছে, আর ভারত ভয়ে জড়ভরত হয়ে আছে। আমাদের সরকার যে কতটা ভীরু এবং মেরুদণ্ডহীন আচরণ করেছে, তা ভেবে আমি লজ্জিত। এক সময় আমরা ছিলাম গরিব মানুষের একটি গরিব দেশ - কিন্তু আমাদের ছিল গর্ব, ছিল মর্যাদা। আজ আমরা একটি ধনী দেশ, যেখানে অসংখ্য মানুষ দরিদ্র ও বেকার; আর তাদের প্রকৃত খাবারের বদলে খাওয়ানো হচ্ছে ঘৃণা, বিষ আর মিথ্যার খাদ্য। আমরা আমাদের গর্ব হারিয়েছি, মর্যাদা হারিয়েছি, সাহস হারিয়েছি - শুধু বলিউডের সিনেমা ছাড়া আর কোথাও এসবের দেখা মেলে না।

আমরা কী ধরনের জীবে পরিণত হয়েছি যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশের নির্বাচিত সরকার, তাদের রাষ্ট্রপ্রধানদের অপহরণ ও হত্যার মতো ঘটনা সংঘটিত করলেও আমরা এই অপশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিন্দাজ্ঞাপনের মতো সামান্য কাজটুকু করতে পারে না? আমরা কি চাই এমনটা আমাদের সঙ্গেও ঘটুক? আমাদের প্রধানমন্ত্রী ইরানে হামলার ঠিক কয়েক দিন আগে ইসরায়েলে গিয়ে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে আলিঙ্গন করেছেন। এর অর্থ কী? আমাদের সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন এক লজ্জাজনক বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা কার্যত আমাদের কৃষিখাত এবং বস্ত্রশিল্পকে ডুবিয়ে দিচ্ছে। এটা কিসের ইঙ্গিত দেয়, বিশেষ করে যখন কয়েক দিন পরই মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে?

এখন আমাদের রাশিয়া থেকে তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটাই বা কেমন প্রহসন? আর কী কী করবার জন্য আমাদের অ্যামেরিকার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে? বাথরুমে যাওয়ার জন্য? একদিন ছুটি নেওয়ার জন্য? আমাদের মায়েদের দেখতে যাওয়ার জন্য? প্রতিদিন মার্কিন রাজনীতিবিদেরা, ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ, প্রকাশ্যে আমাদের উপহাস ও অপমান করেন; আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর সেই বিখ্যাত অন্তঃসার শূন্য ফাঁপা হাসি হাসেন এবং অপমানকারীকে আলিঙ্গন করে চলেন।

গাজায় গণহত্যা যখন চরমে, তখন ভারতের সরকার হাজার হাজার দরিদ্র ভারতীয় শ্রমিককে ইসরায়েলে পাঠিয়েছিল, বহিষ্কৃত ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের জায়গা পূরণ করতে। আজ যখন ইসরায়েলিরা বাঙ্কারে আশ্রয় নিচ্ছে, তখন খবর আসছে যে সেই ভারতীয় শ্রমিকদের সেই আশ্রয়কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এর মানে কী? আমাদের কে এমন অপমানজনক, লজ্জাজনক, ঘৃণ্য অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছে গোটা পৃথিবীর সামনে?

আপনাদের অনেকেরই স্মরণে থাকার কথা, আমরা একসময় চীনা কমিউনিস্টদের বাজারে ছড়িয়ে দেয়া শব্দবন্ধ - 'running dog of imperialism.' বা‘সাম্রাজ্যবাদের পিছে দৌড়ে চলা কুকুর’ নিয়ে হাসাহাসি করতাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে শব্দটি আমাদের ক্ষেত্রেই ঠিক মানানসই—অবশ্য আমাদের বিকৃত, বিষাক্ত সিনেমাগুলো বাদ দিলে। সেখানে সেলুলয়েডের নায়কেরা বুক ফুলিয়ে হাঁটে, ফাঁপা পেশীশক্তির প্রয়োগে একের পর এক কাল্পনিক যুদ্ধ জিতে যায়, এবং মাথা ভর্তি গোবর ও সহিংসতার প্রতি বেকুবের মতো আগ্রহ থেকে আমাদের অদম্য রক্তপিপাসাকে আরও উসকে দেয়।

