| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সুলাইমান হোসেন
,,তোমার অস্তিত্বটাই সবচেয়ে বড় বিস্ময় এবং সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে বড় প্রমান
পাঠ:১.২
মাছ
সতর্কতা:ইহা সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি।আমি কোনো লেখকের লেখা নকল করিনি।এবং বৈজ্ঞানিক কোনো ধ্যান ধারনাও আমার নেই।আমি তথ্য উপাত্তের থেকে সৃষ্টিকর্তার নিদর্শন প্রত্যাক্ষ করার প্রতি বেশি আগ্রহি।তাছাড়া ইহা সকলের পাঠযোগ্য কন্টেন্ট নয়)
(পূর্বের পর্বের পর থেকে)
মাছ:
মাছ পানিতে বসবাসকারী একটি অতি পরিচিত প্রানী।মানুষ সহ আরো অনেক প্রানীর প্রিয় খাবারও মাছ।
প্রজাতি
(
চ্যাট জিপিটি থেকে প্রাপ্ত কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হলো—
১. মাছের জগৎ কত বিশাল?
২০২৬ সালের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত Eschmeyer's Catalog of Fishes-এ ৩৭,৭৩০টি বৈধ মাছের প্রজাতি নথিভুক্ত আছে। এর মধ্যে ১৯,৩৪৩টি মিঠাপানির মাছ। আর ২০২৬ সালেই তখন পর্যন্ত ২১৭টি নতুন প্রজাতি বৈজ্ঞানিকভাবে বর্ণিত হয়েছে; ২০২৫ সালে হয়েছিল ৪০৯টি।
Cal Academy Research Archive +1
অর্থাৎ, মাছের জগৎ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এখনো ক্রমাগত বাড়ছে।
২. গভীর সমুদ্রের মাছ
সমুদ্রের গভীরে এমন মাছ আছে যেখানে সূর্যের আলো প্রায় পৌঁছায় না। সেখানে কিছু মাছের শরীর এমনভাবে অভিযোজিত হয়েছে যে তারা নিজেরাই আলো উৎপন্ন করতে পারে—এ ঘটনাকে বলা হয় bioluminescence।
এই আলো শিকার আকর্ষণ, যোগাযোগ কিংবা শিকারি থেকে আত্মরক্ষার মতো কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
৩. নিজের শরীরে আলো তৈরি করা মাছ
Anglerfish-এর মতো কিছু গভীর সমুদ্রের মাছে শরীরের সামনে আলো উৎপাদনকারী বিশেষ অঙ্গ থাকে। অন্ধকার পরিবেশে সেই আলো শিকারকে কাছে টানতে সাহায্য করে।
এখানে লেখার একটি সুন্দর প্রশ্ন হতে পারে:
যে জগতে সূর্যের আলো নেই, সেখানে একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর জন্য আলোর ব্যবস্থাও কী আশ্চর্যভাবে নির্ধারিত!
