নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\"জীবন শেখায়, আমি লিখে রাখি। গল্প অনুভূতি আর অভিজ্ঞতার মিশেলে এটাই আমার ছোট্ট জগৎ\" গতানুগতিক সাধারণ মানুষ

মহিউদ্দিন হায়দার

শব্দে আমার আশ্রয়, লেখায় আমার মুক্তি। এখানে আমি লিখি, ভেবে দেখি, আর খুঁজি মানুষের মনের গল্প।

মহিউদ্দিন হায়দার › বিস্তারিত পোস্টঃ

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা ও রাজনৈতিক অপরাধীদের পেট ভরবে?

ধর্মকে আমরা সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার জায়গায় রাখি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, একশ্রেণীর ভণ্ড ওয়াজিন ও ধর্ম ব্যবসায়ী রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল এবং নিজেদের নেতাদের নোংরা পাপ ঢাকতে ধর্মকে নিছক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চলেছে! সাধারণ সহজ-সরল মানুষের পবিত্র অনুভূতি নিয়ে ছিকিছিকি খেলার এই খেলা এখন চরম আকার ধারণ করেছে।
নব্বইয়ের দশকের কুখ্যাত সূচনা:
সাইদীর বিষবাষ্প শুরুটা হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে। সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী তাফসির মাহফিলের পবিত্র মঞ্চকে রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়ানোর আখড়ায় পরিণত করেছিল।
মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা।
প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের হেয় করতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে "জাহান্নামের ইমাম", শিক্ষাবিদ ডঃ কুদরত-এ-খোদাকে "গজবে খোদা" বলাসহ কবি শামসুরের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ মিথ্যাচার ছড়ানো।
মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতাদের রক্তক্ষয়ী অপরাধকে ইসলামের স্বার্থে "ধর্মীয় দায়িত্ব" বলে চালিয়ে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার বীজ সাঈদীই বপন করেছিল।
একালের রূপান্তর: 'ভাড়াটে মোল্লা উইং' ও পাপ ধোয়ার কারখানা
সাঈদীর সেকালের পথ ধরে একালের কথিত ওয়াজিন—তারেক মনোয়ার, রফিকউল্লাহ আফসারী, আমির হামজা এবং মিজানুর রহমান আজহারীদের মতো বক্তারা মাঠে নেমেছেন। এরা মাহফিলের মঞ্চকে পরিণত করেছেন জামায়াত-শিবির ও হেফাজত বা কওমী রাজনৈতিক চক্রের নেতাদের কুকর্ম জায়েজ করার প্রেসব্রিফিং সেন্টারে!
এদের কাজই হলো নবী-রাসূল ও সাহাবিদের পবিত্র জীবনের বানোয়াট ও মনগড়া রূপক তৈরি করে নিজ নেতাদের নোংরা কাজকে "পরীক্ষা", "কুরবানি" বা "সুন্নাত" বলে জাস্টিফাই করা।
তাজা প্রমাণ (ছবিতে দেখুন):
সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরার জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামের চরম আপত্তিকর ও অসামাজিক ভিডিও ভাইরাল হলে গোটা দেশের মানুষ লজ্জিত হয়। কিন্তু লজ্জা নেই এদের!
ছবিতে দেখতেই পাচ্ছেন (২৪ জুলাই, ২০২৬)-এর সংবাদের সরাসরি বক্তব্য— মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক (জামায়াত সাবেক এমপি, সাতক্ষীরা-২) সেই জঘন্য কর্মকাণ্ড ঢাকা দিতে কিসের সাফাই গাইলেন? তিনি নির্লজ্জভাবে দাবি করলেন:
"মেয়েটি নিজেই এমপি গাজী নজরুলকে সেবা করতে চেয়েছিল। তাই বাধ্য হয়েই তার বাবা-মা বিয়ে দিয়েছিল এমপির সাথে। কাজটি ছিল অসামাজিক, অনৈতিক নয়!"
কী অদ্ভুত যুক্তি! অনৈতিক কাজকে এরা এভাবে ধর্ম ও বাধ্যবাধকতার মোড়ক দিয়ে হালাল বানাতে চায়!
রিসোর্ট কাণ্ড ও সাহাবিদের অবমাননা:
কিছুদিন আগে হেফাজত নেতা মামুনুল হক যখন নারায়ণগঞ্জের রিসোর্টে নারী নিয়ে ধরা খেলেন, তখন এই সুবিধাবাদী চক্র পবিত্র উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর জীবনের ঐতিহাসিক ও পবিত্র ঘটনাকে টেনে এনে সেই অনৈতিক কাজকে আড়াল করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল!
রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল এবং জামায়াত, শিবির কিংবা হেফাজতের মতো অপরাধীদের আখড়াকে বাঁচাতে এরা পবিত্র ইসলামকে কলঙ্কিত করতেও দ্বিধা করে না। প্রসঙ্গহীন উদাহরণ টেনে এরা সহজ-সরল মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখে, যেন তাদের নেতারা যা-ই করুক, সেটাই নাকি ধর্মের অঙ্গ!
এবার জাগার সময় এসেছে !
রাজনীতি করবেন করুন, কিন্তু সেই রাজনীতির নোংরামি ও চরিত্রহীনতাকে ঢাকতে পবিত্র তাফসির মাহফিল, মহান নবীজী ও সাহাবিদের জীবনকে টানবেন না। এই ভণ্ডামির মুখোশ এখন খুলে ফেলার সময় এসেছে।
আপনার জবাব কী ?
পাপ ঢাকতে ধর্মীয় ইতিহাসের এমন বিকৃতি ও জঘন্য সাফাই কি কোনো প্রকৃত মুসলমান মেনে নিতে পারে? এই ধর্ম ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে আপনার মতামত কমেন্টে স্পষ্ট করে লিখুন এবং শেয়ার করে সবার চোখ খুলে দিন!

