| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
ক্ষমতায় বসার এক মাস পেরোতে না পেরোতেই নতুন সরকার একের পর এক ঘোষণা দিয়েই যাচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন আর গুম হওয়া পরিবারের জন্য ভাতার প্রস্তাব ; তালিকাটা প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে।
প্রতিটি ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে হাসিমুখ দেখা যাচ্ছে, পত্রিকায় আসছে বড় বড় শিরোনাম। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন কোথাও করা হচ্ছে না: এই বিপুল পরিমাণ টাকা আসবে কোথা থেকে? সরকারের যুক্তিটা খুব সহজ। তাদের মতে, মানুষের হাতে টাকা দিলে বাজারে চাহিদা বাড়বে, উৎপাদন বাড়বে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় Keynesian Stimulus ; ১৯৩০-এর মহামন্দার সময় এই তত্ত্ব দিয়েই আমেরিকা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।
এই তত্ত্বের কেন্দ্রে আছে মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট (Multiplier Effect)। ধারণাটি হলো: সরকার যদি বাজারে ১০০ টাকা ছাড়ে, তবে সেই টাকা একজনের হাত থেকে অন্যজনের হাতে ঘোরে। এতে কেনাকাটা বাড়ে, ব্যবসা সম্প্রসারিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত অর্থনীতিতে মোট প্রভাব ১০০ টাকার চেয়েও অনেক বেশি হয়। কাগজে-কলমে এই যুক্তি চমৎকার শোনালেও বাস্তবে এটি কাজ করার একটি প্রধান শর্ত আছে। শর্তটি হলো: বাজারে পণ্য বা উৎপাদনের সক্ষমতা থাকতে হবে। মানুষ টাকা পেয়ে যখন কিনতে যাবে, তখন বাজারে পণ্য মজুদ থাকতে হবে এবং কারখানায় উৎপাদন সচল থাকতে হবে।
১৯৩০-এর দশকে কেইনসীয় তত্ত্ব কাজ করেছিল কারণ তখন কারখানায় সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও চাহিদার অভাবে সেগুলো অলস পড়ে ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা ঠিক এর উল্টো। এখানে সমস্যা চাহিদার অভাব নয়, বরং অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় 'কস্ট-পুশ ইনফ্লেশন' (Cost-push inflation)। অর্থাৎ, চাহিদার চাপে নয়, বরং উৎপাদন ও সরবরাহের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণেই বাজারে দাম বাড়ছে।
এই সংকটকালীন মুহূর্তে সরকার যখন সরাসরি বাজারে টাকা ছাড়ছে, তখন মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট কাজ করবে ঠিক উল্টোভাবে। এই বাড়তি টাকা উৎপাদন না বাড়িয়ে বরং মূল্যস্ফীতির আগুনকে আরও উসকে দিবে । ফলে ১০০ টাকার সরকারি সহায়তা দিনশেষে মুদ্রাস্ফীতির পেটে চলে যাচ্ছে এবং এর প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা দাঁড়াবে মাত্র ৬০ টাকায়। সহজ কথায়, এটি একটি ভুল রোগে ভুল ওষুধ দেওয়ার মতো অবস্থা যেখানে ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর সুস্থ হওয়ার বদলে অবস্থা আরও জটিল হচ্ছে।"
গ্যাস সংকটটি বিশ্লেষণ করলে পুরো চিত্রটি পরিষ্কার হয়ে যায়। দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, অথচ সরবরাহ মাত্র ২৭০ কোটি। অর্থাৎ, প্রতিদিন ৩০ শতাংশ ঘাটতি নিয়ে দেশ চলছে। যুদ্ধের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে ডাবল দামে বিদেশ থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে ডলারে । এই সংকটে দেশের পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। রাজধানীতে দিনের বড় একটা সময় গ্যাস থাকে না। টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস কারখানায় উৎপাদন কমেছে ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ। রাইড শেয়ারিং চালকরা সিএনজি স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছেন। একটি সংকট থেকে জন্ম নিচ্ছে নতুন হাজারো সংকট।
