নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

এনসিপি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন উদীয়মান শক্তি ?

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫০


২০২৬-এর ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল যখন বের হলো, তখন দেশের রাজনৈতিক মহলে একটা চাঞ্চল্য পড়ে গেল। জাতীয় নাগরিক পার্টি: যাদের আমরা এনসিপি বলে ডাকি—প্রথমবারের মতো নির্বাচনে নেমে ৩০টা আসনে লড়ে ৬টা জিতেছে। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া এই দলটা কি সত্যিই বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক উদীয়মান শক্তি হয়ে উঠছে? নাকি এটা শুধু একটা সাময়িক ঝলক?

যে আসনগুলোতে এনসিপি জিতেছে, সেগুলোর দিকে তাকালে প্রশ্নটা আরও জোরালো হয়। ঢাকা-১১ আসনটা তো আগে আওয়ামী লীগের লৌহ দুর্গ ছিল। সেখানে নাহিদ ইসলাম ৯৩,৮৭২ ভোট পেয়ে জিতেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ৯১,৮৩৩ ভোট। মার্জিন মাত্র ২,০৩৯ ভোট।

কুড়িগ্রাম-২ আসনটা দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টি (এরশাদ)-এর শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল। সেখানে আতিকুর রহমান মুজাহিদ ১৭৮,৮৬৯ ভোট নিয়ে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির সোহেল হোসেন কায়কোবাদ পেয়েছেন ১৭০,৩৩৫ ভোট। মার্জিন প্রায় ৯,৫৩০ ভোট। উত্তরাঞ্চলে জামায়াত-এনসিপি জোটের এই জয় দেখায় যে পুরনো ঘাঁটিগুলোতেও ফাটল ধরছে।

রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনটাও আগে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির প্রভাবে ছিল। আখতার হোসেন এখানে প্রায় ৭২,৮৯৭ ভোট (ফাইনাল কাউন্টে আরও বেশি) পেয়ে জিতেছেন। বিএনপির এমদাদুল হক বর্ষা পেয়েছেন প্রায় ৫৭,৪৩৯ ভোট। মার্জিন ১৫,০০০-এর ওপর। এই বিশাল ভোটের সংখ্যা দেখে মনে হয় তরুণরা শুধু প্রতীকে নয়, পরিবর্তনের স্বপ্নে ভোট দিয়েছে।

কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ জিতেছেন, যেখানে আগে আওয়ামী লীগের প্রভাব ছিল প্রবল। নারায়ণগঞ্জ-৪-এ আবদুল্লাহ আল আমিন এবং নোয়াখালী-৬-এ আবদুল হান্নান মাসুদও লাখের কাছাকাছি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই আসনগুলোতে এনসিপির এত বড় ভোটের ঝুলি দেখে অবাক হতে হয়।

হারের আসনগুলোতেও গল্পটা শেষ হয়নি। ঢাকা-৯-এ জাভেদ রাসিন ৫৩,৪৬০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন, বিএনপির হাবিবুর রশীদ হাবিব (১১১,২১২ ভোট) থেকে ৫৭,৭৫২ ভোট পিছিয়ে। ঢাকা-১৯-এ দিলশানা পারুল ১২৫,২৮৩ ভোট নিয়ে দ্বিতীয়। ক্লোজ কনটেস্টগুলো আরও উত্তেজনাপূর্ণ—পঞ্চগড়-১-এ সারজিস আলম ১৬৮,০৪৯ ভোট পেয়ে বিএনপির কাছে মাত্র ৮,১২০ ভোটে হেরেছেন। ঢাকা-৮-এ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী মাত্র পাঁচ হাজারের মতো ব্যবধানে পিছিয়ে।

এনসিপি যে পরিমাণ ভোট পেয়েছে সারাদেশে সেটা কোনো বড়ো দলের চেয়ে কম নয় । জামায়াত-এনসিপির এগারো দলের জোটের মাঝে তুলনা করলে এনসিপি ভোটের মাঠে জামায়াতের চেয়েও এগিয়ে । ইনটারিম আর কিছু করতে পারুক আর না পারুক এনসিপিকে সংসদে নিয়ে যেতে পেরেছে । ইউনুস সাহেব চেয়েছিলেন তরুণরা যাতে সংসদে যায় এবং মন্ত্রী হয় । বাংলাদেশের বহু তরুণ জেন-জির মনেও একই ভাবনা কাজ করেছে হয়তো ; তারা চেয়েছিলো সংসদে জেন-জি'রা যাবে এবং তাদের মনের কথা বলবে । এনসিপির ছয় নেতার সামনে সুযোগ এসেছে নিজেদের প্রমাণ করার ।