(সম্প্রতি ভারতের বুকার প্রাইজ বিজয়ী ঔপন্যাসিক অরুন্ধতী রয় তার নতুন আত্মজৈবনিক - 'মাদার মেরি কামস টু মি' এর প্রচারণায় ভারতের হরিয়ানা প্রদেশের অঙ্গরাজ্য গুরগাও এ গিয়েছিলেন। সেখানে, নিজের বক্তব্যের সময় বই নিয়ে কথা বলার বদলে তিনি ইরান ও তার ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি ইজ্রায়েল ও অ্যামেরিকার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন। ইউটিউব থেকে ভাষণটি শোনার পরই আমার মনে হয়েছিল, এটার বঙ্গানুবাদ করে ফেলা দরকার। পাঁচ মিনিটের ছোট ইংরেজি ক্লিপটির বাংলা সংস্করন, আমার এই লেখাতে পাবেন। মূল বক্তব্য শুনতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন )



মন্তব্য ২৩ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (২৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:১৭

আঁধারের যুবরাজ বলেছেন: পৃথিবীর সকল বিবেকবান মানুষ আজ ইরানের পক্ষে। শুধু মাত্র মানসিক বিকলাঙ্গ কিছু দু-পেয়ে প্রজাতি সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা এবং অবৈধ ইসরাইলের সমর্থক।

১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৫

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার অরুন্ধতী রয়কে পছন্দ করে না।

ব্যক্তিগতভাবে আমার হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সঙ্গে সমস্যা আছে, কিন্তু ভারতের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ, যারা সারা পৃথিবীর নিপীড়িত মানুষের মুক্তি চায়, তাদের সঙ্গে, এবং ভারতের হাজার বছরের পুরনো সভ্যতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে কোন সমস্যা নাই।

অরুন্ধতী রয়, বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত লেখিকা এবং বুদ্ধিজীবী, ভারতের সেই সাধারণ্যের মুক্তিকামী সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী কণ্ঠস্বরেরই একজন।

২| ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৩৯

জ্যাক স্মিথ বলেছেন: কথা সত্য, গাজায় এত এত সুপ্রিম লিডারস ছিলো না।

১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৭

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন:

৩৫ বছরের জীবনে অনেক কিছু রপ্ত করলেও, নির্লজ্জ বেহায়াদের সঙ্গে নির্লিপ্তভাবে আলাপ করাটা রপ্ত করতে পারি নাই।

গাজায় যেটা হয়েছে, সেটা জেনোসাইড। নিরস্ত্র নারী এবং শিশুদের হত্যা। তারা ভুমিচ্যুত। নিজ মাতৃভূমিতে পরবাসী। জায়নবাদী শক্তি অবৈধ দখলদার। নিরস্ত্র নারী ও শিশু নিধন নিয়ে যারা হাসিঠাট্টা করে, তারা অমানুষ।

এটা ২০০০ সালের একটা ছবি। উটের বিচির ছবি কমেন্টে ল্যাদানোর বদলে এর ইতিহাস বের করার ও বোঝার চেষ্টা করেন।

৩| ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৭

আঁধারের যুবরাজ বলেছেন: লেখক বলেছেন: ৩৫ বছরের জীবনে অনেক কিছু রপ্ত করলেও, নির্লজ্জ বেহায়াদের সঙ্গে নির্লিপ্তভাবে আলাপ করাটা রপ্ত করতে পারি নাই।

- এই লোক বলেছিলো ইরানিরা বাচ্চাদের স্কুলে নাকি বম্বিং করেছে। অথচ সবাই জানে আমেরিকা এই নিচ কাজটি করেছে টমাহক মিসাইল দিয়ে।