এই চরম গ্যাস সংকটের মাঝেই সরকার কৃষক কার্ড এবং সরাসরি সার পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু সার তৈরির কারখানা তো বন্ধ! বিদেশ থেকে আমদানি করতে হলে প্রয়োজন ডলার। আর সেই ডলার মূলত আসে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স থেকে।আমাদের মোট রেমিট্যান্সের ৪৫ শতাংশই আসে ওই অঞ্চলের ছয়টি দেশ থেকে, যেখানে এখন যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ডলার সংকট আরও বাড়বে এবং সার আমদানি করা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে কার্ড দিলেও শেষ পর্যন্ত সার দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ডলারের সংকট অন্য খাতেও সরাসরি আঘাত হানছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ফি এক লাফে ৪১ শতাংশ বেড়েছে। পোশাক শিল্পের রপ্তানি খরচ বাড়ছে, ফলে বৈশ্বিক বাজারে আমরা প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা হারাচ্ছি। বিদেশি ক্রেতারা তাদের অর্ডার ভিয়েতনাম বা কম্বোডিয়ায় সরিয়ে নিচ্ছেন। বিদ্যুৎ খাতের অবস্থা আরও শোচনীয়। পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১২ টাকায় কিনে ৭ টাকায় বিক্রি করছে। প্রতি মাসে সরকারের হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হচ্ছে। পাওনা না মেটানোয় বিদেশি কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎ বন্ধের হুমকি দিচ্ছে। গ্রীষ্মে যখন চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাবে, তখন পরিস্থিতি সামলানোর টাকা নেই।
সবচেয়ে বড় পরিহাস হলো : যে সরকারি অফিসগুলো এই সংকট সামলানোর দাবি করছে, তারা নিজেরাই নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছে না। কোটি কোটি টাকা বকেয়া রেখে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিল আদায় করার নৈতিক ভিত্তি সরকারের কোথায়? চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই রাজস্ব ঘাটতি ৫৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও সর্বনিম্ন। অথচ বড় বড় করফাঁকিবাজদের ধরার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। এই বিশাল ঘাটতির মাঝে ভাতার পেছনে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার বাড়তি খরচ রাষ্ট্রের কাঁধে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এই অবস্থায় সরকারের সামনে পথ খোলা মাত্র তিনটি। প্রথমত, বিদেশি ঋণ নেওয়া (যা ইতোমধ্যে অনেক বেড়েছে)। দ্বিতীয়ত, ভ্যাট ও কর বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ দেওয়া। এবং তৃতীয়ত, টাকা ছাপানো যার অনিবার্য ফল হলো আরও ভয়ংকর মূল্যস্ফীতি। এই তিনটি পথের যেটাই বেছে নেওয়া হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত খেসারত দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই। রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায় এসেই দৃশ্যমান কিছু করার প্রবণতা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবারের ভিত্তিটা অত্যন্ত নাজুক।
গ্যাস সংকট, ডলারের টানাপোড়েন, বিদ্যুৎ খাতের দেউলিয়াত্ব আর বিশাল রাজস্ব ঘাটতির ওপর দাঁড়িয়ে যদি আয়ের পথ না খুঁজে শুধু খরচের খাতা খোলা হয়, তবে আজকের এই রঙিন প্রতিশ্রুতিগুলো ভবিষ্যতের জন্য বড় বিপদ হয়েই দেখা দেবে। কেউ কেউ যুক্তি দিতে পারেন যে সংকটের মাঝেও সামাজিক সুরক্ষা জরুরি, কারণ দরিদ্র মানুষ অপেক্ষা করতে পারে না। এই যুক্তি অমূলক নয়। কিন্তু সুরক্ষা তখনই টেকসই হয় যখন রাষ্ট্রের নিজের আর্থিক ভিত্তি মজবুত থাকে। তাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত : আগে রাজস্ব বাড়ানো, বকেয়া আদায়, গ্যাস সংকট সমাধান এবং নিজেদের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ। তারপর ভাতার পরিসর বাড়ানো। এই ক্রমটি উল্টে গেলে উপকার হবে স্বল্পমেয়াদে মাত্র কয়েকজনের, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী বিপদে পড়বে পুরো দেশ।
