| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সুলাইমান হোসেন
,,তোমার অস্তিত্বটাই সবচেয়ে বড় বিস্ময় এবং সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে বড় প্রমান
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
নাহমাদুহু ওয়ানুসল্লি আলা রসূলীহিল কারীম
সমস্ত প্রশংসা আসমান জমিন এবং এর মধ্যকার যাবতীয় সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রব্বুল আলামিনের প্রাপ্য।যিনি চন্দ্র এবং সূর্য সৃষ্টি করেছেন,এবং সবকিছুকে একটি নিয়মের অধীন করে দিয়েছেন।
অগনিত অসংখ্যা দুরুদ এবং সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রসূল এবং সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি।যার আগমন দুনিয়ার জন্য রহমত সরূপ ছিলো।
পাঠ:১.০
হাকিক্বতুল মায়ারিফ সিরিজে আমরা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পরিচয় অথবা মায়ারিফ নিয়ে আলোচনা করব।
চিন্তাভাবনা :চিন্তাভাবনা হলো এলমে মারিফতের প্রাথমিক ধাপ। একে ফিকর তথা ইবরত ও বলা হয়।চিন্তাভাবনা আবার কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।যেমন,
১।প্রানীকূল,২।উদ্ভিদকূল,৩।নদী-নালা,পাহাড়-পর্বত,৪।আসমান এবং এর বস্তুসমূহ।৫।ইবাদত এবং এর নিয়ম-কানুন।
৬।আধ্যাতিক হাল এবং মকামসমূহ।৭।সৃষ্টিকর্তার সত্তা এবং গুনাবলীসমূহ।
চিন্তা-ভাবনার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত যে ব্যাক্তি পৌঁছাতে পারবে সে যেন এক বিশাল মহা সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে।
এখন আমরা এলমে মারিফতের প্রাথমিক ধাপ চিন্তা-ভাবনার জগতে প্রবেশ করব।
প্রানীকূল :
পৃথিবীতে অসংখ্য অগনিত প্রানী রয়েছে,যার প্রকৃত সংখ্যা কোনো মানুষ গণনা করে বের করতে পারবেনা।আমরা ইলমে মারিফতের জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু নিয়েই আলোচনা করবো,অপ্রয়োজনীয় আলোচনা করবনা।
তার আগে ইলমে মারিফতের অর্থ জেনে নেওয়া দরকার।
ইলমে মায়ারিফ কি?
ইলমে মায়ারিফ হলো সেই অভিজ্ঞান যা দ্বারা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সত্যতা ক্ষমতা গুনাবলী অন্তরদৃষ্টিতে ধরা পরে।এই জ্ঞান অর্জিত হলে মানুষ নিশ্চিতভাবেই জানতে পারে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ আছেন এবং তিনি সত্য।শুধু তাই নয়,এই জ্ঞান অর্জিত হলে,মানুষ তার করনীয় জানতে পারে।বিশ্বজগতের সৃষ্টিরহস্য সমূহ তার অন্তরের দৃষ্টিতে উন্মোচিত হয়।আরো অনেক উপকার রয়েছে যা ভাষা দিয়ে প্রকাশ করা যায়না।ভুক্তভোগী সেগুলো অনুভব করে এবং জানতে পারে।
চলুন তাহলে আমরা চিন্তাভাবনার সমুদ্রে প্রবেশ করি।আল্লাহ তায়ালা আমাদের সফরের সঙ্গি হোন,আর তিনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ এবং উত্তম সঙ্গী।
প্রথমে নফসের ধোঁকা এবং শয়তানের প্রতারনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাহিতেছি।
আয়ুজু বিল্লাহি মিনাশ্শাইত্বনির রজীম
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
প্রানীকূল :
পৃথিবীতে কত প্রানী রয়েছে তা আজ ও বিজ্ঞানীদের অজানা।কত জাতপ্রজাতির প্রানী রয়েছে এবং তার সংখ্যা কত তা আজ ও কোনো মানুষ জানেনা।তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউই জানেনা।আবার তিনি, কোনো কোনো প্রানীকে বিলুপ্ত করে দেন,তারপর নতুন প্রানী সে জায়গায় সৃষ্টি করেন।কুরআনেও বলা হয়েছে,"তিনি তার সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা যোগ করেন।"
মানুষ
মানুষ প্রানীজগতের বিস্ময়কর এক প্রানী।মানুষকে জানতে পারলে সমস্ত প্রানীকেই জানা হয়ে যাবে।আমরা মানুষের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটা আলোচনা করার চেষ্টা করব।
তবে মানুষের দুইটা শরীর রয়েছে।একটি আধ্যাতিক আরেকটি বাহ্যিক।এখানে শুধু বাহ্যিক বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।আর রুহ বা আধ্যতিক শরীর নিয়ে আধ্যাতিক জগতের আলোচনার সময় আলোচনা করব।
কিভাবে একটি মানুষের শুরু হয়?
