| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
২০২৩ সালের আগস্ট মাস। আওয়ামী লীগ সরকার সবে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, "আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের পকেট থেকে টাকা চুরি করার নতুন কৌশল বের করেছে। এই পেনশন স্কিম হলো মানুষের পকেট থেকে টাকা লুটের নতুন ফন্দি। এই টাকা তারা ভোটে ব্যবহার করবে।" কথাগুলো শুনে মনে হয়েছিল এই মানুষটা সত্য বলছেন। আসলে তিনি সত্যিই বলেছিলেন। কিন্তু সত্যটা ছিল অন্য কারণে, যেটা তিনি নিজেও তখন পুরোপুরি বুঝতেন না এবং এখন বুঝলেও স্বীকার করার সুযোগ নেই।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে বিশাল প্রতিশ্রুতির ডালা নিয়ে। সেই ডালায় ছিল সর্বজনীন পেনশনের স্বপ্ন। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, লেখা হয়েছিল ইশতেহারে, মানুষ শুনেছিল। তারপর কেটে গেল এক বছর, দুই বছর, পাঁচ বছর, দশ বছর। পেনশনের খবর নেই। কারণটা সহজ, তখন বিদেশ থেকে টাকা আসছিল, ঋণ পাওয়া যাচ্ছিল সহজে, জনগণের পকেটে হাত দেওয়ার দরকার ছিল না। যখন বাইরের উৎসে একটু টান পড়তে শুরু করল, যখন মেগাপ্রজেক্টের ঋণ শোধের চাপ বাড়ল, তখন হঠাৎ ২০২২ সালে স্মৃতি ফিরে এলো। ১৪ বছর পর মনে পড়ল যে জনগণের বৃদ্ধ বয়সের কথা ভাবতে হবে।
অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বললেন, "এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতির জন্য উপহার।" উপহার। জনগণের নিজের টাকা জমা রাখার স্কিম, সেটা একজন মানুষের ব্যক্তিগত উপহার। এই ভাষা ব্যবহারের মধ্যেই বোঝা যাচ্ছিল এই স্কিমটাকে কীভাবে দেখা হচ্ছে। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল মোমেন একদিন এমন একটা কথা বলে ফেললেন যেটা রাজনীতিবিদরা সাধারণত মুখ ফসকে বলেন, বললেন যে এই স্কিম সফল হলে সরকারের টাকা রাখার জায়গা থাকবে না। একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনশন স্কিম নিয়ে এই কথা কেন বলবেন? কারণ উপরের মহলে এই ফান্ডকে সরকারের নিজস্ব reserve হিসেবে ভাবা হচ্ছিল। মানুষের মুখ থেকে সত্য বের হয়ে যায় যখন মন বেসামাল থাকে।
শেখ হাসিনা স্কিম উদ্বোধনের দিন নিজেই বললেন, "আমরা ক্ষমতায় থাকতে থাকতেই করতে চেয়েছিলাম, কারণ অন্য কোনো সরকার এই কাজ করবে না।" এই একটা বাক্যে ১৪ বছরের ইতিহাস লুকিয়ে আছে। জনগণের জন্য চিন্তা থাকলে ২০০৮ সালেই করা যেত। কিন্তু করা হয়নি কারণ তখন দরকার ছিল না। ২০২৩ সালে করা হলো কারণ তখন দরকার পড়ল এবং সেইসাথে ক্ষমতা হারানোর আগে fund-এর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখার তাড়াও ছিল।
কিন্তু মানুষ বোকা না। বাংলাদেশের মানুষ ব্যাংকে টাকা রেখে দেখেছে সেই টাকা এস আলমের মতো মানুষ তুলে নিয়ে গেছে। ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা দেখেছে টাকা আটকে যেতে। সরকারি গ্যারান্টি থাকার পরেও মানুষ টাকা ফেরত পায়নি। তাহলে সরকার পরিচালিত পেনশন ফান্ডে ৩০ বছরের জন্য টাকা রাখবে কেন? এই প্রশ্নের উত্তর কেউ দেয়নি। দেওয়ার সাহস ছিল না।
এরই মধ্যে সরকার আরেকটি কাজ করল যেটা তাদের পতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াল। প্রত্যয় স্কিম নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য আলাদা পেনশন ব্যবস্থা জোর করে চাপানোর চেষ্টা হলো। শিক্ষকরা বললেন এটা বৈষম্যমূলক, তাদের পুরনো সুবিধা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ৩৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হলো। তখন মির্জা ফখরুল বললেন শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক এবং ন্যায়সংগত, তিনি সমর্থন দিলেন এবং বললেন বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই স্কিম বাতিল করে দেবে। ক্যাম্পাস উত্তাল হলো। শিক্ষকদের অসন্তোষ থেকে আগুন ছড়াল, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে মিলে সেই আগুন এমন রূপ নিল যে আগস্টের ৫ তারিখে হাসিনা সরকারের পতন ঘটল। পেনশন সংস্কার করতে গিয়ে সরকার পতন, ইতিহাসে এটা বিরল।