(ক্ষমতায় বসার মাত্র এক মাসেই সরকারের খরচের খাতা যে হারে ভারী হচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক; কৃষি ঋণ মওকুফেই এক দফায় চলে গেছে ১,৫৫০ কোটি টাকা, যেখানে ১২ লাখ কৃষকের শস্য থেকে শুরু করে পশুপালন খাতের ঋণ সুদসহ মফকুফ করা হয়েছে। এর ওপর ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা আর ফ্যামিলি কার্ডের মতো জনবান্ধব প্রকল্পগুলো পুরোপুরি চালু হলে বছরে খরচ দাঁড়াবে যথাক্রমে ৪,৪০০ কোটি ও ৬০,০০০ কোটি টাকা যা এরই মধ্যে বিদ্যমান ৫৮,০০০ কোটির বিশাল রাজস্ব ঘাটতিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম। অথচ কৃষক কার্ড, খাল খনন কিংবা গুম হওয়া পরিবারগুলোর ভাতার মতো সংবেদনশীল খাতের ব্যয়ের হিসাব এখনো অন্ধকারে, সাথে বিশাল মন্ত্রিসভার মাসিক রাজকীয় পরিচালন ব্যয় তো আছেই। সব মিলিয়ে বছরে সম্ভাব্য খরচ যখন ৭০,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে তখন আয়ের নতুন কোনো উৎস বা রাজস্ব বাড়ানোর কার্যকর দিকনির্দেশনা না থাকাটা বেশ উদ্বেগজনক; সংবাদ সম্মেলনে অনেক আশার বাণী শোনা গেলেও, দিনশেষে এই বিপুল অর্থ আসলে কোথা থেকে আসবে—সেই যুৎসই উত্তরটি এখনো অধরাই রয়ে গেছে। )
০৯ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: যাকাত নিয়ে কাজ করতে শায়খ আহমাদুল্লাহর এডভাইস চেয়েছেন লিডার ।
২|
০৯ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৪০
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
দুইভাবে বাজেট নির্ধারিত হয়।
১ম ভাবে,
প্রথমত সব ব্যয় নির্ধারণ করা হয়,
তারপরে, আয়ের খাত থেকে তা পূরণ করা হয়।
এরপরেও, ব্যয় মিটাতে না পারলে, ধার করা হয়, মানে ঋণ।
২য় ভাবে, আয় আগে নির্ধারন করা হয়।
তাপরে, ব্যয়।
সরকার প্রধান কোন পদ্ধতি ফলো করছেন বলে মন করেন?
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: দেশের রিজার্ভ তলানিতে এবং ডলার সংকট তীব্র। এমন অবস্থায় প্রথম পদ্ধতি অনুসরণ করলে সরকারকে বড় অংকের টাকা ছাপাতে হয় বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়। এতে বাজারে টাকার সরবরাহ বাড়লেও উৎপাদন না বাড়া তা সরাসরি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেয়। দ্বিতীয় পদ্ধতি অনুসরণ করলে সরকার আগে আয়ের উৎস মেরামতে মনোযোগ দিত, যা বাজারকে স্থিতিশীল রাখত।
সরকার এখন যে ভাতার তালিকা দিচ্ছে, তা মূলত অনুৎপাদনশীল ব্যয়। দ্বিতীয় পদ্ধতি অনুসরণ করলে সরকার আগে দেখত তার হাতে থাকা সীমিত সম্পদ দিয়ে কীভাবে গ্যাস সংকট মেটানো যায় বা বন্ধ কারখানাগুলো চালু করা যায়। কারণ কারখানা চললে মানুষের কর্মসংস্থান হতো এবং বাজারে পণ্যের জোগান বাড়ত, যা দীর্ঘমেয়াদে ভাতার চেয়েও বেশি কার্যকর।
৩|
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪৩
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
ধন্যবাদ।
ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্ল্ডে 'কেপাসিটি বিল্ড আপ' বলে একটি টার্ম আছে।
সরকার যদি ১ম বছরে রাজস্বের ইনকাম সোর্সগুলো, যেমন - কৃষক, -এঁর কেপাসিটি বিল্ড করে দেয়, সরকারের ২য় বা ৩য় বছরে দেশের অর্থনীতি বুস্ট আপ করতে পারে কি?