মানুষ পৃথিবীতে পিতা মাতার মাধ্যমে আসে।এর বাইরে দিয়ে আসার কেনো সিস্টেম নাই।পিতা মাতার মধ্যে বিশেষ নিয়মে মিলন ঘটে।সেই মিলনের দ্বারাই বহু প্রক্রিয়া অতিক্রম করে একটি মানুষ দুনিয়াতে আসে।
আসুন আমরা সংক্ষেপে সেই প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করি।
দেখুন প্রথমিক একটি প্রশ্ন হলো পিতামাতা কেন মিলন ঘটায়।এখানে কোন রহস্য অবশ্যই আছে।আল্লাহ তায়ালাই পুরুষ এবং নারী সৃষ্টি করেছেন এবং উভয়কে দিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ঠ।পুরুষ নারীর প্রতি আকর্ষন অনুভব করে আর নারী পুরুষের প্রতি আকর্ষন অনুভব করে।আমরা নারী-পুরুষ মিলিয়ে পূর্ণ একটিমাত্র মানুষ ধরে নিতে পারি।যদি নাকি পুরুষের অন্তরে নারীর প্রতি কামুক আকর্ষন সৃষ্টি না করতেন তাহলে পুরুষ কখোনৈ বিয়ে করতনা।তখন নারীরা মহা যন্ত্রনায় পরত।কারন পুরুষদেরকে আল্লাহ তায়ালা মেয়েদের অভিভাবক বানিয়েছেন।
শুক্রানু এবং ডিম্বানু
যদি আল্লাহ না থাকতো তাহলে শুক্রানু এবং ডিম্বানু সৃষ্টি হওয়া সম্ভব ছিলোনা।কারন এই দুইটির বৈশিষ্ঠ ভিন্ন ভিন্ন।এই ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট সৃষ্টি হওয়া মানে অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা আছেন।
শুক্রানু এবং ডিম্বানুর মিলন
এটিও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে একটি জটিল এবং কঠিন প্রক্রিয়া,যা কোনো সৃষ্টিকর্তার অদৃশ্য হাত ব্যাতিত ঘটে যাওয়া সম্ভব নয়।
কেন ঘটে যাওয়া সম্ভব নয়?