১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৮

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: বানরদের কিবোর্ডের সামনে ছেড়ে দিলে এগুলোই প্রসব করার কথা।

৪| ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: অরুন্ধতী রায় বলছেন: "যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা ভারতের মতো দেশে শাসন পরিবর্তন দরকার এবং সেটা করতে হবে খোদ জনগণকেই। কোনো মিথ্যাবাদী, প্রতারক বা বোমা ফেলতে থাকা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হস্তক্ষেপে নয়।"

অদ্ভুতভাবে তিনি ইরানের মতো কট্টর কর্তৃত্ববাদী ও ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থার নাম নিতে একদম ভুলে গিয়েছেন । তিনি খুব ভালো করেই জানেন ইরানের শাসনব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জন্য কতটা দমনমূলক এবং সেখানকার জনগণও পরিবর্তনের জন্য লড়ছে, তবুও সেটাকে তিনি তার পরিবর্তনযোগ্য তালিকায় রাখার প্রয়োজন বোধ করেননি। :P


১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৬

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: কমেন্টটা চ্যাটজিপিটি দিয়ে বানালেন?

৫| ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৬

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



অরুন্ধতী রয় আলোচনায় থাকার জন্য এ্ কথা বলেছেন। তিনি পাবলিসিটির পাগল। ইরানের পক্ষে অরুন্ধতী রয় থাকলেও যা, না থাকলেও তা।

ইরানের পক্ষে থাকতে হবে মুসলিম ব্শ্বিকে। অথবা মুসলিম ব্শ্বি হিজরাদের মতো হাত তালি দিক। ইরানের পক্ষে যদি রাশিয়া চীন শক্ত ভূমিকা নেয় তাহলে আমেরিকা এইবার মাথা নত করতে বাধ্য হবে।

ইরানের সিভিলিয়ান হত্যা বিষয়টি আমেরিকার জন্য খুবই ঘৃণ্য কাজ হচ্ছে।

১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:১২

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: শ্রদ্ধেয় ব্লগার, বাকি বয়স্ক ব্লগাররা আপনাকে সম্মানের সঙ্গে প্রতিউত্তর করে বলে আপনাকে সম্মানের সঙ্গেই প্রতিউত্তর করছি।

অরুন্ধতী রয়ের কোন লেখার সঙ্গে আপনার পরিচয় আছে? গড অফ স্মল থিংস, বা আজাদি? ওনার জীবনের ব্যাপারে বিস্তারিত ধারণা যদি না থাকে, তবে তিনি পাব্লিসিটির পাগল - এই ধরণের বক্তব্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক মিথ্যাচার হয়ে যায়।

ভারতে থেকে তিনি ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকারের সমালোচনা করছেন গোটা জীবন। কেরালার মেয়ে। ইন্টারন্যাশনাল সেলিব্রেটি। চাইলেই বিদেশে নিরাপদে বসে পিনাকিদের মতো ভিডিও বানাতে পারতেন। দিল্লীতে, ভারতের বুকের ভেতর বসে মোদী সরকারের সমালোচনা করেন। তার ভারতীয়দের কাছে কোন ফুটেজ, বা পাবলিসিটির প্রয়োজন নাই। আমি নিজে একজন লেখক হিসেবে অরুন্ধতী রয়ের বিরুদ্ধে এরকম অসত্য অভিযোগে ব্যাথিত হলাম।

লেখক বুদ্ধিজীবীদের কাজ লিখে এবং কথা বলে প্রতিবাদ করা। রাষ্ট্রের কাজ , সরকারের কাজ, আর্মির কাজের সঙ্গে লেখক - বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা গুলিয়ে ফেললে হবে না।

৬| ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৮

আঁধারের যুবরাজ বলেছেন: লেখক বলেছেন: বানরদের কিবোর্ডের সামনে ছেড়ে দিলে এগুলোই প্রসব করার কথা।

- বানরের তবু মায়া থাকে অন্য প্রাণীদের জন্য। নিরীহ হরিণ বা অন্য প্রাণীর যখন আক্রান্ত হবার পরিস্থিতি আসে তখন আওয়াজ করে জানিয়ে দেয় যে বাঘ আসছে। এর তাও নেই।

১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪০

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: ছেড়ে দিই ওকে ভাই। ভালো থাকবেন। শুভকামনা আপনার জন্য।

৭| ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:১৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: কমেন্টটা চ্যাটজিপিটি দিয়ে বানালেন?

