নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলার বিস্মৃত নায়ক এবং এক করুণ অপমৃত্যু

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৩


উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত বাংলার গ্রামে গ্রামে, শহরে শহরে ছড়িয়ে পড়েছিল এক অদৃশ্য আতঙ্ক। মানুষ এই রোগকে ডাকত কালাজ্বর, কালা-দুঃখ, কালা-হাজার, দমদম জ্বর, সাহেবদের রোগ, সরকারি অসুখ নানা নামে। নামের বৈচিত্র্য যতই থাকুক, ভয়াবহতা ছিল একটাই। এই রোগে আক্রান্ত মানুষের ত্বক কালচে হয়ে যেত, শরীর শুকিয়ে কাঠ হয়ে যেত, উচ্চ জ্বরে পুড়ে যেত দেহ, প্লীহা আর যকৃৎ ফুলে বিশাল আকার ধারণ করত। চরম দুর্বলতা আর রক্তাল্পতায় ভুগতে ভুগতে একসময় মৃত্যু এসে হাজির হত। চিকিৎসা ছিল না কোনো, মৃত্যু ছিল প্রায় অবধারিত। নব্বই শতাংশ রোগী মারা যেত। ১৯২০ থেকে ১৯৩০ এর দশকে শুধু আসাম আর বাংলায় প্রায় দুই লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল এই কালাজ্বরে।

ব্রিটিশরা যখন চা চাষের জন্য আসাম আর বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জঙ্গল কাটছিল, মাটি খুঁড়ছিল, রেললাইন বসাচ্ছিল, ঠিক তখনই যশোর থেকে নদীয়া, হুগলি হয়ে বর্ধমান এবং পরে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা ও গারো পার্বত্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ল এই মহামারী। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের সাথে শয়ে শয়ে সৈন্যও এই রোগে ভুগত। প্রথম দিকে কেউ বুঝতে পারেনি এই রোগের কারণ কী। লক্ষণ প্রায় এক হওয়ায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ কুইনিন খাওয়ানো হতো, যার ফল হতো মারাত্মক। ১৯০৩ সালে ইংল্যান্ডে উইলিয়াম লেশম্যান এবং মাদ্রাজ মেডিক্যাল কলেজে চার্লস ডোনাভান আলাদাভাবে স্যান্ড ফ্লাই নামক এক ধরনের মাছির মধ্যে কালাজ্বরের জন্য দায়ী জীবাণু আবিষ্কার করেন।

নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী রোনাল্ড রস দুই আবিষ্কারকের নাম যুক্ত করে এই জীবাণুর নাম দেন লিশম্যানিয়া ডোনাভানি। এটি কোনো ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস নয়, বরং এক ধরনের প্রোটোজোয়া বা অণুজীব যা বেলেমাছির কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং যকৃৎ, প্লীহা ও অস্থিমজ্জায় সংক্রমণ ঘটায়। জীবাণু আবিষ্কার হলেও চিকিৎসা ছিল না। অনেক চিকিৎসক কালাজ্বরের ওষুধ প্রস্তুতির গবেষণা শুরু করলেন। প্রথম দিকে আর্সেনিকের যৌগ ব্যবহার করা হতো। ১৯১৩ সালে টার্টার এমেটিক ব্যবহার করে কিছুটা সুফল মিলল, কিন্তু এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল ভয়ংকর এবং অনেক রোগী মারা যেত।

ঠিক এই সময়ে এগিয়ে এলেন এক বাঙালি বিজ্ঞানী। ১৮৭৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর পূর্ববর্ধমান জেলার পূর্বস্থলীতে জন্ম নেওয়া উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। তাঁর বাবা ডাক্তার নীলমণি ব্রহ্মচারী এবং মা সৌরভসুন্দরী দেবী। জামালপুরের ইস্টার্ন রেলওয়ে বয়েজ হাই স্কুলে পড়াশোনা করার পর তিনি হুগলি কলেজে ভর্তি হন এবং ১৮৯৩ সালে গণিত ও রসায়নে অনার্স সহ বিএ পাস করেন। গণিতে তিনি মেধার প্রথম হয়েছিলেন। ১৮৯৪ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়নে প্রথম শ্রেণীর সাথে এমএ ডিগ্রি পাস করেন। এরপর তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঝুঁকে পড়েন এবং ১৯০০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত মেডিসিন ও সার্জারি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯০২ সালে ডক্টর অব মেডিসিন এবং ১৯০৪ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিল লোহিত কণিকার ভাঙন। ১৯০৫ সাল থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত উপেন্দ্রনাথ ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল স্কুলে ভেষজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন।