সূরা আল ওয়াকিয়াতে আল্লাহ রব্বুল কারীম বলেন,বাংলা অর্থ," তোমরা যে বীর্য স্ত্রীর গর্ভে নিক্ষেপ করো,তা থেকে কি তোমরাই মানুষ বানাও নাকি আমি মানুষ বানাই।"
এখানে স্পষ্টই বলা আছে আল্লাহই মেয়েদের মধ্যে মানুষ সৃষ্টি করেন।ছেলেদের মধ্যে মানুষ সৃষ্টি করেন না।এজন্য ছেলে ছেলে বিয়ে হতে পারেনা।মেয়ে মেয়ে বিয়ে হতে পারেনা।সৃষ্টির স্বাভাবিক নিয়ম হলো ছেলে এবং মেয়ে বিয়ে হবে। এটাই আল্লাহর নিয়ম।আর তার নিয়মে যারা ব্যাতিক্রম ঘটায় ওরা মুর্খ এবং জালেম।
জরায়ুতে যখন শুক্রানু এবং ডিম্বানু নিষিক্ত হয়।তখন প্রাথমিক কোষ বা ভ্রুন সৃষ্টি হয়।শুক্রানু এবং ডিম্বানুতে ক্রোমোজম থাকেএবং ক্রোমোজমের মধ্যে রয়েছে ডি এন এ।শুক্রানু এবং ডিম্বানুর মোট ৪৬ টি ক্রোমোজম দিয়েই মানুষের প্রাথমিক কোষ বা ভ্রূণ সৃষ্টি করা হয়।তারপর কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অঙ্গ প্রত্যাঙ্গ সৃষ্টি হতে থাকে এবং বড় হতে থাকে।ডি এন এ মূলত পুরো শরীর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।শারীরিক আকৃতি প্রকৃতি কেমন হবে,কতটুকু লম্বা হবে। গঠন কেমন হবে এগুলো ডিএনএ তে লেখা থাকে।আর এন এ সেই লেখা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রোটিন সরবরাহ করে এবং দেহ গঠন করে।
আচ্ছা ডি এন এর মধ্য এই লেখা আসলো কোত্থেকে?
মাতৃগর্ভে শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিশ্লেষন:
এখানে বিশ্লেষন করা হবে,যথাক্রমে—
১।মস্তিষ্ক,২।চোখ,৩।কান,৪।মুখ এবং ঠোঁট,৫।নাক,৬।থুতনি এবং গলা।
৭।হৃদয় বা হার্ট। ৮।ফুসফুস। ৯।রক্ত।এবং রক্ত নালী।১০।যকৃত বা লিভার,১১।জননাঙ্গ।১২।দুই হাত,এবং দুই পা।১৩।নখ এবং চুল।
পাঠ ১.১
স্তন্যপায়ী,পাখী, জলজ,এবং উভচর প্রানী:
স্তন্যপায়ী প্রানী:
তারপর দেখো পৃথিবীতে রয়েছে অসংখ্য জাত প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রানী।
স্তন্যপায়ী প্রানীদের বৈশিষ্ট্য:
১।এরা বাচ্চাকে দুধ পান করিয়ে বড় করে।
২।অন্যান্য প্রানীদের থেকে এরা তুলনামূলক বেশি বুদ্ধিমান হয়।
৩।তুলনামূলক উন্নতমানের খাবার ভক্ষন করে।
৪।কোনো কোনো স্তন্যপায়ী প্রানী খুবই হিংস্র হয়,আবার কেউ কেউ অত্যন্ত নমনীয় হয়।
৫।তুলনামূলক শক্তিশালী হয়ে থাকে।
কিছু স্তন্যপায়ী প্রানীর উদাহরণ:
১।মানুষ,২।হাতি,৩।বাঘ,৪।হরিণ,৫।খরগোশ।
১।মানুষ :পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রানীগুলোর একটি।মানুষ মূলত অন্যান্য সমস্ত প্রানীদের উপর রাজত্ব চালায়।পুরো পৃথিবীতে মানুষেরই রাজত্ব চলছে।
২।হাতি :হাতি স্থলভাগের সবচেয়ে বড় প্রানী।যেমন জলভাগের সবচেয়ে বড় প্রানী হল নীল তিমি।