এটা পঞ্চম শ্রেণির একটা শিশুও বুঝতে পারবে। Selective morality থেকে বাইরে এসে লেখার চেষ্টা করুন। আর যদি উত্তর দিতে না পারেন, তাহলে দয়া করে বিষয়টা এড়িয়ে গিয়ে পালিয়ে যাবেন না :)

১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:২৯

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: আপনি একজন অসৎ ব্লগার। আমি অসৎ লোকদের সঙ্গে ব্লগিং করি না। আপনি এই ব্লগে ক্রমাগত জেনারেটিভ এ আই দিয়ে লেখা প্রসব করেন। এবং চাঁদগাজীকে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টাও করে যান ওর ব্লগে গিয়ে নিয়মিত কমেন্ট করার মাধ্যমে। এই ব্লগে আমি ১৩ বছরের মতো সময় ধরে আছি। আপনার ধারণা নাই কাদের কাদের সঙ্গে আমার ব্লগিয় ক্যাচাল হয়েছে, কারা কারা দলবদ্ধভাবে আমার পিছে লেগেছে, এবং একাহাতে আমি কীভাবে তাদের সামলেছি। আমার নামে এ অভিযোগও ছিল যে, আমার ব্লগে আমার নামে আরও তিন চার জন একত্রে ব্লগিং করে। সে সব ঝামেলার সামনে আপনি নেহায়েত একটা শিশু।

শেষবারের মতো উত্তর দিচ্ছি। তারপর আমার ব্লগে আর কখনো মন্তব্য করার সুযোগ পাবেন না। এবং আপনার সমস্ত কমেন্ট ডিলিট করে দেয়া হবে। পোস্টের সৌন্দর্য নষ্ট করে, এমন কোন মন্তব্য আমি রাখবো না। তাতে একজন মন্তব্যদাতাও যদি না পাই, আমার কিছুই আসে যায় না। মন্তব্যের লোভে আমি লিখি না।

অরুন্ধতী রয় কেন ইরানের কট্টর কর্তৃত্ববাদী ও ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থার নাম নিতে ভুলে গেলেন?

সরাসরি ইরানের নাম না নিলেও, বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যদি ইরানের কর্তৃত্ববাদী ধর্মতান্ত্রিক সরকারের বদল সে দেশের জনগণ চায়, তার রাস্তা সে দেশের জনগণেরই বের করতে হবে। মার্কিন বা ইজরায়েলি সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আকাশ থেকে বোমা মেরে সে কাজটা করতে গেলে কোন লাভ হবে না।

আর, অরুন্ধতীর ওপর ইরানের নাম নেয়ার দায় চাপানোই বা কেন? সৌদি আরব, বা হালের সিরিয়া, কতোটুকু সহনশীল? আফগানিস্তান? হিন্দুত্ববাদী ভারত? আলাপ শুরু করতে হলে তো একদম গোড়া থেকে শুরু করতে হবে। কিন্তু এ মুহূর্তে কি ঐতিহাসিক ঘটনাবলিকে অ্যাড্রেস করা দরকার, না ইরানের পাশে দাঁড়ানো দরকার?

আপনি নিজেই তো সেদিন কোন এক ব্লগারের ব্লগে, যে কিনা ইরানের পেডোফিলিয়া চর্চা হয়ে - এই রকম একটা পোস্টে গিয়ে মন্তব্য করলেন, এসমস্ত আলাপের সময় এখন না। তাহলে অরুন্ধতী রয় এখন ছড়িয়ে আলাপ করছেন না কেন - এটা বুঝতে আপনার সমস্যা কি?