১৯১৫ সাল থেকে তিনি কালাজ্বরের ওষুধ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। কিন্তু তাঁর সামনে ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। পরাধীন দেশের যাবতীয় ঔপনিবেশিক অবহেলা ও বাধা এবং ন্যূনতম পরিকাঠামোর অভাবের মধ্যেও তিনি একটি ছোট ঘরে সাধারণ যন্ত্রপাতি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ১৯১৯ সালের শেষদিকে তিনি ইন্ডিয়ান রিসার্চ ফান্ড অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কিছু অনুদান পান, কিন্তু তাও ছিল অপর্যাপ্ত। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। দিনরাত পরিশ্রম করে কয়েকশত রাসায়নিক যৌগ পরীক্ষা করতে লাগলেন। প্রতিটি পরীক্ষা, প্রতিটি ব্যর্থতা তাঁকে সাফল্যের আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি জানতেন যে প্রতিটি মুহূর্তের দেরি মানে আরও কয়েকজন মানুষের মৃত্যু।

১৯২১ সালের জুলাই মাসে গবেষণার একটি পর্যায়ে সোডিয়াম এন্টিমনি থেকে সোডিয়াম পৃথক করে ইউরিয়া আর এন্টিমনির সংযোগে তিনি একটি নতুন যৌগ তৈরি করতে সক্ষম হলেন। ইউরিয়া স্টিবামাইন। রাসায়নিক ভাষায় এটি ছিল প্যারা-অ্যামাইনো ফিনাইল স্টিবনিক অ্যাসিডের ইউরিয়া লবণ। গবেষণার ফলাফল দেখতে তিনি প্রথমে যৌগটি খরগোশের শরীরে প্রয়োগ করে দেখেন। তিনি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন তাঁর গবেষণালব্ধ ইউরিয়া স্টিবামাইন যৌগটি কালাজ্বরের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর। এরপর ১৯২২ সালে ক্যাম্পবেল ও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কালাজ্বর রোগীদের ওপর ইউরিয়া স্টিবামাইনের প্রয়োগ করেন উপেন্দ্রনাথ। দেখা যায়, মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে কোনোরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই রোগ নিরাময় সম্ভব হচ্ছে। মৃতপ্রায় মানুষ আবার বেঁচে উঠছে।

১৯২২ সালের অক্টোবরে ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিক্যাল রিসার্চে আট জন কালাজ্বর রোগীকে সুস্থ করার বিবরণসহ উপেন্দ্রনাথের আবিষ্কারের কথা প্রকাশিত হয়। এটি ছিল বিশ্বে কালাজ্বরের প্রথম সফল চিকিৎসা। কিন্তু এখানেই শুরু হয় আরেক লড়াই। ব্রিটিশ মেডিকেল প্রতিষ্ঠান এই আবিষ্কারকে স্বীকৃতি দিতে গড়িমসি শুরু করে। বিশেষ করে স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিনের সর্বময় কর্তা লিওনার্ড রজার্স ক্রমাগত ব্রহ্মচারীর বিরোধিতা করতে থাকেন। তিনি গবেষণার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন, আন্তর্জাতিক দরবারে গবেষণাকে লঘু করে উপস্থাপন করতেন। সাদা চামড়ার শাসক কালো চামড়ার উচ্চতর মেধাকে স্বীকার করতে পারছিলেন না। এমনকি রজার্সের তীব্র বিরোধিতা ছিল অন্যতম একটি কারণ, যে জন্য ব্রহ্মচারী রয়্যাল সোসাইটির ফেলো হিসেবেও নির্বাচিত হতে পারেননি। এটি ছিল ঔপনিবেশিক ক্ষমতার রাজনীতি। কেন্দ্র দ্বারা অনুমোদিত হলে তবেই সেটা বিশেষ বৈজ্ঞানিক জ্ঞান হিসেবে গণ্য হবে।

