| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
২০২৫ সালের মে মাসে যখন ভারত পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল, তখন দিল্লির একটি প্রেস কনফারেন্স রুমে দাঁড়িয়ে ছিলেন দুজন নারী সামরিক কর্মকর্তা। একজন হিন্দু, একজন মুসলিম। ক্যামেরার সামনে তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে ভারতের সামরিক অভিযানের ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন। সেই মুহূর্তে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ যা দেখল, তা কেবল একটি প্রেস ব্রিফিং ছিল না। সেটা ছিল একটি সাজানো বার্তা - ইসলামের বিরুদ্ধে নয়, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। এবং সেই বার্তাটি কোনো বোমার চেয়ে কম শক্তিশালী ছিল না।
এই কৌশলটা নতুন নয়। কিন্তু আধুনিক যুগে এটি এমন এক মাত্রায় পৌঁছেছে যে আমরা অনেকেই বুঝতে পারি না কখন আমরা একটি তথ্যের ভোক্তা, আর কখন আমরা একটি narrative-এর শিকার। ইসরায়েলের লেফটেন্যান্ট কর্নেল এল্লা ওয়াউইয়া যখন আরবিতে কথা বলেন, যখন গাজার ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে একজন মুসলিম নারী IDF-এর পক্ষে কথা বলেন - তখন আরব বিশ্বের একটা অংশ থমকে যায়। প্রশ্ন জাগে। দ্বিধা তৈরি হয়। এবং সেই দ্বিধাটুকুই যথেষ্ট।
যুদ্ধের ইতিহাস জুড়ে মানুষ সবসময় অস্ত্র বানিয়েছে। তলোয়ার থেকে পারমাণবিক বোমা - প্রতিটি যুগে অস্ত্র বদলেছে। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শেষ থেকে একটা নতুন অস্ত্র তৈরি হয়েছে যার কোনো শব্দ নেই, কোনো ধোঁয়া নেই, কিন্তু ক্ষতির গভীরতা অনেক সময় বোমার চেয়েও বেশি। এই অস্ত্রের নাম narrative। গল্প। যে গল্পটা তুমি মানুষকে বিশ্বাস করাতে পারবে, সে যুদ্ধ তুমি জিতে যাবে — মাঠে হারলেও।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকা যখন জাপানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিল, তখন তারা একটা সমস্যায় পড়ল। দেশের ভেতরে লক্ষাধিক জাপানি-আমেরিকান নাগরিক। তাদের বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। কিন্তু একই সঙ্গে সরকার বুঝল এই মানুষগুলোকে যদি সামনে রাখা যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমেরিকার গণতান্ত্রিক ইমেজ রক্ষা পাবে। ৪৪২তম রেজিমেন্ট পুরোটাই জাপানি-আমেরিকান সৈনিকদের নিয়ে ইউরোপে যুদ্ধ করল এবং ইতিহাসের সবচেয়ে সজ্জিত আমেরিকান রেজিমেন্ট হিসেবে পরিচিত হলো। তাদের সাহস প্রশ্নাতীত ছিল। কিন্তু সরকার সেই সাহসকে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করেছিল।
এখানেই একটা জটিল সত্য লুকিয়ে আছে। এল্লা ওয়াউইয়া বা কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এরা কেউ কাল্পনিক চরিত্র নন। তারা বাস্তব মানুষ, যারা নিজেদের বিশ্বাস থেকে কাজ করছেন। তাদের ক্যারিয়ার, তাদের পরিশ্রম, তাদের পরিচয় সবটাই সত্যি। কিন্তু একটি রাষ্ট্র বা সামরিক বাহিনী যখন তাদের একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে, একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সামনে আনে তখন সেই সত্যিকার মানুষটি একটি symbol হয়ে যান। এবং সেই symbolism-কে ব্যবহার করাই হলো narrative warfare-এর সবচেয়ে পরিশীলিত রূপ।
রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ করার পর রামজান কাদিরভকে সামনে আনল। চেচেন মুসলিম যোদ্ধারা রাশিয়ার হয়ে লড়ছে এই ছবিটা তৈরি করা হলো। বার্তাটা স্পষ্ট ছিল: এটা খ্রিষ্টানদের যুদ্ধ নয়, এটা সভ্যতার যুদ্ধ। কাদিরভ নিজে একটি চরিত্র হয়ে গেলেন তার নিজের ইচ্ছা, তার নিজের রাজনীতি থাকলেও বৃহত্তর মঞ্চে তিনি একটি নির্দিষ্ট বার্তার বাহন।