৩।বাঘ :স্থলভাগের সবচেয়ে হিংস্রাত্মক প্রানীগুলো একটি হলো বাঘ।এরা অন্য প্রানীদের মাংস ভক্ষন করে বিধায় এদেরকে মাংসাশী প্রানীও বলা হয়।বাঘ বড় বড় বন-জঙ্গলে বসবাস করে।অন্যান্য প্রানীরা এদের ভয়ে আতংকগ্রস্ত থাকে।
৪।হরিণ: হরিণ সবচেয়ে সুন্দর এবং বিনয়ী প্রানীগুলোর একটি।হিংস্রাত্মক এবং মাংসাশী প্রানী বাঘ এবং সিংহের প্রিয় খাবার ও হরিণ।এরা ঘাস খেয়ে বেঁচে থাকে।খুব দৌড়াতে পারে।এদের জন্য বড় আতংক হল বাঘ,সিংহ,কুমির,হায়না,ইত্যাদি হিংস্র প্রানী।
৫।খরগোশ
সবচেয়ে সুন্দর প্রানীগুলোর একটি।অত্যান্ত চতুর এবং সচেতন প্রানীগুলোর ও একটি হলো খরগোশ।শিকারীকে ধোঁকা দিয়ে পালিয়ে যেতে পারে।
পাঠ ১.২
জলজ প্রানী:
পৃথিবীর প্রায় ৪/৩ ভাগ পানি।সুতরাং স্থলভাগের প্রানীদের চেয়ে জলজ প্রানীদের সংখ্যা বেশি।সৌন্দর্য,বৈচিত্র,এবং বিশালতায় ও জলজ প্রানীরা অগ্রগামী।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো পানিতেও স্তন্যপায়ী প্রানী রয়েছে যারা ফুসফুসের মাধ্যমে শ্বাস প্রশ্বাস কার্যক্রম পরিচালনা করে।এরা পানির উপরে উঠে শ্বাস গ্রহন করে এবং ডুব দিয়ে অনেক্ষন পানির নিচে থাকতে পারে।
কিছু জলজ প্রানীর উদাহরন:
১।মাছ,২।ডলফিন,৩।তিমি,৪।কাকড়া,শামুক,ঝিনুক,৫।ফাইটোপ্ল্যাংটন।
১।মাছ
মাছ হলো পানির প্রধান প্রানী।মানুষের জন্য পানির মাছ হালাল।হাজার হাজার প্রজাতির মাছ রয়েছে,এবং প্রতিটি আলাদা প্রজাতির মাছের রয়েছে আলাদা এবং একক বৈশিষ্ট্য।
১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:২৮
সুলাইমান হোসেন বলেছেন: আল হামদুলিল্লাহ।লেখাটি পাঠ করে মন্তব্য করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।এর আগেও আমি অনেকগুলো পোস্ট করেছিলাম,,কিন্তু সবগুলো ড্রাফট করে নতুন করে শুরু করেছি।আগের পোস্টগুলো এলোমেলো ছিলো।এখন চাচ্ছি সাজিয়ে গুছিয়ে কিছু পোস্ট দিতে যেন একটা ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।আমি এলমে মারিফত থেকে খুবই কম জানি।কিন্তু যতটুকু জানি ততটুকুই প্রকাশ করতে চাই,যেন এর দ্বারা আমার নিজের এবং অন্যের উপকার হয়।আপনার পরামর্শ অনুযায়ী এডিট করেছি।আশা রাখি পরবর্তী পোস্টগুলোতেও পাশে থাকবেন,এবং মূল্যবান মতামত দিয়ে সাহায্য করবেন।
তারপর আসি ধারাবাহিকতা প্রসঙ্গে।আপনার কথাই সঠিক এবং যুক্তিসংগত। তাজকিয়াতুন নফস অধ্যায়টি আগে আনা দরকার ছিলো।কিন্তু,আত্মগর্ব,অহংকার, হিংসা,এবং আত্মিক রোগব্যাধি অধিকাংশ মানুষের নিকটেই প্রকাশিত নয়।এজন্য আমি চিন্তাভাবনাকে আগে এনেছি।ধন্যবাদ এবং আপনার প্রতি অগনিত শুভেচ্ছা রইলো।আল্লাহ আপনার সার্বিক মঙ্গল দান করুন।আসসালামু আলাইকুম
©somewhere in net ltd.