কিন্তু উপেন্দ্রনাথ থেমে থাকেননি। সরকারি স্বীকৃতির জন্য অপেক্ষা না করে তিনি নিজেই চিকিৎসা শুরু করে দিলেন। চা বাগানের বস্তির বহু কুলিকে ওষুধ দিয়ে সুস্থ করলেন। গ্রামে গ্রামে গিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করতে লাগলেন। কলকাতা মেডিক্যাল ক্লাবে বিখ্যাত ডাক্তার নীলরতন সরকার উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর এই আবিষ্কারের বিশেষ প্রশংসা করেছিলেন। ধীরে ধীরে ফলাফল দৃশ্যমান হতে শুরু করল। আসামের গভর্নর স্যার জন খের স্বীকার করলেন যে এক বছরে প্রায় তিন লক্ষ মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে ইউরিয়া স্টিবামাইন। কালাজ্বরে মৃত্যুর হার নব্বই শতাংশ থেকে নেমে এল মাত্র সাত শতাংশে। আসামের চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে মৃত্যুর হার নাটকীয়ভাবে কমে গেল। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে গ্রিস, ফ্রান্স, চীনসহ বিভিন্ন দেশেও এই প্রতিষেধকের প্রয়োগ শুরু হলো।

কিন্তু ইতিহাসের এক করুণ বাস্তবতা হলো, এই ওষুধ সবার কাছে পৌঁছায়নি সময়মতো। ১৯২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। কলকাতার এক ছোট্ট ঘরে শেষ নিঃশ্বাস ফেলছেন মাত্র পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী এক প্রতিভাবান মানুষ। তাঁর নাম সুকুমার রায়। বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি আবোল তাবোল, হযবরল লিখে শিশুদের মনে চিরকালের জায়গা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু কালাজ্বর নামক এক ভয়ংকর রোগ তাঁকে ছেড়ে দিল না। দুই বছর ধরে তিনি লড়েছেন মৃত্যুর সাথে। অসুস্থ অবস্থাতেও লিখেছেন, ছবি এঁকেছেন। রবীন্দ্রনাথ এসে তাঁকে গান শোনাতেন, পণ্ডিত ক্ষিতিমোহন সেন ধর্মকথা শোনাতেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। কালাজ্বর তাঁকে নিয়ে গেল।

আর ঠিক সেই সময়েই, কলকাতার অন্য প্রান্তে, ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল স্কুলের এক ছোট্ট ল্যাবরেটরিতে এক বাঙালি বিজ্ঞানী রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন কালাজ্বরের ওষুধ আবিষ্কারের জন্য। তাঁর নাম উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী। তিনি ইতিমধ্যে আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন ইউরিয়া স্টিবামাইন নামক ওষুধ, যা কালাজ্বরের বিরুদ্ধে প্রথম সফল চিকিৎসা। ১৯২১ সাল থেকেই এই ওষুধ দিয়ে চা বাগানের কুলি এবং গরিব রোগীদের চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু সুকুমার রায়কে এই ওষুধ দেওয়া হলো না। কারণ ব্রিটিশ সরকার এই ওষুধকে এখনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।

একজন নেটিভ ডাক্তারের আবিষ্কারকে স্বীকৃতি দিতে তাদের আরও ছয় বছর সময় লাগবে। এই হলো ঔপনিবেশিক বৈষম্যের নির্মম চেহারা। একদিকে লাখো গরিব মানুষ বাঁচছে, অন্যদিকে একজন প্রতিভাবান শিল্পী মরে যাচ্ছেন শুধুমাত্র সরকারি স্বীকৃতির অভাবে। ১৯২১ থেকে ১৯২২ সালে ওষুধ প্রয়োগ হচ্ছিল, জার্নালে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু সুকুমারের চিকিৎসকরা ওষুধ প্রয়োগ করলেন না। আন্তর্জাতিক ছাড়পত্র না পাওয়ায় ওষুধ তৈরি করা যায়নি এবং সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিতে ব্রিটিশ রাজপুরুষরা আরও প্রায় ছয় বছর সময় লাগিয়ে ফেলেছিল।