আমেরিকা আফগানিস্তান ও ইরাকে যুদ্ধের সময় আরব-আমেরিকান এবং মুসলিম সৈনিকদের মিডিয়ায় তুলে ধরল। "War on Terror" যেন "War on Islam" না হয়ে যায় — এই ভয় ছিল। কারণ সেরকম হলে পুরো মুসলিম বিশ্ব একাট্টা হয়ে যেত, এবং আমেরিকার কূটনৈতিক শক্তি কমে যেত। তাই মুসলিম সৈনিককে সামনে রাখো, দেখাও যে আমরা একসাথে লড়ছি একটি আদর্শের বিরুদ্ধে, একটি ধর্মের বিরুদ্ধে নয়।
কিন্তু এই কৌশলটি কেবল পশ্চিমা বা ইসরায়েলি একচেটিয়া নয়। Taliban পাকিস্তানি পশতুন এবং বালুচ সম্প্রদায়ের মধ্যে তাদের বার্তা ছড়িয়ে দেয়, সেই সম্প্রদায়ের মানুষদের মুখ দিয়ে। ISIS যখন সারা বিশ্ব থেকে যোদ্ধা রিক্রুট করত, তখন বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন ভাষার মানুষকে দিয়ে ভিডিও বানাত। বার্তাটা ছিল: এই আন্দোলন তোমার-আমার, সবার। এটা কোনো একটি জাতির বা গোষ্ঠীর সীমানায় আটকে নেই।
তাহলে প্রশ্ন হলো এই কৌশলটি কেন এত কার্যকর? কেন একজন মুসলিম নারী যখন ইসরায়েলি সেনার ইউনিফর্ম পরে কথা বলেন, তখন সেটা একটা সাধারণ প্রেস ব্রিফিংয়ের চেয়ে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে? এর উত্তর লুকিয়ে আছে মানুষের মস্তিষ্কের গভীরে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, আমরা তাদের কথা বেশি বিশ্বাস করি যাদের আমরা নিজেদের মতো মনে করি। যখন দেখি কেউ আমার পরিচয়ের অংশ বহন করছে — আমার ভাষা, আমার ধর্ম, আমার সংস্কৃতি — তখন তার বার্তাটা আমার কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য লাগে। এটাকে বলে in-group credibility। এবং এই মনস্তাত্ত্বিক সত্যটাকেই রাষ্ট্রগুলো অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।
সোশ্যাল মিডিয়া এই পুরো খেলাটাকে একটা নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। এল্লা ওয়াউইয়ার একটি TikTok ভিডিও মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছে যায় মিনিটের মধ্যে। কোনো সম্পাদকীয় ফিল্টার নেই, কোনো জার্নালিস্টের প্রশ্ন নেই — সরাসরি তার মুখ থেকে লক্ষ মানুষের হৃদয়ে। এই direct-to-audience পৌঁছানোর ক্ষমতাটা আগে কোনো সরকারের ছিল না। আগে তোমাকে পত্রিকার মাধ্যমে যেতে হতো, রেডিওর মাধ্যমে যেতে হতো। এখন একটা স্মার্টফোন আর একটা চরিত্র দিয়ে তুমি সরাসরি কোটি মানুষের মনে ঢুকে যেতে পারো।
এই বিষয়টা বুঝলে গাজা যুদ্ধের মিডিয়া কভারেজের অনেক কিছু আলাদাভাবে দেখা যায়। কেন IDF নিজে ভিডিও বানিয়ে release করে? কেন তারা আরবিতে কথা বলা একজন মুসলিম নারীকে মুখপাত্র হিসেবে রাখে? কারণ তারা জানে — তারা শুধু গাজায় যুদ্ধ করছে না, তারা একই সাথে ১.৮ বিলিয়ন মুসলিমের মনের যুদ্ধও লড়ছে। এবং সেই যুদ্ধে আমরা মুসলিম-বিরোধী নই বার্তাটা রাখতে হবে। একজন মুসলিম মুখপাত্র সেই বার্তাটা একশো গুণ বেশি কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে পারেন একজন ইহুদি কর্মকর্তার চেয়ে।
কিন্তু এখানে একটা গভীর নৈতিক প্রশ্ন আছে যেটা আমরা সবাই এড়িয়ে যাই। যে মানুষটিকে এই কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার নিজের agency কতটুকু? এল্লা কি স্বেচ্ছায় এই পথ বেছে নিয়েছেন, নাকি তিনি একটি বৃহত্তর কাঠামোর অংশ হয়ে গেছেন নিজেও না বুঝে? এই প্রশ্নের কোনো সহজ উত্তর নেই। সম্ভবত দুটোই সত্যি। তিনি নিজের বিশ্বাস থেকে কাজ করছেন, এবং একই সঙ্গে একটি রাষ্ট্র তার পরিচয়কে একটি strategic asset হিসেবে ব্যবহার করছে।
ভারতের Operation Sindoor-এর প্রেস কনফারেন্সে ফিরে আসি। সেই মুহূর্তে কর্নেল সোফিয়া কুরেশি কি জানতেন তিনি শুধু তথ্য দিচ্ছেন না, তিনি একটি বার্তাও বহন করছেন? সম্ভবত হ্যাঁ। একজন সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা এই রাজনীতি বোঝেন। কিন্তু তিনি কি সেটাকে ভুল মনে করেন? এখানেই বিষয়টা আরও জটিল হয়ে যায়। কারণ যদি সত্যিই ভারত একটি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে থাকে, এবং যদি সোফিয়া সত্যিই বিশ্বাস করেন সেটা সঠিক তাহলে তার উপস্থিতি কি manipulation, নাকি representation?