তবে লেখায় বৈজ্ঞানিক তথ্য আর আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যাকে আলাদা রাখবেন—তাহলে আপনার বক্তব্য আরও শক্তিশালী হবে।
৪. বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী মাছ
Electric eel-এর মতো কিছু মাছ বৈদ্যুতিক অঙ্গের সাহায্যে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক নির্গমন করতে পারে। এটি শিকার ধরা, আত্মরক্ষা এবং পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়।
আরও বিস্ময়কর হলো—সব বৈদ্যুতিক মাছ একই ধরনের নয়। কিছু মাছ খুব দুর্বল বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করে এবং সেটিকে যেন একটি জৈবিক সেন্সর হিসেবে ব্যবহার করে।
৫. পানির বাইরে উড়ে চলা মাছ
Flying fish আসলে পাখির মতো উড়ে না; তারা পানির ওপর থেকে লাফিয়ে উঠে তাদের বড় বুকের পাখনা ব্যবহার করে বাতাসে glide করে অনেক দূর অতিক্রম করতে পারে।
অর্থাৎ একই প্রাণীকে বুঝতে হলে শুধু তার পানির ভেতরের জীবন দেখলে হবে না—পানির ওপরের আচরণও দেখতে হবে।
৬. হাঙরও মাছ
অনেকে মাছ বলতে শুধু রুই-কাতলা-ইলিশের মতো প্রাণীকে বোঝেন। কিন্তু হাঙর ও রে-ও মাছ। FishBase-এর ২০২৬ সালের জুনের হিসাব অনুযায়ী হাঙর ও রে-জাতীয় মাছের প্রায় ১,২৯৯টি প্রজাতি নথিভুক্ত ছিল।
FishBase
তবে হাঙরের কঙ্কাল অধিকাংশ অস্থিময় মাছের মতো হাড়ের নয়; প্রধানত তরুণাস্থি (cartilage) দিয়ে গঠিত।
৭. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি
আপনার হাকিক্বতুল মায়ারিফ-এর মূল ভাবনার সঙ্গে আমার মনে হয় এই প্রশ্নটি খুব সুন্দরভাবে যায়:
৩৭ হাজারের বেশি প্রজাতির মাছ—প্রত্যেকটির দেহের গঠন, খাদ্যাভ্যাস, বাসস্থান, চলাফেরা ও জীবনধারণের কৌশল এক নয়।
কেউ অন্ধকার গভীর সমুদ্রে থাকে, কেউ নদীর স্বচ্ছ পানিতে; কেউ বৈদ্যুতিক সংকেত ব্যবহার করে, কেউ আলো তৈরি করে; কেউ পানির ওপর দিয়ে glide করে।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—আমরা যে সংখ্যাটি জানি, সেটিও চূড়ান্ত নয়। কারণ নতুন প্রজাতি এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে বর্ণিত হচ্ছে।
Cal Academy Research Archive)
এতক্ষন আমরা চ্যাট জিপিটি থেকে মাছের কিছু বিস্ময়কর তথ্য জানলাম।
এখন মাছ নিয়ে আমার সাধারন আলোচনা—
মানুষের খাবার
মানুষের জন্য মাছকে হালাল করা হয়েছে।মাছ থেকে মানুষ শরীর গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন সংগ্রহ করতে পারে।
মাছের মধ্যেও কি চিন্তার খোরাক আছে,এবং সৃষ্টিকর্তার নিদর্শন রয়েছে—?
=অবশ্যই আছে।আমাদের সংকীর্ণ দৃষ্টিতে যতটুকু ধরা পরে আমরা ততটুকুই আলোচনা করব।
মাছের মুখ
বেঁচে থাকার জন্য এবং যেন বেকার না থাকতে হয় সেজন্য মাছকেও খাবারের স্বাদ গ্রহন করার ব্যাবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।এটা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কুদরত এবং নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।
কেন তিনি খাবারের জন্য মাছকে মুখ এবং প্রয়োজনীয় সবকিছু দান করলেন।তিনি তো খাবার ছাড়াই মাছকে বাঁচিয়ে রাখতে পারতেন?