১|
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৩০
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ব্লগে গত এক বছরে এটাই কী আপনার নতুন পোস্ট । মনে হয় আগেও কোথাও আপনার লেখা পড়েছি ।
ভুল আমার হলেও হতে পারে । যাহোক বছর পারি দিয়ে হলেও নতুন পোস্ট দেয়ার জন্য রইল অভিনন্দন ।
প্রথম পোস্টেই হাকিকাতুল মা'আরিফ আধ্যাত্মিক জ্ঞান বা পরম সত্যের উপলব্ধি) তথা সুফিবাদের একটি
গভীর এবং উচ্চতর অধ্যায় নিয়ে লিখেছেন। 'হাকিকাত' শব্দের অর্থ পরম সত্য বা মূল তত্ত্ব, এবং 'মা'আরিফ'
বা 'মারেফাত' অর্থ আল্লাহর পরিচয় ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান, মনে হল এই জ্ঞান লব্দের পরেই এই লেখা শরু
করেছেন যা চলবে পর্বাকারে ।
প্রথম পর্বেই মারেফাত বা আধ্যাত্মিক জ্ঞানের সূচনা, এর গুরুত্ব এবং এটি অর্জনের প্রথম ধাপে প্রকৃতি
মানুষের জীবনের ধাপ সমুহ উদাহরন দিয়ে আলোচনা করেছেন দেখে ভাল লাগল ।
যতদুর জানি সাধারণ অর্থে জ্ঞান দুই প্রকার
১. ইলমে জাহেরী (বাহ্যিক জ্ঞান): যা বই-পুস্তক, শরিয়তের নিয়ম-কানুন, এবং পড়াশোনার মাধ্যমে অর্জন করা যায়।
২. ইলমে বাতেনী (অভ্যন্তরীণ জ্ঞান): একেই মারেফাত বলা হয়। এটি কেবল কিতাব পড়ে অর্জন করা যায় না, বরং
অন্তরের পরিশুদ্ধি (তাজকিয়াতুন নাফস) এবং আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে অন্তরে নূরের মতো
অবতীর্ণ হয়।
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি এক গুপ্ত ভাণ্ডার ছিলাম। আমি ভালোবাসলাম যে আমি পরিচিত হই।
তাই আমি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলাম, যাতে তারা আমাকে চিনতে পারে। এই চেনার নামই হলো মারেফাত।
মারেফাতের দুনিয়ায় একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে যে নিজের নফস বা আত্মাকে চিনেছে, সে তার রব বা
প্রতিপালককে চিনেছে।আল্লাহকে চেনার প্রথম চাবিকাঠি হলো নিজেকে চেনা। মানুষ যখন বুঝতে পারে
যে সে কতটা দুর্বল, অসম্পূর্ণ এবং তার অস্তিত্বের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর দয়ার ওপর নির্ভরশীল, তখন তার
মধ্যে অহংকার দূর হয়। এই অহংকার দূর হওয়াই আধ্যাত্মিক উন্নতির সূচনা।
প্রথম পর্বের মূল শিক্ষা অন্তরের পরিশুদ্ধি (তাজকিয়া) একটি ময়লা আয়নায় যেমন সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয় না,
তেমনি পাপ ও দুনিয়ার মোহে অন্ধ অন্তরে আল্লাহর মারেফাতের নূর প্রবেশ করে না। তাই প্রথম পর্বের সাধনা হলো
তওবা; অতীতের সমস্ত ভুল ও পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা।জিকির; মুখে এবং অন্তরে
সার্বক্ষণিক আল্লাহর স্মরণ বজায় রাখা, যা অন্তরের জং দূর করে।অহংকার বর্জন: নিজেকে সবার চেয়ে ছোট মনে
করা এবং নম্রতা অবলম্বন করা।
পরবর্তী পর্বে আপনি মারেফাতের পথে অন্তরের ৪টি স্তর এবং নফসের প্রকারভেদ" নিয়ে। আলোচনা করতে
পারেন ।সেখানে আপনি কোনো নির্দিষ্ট সুফি তরিকা বা বুজুর্গের দৃষ্টিভঙ্গি সাথে কুরআন ও হাদিসের আলোকে
এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরতে পারেন।
আপনার পোস্টে ৭নং ক্রমিকটি এডিট করে ৬ নং এর পাশ থেকে ৬ নং এর নীচে নামিয়ে আনুন অথবা ৭। দিন
তা না হলে এটা দেখায় “৭সৃস্টিকর্তার” মত ।
শুভেচ্ছা রইল