এই দ্বৈততাটাই narrative warfare-এর সবচেয়ে মারাত্মক দিক। এটা মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে থাকে না। এটা সত্যের একটি বিশেষ অংশকে, একটি বিশেষ কোণ থেকে দেখায়। একটি ছবির মধ্যে কোথায় আলো ফেলবে, কোথায় অন্ধকার রাখবে এই পছন্দটাই ছবির অর্থ বদলে দেয়। একজন মুসলিম নারী অফিসারের উপস্থিতি সত্যি। তার ক্যারিয়ার সত্যি। কিন্তু তাকে ঠিক এই মুহূর্তে, ঠিক এই ফ্রেমে রাখাটা একটি সচেতন পছন্দ। এবং সেই পছন্দটা আর নিরীহ থাকে না সেটা হয়ে যায় কৌশল।
ইতিহাস বলে, যে পক্ষ narrative জেতে, সে প্রায়শই যুদ্ধও জেতে। ভিয়েতনামে আমেরিকা সামরিকভাবে হারেনি তারা narrative-এ হেরেছিল। টেলিভিশনে যুদ্ধের বীভৎসতা ঘরে ঘরে ঢুকে পড়ল, দেশের মানুষ বিদ্রোহ করল, এবং সরকার পিছু হটতে বাধ্য হলো। অন্যদিকে ফকল্যান্ড যুদ্ধে মার্গারেট থ্যাচার মিডিয়াকে এতটাই নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন যে ব্রিটিশ জনমত কখনো বিচলিত হয়নি এবং যুদ্ধ জয় রাজনৈতিকভাবে তার অবস্থানকে অপ্রতিরোধ্য করে দিয়েছিল।
তাহলে আমরা, যারা এই সব দেখছি - আমাদের কী করণীয়? প্রথম কাজ হলো বুঝতে পারা যে কোনো বার্তাই নিরীহ নয়। কে বলছে, কখন বলছে, কোথায় বলছে, কাকে উদ্দেশ্য করে বলছে — এই প্রশ্নগুলো করতে হবে। একটি মুসলিম মুখপাত্রের উপস্থিতি মানেই ন্যায়সঙ্গততার প্রমাণ নয়। একইভাবে, তার অনুপস্থিতি মানেই অন্যায়ের প্রমাণ নয়। মানুষকে symbol হিসেবে ব্যবহার করার পেছনে কী উদ্দেশ্য সেটা খুঁজতে হবে।
দ্বিতীয় কাজ হলো মনে রাখা যে সত্যিকার মানুষেরা symbol নন। এল্লা ওয়াউইয়া একজন জীবন্ত মানুষ, যার নিজস্ব দ্বন্দ্ব আছে, নিজস্ব বিশ্বাস আছে। কর্নেল সোফিয়া কুরেশির নিজের একটি গল্প আছে। তাদের পরিচয়কে শুধু একটি কৌশলের অংশ হিসেবে দেখাটাও আরেকটি সরলীকরণ। পাশাপাশি যারা তাদের সমালোচনা করেন "বিশ্বাসঘাতক" বলেন তারাও একটা narrative তৈরি করছেনএবং সেই narrative-ও ঠিক ততটাই রাজনৈতিক।
সবশেষে, এই পুরো আলোচনার কেন্দ্রে একটাই সত্য - আধুনিক যুদ্ধ কেবল মাঠে হয় না। সে যুদ্ধ হয় আপনার স্ক্রিনে, আপনার ফিডে, আপনার মাথার ভেতরে। এবং সেই যুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হলো একজন বিশ্বাসযোগ্য মানুষ, যাকে আপনি নিজের মতো ভাবেন, কিন্তু যার মুখ দিয়ে অন্য কেউ কথা বলছে। পরের বার যখন কোনো সামরিক মুখপাত্রকে দেখবেন তার পরিচয়ের দিকে মনোযোগ দিন। কারণ সেই পরিচয়টাই হয়তো সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৩৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এবারের ইলেকশনের কথা বাদ দেন । যারা জিতবে ভেবেছিলাম সবাই হেরে গেছে ।