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: Capacity building-এর মূল যুক্তি হলো : বিনিয়োগ এখন, রিটার্ন পরে।
রিটার্ন আসার আগ পর্যন্ত টাকা আসবে কোথা থেকে? সরকারকে তো প্রতি মাসে বেতন দিতে হবে, বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে, বিদেশি ঋণের কিস্তি দিতে হবে । সরকারের হাতে সেই bridge financing নেই; রাজস্ব ঘাটতি এখনই ৫৮,০০০ কোটি। ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের ফল পেতে যে দুই তিন বছর লাগবে, সেই সময়টুকু পার করার মতো আর্থিক সামর্থ্য এই মুহূর্তে সরকারের আছে কিনা জানা নেই ।
৪|
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:১৫
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
লেখক বলেছেনঃ
"....... সেই সময়টুকু পার করার মতো আর্থিক সামর্থ্য এই মুহূর্তে সরকারের আছে কিনা জানা নেই"
=========
সৈয়দ কুতুব,
আপনি যেহেতু অর্থনীতি বিষয়ে এই পোস্টটি লিখেছেন, আপনাকে সরকারে 'সক্ষমতা' কতটুকু তা জানতে হবে।
আরও তথ্য জোগাড় করে ধারাবাহিক ভাবে লিখুন। নেটে এবং সরকারী ওয়েবসাইটে অনেক তথ্য পাবেন।
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:২০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সরকারের প্রকৃত আর্থিক সামর্থ্য পুরোপুরি জানা কারো পক্ষেই সম্ভব না কারণ সরকার সব তথ্য প্রকাশ করে না।
৫|
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৩৭
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
লেখক বলেছেন: সরকারের প্রকৃত আর্থিক সামর্থ্য পুরোপুরি জানা কারো পক্ষেই সম্ভব না কারণ সরকার সব তথ্য প্রকাশ করে না।
==================
দেখুন, সিপিডি বা অন্যান্য এরকম প্রতিষ্ঠানগুলোও সরকারী নয়। তারপরও, তাঁরা মতামত প্রকাশ করেন।
তাঁদের তথ্য ভাণ্ডারে অনেক তথ্য পাবেন যা দিয়ে ব্লগে লেখার উপকরণ পাবেন, যদি আপনি ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ধন্যবাদ পরামর্শের জন্য। তবে আপনি যদি সিপিডি বা অন্য কোনো সূত্র থেকে এমন কোনো তথ্য দিতে পারেন যা আমার বিশ্লেষণকে ভুল প্রমাণ করে, সেটা সত্যিকারের আলোচনা হবে। শুধু আরও পড়ার পরামর্শ দিলে লেখার কোন অংশটা ভুল সেটা কিন্তু বোঝা যায় না।
৬|
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫৩
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
ধন্যবাদ।
আপনার পোস্টে কিছু ভুল তথ্য বা আইডিয়া আছে, হয়তো অনিচ্ছাকৃত।
=================
যেমন, আপনি লিখেছেন -
এই চরম গ্যাস সংকটের মাঝেই সরকার কৃষক কার্ড এবং সরাসরি সার পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু সার তৈরির কারখানা তো বন্ধ!
================
আপনি হয়তো জানেন না যে, সরকার বিনিয়োগ বোর্ডকে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো আবারও খুলার নির্দেশ দিয়েছেন।
এরকম, কিছু কিছু লেখা আপনার পোস্টে চোখে পড়লো।
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: গার্মেন্টসের কথা যদি বলেন : কারখানা খুললেই ডলার আসে না। বায়ার খুঁজতে হবে, অর্ডার আনতে হবে, উৎপাদন করতে হবে, তারপর শিপমেন্ট। এটা কমপক্ষে ৬ থেকে ১২ মাসের প্রক্রিয়া। সবচেয়ে বড় কথা হলো সার কারখানা বন্ধ থাকলে শুধু উৎপাদন কমে না, একই সাথে বিদেশ থেকে আমদানি বাড়ে। তখন দুই দিক থেকেই ডলার যাবে ।
আমি ভাতার বিরুদ্ধে বলছি না। বলছি সময়টা ঠিক নেই। জুন জুলাইয়ের পর যদি অর্থনীতি একটু স্থিতিশীল হয়, গ্যাস সমস্যা কিছুটা সামলানো যায়, তখন এই উদ্যোগগুলো নিলে সত্যিকারের ফল আসত। এখন নিলে ভালো উদ্দেশ্যও উল্টো ফল দিতে পারে।
৭|
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ২:১২
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
সৈয়দ কুতুব,
আপনাকে মনে রাখতে হবে, সরকার যখন নির্বাচনী 'ওয়াদা' করেছিলেন, তখন যুদ্ধ আরম্ভ হয় নাই।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে, সরকারকে হয় 'ব্যয় সংকোচন' অথবা 'ব্যয় সম্প্রসারণ' অথবা সব কিছু সেটেরিস পেরিবাস ধরে আগের মতো চালিয়ে যেতে হবে।
আমি সরকারের বিরোধী দল হিসেবে মনে করি, তাঁরা নির্বাচনী ওয়াদা রক্ষা করে চলেছেন।
আপনার কি মনে হয়? সরকার কি তাঁদের নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করতে একটু তড়িঘড়ি করে ফেলছেন?
