| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
খায়রুল আহসান
অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।
Two for joy!
আমার চার বছরের নাতনি আলিশবা আমাকে ব্রীদিং এক্সারসাইজ করতে দেখলে সে নিজেও শুরু করে। যতটা পারে, ততটা মনোযোগের সাথে অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। আমি ওকে দেখলে কিছু ফ্রী-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করা শুরু করি, সে সেগুলো দেখে চট করে শিখে ফেলে এবং পাশের রুমে তার কাজিনকে শেখাতে যায়। ও যখন আমার রুমে আসে, তখন সে আমাকে নানা রকমের প্রশ্ন করে থাকে। আমাকে চোখে ‘আই ড্রপ’ দেয়া দেখলে সে জিজ্ঞাসা করে আমি সেটা কেন দেই। আমার উত্তর শুনে সে বুঝতে পারে যে আমার চোখে কোন একটা অসুখ হয়েছে। তক্ষনই সে ডাক্তার বনে যায়। সে দৌড়ে তার রুম থেকে তার ডাক্তারি সরঞ্জামাদি নিয়ে আসে। স্টেথোস্কোপ দিয়ে আমার হৃদস্পন্দন পরীক্ষা করে, জিহবা দেখতে চায়, ইত্যাদি। আমার একটা ছোট্ট টর্চলাইট আছে। ওর আগ্রহ দেখে আমি বেডসাইড ড্রয়ার থেকে সেটা ওকে বের করে দেই, আমাকে পরীক্ষা করার জন্য। ওর এসব কাজ দেখে আমি বুঝতে পারি, সে নিজেই যখন রোগী হয়ে ডাক্তারের কাছে যায়, তখন কতটা একাগ্রতার সাথে সে ডাক্তারের সব কাজ লক্ষ্য করে থাকে।
দাদার মত সেও পাখি দেখতে ভালোবাসে। দিদির অনুমতি নিয়ে সে একটা প্লাস্টিকের প্লেটে পাখিকে খাবার দেয়, পাখির জলের পাত্রে জল ঢেলে দেয়। রাত হলে জিজ্ঞাসা করে “পাখিরা এখন কোথায়”? ওরা ঘুমিয়ে আছে, বললে সে জানতে চায়, ওরা কোথায় ঘুমায়? বাড়ির সামনের বড় বড় গাছপালাগুলো দেখিয়ে আমরা বলি, ওরা ঐসব গাছের ডালে ঘুমিয়ে আছে। ওর পরের প্রশ্নঃ ওরা কখন উঠবে? আমি বলি, ওরা কাল সকালে উঠবে। ওরা যখন উঠবে, তুমি তখন ঘুমিয়ে থাকবে। ওরা খুব ভালো। ওরা সবার আগে ঘুমাতে যায়, আবার সবার আগে ঘুম থেকে ওঠে। ওদেরকে ওঠার জন্য যদি একবার ওদের মা ডাকে, তবে ওরা চট করে উঠে যায়। সকালে সবার আগে উঠে ওরা নিজেদের খাবার খুঁজতে বের হয়। সারাদিন ধরে খায়,গান গায়, গাছে গাছে ওড়াউড়ি করে আর সন্ধ্যার সময় আবার গাছে ফিরে আসে ঘুমাবার জন্যে।
.সম্প্রতি সে ক্যাপিটাল লেটারে তার নামটা লেখা শিখেছে। সে একটা শক্ত কাগজ কেটে পাখিকে খাবার দেয়ার জন্য একটা প্লেট বানিয়েছে। প্লেটের মধ্যে একটা মেয়ের প্রতিকৃ্তি এঁকে তার চতুর্পার্শ্বে অনেকগুলো ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে দিয়েছে। নিচে সে তার নামটা ‘ক্যাপিটাল লেটারে’ স্বাক্ষর করতে ভুলেনি। পাখিদেরকে ও বলতে চেয়েছে, ওদেরকে ও ভালোবাসে, এবং ভালোবেসে ওদেরকে খাবার দিয়েছে। ওরা যেন খায়। শিশুদের এ ভালোবাসা অকৃত্রিম!
ঢাকা
১৪ নভেম্বর ২০২৫
শব্দ সংখ্যাঃ ৩৫৬
সে দৌড়ে তার রুম থেকে তার ডাক্তারি সরঞ্জামাদি নিয়ে আসে।
পাখিদের জন্য ভালোবাসা....
"one for sorry"!