২|
০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৬
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
বাংলাদেশের সকল মিডিয়া ইরানের পক্ষে। প্রতিটি টিভি চ্যানেল সহ অনলাইন ও ছাপা পত্রিকা। দেখি ইরানকে জিতিয়ে দিতে পারে কি না? তবে হার জিতের পেছনে মিডিয়ার বড় ভূমিকা আছে এই কথা অস্বীকার করার ব্যবস্থা নেই।
০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৪০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনি বলেছেন : বাংলাদেশের সকল মিডিয়া ইরানের পক্ষে। প্রতিটি টিভি চ্যানেল সহ অনলাইন ও ছাপা পত্রিকা। দেখি ইরানকে জিতিয়ে দিতে পারে কি না?
বাংলাদেশের মিডিয়া আর ইসরায়েলের মিডিয়া উইং এ মুসলিম নারী কে সামনে আনা যে এক বিষয় না এটা আপনি আমার চেয়ে ভালো জানেন । ওয়ার করছে ইসরায়েল-ইরান এখানে বাংলাদেশের মিডিয়া কি বললো তাতে কি যায় আসে ?
৩|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:১৪
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
নিজ ইরানেই বহু ইরানী মুসলিমা উম্মাহ আছে যারা মনে প্রাণে ইরানের ধ্বংস কামনা করে। ইরানের বাইরে বা ইসরায়েলের মুসলিমা উম্মাহ এল্লা আর কি করবে? ইরানের রাজাকারের কারণে ইরান শেষ। খোমেনি মোমেনি বিষয় না।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:১১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনি জানতে চেয়েছেন : ইরানের বাইরে বা ইসরায়েলের মুসলিমা উম্মাহ এল্লা আর কি করবে ?
এই বিষয়ে আমার একটি ব্যক্তিগত মতামত শেয়ার করছি: জামায়াতে ইসলামী এবার একজন হিন্দু প্রার্থীকে এমপি হিসাবে মনোনয়ন দিয়েছিল যদিও তিনি নির্বাচনে পরাজিত হন। জামায়াত একটি ইসলামিক দল হওয়া সত্ত্বেও কেন এই কাজ করেছিল? কারণ তারা বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছিল যে তারা একটি মধ্যপন্থী বা উদারপন্থী ইসলামিক রাজনৈতিক দল। তারা ধারণা করেছিল, এর মাধ্যমে তাদের ব্র্যান্ড ইমেজ আরও উন্নত ও গ্রহণযোগ্য হবে। আমার কাছে ইসরায়েল এবং ভারতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম মনে হয়েছে। রাষ্ট্রগুলো অনেক সময় লোকদেখানো কিছু পদক্ষেপ নেয় যাতে তাদের আসল এজেন্ডা বা কঠোর অবস্থানগুলো আড়ালে থাকে অথবা বিশ্ববাসীর কাছে তারা আরও নমনীয় হিসেবে পরিচিতি পায়।
ইরানের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি আসলে কারা করেছে— ঘরের রাজাকার, নাকি খোদ তাদের শাসকরা ?