যেটা বোঝেন, সেটা নিয়ে ল্যাদাবেন না।

৮| ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৩২

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



আমার মন্তব্যে আপনি যদি ব্যথিত হয়ে থাকেন আমি আন্তারকিভাবে দুঃখিত।

অরুন্ধতী রয়কে আমি সামান্য চিনি তাঁর লেখালেখির কারণে। ব্যক্তিগক ভাবে তাঁকে আমি চিনি না। অরুন্ধতী রয় ভারতে থেকে লেখালেখি করেন বলেই তিনি অরুন্ধতী রয়। যেমন মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাদেশে এসে লিখছেন বলেই মাইকেল মধুসূদন দত্ত। প্রবাসে বসে লিখলে আমার মনে হয় না মাইকেল মধুসূদন দত্তকে কেউ চিনতো। আশা করি আপনাকে বোঝাতে পেরেছি।

ইরান ন্যায়ের পক্ষে আছে। সমস্যা হচ্ছে আমরা ন্যায়ের পক্ষে নেই।

১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৩৮

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: শ্রদ্ধেয় ব্লগার, আমি নিজেও আপনার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি, কিছুটা উত্তেজিত টোনে প্রতিউত্তর দেয়ায়।

অরুন্ধতী রয়ের গড অফ স্মল থিংসের ইংরেজি এতোটাই পোয়েটিক, এবং ক্ষেত্রবিশেষে জটিল, আমি আমার জীবনে খুব বেশি বাংলাদেশির সঙ্গে পরিচিত নই, যারা তার মূল ইংরেজিতে লেখা এ উপন্যাসটি আদ্যোপান্ত পাঠ করেছেন। যার ইংরেজি এতো সুন্দর, তিনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বসেই লিখতে পারতেন, এবং বুকার পুরষ্কার পেতে পারতেন। তার সারাজীবনের লেখালিখি নিপীড়িত মানুষের পক্ষে। যাক, অরুন্ধতী রয়ের পক্ষে এতো সাফাই আর গাইবো না। সচেতন পাঠকদের কাছে তার প্রয়োজনও নেই।

ইরান, এই যুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে আছে। এবং আপনার সঙ্গে শতভাগ সহমত যে, আমরা ন্যায়ের পক্ষে নেই।

আন্তরিক শুভকামনা জানবেন।

৯| ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪৮

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



ইরান সম্পর্কে ব্লগে বেশ কিছু মিথ্যা তথ্য লেখা পোস্ট এসেছে। ইরানে নাবালিকা মেয়ের বিয়ে হয়! - এই তথ্য পশ্চিমা বিশ্বের ফার্মিং ব্লগার ও ফার্মিং মিডিয়া প্রকাশ করেছে।

পশ্চিমা বিশ্বের মিডিয়ার কাছে আপনি ইরান সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য পাবেন - এটি সম্ভব?

আপনাকেও অশেষ অশেষ ধন্যবাদ।

১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫৪

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: পুনরায় ধন্যবাদ, শ্রদ্ধেয় ব্লগার। সহমতজ্ঞাপন করছি আপনার সঙ্গে। ইরানের অনেক সমালোচনা করার জায়গা আছে। আমরাই করবো সে সমালোচনা। কিন্তু এই যুদ্ধকালীন সময়ে নয়। সালাম ও শুভকামনা।

১০| ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪৯

জিকোব্লগ বলেছেন:



সৈয়দ কুতুবকে সঠিকভাবে চিনতে পারার জন্য এবং তা প্রকাশ্যে আনার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।

১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫৫

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: সৈয়দ কুতুব এমনিতেও বেশীদিন টিকবে না ব্লগে। ব্লগিং এর প্যাটার্ন দেখে আঁচ করা যায়।