২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৭
খায়রুল আহসান বলেছেন: প্রথম মন্তব্য এবং প্রথম 'লাইক'টির জন্য অনেক ধন্যবাদ।
'নিষ্পাপ শিশুদের হাসি' যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি।
২|
২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৫
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
আলিশবা এই ৭-৮ মাসে নিশ্চয় ব্রিদিং অনেক ভালো ভাবে রপ্ত করে ফেলেছে।
তার জন্যে অনেক শুভকামনা।
২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৬
খায়রুল আহসান বলেছেন: বাচ্চা মানুষ, যখন আমাকে দেখে ব্রীদিং এক্সারসাইজ করতে, তখন সেও তা দেখে দেখে করা শুরু করে। কিন্তু একটুক্ষণ করেই ক্ষান্ত দেয়। চঞ্চলতার কারণে বেশিক্ষণ ধরে কোন কিছুতে মনোযোগী হতে পারে না। এটাই শিশুদের স্বাভাবিক স্বভাব।
৩|
২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫১
ঢাকার লোক বলেছেন: দাদা নাতনির গল্প বেশ লাগলো, আপনি ভাগ্যবান, আলহামদুলিল্লাহ !
৪|
২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৫৩
আলামিন১০৪ বলেছেন: যত বেশি ভালোবাসা তত বেশি কষ্ট-
সবাইকে চলে যেতে হবে
৫|
২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আলিশবা কাহিনী খুব সুন্দর হয়েছে ।
আলিশবার জন্য লেখা একটি কবিতা
রেখে গেলাম এখানে ।
আলিশবা যেন ছোট্ট হৃদয়ের বড় পৃথিবী
দাদার ঘরে আসে যখন ছোট্ট আলিশবা
চোখে তার হাজার প্রশ্ন মনে রঙিন ভাবা
দাদাকে দেখে শ্বাস নেয়, বুক ভরে ধীরে ধীরে
নিজেও বসে অনুকরণে মনযে তার গভীর নীড়ে।
হাত তুলে ফ্রি-হ্যান্ড করে, পা ফেলে ছন্দে ছন্দে
যা-ই দেখে, তা-ই শিখে নেয় অতি সহজ আনন্দে
শিখে নিয়ে ছুটে গিয়ে কাজিনকে সে শেখায়
ছোট্ট শিক্ষক আলিশবা যেন ভালোবাসা বিলায়।
দাদার চোখে আই-ড্রপ দেখে কৌতূহলী মন
কেন দাও? সে প্রশ্ন করে, জানতে চায় কারণ
শুনে যদি বোঝে চোখে একটু কষ্ট আছে বুঝি
অমনি সে ডাক্তার হয়ে ছুটে আসে খুশি খুশি।
স্টেথোস্কোপে শোনে বুকের গোপন হৃদয়-গান
জিহ্বা দেখে, টর্চ জ্বেলে করে কতই না জ্ঞান!
খেলাচ্ছলে তার যত্নটুকু যেন সত্যি হয়ে যায়
ছোট্ট দুটি কোমল হাতে স্নেহের পরশ ছায়।
পাখিরাও তার বন্ধু যেন, আপন প্রাণের সাথী
খাবার দেয়, জল ভরে দেয় ভালোবাসার বাতি
রাত নামলে জিজ্ঞেস করে, পাখিরা এখন কোথায়?
ঘুমিয়ে আছে গাছের ডালে শুনে মনটা ভরে যায়।
কখন উঠবে? ভোরের কথা শুনে হাসে প্রাণ
পাখির মতো সকালবেলা জাগার নেয় সে টান
তাদের ডাকে, তাদের গানে তারও মন উড়ে
সবুজ ডালের স্বপ্ন বোনে ছোট্ট দুটি ডানায় ভরে।
নিজের হাতে কাগজ কেটে বানায় খাবার থালা
ছবি আঁকে, হৃদয় আঁকে বানায় ভালোবাসার মালা
নিচে লিখে বড় অক্ষরে নিজের নামের ছাপ
ALISHBA যেন লিখে দেয় মমতারই আলাপ।
এমন শিশুর নির্মল মনে নেই তো কোনো ছল
ভালোবাসাই তার ভাষা, স্নেহই তার কাছে সম্বল
আলিশবা, তুমি বড় হও আলো ছড়িয়ে দাও ধীরে
মানুষ, পাখি, পৃথিবীটাকে ভালোবাস নীরবে,গভীরে।
শুভেচ্ছা রইল
৬|
২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩
রাজীব নুর বলেছেন: শিশুরা হচ্ছে ঘরের আনন্দ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:১২
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: শিশুদের এ ভালোবাসা অকৃত্রিম!
........................................................
আমার এক নাতি আছে , সে যখন হাসে
মনে হয় পৃথিবীতে আমার আর কোন দু:খ কষ্ট নাই !
নিষ্পাপ শিশুদের হাসি, আর অঙ্গ ভঙ্গি সবই আমাদের
মনের অবচেতন কোন দাগ টানে,
প্রকৃত অর্থে আমরাও চাই এমন সুন্দর জীবন কাটাতে !!!