| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কলিমুদ্দি দফাদার
“ঘুরছি আমি কোন প্রেমের ই ঘুর্নিপাকে, ইশারাতে শিষ দিয়ে কে ডাকে যে আমাকে”
একটা সময় ছিলো প্রচুর শপিং করতাম। কিছু একটা মন চাইলে কিনে ফেলতাম। আমার সংগ্রহে Zara-এর ২৮ হাজার টাকার জুতাও ছিলো। এখনো আছে — তবে চামড়া নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। একটু বয়স বাড়ার সাথে সাথে বুঝতে শিখলাম, এইসব আসলে এক ধরনের ইলুয়শন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত জামাকাপড় দেখলে এখন বরং শরীর জ্বলে। এই বাহ্যিক জিনিসগুলোর আসলে খুব বেশি মূল্য নেই।গত ৪–৫ বছরের ঈদে নতুন পাঞ্জাবি কেনা হয়নি। একদম দরকার না হলে এখন আর কিছু কেনার ইচ্ছাও হয় না। মতিঝিলে এক বুড়ো চাচা ফুটপাতে ভালো ড্রপ-শোল্ডার টি-শার্ট বিক্রি করেন। ২০০–৩০০ টাকায় সেগুলো কিনি এখন। অদ্ভুতভাবে, সেই সরলতার মধ্যেই যেন বেশি স্বস্তি।
তবে আজ অনেক দিন পর মোটামুটি ভালোই শপিং করলাম। ঈদের পরে একটু মালয়েশিয়া আর ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার ইচ্ছা আছে। দেখা যাক, বাকিটা উপরওয়ালার ইচ্ছা।কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের এই পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির বাস্তবতাও চোখে পড়ে খুব স্পষ্টভাবে। বাংলাদেশের লোকাল ব্র্যান্ডগুলোর দিকে তাকালেই সেটা বোঝা যায়। এখন প্রায় সারাবছরই ২০–৩০% ডিসকাউন্ট বেচাকেনা চলতে থাকে। খরচের তুলনায় বিক্রি খুব কম। যমুনার গোল্ডের দোকানগুলোতে সেদিন দেখলাম — কোনো গ্রাহক নেই, একদম শুনশান নীরবতা। অনেক স্টোর ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
আজ থেকে ১০–১২ বছর আগেও এমন অবস্থা ছিল না। Ecstasy, Yellow, Tanjim-এর মতো বড় ক্লথিং ব্র্যান্ডগুলো তখন এত ডিসকাউন্ট দিত না। একটা স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করে চলত। এখন তারাও অফারে মাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।আমার মনে হয়, দেশের সামগ্রিক ব্যবসা এখন ধীরে ধীরে গুটি কয়েক গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে যাচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও মাস শেষে যেন বেতনের মতো সীমিত আয় তুলতে পারছে। জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের সমস্যা, টাকার অবমূল্যায়ন — সব মিলিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবস্থা ভয়াবহ।
বাংলাদেশে তুলনামূলক সস্তা গার্মেন্টস উৎপাদন, ফুটপাতের বাজার আর স্টকের মাল বিক্রির সংস্কৃতির কারণে এখনো অনেক মানুষ কোনোভাবে টিকে আছে। এগুলো না থাকলে হয়তো জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশের জন্য ন্যূনতম পোশাক কেনাও কঠিন হয়ে যেত।বয়স বাড়ার সাথে সাথে হয়তো মানুষ শুধু নিজের রুচি নয়, সমাজের বাস্তবতাও নতুনভাবে দেখতে শেখে। এক সময় ব্র্যান্ডের লোগোতে যে আনন্দ ছিল, এখন তা নেই। এখন বরং মনে হয় — মানুষের জীবন, অর্থনীতি আর সম্মানের স্থিতিশীলতাই আসল “লাক্সারি”।
২৩ শে মে, ২০২৬ সকাল ১০:৩৮
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
শুকরিয়া নিরন্তর...
