| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
খায়রুল আহসান
অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।
ছুটি শেষে যে নাবিক গৃহত্যাগ করে
ফিরে চলে পোতাশ্রয়ে নোঙর করা
তার জাহাজ পানে, জিজ্ঞেস করোনা
তাকে কখনো তার গন্তব্যের কথা।
তার মনে গেঁথে থাকে ফেলে আসা
প্রিয়জনের কান্নাভেজা মুখ আর চোখ,
বাংলার শ্যামল প্রান্তরে রেখে যাওয়া
তার মৃন্ময় পদচিহ্নের সজীব স্মৃতি।
অচিরেই সেসব স্মৃতিগুলো মিশে যাবে
সাগরের নীল জলে, রয়ে যাবে শুধু-
ভালোবাসার এলোমেলো ব্যক্ত অব্যক্ত
কিছ কথামালা আর রঙিন কিছু কল্পনা।
দ্রুতপদে সে গ্যাংওয়ে পার হয়ে যাবে,
নতুন কুঠুরিতে সে ঠাঁই খুঁজে নেবে।
চঞ্চল মনে এপাশ ওপাশ তাকিয়ে দেখে,
অবশেষে এসে দাঁড়াবে রেলিঙের ধারে।
চোখ মেলে সে দেখবে সাগরের সফেন ঢেউ,
পেছনে পড়ে থাকবে স্মৃতিময় ধূসর কথকতা ।
আনমনে চলা নাবিকের মনের নোঙরখানি
বাঁধা আছে কোন তীরে, সে নিজেও জানে না!
(ছুটি শেষ হওয়া নাবিকের মনে থাকে বিদায় ব্যথার চোরাস্রোত। একরাশ বেদনার অনুভূতি তার মনকে উদ্বেল করে তোলে। সামনে বিস্তৃত কর্মক্ষেত্র, পেছনে ফেলে আসা মধুময় স্মৃতি। বিদায় বেলায় অতি সংযমে সে মনের আবেগকে ধরে রাখে।)
ঢাকা
১৫ এপ্রিল ২০১৫
১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩
খায়রুল আহসান বলেছেন: হুম! হয়তো তাই।
২|
১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৩৩
মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্ বলেছেন: +++ ! খুব ভাল লিখেছেন!
১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪১
খায়রুল আহসান বলেছেন: মন্তব্য অনেক ভালো লাগল। প্রশংসায় প্রীত ও প্রাণিত হ'লাম।
৩|
১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: কবিতাখানি খুব ভালো হয়েছে ।
১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫১
খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, প্রীত হ'লাম।
৪|
১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১
শায়মা বলেছেন: বিদায় বেলা সে হোকনা ক্ষনস্থায়ী বিদায় বা সাময়িক বা বেশ কয়েকবছরের বিদায় অথবা চিরবিদায়।
বিদায় শব্দটিই অনেক কষ্টের। কবি নজরুলের একটি গান আছে- মনে পড়ে আজ সে কোন জনমে বিদায় সন্ধ্যাবেলা, আমি দাঁড়ায়ে রহিনু এপারে তুমি ওপারে ভাসালে ভেলা.....মনে হয় যেন চিরবিদায়ের গান.. তবে সেই গানে আছে আরও কিছু কথামালা...... সেই সে বিদায় ক্ষণে, শপথ করিলে বন্ধু আমার, রাখিবে আমারে মনে,ফিরিয়া আসিবে খেলিবে আবার, সেই পুরাতন খেলা।। তার মানে এটা চিরবিদায়ের গান নহে। এটা কোনো সাময়িক বিচ্ছেদের গান বটে।
খুব ছোটবেলায় তখন আমি ক্লাস থ্রীতে পড়ি..........
এমন কিছু লিখেছিলাম কয়েকদিন আগে আমার ফেসবুকে...... বিদায় নিয়ে নানা ঘটনা মনে ভেসেছিলো আমার কয়েকদিন .......