মন্তব্য ১৩ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:২৫

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: পৃথিবীতে উত্থান পতন আছে,
কেউ আসবে, কেউবা হারায়ে যাবে ।

..........................................................................
এবারের ভোটে জাতীয় পার্টির নিজস্ব বোকামী আর
অহংকারের কারনে দৃশ্যপট থেকে হারায়ে গেল ।
সেখানে আমরা নুতন শক্তি দেখছি এবং আশাবাদী
যদি কল্যাণকর কোন কিছু যদি করতে পারে ।
প্রথমবার ৬টি সংসদ পদ পেয়ে যাত্রা শুরু করেছে,
আমরা সবাই তাকায়ে থাকব তাদের পজিটিভ কর্মকান্ডর জন্য
তবে এই পথ চলায়, জারা ও সামান্থা থাকলে আরও গতিশীল হতো ।

২| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৫৯

শ্রাবণধারা বলেছেন: রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপির সাফল্য খুবই বড় মাপের সন্দেহ নেই। "নতুন বন্দোবস্ত" এই রেটোরিকটা খুবই শক্তিশালী। মানুষ নতুন কিছু চায় - এটা নিশ্চিত। কিন্তু জামাতের কোলে বসে সেটা কি করে সম্ভব এটা আমি বুঝতে পারিনা।

৩| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:২৫

নিমো বলেছেন: না, আসন ভাগাভাগির এই ভোট ভোট খেলায়, ভোটের সংখয়া কোন মানেই রাখে না। তার উপর ইউনূস, অন্তর্বর্তী সরকাী, ইউনূস, জা-শি ছাড়া এদের শক্তিমত্তার পরীক্ষার এখনও ঢের দেরি। আগে পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত দল হিসাবে টিকুক। জোটের বাইরে গিয়ে নিজস্ব রাজবীতির বিকাশ ও আসন না পাওয়া অব্দি এদের উদীয়মান বা বিকাশমান শক্তি হিসাবে দেখার কারণ নাই

৪| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:২৯

নিমো বলেছেন: এই নির্বাচন নামক আসন ভাগাভাগির ভোট ভোট খেলায় কতটা অর্গানিক ভোট হয়েছে, সেটা অবশ্যই দেখতে হবে। জোট সঙ্গী না হয়ে তারা কত ভোট পায় পরবর্তীতে, কিংবা আদৌ টিকে থাকে কিনা সেটাই দোখার বিষয়

৫| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০৯

কিরকুট বলেছেন: জামায়াতের ভোট নিয়া জয় পাইয়া এতো হ্যাডোম B-))

৬| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪

নতুন নকিব বলেছেন:



ওদের অভিনন্দন। সারজিস এবং পাটোয়ারির বিষয়টা দুঃখজনক ছিল।

৭| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৪

ক্লোন রাফা বলেছেন: আগে ছিলো শুধু রাজাকার এখন যোগ হয়েছে লালবদর। রাজনৈতিক আবর্জনা এগুলো। সব পরিষ্কার হয়ে যাবে আগামী ২/৩ বছরের মধ্যেই।

৮| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



ধন্যবাদ।

সংসদের উচ্চ কক্ষ গঠিত হলে সেখানে আমরা তিনটি আসন পাবো, ইনশাআল্লাহ।

৯| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩

ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: ওরা মূল ধারার রাজনীতিতে এখনো অনেক তরুন। ভুল-ত্রুটি থাকবে আর সেখান থেকেই আগামীর শিক্ষা নিতে হবে। লব্ধ জ্ঞাণ কাজে লাগাতে পারলে আগামীতে সাফল্য আসতেও পারে। ধন্যবাদ।

১০| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩১

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



@নিমো,

গঠনমূলক সমালোচনার জন্যে ধন্যবাদ।

জোটবদ্ধ ভাবে আমরা রাজনৈতিক লড়াই করেছি। আমরা এখনো শিখছি, সবার কাছ থেকেই।

আগামী পাঁচ বছর আমরা দেশের জনগণের জন্যে উদাহরণ হয়ে থাকবো।

১১| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

রাজীব নুর বলেছেন: এনসিপিকে না দমাতে পারলে দেশে শান্তি আসবে না।

১২| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:০১

অল্প বিদ্যা ভয়ংকর বলেছেন: এনসিপি জামায়াত ভাই ভাই। আলাদা করার দরকার নাই। ২ বছরে পরিষ্কার। এনসিপি জামায়াতের আবিষ্কার।

১৩| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: এই নির্বাচনে এনসিপি নারীদের মূল্যায়ন করে নাই,
জামাতের মতো তারাও অব্জ্ঞা করেছে,
এজন্য তাদের গ্রহনযোগ্যতা থাকবনো ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.