২|
২৩ শে মে, ২০২৬ ভোর ৪:২৬
শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনি বেশ সৌখিন একজন মানুষ - বোঝা যায়। ছবিটা কি জারার সেই জুতারই?
আমি একেবারে শপিং করার লোক নই। ছাত্রজীবনে নীলক্ষেতের ফুটপাতে পুরোনো বই কিনতাম। এখনও কিভাবে যেন সেই পুরোনো বইয়ের দোকানেই ছুটির দিনগুলোতে বেশ সময় কাটাই।
আপনার লোকাল ব্র্যান্ডের দোকানগুলোর নাম পড়ে মনে পড়ল, গুলশানে আমার কাজের জায়গার পাশেই আর্টিসি'র একটা শোরুম ছিল। সেখানে বেশ ভালো কোয়ালিটির শার্ট পাওয়া যেত। দামও ভালোই ছিল বলে মনে পড়ে। সে দোকানে ঢুকলে বেশ ফুরফুরে একটা অনুভুতি হত। বোধ হয় ঠিক এ ধরনেরই একটা অনুভুতি আপনারও হয় বলে আপনি শপিং ভালোবাসেন।
তখন ক্যাটস আই, টেক্সস মার্ট, আপনার উল্লেখিত এক্সট্যাসি এই দোকান গুলো খুব চলতো। উত্তরায় জসিমউদ্দিন এলাকার একটা মলে (আরএকে টাওয়ার বোধ হয় নাম) মোটামুটি অনেকগুলো ব্র্যান্ডের দোকান একসাথে ছিল বলে মনে পড়ে।
২৩ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪২
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
হা হা হা। সৌখিন কিনা জানিনা তবে এখন বেশ হিসেবি আর কৃপন হয়ে গিয়েছি। আর তখন শপিং ছিলো যৌবনের একটা ক্রেজ বয়স বাড়ার সাথে সাথে জীবনের সখ আর চাওয়া-পাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে।
ছাত্রজীবনে নীলক্ষেতের ফুটপাতে পুরোনো বই কিনতাম। পত্রিকা-বই, ম্যাগাজিন ছিলো আপনাদের জেনারেশন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটা অংশ। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় বই পড়ার যে আনন্দ ও জ্ঞানের ভান্ডার; সেটা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে আমাদের বয়সীদের কাছে। শুধুমাত্র মোবাইল আর ইন্টারনেট থাকলেই এখন হাজারটা বিনোদনের এক্সেস পাচ্ছে একেকজন।
তখন ক্যাটস আই, টেক্সস মার্ট, আপনার উল্লেখিত এক্সট্যাসি এই দোকান গুলো খুব চলতো। হ্যাঁ ঠিক বলেছেন। তখন সম্ভবত সাধারণ মানুষের একটা বৃহৎ অংশ ব্রান্ড নামক ক্লথিং স্টোরগুলোর এবং বড় শপিং মলগুলোর সাথে পরিচিত হচ্ছিল নিউমার্কেটে কোলাহল ছেড়ে একটু মনোরম পরিবেশে কেনাকাটা করার। প্রায় এক যুগের পর ও ইহা মনে হয় এখন কিছুটা পড়তির দিকে। যে হারে নতুন নতুন ব্রান্ড বাজারে এসেছে ওই হারে ক্রেতা বাড়েনি।
আর হ্যাঁ ইহাই আমার জারার সেই সুখের জুতা জোড়া......:p
৩|
২৩ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ডারবির ছবিটা কোথায় ?
২৩ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১:১৮
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
অতীতের ভাবাপন্ন স্মৃতিচারণ মুলক এই পোস্ট ডার্বির ছবিটা যাচ্ছে না বলে পক্ষান্তরে মনে হইলো.....
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে মে, ২০২৬ রাত ২:৫১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার সাথে সহমত ।