সুকুমার রায় দিনে দিনে দুর্বল হয়ে পড়ছিলেন। দুই বছরেরও বেশি সময় সংগ্রাম করেছেন রোগের সঙ্গে। অসুস্থ অবস্থাতেও অনর্গল লিখেছেন, ছবি এঁকেছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ১৯২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি চলে গেলেন। সুকুমার রায়ের মৃত্যু বাংলার সাংস্কৃতিক জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। কিন্তু এই মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয় ঔপনিবেশিক বৈষম্য কত নির্মম হতে পারে। একদিকে গরিব চা বাগানের কুলিদের বাঁচানোর জন্য ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে, অন্যদিকে শহরের একজন প্রতিভাবান শিল্পী মারা যাচ্ছেন শুধুমাত্র সরকারি স্বীকৃতির অভাবে। এটি ছিল ঔপনিবেশিক ক্ষমতার রাজনীতি, যেখানে একজন বাঙালি বিজ্ঞানীর আবিষ্কারকে স্বীকৃতি দিতে বছরের পর বছর সময় লাগে।

অবশেষে ১৯২৩ সালের জুলাই মাসে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল গেজেটে ইউরিয়া স্টিবামাইন সম্পর্কে উপেন্দ্রনাথের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশিত হয় এবং ধীরে ধীরে সরকারি স্বীকৃতি আসতে শুরু করে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে গ্রিফিথ মেমোরিয়াল পুরস্কারে সম্মানিত করে। স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন তাঁকে মিন্টো পদক দেয়। এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল তাঁকে স্যার উইলিয়াম জোনস পদকে সম্মানিত করে। ব্রিটিশ সরকার তাঁকে রায়বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করে এবং ১৯৩৪ সালে তিনি নাইট উপাধি পান। ১৯২৯ সালে তাঁকে মেডিসিনে নোবেল পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি। অনেকেই মনে করেন এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক অবিচার, যেখানে লিওনার্ড রজার্স এবং অন্যান্য ঔপনিবেশিক শক্তির বিরোধিতা তাঁর প্রাপ্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত করেছিল।

উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী শুধু কালাজ্বরের ওষুধ আবিষ্কার করেই থেমে থাকেননি। তিনি ফাইলেরিয়া, ডায়াবেটিস, কুষ্ঠ, মেনিনজাইটিস সহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। ভারতের প্রথম বেসরকারি সংস্থা ব্রহ্ম রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯২৭ সালে তিনি কারমাইকেল মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা বিভাগে ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৩৮ সালে তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে রয়্যাল সোসাইটি অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৪৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে এই মহান বিজ্ঞানী পরলোক গমন করেন।

উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর আবিষ্কার শুধু একটি বৈজ্ঞানিক অবদান নয়, এটি মানবসেবার এক অসাধারণ উদাহরণ। যখন ব্রিটিশ সরকার এবং মেডিকেল প্রতিষ্ঠান তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, তখন তিনি নিজের টাকায়, নিজের পরিশ্রমে গ্রামে গ্রামে গিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করেছেন। তিনি জানতেন যে প্রতিটি মুহূর্তের দেরি মানে আরও কয়েকজন মানুষের মৃত্যু। তাই সরকারি স্বীকৃতির অপেক্ষা না করে তিনি সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে গেছেন। গরিব চা বাগানের কুলিদের বাঁচিয়েছেন, যাদের জন্য অন্য কেউ মাথা ঘামাতো না। এই ছিল তাঁর মানবতাবোধ, যা আজকের যুগেও আমাদের অনুপ্রাণিত করে।




মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:১৩

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আন্তর্জাতিক ছাড়পত্র না পাওয়ায় ওষুধ তৈরি করা যায়নি
.......................................................................................
বৃটিশরা এসে খেতে বল্লে খাব
না হলে খাবনা , সেই দিনতো আর নাই ।
এখন কেন মেধার বিকাশ হচ্ছেনা
গ্রাম গন্জে অনেক ছোট ছোট আবিস্কার হচ্ছে তার
স্পন্সর পাওয়া যাচ্ছেনা ???

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:০৭

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: যে সব আবিষ্কার হচ্ছে সেগুলো মৌলিক আবিষ্কার নয়।

২| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

রাজীব নুর বলেছেন: উনার সম্পর্কে আমি জানি।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২৭

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ভালো ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.