পুরোটা এখানে দিলাম না শুধু প্রথমাংশ দিলাম আর শেষাংশ ছিলো
প্রতিটা বিদায় হৃদয়ের তন্ত্রীতে বাঁজায় গোপন ব্যথার সূর....... সেই সূর কেউ শোনে না শুধু আমার হৃদয় শোনে.....। হৃদয় জানে ........ ![]()
১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৯
খায়রুল আহসান বলেছেন: "বিদায় শব্দটিই অনেক কষ্টের" - নিঃসন্দেহে। একেবারে হৃদয়হীন না হলে এ কষ্টটা কমবেশি সবাই অনুভব করে।
"প্রতিটা বিদায় হৃদয়ের তন্ত্রীতে বাঁজায় গোপন ব্যথার সূর....... সেই সূর কেউ শোনে না শুধু আমার হৃদয় শোনে.....। হৃদয় জানে" অনেকেই শোনে, অনেকেই উপলব্ধিও করে।
ক্লাস থ্রীতে পড়ার সময়ের ঘটনাটা একটু খুলে বলুন। ক্লাস থ্রীতে পড়ার বয়সে তো এসব নিয়ে ভাবার কথা নয়।
চমৎকার এই মন্তব্যটির জন্য অনেক ধন্যবাদ।
৫|
১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩
রাজীব নুর বলেছেন: আসসালামু আলাইকুম।
কবিতা পাঠ করিলাম।
১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৩০
খায়রুল আহসান বলেছেন: ওয়া আলাইকুম আসসালাম।
ঠিক আছে।
৬|
১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩
কালো যাদুকর বলেছেন: আনমনে চলা নাবিকের ..... সে নিজেও জানে না। এই লাইন দুটোতে নাবিকের মনের অবস্থাটি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কেন যেন মনে হল, হরমুজ প্রনালির নাবিকদের কথা। ওখানে অনেকেই আটকে আছেন , ব্লকেডের কারনে। তাদের মনের অবস্থfটি সমুদ্রের ঢেউিয়ের মতই দোদুল্যমান ও অনিস্চিত।
স্যার কি এদের কথা ভেবেই লিখেছেন কিনা কে জানে।
৭|
১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:১৩
মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: শেষ গন্তব্য সম্পর্কে কোন প্রকার চিন্তাভাবনা না করেই মানুষ তার কর্মজীবন যাপন করে যায়। প্রিয়জন, সুখস্মৃতি সবকিছুকে পেছনে ফেলেই জীবন ও কর্তব্যের তাগিদে তাকে এগিয়ে যেতে হয় সামনের পানে। কখনো কখনো পিছু ফিরে আসতে চাইলেও কর্তব্য তাকে টেনে ধরে রাখে। সুন্দর কবিতা। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
৮|
১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৩৯
শায়মা বলেছেন: ক্লাস থ্রীতে পড়ার সময় এক বন্ধু ছিলো যার নাম সীমা। সে তার বাবার সাথে মানে ফুল ফ্যামিলী ট্রান্সফার হয়ে চলে যাচ্ছিলো .... সেই দুঃখে আমি কাঁদতে কাঁদতে শেষ। তার সাথে ছিলো আমার চরম প্রানের মিল। একসাথে চলি ফিরি খেলি গল্প করি। হঠাৎ তারা ট্রান্সফার হয়ে গেলো। সেদিন সকালে চলে যাবে সীমা। আমার বুক ফেটে কান্না এলো। কারো কোনো কথা, সান্তনা ভোলাতে পারছিলো না আমাকে। অমন অঝর ধারার কান্না আমি কাঁদতে পারি কারো জন্য, সে আমার সেদিনই জানা হলো।
আমার ঐ কান্না দেখে সীমা একটা ছোট্ট সিগারেটের কুড়িয়ে পাওয়া বক্সের ভেতরের সাদা অংশে একে দিলো একটা কমলা ক্রেয়নে গোলাপ ফুল আর তার নীচে লিখে দিলো তার নাম সীমা। সেই ছোট্ট সিগারেটের বক্সের ভেতরে আঁকা কমলা রঙের গোলাপ আর তার নীচে লেখা নাম সীমা নিয়ে কেটে গেলো আরও অনেক বছর। আমি প্রায়ই সেই কাগজখানা খুলে খুলে দেখতাম। হাত বুলাতাম লেখাটার উপর। দিন মাস বছর ফুরোলো। তারপর আজ পর্যন্ত। সেই সীমা আজ কোথায় আছে জানিনা। আর কখনও দেখাও হয়নি তার সাথে। জানাও হয়নি কোথায় আছে কেমন আছে সে। আবার নজরুলের সেই গানের লাইন বুকে বাঁজে- আজো ফিরিলে না হায়, মোর অশ্রুর লিপি বনের বিহগী দিকে দিকে লয়ে যায়, তোমারে খুঁজে না পায়।
এই লেখাতে আরও অনেক অনেক বিদায়চিত্র এঁকেছি আমি কিন্তু সেটা শুধুই ব্যক্তিগত ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলী ফেসবুকে..... ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৩১
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আনমনে চলা নাবিকের মনের নোঙরখানি
.................................................................
পড়ে থাকে প্রিয়ার হৃদয়ের মাঝখানে
দেখিতে পারেনা কেউ !