৪|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:১৩
অর্ক বলেছেন: ভুল ধারণা অজ্ঞতা অল্প জ্ঞান থেকে কাল্পনিক একটি ন্যারেটিভ তৈরি করে লিখে ছেড়ে দিলেন। আপনার চিন্তাভাবনার লেভেল একেবারেই টিপিকাল বাঙ্গু মুমিনদের। ভারত ইসরায়েল দুটোই দায়িত্বশীল সভ্য গণতান্ত্রিক দেশ। ৫৬ মুসলিম দেশ ১৫০ কোটি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে তারা! মিশর ইসরায়েলের প্রতিবেশী মুসলিম দেশ, সেখানকার মুসলিমদের না মেরে ২০০০ কিলোমিটার দূরের ইরানের মুসলিমদের মারতে গেছে ইসরায়েল! যাদের নিয়ে লিখেছেন তাদের পেষাগত দক্ষতা, যোগ্যতা, সেনাবাহিনীতে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সম্পর্কে আপনার কোনোই ধারনাই নেই। কোনও দায়িত্বশীল সভ্য গণতান্ত্রিক দেশের প্রোফেশনাল সেনাবাহিনীতে এটা হয় না যে ধর্ম দেখে কাওকে মিডিয়ার সামনে আনবে। তারা তাদের যোগ্যতা দিয়েই জায়গা পেয়েছে। এ লেখা লিখে না বুঝে তাদেরকে অসম্মান করলেন।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৩৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: প্রথমেই স্বীকার করে নিচ্ছি আমি আসলেই খুব কম জানি। আপনার মতো এমন বিরাট পাণ্ডিত্য বা অপরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার মতো উন্নত মানসিকতা এখনো অর্জন করতে পারিনি। যাই হোক, আপনার বিশাল জ্ঞানের কাছে আমার দুইটি ছোট্ট প্রশ্ন:
১- ইসরায়েল এর আগেও ইরানে হামলা করেছে, কিন্তু তখন এল্লা ওয়াউইয়াকে এভাবে সামনে আনা হয়নি। এবার কেন হলো ?
২- অপারেশন সিন্দুর এর আগে ভারত কতবার পাকিস্তানে স্ট্রাইক করেছে ? তখন কি কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে একবারও প্রেস কনফারেন্সে সামনে আসতে দেখেছেন ?
৫|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৩৬
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
৩ নং মন্তব্যের উত্তরে সহমত।
ইরানের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি আসলে কারা করেছে— ঘরের রাজাকার, নাকি খোদ তাদের শাসকরা ?
- অদক্ষ শাসক আর ঘরের রাজাকার। এই অদক্ষ শাসক বুঝতেই পারেনি নিজ ঘরে বিদ্রোহী আছে, রাজাকার আছে। বোরকা আন্দোলনের পরও তাদের মগজে কাজ করেনি।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ঘরের রাজাকাররা সুযোগ পেয়েছে কারণ শাসকরা অদক্ষ ছিল এবং তারা জনগণের মনের ভাষা বুঝতে পারেনি।
৬|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৫১
শ্রাবণধারা বলেছেন: আমার কাছে আপনার এই লেখাটা খুব পরিষ্কার হয়নি। এর কারণ, ইসরাইল ধর্মযুদ্ধের বয়ানটাকে বেশি প্রচার করার চেষ্টা করছে।
কিছুদিন আগে নেতানিয়াহু বললেন, "ইসলামই শত্রু"। তাদের পালিত বুদ্ধিজীবীরা অনেকদিন থেকেই বলছেন, মুসলিমদের ধর্ম মৃত্যুপূজা বা ডেথ-কাল্ট।
ফ্লোরিডার কংগ্রেস সদস্য র্যন্ডি ফাইন বলেছেন, কুকুর এবং মুসলিমদের মধ্যে যদি কোনো একটি বেছে নিতে বলা হয়, তাহলে তার জন্য সেটা কঠিন নয়। আর আজ, হাউস স্পিকার মাইক জনসন বললেন যে ইরানীদের অর্থাৎ মুসলিমদের ধর্ম বিপথগামীদের ধর্ম। ক্যাপ্টেন এল্লারের চেয়ে ইসরাইল এখন এই বয়ানটাই বেশি প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে যে মুসলিম মাত্রই খারাপ।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমার উচিত ছিল ভারত, ইসরায়েল এবং জামায়াত-শিবিরের কৃষ্ণ নন্দী ন্যারেটিভের ওপর ভিত্তি করে লেখাটি দ্রুত শেষ করা। পাশাপাশি জুলাই মাসের কোটা আন্দোলনের কিছু ঘটনা নিয়ে আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ সরাসরি তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা না করে আমি লেখাটিকে অযথাই দীর্ঘায়িত করে ফেলেছি, যা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সুন্দরভাবে বিষয়টি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এবং আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।
৭|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১৪
অর্ক বলেছেন: ১- ইসরায়েল এর আগেও ইরানে হামলা করেছে, কিন্তু তখন এল্লা ওয়াউইয়াকে এভাবে সামনে আনা হয়নি। এবার কেন হলো ?