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৩

মাথা পাগলা বলেছেন:

২| ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জামায়াতের সময় খারাপ।

৩| ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:০০

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: কোরআন আর সুন্নাহ ভিত্তিক ইসলামই মুসলমানদের জন্য যথেষ্ট। যারা ইসলামের কোরআন আর সুন্নাহ যথেষ্ট মনে করে না বা যারা systematic ভাবে ধাপে ধাপে নিজেকে মোনাফেকে রূপান্তরিত করতে চান, তারা মওদুদীর literature ভিত্তিক পাঠ্যক্রমের বই পত্র পড়ে নিজেকে “জামায়াতের ইসলামের (জামায়াতি ইসলাম না, জামায়াতের বিশেষায়িত ইসলাম)” অনুসারী করে তোলেন।

মুসলিম হওয়ার জন্য জামায়াতিদের মতো আহলে মওদুদী হওয়া জরুরি না।

সাধারণ মানুষের অনেক বড় পাপ আল্লাহ ক্ষমা করে দেন কিন্তু আল্লাহ তার মনোনীত নবী রাসূলদের ছোট ভুল উপেক্ষা করেন না।

স্বয়ং আল্লাহ ইসলামের হেফাযতকারী। ইসলামে ভুল বলে কিছু নেই, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু ইসলামের অনুসারী মুসলিমরা ভুল করতেই পারে।

তেমনি জামায়াতের সাথে ইসলাম শব্দটি যেহেতু যুক্ত, তাই এই দল বা দলের অনুসারী কোন প্রকার ভুল করতে পারে না। কোন ভুল করার সুযোগই নেই। হয় ইসলাম সত্য নয়তো জামায়াতের সদস্যরা সত্য, তাদের যাবতীয় কার্যকলাপ সত্য। যদি দলটার নামের সাথে মুসলিম শব্দ যুক্ত থাকতো তবে এটুকু বুঝ দেয়া যেতো যে মুসলিম বা ইসলামের অনুসারী হিসেবে মানুষ ভুল করতেই পারে। জামায়াতিরা্কও ভুল করতে পারে। কিন্তু তাদের এই বুঝ দেয়ারও কোন সুযোগ নেই।

মিশরের muslim brotherhood কে নকল করতে গিয়ে মওদুদী তার দলের নামের সাথে “ইসলাম” জুড়ে দিয়ে দলের বারোটা তো শুরুতেই বাজিয়ে দিয়েছে। কিন্তু দলের সদস্যরা আজ অবধি রিয়েলিটি মাইনে নিতে পারছে না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.