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ২:২০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনি বলেছেন : আপনার কি মনে হয়? সরকার কি তাঁদের নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করতে একটু তড়িঘড়ি করে ফেলছেন ?
একজন ভালো নেতার কাজ কি শুধু ওয়াদা রক্ষা করা, নাকি পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া? ওয়াদা রক্ষা করা সৎ নিয়ত, সন্দেহ নেই। কিন্তু ভুল সময়ে ওয়াদা রক্ষা করতে গিয়ে যদি পুরো অর্থনীতি চাপে পড়ে, তাহলে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবে সেই মানুষগুলোই যাদের কাছে ওয়াদা করা হয়েছিল।
মনে হয় একটু তড়িঘড়ি হয়ে যাচ্ছে। ভালো উদ্দেশ্য আর ভালো সময় - দুটো একসাথে না হলে ফলাফল ভালো হয় না।
৮|
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ২:৫৩
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
৫-নং কমেন্টের প্রতিউত্তরে আপনি লিখেছেন - "আপনি যদি সিপিডি বা অন্য কোনো সূত্র থেকে এমন কোনো তথ্য দিতে পারেন যা আমার বিশ্লেষণকে ভুল প্রমাণ করে।"
=========================
আপনি আপনার বিশ্লেষণটা একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে লিখেছেন, নাকি অর্থনীতির একজন ছাত্র হিসেবে? আপনার স্নাতক/স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি কি অর্থনীতি বা ব্যবসা বিষয়ে?
এটা জানলে, আমি সেই লেভেল থেকে আরও ভালো ভাবে আলোচনা করতে বা আপনার কথা বুঝতে সাহায্য হতো।
ভালো থাকুন।
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই লিখেছি।
অর্থনীতিতে আমার কোনো ডিগ্রি নেই। সংখ্যা আর বাজারের বাস্তবতা নিয়ে কাজ করি প্রতিদিন।
বাজারে গেলে জিনিসের দাম বাড়তি দেখা যায়, সিএনজি স্টেশনে লাইন দেখা যায়, কারখানা বন্ধ দেখা যায়। এগুলো বুঝতে পিএইচডি লাগে না।
৯|
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:২২
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
৮ নং কমেন্টের প্রতিউত্তরে আপনি লিখেছেন- "এগুলো বুঝতে পিএইচডি লাগে না।"
-----------------------
আসলে, 'বুঝা-বিশ্লেষণ করা'- বনাম 'জানা-প্রতিক্রিয়া দেখানো'-এর মাঝে পার্থক্য আছে।
এগুলো ম্যান টুন ম্যান ভেরি করে, নলেজ এবং উইশডমের উপর নির্ভর করে।
আমি একজন অর্থনীতির 'ছাত্র' হিসেবে তা-ই মনে করি।
আমি এই পোস্টে আপনার কমেন্টের আর উত্তর দিচ্ছি না।
ভালো থাকুন নিরন্তর।
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: পুরো আলোচনায় নিজে না বললে বুঝতামই না আপনি অর্থনীতির ছাত্র। অর্থনীতির ছাত্ররা সাধারণত demand-pull দিয়েই শুরু করেন। ভালো থাকবেন।
১০|
১০ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:৪৯
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: লাগে টাকা দিবে গৌরি সেন।
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫২
কলাবাগান১ বলেছেন: বিদেশে দেখি সরকার প্রধান বড় বড় নাম কড়া ইকোনমিস্ট, বিজ্ঞানী, তাদের থেকে পরামর্সগ গ্রহন করেন দেশ ভালভাবে চালানোর কৌশল ঠিক করতে......কিন্তু বাংলাদেশে পরামর্শক হিসাবে নিয়োগ পেলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ!!!!!!