১১| ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০০

আমি নই বলেছেন: ৩৫ বছরের জীবনে অনেক কিছু রপ্ত করলেও, নির্লজ্জ বেহায়াদের সঙ্গে নির্লিপ্তভাবে আলাপ করাটা রপ্ত করতে পারি নাই।

গাজায় যেটা হয়েছে, সেটা জেনোসাইড। নিরস্ত্র নারী এবং শিশুদের হত্যা। তারা ভুমিচ্যুত। নিজ মাতৃভূমিতে পরবাসী। জায়নবাদী শক্তি অবৈধ দখলদার। নিরস্ত্র নারী ও শিশু নিধন নিয়ে যারা হাসিঠাট্টা করে, তারা অমানুষ।

এটা ২০০০ সালের একটা ছবি। উটের বিচির ছবি কমেন্টে ল্যাদানোর বদলে এর ইতিহাস বের করার ও বোঝার চেষ্টা করেন।


ভাই এইটা বানরের চাইতেও অধম। এর চাইতে মিথ্যাবাদী, সত্যকে অস্বীকার করা ব্লগার আমি একটাও দেখেি নাই। যেই ছবিটার ইতিহাস বের করতে বললেন দেখেন বলেই বসে কিনা এমন কোনো ঘটনাই ঘটে নাই।

ইসরাইল-আমেরিকা হামলার প্রথম ওয়েভেই স্কুলে হামলা করল, তখন পর্যন্ত ইরান প্রতিহত বা প্রতিআক্রমন শুরুই করে নাই আর এই জায়নিষ্ট বানর বিষ্ঠা দাবী করল ইরান নিজেই নাকি স্কুলে হামলা করেছে।

অফটপিক মন্তব্যের জন্যে দুঃখিত। তবে জায়নিষ্ট বানর বিষ্ঠাটাকে উপযুক্ত জবাব দেয়ার জন্যে ধন্যবাদ।

১২| ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৬

শ্রাবণধারা বলেছেন: অরুন্ধতী রায় যেটা বলেছেন, সেটা সকল বিবেকবান মানুষেরই কথা।

ঠাকুরমাহমুদ ভাই, আপনি হয়তো অরুন্ধতী রায়ের লেখালেখির সঙ্গে পরিচিত নন। উনি এখানে যেগুলো বলেছেন, সেই কথাগুলো তিনি বহুবছর ধরেই বলে আসছেন। তার লেখা বই, যেগুলোর কথা এখানে সাজিদ উল হক আবির উল্লেখ করেছেন, সেগুলো ছাড়াও তার বহু ইন্টারভিউ ও লেকচার ইউটিউবে আছে।

ভারতীয় সংবিধান প্রণেতা ও বিচারপতি আম্বেদকরকে নিয়ে অরুন্ধতীর কিছু আলোচনা আছে। আমি একটার কথা বলি, সেটা হলো আম্বেদকরের লেখা বিখ্যাত পুরোনো বই Annihilation of Caste এর একটা ভূমিকা অরুন্ধতী লিখেছেন। এই একটা লেখা পড়লেই অরুন্ধতী সম্পর্কে অনেকটা জানা যাবে।

অরুন্ধতী রায় তার যে বইয়ের প্রচারণা অনুষ্ঠানে ভারতের হরিয়ানায় এই বক্তৃতা দিয়েছেন, সেই বইয়ের প্রকাশনা উত্তর আমেরিকায় গত বছর গ্রীষ্মে হয়েছে। তার এই অনুষ্ঠানগুলো সাধারণত এরকম হয়: নিউইয়র্ক-টরন্টো-শিকাগো-ভ্যাঙ্কুভার-এলএ-লন্ডন-সিডনি..। হ্যাঁ, লেখকেরও মার্কেটিং করতে হয় বটে। হরিয়ানায় তার আলোচনায় থাকা দরকার হলেও সেটা বড় প্রচারের জায়গা নয়, তার মত লেখিকার জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.