হ্যা!তিনি খাবার ছাড়াও মানুষসহ যাবতী প্রানীকে বাঁচিয়ে রাখতে পারেন।কিন্তু পৃথিবীতে নিয়ম এবং সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছেন।এর ভিতরে অবশ্যই কোনো কারন রয়েছে,যা আল্লাহ ব্যাতিত কেউ জানেনা।আমাদের ক্ষুদ্র জ্ঞানে যতটুকু ধরে তা হলো—
খাবার-দাবারের ব্যাবস্থাপনা এবং সৃষ্টির কারন—
১।খাবার শুধু ক্ষুধাই মিটায়না,বরং খাবার একটি মজাদার বস্তু।হয়ত মাখলুক মজা এবং স্বাদ গ্রহন করবে,এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে,এজন্য খাবার সৃষ্টি করা হয়ে থাকতে পারে।
২।পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্যও খাবার-দাবারের প্রয়োজন রয়েছে।
৩।খাবার প্রানীদের জন্য ধার্যকৃত রিযিকের একটি শাখা।সবকিছুই পূর্ব পরিকল্পনা এবং নিখুঁত পরিকল্পনায় সুসম্পন্ন হচ্ছে।
মাছের মুখোমন্ডর নিয়ে আলোচনা করছিলাম।এখন দেখো আল্লাহ তায়ালা কতসুন্দর ভাবে প্রতিটা মাছের জন্যই মুখোমন্ডল সৃষ্টি করেছেন।
ফুলকা
মাছের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক এবং বিস্ময়র বস্তু হলো ফুলকা বা গিলস।মাছকে পানির জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে এজন্য মাছের শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহনের নিয়মও ভিন্ন।
মাছের শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যাবস্তা আমার জানা নেই। সুতরাং এখানে চ্যাট জিপিটির সাহায্য প্রয়োজন।
(চ্যাট জিপিটি থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিচে দেওয়া হলো—
মাছ কীভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করে?
মাছ সাধারণত পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে। তারা মানুষের মতো বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন নেয় না।
প্রক্রিয়াটি মোটামুটি এমন—
১. মাছ মুখ দিয়ে পানি নেয়।
মাছ মুখ খুললে পানি মুখগহ্বরে প্রবেশ করে।
২. পানি ফুলকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
মুখ দিয়ে ঢোকা পানি ফুলকার সূক্ষ্ম পাতার মতো অংশগুলোর ওপর দিয়ে যায়।
৩. ফুলকা পানি থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন ফুলকার সূক্ষ্ম রক্তনালীর দেয়াল অতিক্রম করে মাছের রক্তে প্রবেশ করে।
৪. রক্ত অক্সিজেন শরীরের বিভিন্ন অংশে নিয়ে যায়।
৫. কার্বন ডাই-অক্সাইড রক্ত থেকে ফুলকার দিকে আসে।
এরপর মাছের শরীরের উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড পানিতে চলে যায় এবং পানি মাছের দেহ থেকে বেরিয়ে যায়।
সহজ করে বললে:
পানি → ফুলকা → অক্সিজেন রক্তে → শরীরের কোষে
এবং
শরীরের কার্বন ডাই-অক্সাইড → রক্ত → ফুলকা → পানি।
কিন্তু এখানে আপনার লেখার জন্য আরও বিস্ময়কর বিষয় আছে
ফুলকা শুধু একটা সাধারণ “অঙ্গ” নয়। এর ভেতরে অসংখ্য সূক্ষ্ম গিল ফিলামেন্ট ও গিল ল্যামেলা থাকে। এগুলো ফুলকার কার্যকর পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল অনেক বাড়িয়ে দেয়। ফলে পানির সঙ্গে রক্তের মধ্যে গ্যাসের আদান-প্রদান কার্যকরভাবে হতে পারে।
আরও চমৎকার বিষয় হলো countercurrent exchange বা বিপরীতমুখী প্রবাহের ব্যবস্থা। ফুলকার ভেতরে রক্ত যে দিকে প্রবাহিত হয়, পানি তার বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়। এর ফলে পানি থেকে অক্সিজেন গ্রহণের দক্ষতা অনেক বেশি হয়।)
চ্যাট জিপিটি কি বিস্ময়কর তথ্য দিলো দেখুন।ফুলকাও কোনো সাধারন অঙ্গ নয়।এর মধ্যেও বিস্ময়কর সব বস্তু নিখুঁভাবে কাজ করছে,যা প্রাকৃতিকভাবে এমনি এমনি হয়ে যেতে পারেনা।
(পরবর্তী পর্বে আলোচনা করব পানীর স্তন্যপায়ী প্রানীদেরকে নিয়ে,পাঠের আমন্ত্রন রইলো)
©somewhere in net ltd.