২- অপারেশন সিন্দুর এর আগে ভারত কতবার পাকিস্তানে স্ট্রাইক করেছে ? তখন কি কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে একবারও প্রেস কনফারেন্সে সামনে আসতে দেখেছেন ?
***
একেবারে হাস্যকর ছেলেমানুষী দুটো প্রশ্ন করলেন। আমি অবাক হলাম। এ তো খুবই সাধারণ সেন্সের ব্যাপার। বিরাট প্রোফেশনাল সেনাবাহিনী দুটি দেশের। সময় সময় নতুন নতুন ভিন্ন প্রবক্তা আসবে এ তো খুবই স্বাভাবিক! দুটো দেশেই বিরাট সংখ্যায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর বাস। ভারতে ১৫ শতাংশ তো ইসরায়েলে ২০ শতাংশ। স্বাভাবিকভাবে তাদের অংশগ্রহণ থাকবে সবখানে। দুটো দেশ সম্পর্কেই খুব ভালো জানি আমি। সভ্য গণতান্ত্রিক মানবিক মূল্যবোধের আদর্শ দু'টি দেশ। শিল্প সংস্কৃতি তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞান গবেষণা চিকিৎসা কৃষি সর্বক্ষেত্রে বিশ্বে দারুণ অবদান রেখে চলেছে দেশ দুটি। ভারতে বিভিন্ন সমস্যা আছে নিঃসন্দেহে, চলে আসছে, তারপরেও নরেন্দ্র মোদির এই সময়কালে প্রতিটি দিন ভারত উন্নতি করেছে।
ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনি যা বলতে চেয়েছেন : ১- নতুন মুখপাত্র আসা স্বাভাবিক। ২- মুসলিম জনগোষ্ঠী আছে বলেই অংশগ্রহণ আছে। ৩- দেশ দুটো মহান, তাদের অর্জন অনেক।
ভারত পাকিস্তানের সাথে বহুবার যুদ্ধ করেছে, ইসরায়েল ইরানে বহুবার হামলা করেছে কিন্তু তখন মুসলিম মুখপাত্র আনার প্রয়োজন তারা অনুভব করেনি। এবার করেছে। কারণ এবারের সংঘাতের আন্তর্জাতিক মাত্রা ভিন্ন ছিল, মুসলিম বিশ্বের কাছে একটা বার্তা পৌঁছানো দরকার ছিল।
দুটো সরাসরি প্রশ্নের জবাব না দিয়ে ভারত ও ইসরায়েলের কৃষি, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তির প্রসঙ্গ টানলেন। প্রশ্নটা দেশের অর্জন নিয়ে ছিল না। লেখায় ভারত বা ইসরায়েলকে ছোট করা হয়নি। বরং শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোই narrative warfare কৌশল সবচেয়ে দক্ষভাবে ব্যবহার করে এমনটাই বলা হয়েছে।
একটি নির্দিষ্ট ঘটনায়, নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট পরিচয়ের মানুষকে সামনে আনা কোনোভাবেই কাকতালীয় না ।
৮|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩৯
রাজীব নুর বলেছেন: আপনার লেখা গুলো কেমন হয়- জানেন?
''ধান ভানতে শিবের গীত'' টাইপ।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৪৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এত সুন্দর মন্তব্য আগে কখনো পাইনি। আবেগে সত্যিই কেঁদে ফেললাম। ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৫৯
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আবার কিছু মানুষ রয়ছে যারা নিদ্রিষ্ট কিছু বিষয়ের পক্ষে ক্থা বললে উক্ত বিষয়ের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে না বরং কমে যায়, যেমন- কিছু মানুষ আছে যারা আওয়ামীলীগের পক্ষে কথা বললে আওয়ামীলীগের পক্ষে জনমত ভারী তো হয়ই না বরং আরও কমে যায়।
এবারের নির্বাচনেও বিএনপির মাঠ পর্যায়ের ছ্যাচড়া কিছু নেতা কর্মী আছে যাদেরকে মানুষের কাছে বিএনপির পক্ষে ভোট চাইতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছিলো উপর থেকে, কারণ এরা যদি মানুষ কাছে ভোট চাইতো তাহলে বিএনপির ভোট বাড়তো তো নয়ই উল্টো আর কমতো।