নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজস্ব ভাবনা চিন্তা নিয়ে আমার ভার্চুয়াল জগত!

এস.এম. আজাদ রহমান

মানুষ

এস.এম. আজাদ রহমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

নিষিদ্ধতার ভেতরেও রাজনীতির স্পন্দন।

২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:১৪



ফের রাজনীতির মঞ্চে ফিরে আসার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। আর বাংলাদেশের রাজনীতি যাদের চেনা, তারা জানেন- এখানে কোনো অধ্যায় সহজে শেষ হয় না। এখানে পতন মানেই প্রস্থান নয়, অনেক সময় সেটা হয় নতুন প্রত্যাবর্তনের মহড়া।

কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা- শব্দটা শুনতে যত কঠোর, বাস্তবে ততটা নয়। কাগজে কলমে তালা ঝুললেও মাঠের রাজনীতি নিজের রাস্তা খুঁজে নিতে জানে। গত কয়েক দিনে ঢাকার অলিগলি, আদালত পাড়া থেকে শুরু করে জেলা- উপজেলার নীরব প্রান্তর পর্যন্ত আবার শোনা যাচ্ছে পুরনো স্লোগান, দেখা যাচ্ছে ছোট ছোট মিছিল, আর মাঝে মাঝে সেই চিরচেনা নাটকীয় দৃশ্য।

কারণ নিষিদ্ধতার মাঝেও এক ধরনের রোমাঞ্চ আছে। আর রোমাঞ্চ মানেই বাঙালির কৌতূহল।
সেই কৌতূহলের সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্য দেখা গেল লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে।

রাতের অন্ধকার। যে অন্ধকারে কবিরা/সাহিত্যিকরা যেখানে প্রেম ভালবাসা খোঁজেন, সেখানে রাজনীতিকরা খুঁজে পেলেন শপথ। মোবাইলের ক্ষীণ আলোয় দাঁড়িয়ে একদল মানুষ প্রতিজ্ঞা করছেন- দেশে ফিরিয়ে আনবেন তাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীকে। সেই বহুল আলোচিত নাম- শেখ হাসিনা[/sb]।

দৃশ্যটা যেন ইতিহাস আর আধুনিকতার মিশ্রণ। আগে গোপন সভায় থাকত মশাল, এখন আছে মোবাইলের টর্চ।
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হলো বাঙালির চিরন্তন কাজ- বিশ্লেষণ।
কেউ বললেন, “এই তো শুরু!”
কেউ বললেন, “এসব দিয়ে কিছু হবে না!”
কিন্তু আসল প্রশ্নটা মাঝখানেই ঝুলে রইল-
নিষিদ্ধ রাজনীতি কি সত্যিই থেমে যায়?
নাকি শুধু পোশাক বদলায়?


তৃণমূলের সেই শপথে ছিল আবেগ, প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন, আর সংগ্রামের প্রতিশ্রুতি। “দেশের সেবায় নিয়োজিত হব”- এই বাক্যটি আমাদের রাজনীতিতে এতবার শোনা গেছে যে এখন এটি এক ধরনের পুরনো কবিতা। শুধু পার্থক্য হলো- কে বলছে, আর কে শুনছে।
শপথ শেষে উঠল স্লোগান-
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
এমন স্বাভাবিক উচ্চারণে যেন নিষেধাজ্ঞা বলে কিছুই নেই।

তার সঙ্গে যোগ হলো তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাবি। রাজনীতির পুরনো কৌশল- আবেগের সঙ্গে দৈনন্দিন কষ্টকে মিশিয়ে মানুষের হৃদয়ে ঢোকার চেষ্টা।
এদিকে প্রশাসনও নীরব নয়। কমলনগর থানার ওসি জানালেন, ভিডিও নজরে এসেছে। যাচাই-বাছাই চলছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
এই কথাটাও আমরা বহুবার শুনেছি।
শুধু পার্থক্য হলো- আইন কখন দৌড়ায়, আর কখন হাঁটে।

অন্যদিকে কক্সবাজারের একদল আইনজীবী বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্ন চোখে। তারা জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনারের কাছে চিঠি লিখেছেন। দাবি তুলেছেন- আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
তাদের যুক্তি- সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ ক্ষুণ্ণ হয়েছে, গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হয়েছে।
আইনজীবীরা শব্দ নিয়ে খেলেন না। তারা শব্দকে অস্ত্র বানান। আর সেই অস্ত্র এবার ছোড়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়-
সংবিধান আর রাজনীতির দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় কে?
ইতিহাস বলে- উত্তর সব সময় এক নয়।

২০২৪ সালের আগষ্ট মাসে অন্তর্বর্তী সরকার, যার নেতৃত্বে ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী এনে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করল। তখন অনেকে ভেবেছিলেন, এটা হয়তো সাময়িক।
কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে “সাময়িক” শব্দটা কখনও কখনও “স্থায়ী”-র চেয়েও দীর্ঘ হয়।
এরপর এলো নির্বাচন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপি জয়ী হলো। অনেকে ভেবেছিলেন- ক্ষমতার পালাবদলে হয়তো নরম হবে পরিস্থিতি।

কিন্তু বাস্তবতা হলো- নিষেধাজ্ঞা রয়ে গেল।
বরং আরও শক্ত হলো আইনি কাঠামো।
তবুও মাঠ থেমে নেই।
ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মিছিল, মানববন্ধন, পতাকা উত্তোলন- সব যেন একটাই বার্তা দিচ্ছে—
আমরা আছি।
আমরা থাকব।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত যাই হোক, কার্যক্রম চলবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ফিরে আসার চেষ্টা স্বাভাবিক। কিন্তু সফলতা নির্ভর করছে সরকারের ওপর।

আর সরকার যখন বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম- সব দিকের চাপের মাঝে থাকে, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়।
সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপুরের সেই রাতের শপথ শুধু একটি ঘটনা নয়।
এটি এক প্রতীক।
নিষিদ্ধতার ভেতরেও রাজনীতির স্পন্দন।
অন্ধকারের মাঝেও আলো খোঁজার চেষ্টা।
হারিয়ে গিয়েও ফিরে আসার জেদ।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা থেকেই যায়—

এই শপথ কি শুধু রাতের অন্ধকারেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
নাকি একদিন দিনের আলোয় দাঁড়াবে আবার?

আমরা অপেক্ষায় আছি।
আমরা দর্শকও, সমালোচকও, আবার কখনও কখনও এই নাটকেরই চরিত্র।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা- শব্দটা শুনতে যত কঠোর, বাস্তবে ততটা নয়।
...............................................................................................
বিষয়টি রাজনৈতিক,
মাঠের রাজনীতির হিসাব অনেক জটিল ।
এখনই শুরু হয়ে গেছে গুপ্ত ও সুপ্তর খেলা ।
তারপরও মনে হয়, আ,লীগের মাঠে ফেরা মসৃন রাস্তা নয়।
অপেক্ষা করতে হবে , কঠিন পরীক্ষার জন্য ।

৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৩৩

এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: একদম সহমত জানাচ্ছি।

২| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৭

রাজীব নুর বলেছেন: সময়ের প্রয়োজনে আওয়ামীলীগ ফিরে আসিবে।
যারা এখন লাফাচ্ছে, তখন তারা গর্তে লুকাবে।

৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৪৮

এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: নি:সন্দেহে আপনার কথার সত্যতা পাওয়া যাবে প্রিয় রাজীব ভাই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.