এরপর বিএনপি এলো ক্ষমতায়। যে ফখরুল সাহেব বলেছিলেন এই স্কিম জনগণের টাকা লুটের ফন্দি, যে ফখরুল সাহেব বলেছিলেন ক্ষমতায় এলে বাতিল করবেন, তার দলের সরকার এখন কী করছে? এডিবি থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে একই স্কিমকে আরো বড় করার পরিকল্পনা করছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারের একজন করে সদস্যকে এই স্কিমে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
এখানে একটু থামা দরকার। এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এই স্কিমে মোট নিবন্ধিত হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ। মোট জমা ২৫৫ কোটি টাকা। আর সেই ২৫৫ কোটি টাকার বিপরীতে এডিবি থেকে ঋণ নেওয়া হচ্ছে ১১০০ কোটি টাকারও বেশি, শুধু "প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে" এবং "ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নত করতে।" ফান্ডের চেয়ে চার গুণ বেশি ঋণ নিয়ে ফান্ড পরিচালনার কাঠামো বানানো হচ্ছে। এটা ব্যবসায়িক বুদ্ধি না, এটা অন্য কিছু।
আসল সমস্যা হলো বাংলাদেশ এখন একটি ঋণের ফাঁদে আছে। মোট বৈদেশিক ঋণ ৭৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। শুধু সুদ পরিশোধে বাজেটের ১৭ শতাংশ চলে যাচ্ছে। রুপপুরের কিস্তি শুরু হবে শীঘ্রই। এই পরিস্থিতিতে পেনশনের নামে এডিবির সস্তা ডলার এনে আসলে বাজেটের চাপ সামলানো হবে । জনগণের পেনশন নিরাপত্তা এই সমীকরণে গৌণ বিষয়।
এখন প্রশ্ন হলো কী করা উচিত ছিল। উত্তর জটিল না। প্রথমে ব্যাংকিং সেক্টরের ফরেনসিক অডিট করো, হোয়াইট পেপার বের করো, মানুষকে দেখাও যে আগে কী হয়েছিল এবং দোষীদের বিচার হচ্ছে। তারপর সার্বজনীন পেনশনের নাম বদলাও, কাঠামো বদলাও, সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করো। তারপর ছোট করে শুরু করো, মানুষকে দেখাও যে তোমার হাতে যে টাকা দেবে সেটা নিরাপদ, আগামী ৩০ বছর পরেও পাবে। তারপর বড় করো। "চার কোটি পরিবার ২০৩০-এর মধ্যে"-এই ধরনের কথা মানুষ বিশ্বাস করে না।
কিন্তু এটা করলে স্বীকার করতে হতো আগে কী ভুল হয়েছে। স্বীকার করলে প্রশ্ন উঠত যে তখন কেন চুপ ছিলে। সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সাহস বা সদিচ্ছা কারো নেই। তাই যা হওয়ার তাই হচ্ছে। আওয়ামী লীগ বলেছিল এটা লুটের প্রকল্প নয়, জনগণ বিশ্বাস করেনি। বিএনপি বলেছিল এটা লুটের প্রকল্প, জনগণ বিশ্বাস করেছিল। এখন বিএনপি বলছে এটা লুটের প্রকল্প নয়, জনগণ বিশ্বাস করবে না। চক্রটা সম্পূর্ণ হলো ।
****বিএনপির উচিত আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ জানানো।এডিবি থেকে লোন এর প্রক্রিয়া আওয়ামী লীগ আমলেই শুরু হয়েছিল। আর পেনশন স্কিম থেকে লোন নেয়ার যে মাস্টার প্ল্যান তারও মাস্টার মাইন্ড আওয়ামী লীগ ছিল। ****
সর্বজনীন পেনশন চাঙ্গা করতে নেওয়া হচ্ছে এডিবির ঋণ -সমকাল ।
‘পেনশন স্কিমের নামে টাকা চুরির নতুন ফন্দি করেছে সরকার-সোনালি নিউজ
photo credit: fintech ibrahim
১৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: কোনো আলোচনা আর হবে না । এটার পরিণতি কি হবে সেটা আপনিও ভালো করে জানেন ।
২|
১৫ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০
রাজীব নুর বলেছেন: সব বুঝলাম। এখন কি করতে হবে?
১৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সরকারকে সহযোগিতা করুন ; একটা স্কিমে টাকা রাখা শুরু করেন ।
৩|
১৫ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৪
নাহল তরকারি বলেছেন: সব বুঝলাম। এখন কি করতে হবে?[/sb
বুদ্ধি দেবার জন্য বিসিএস ক্যাডার ওয়ালা মেধাবীরা আছে।
১৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ঠিক বলেছেন ।
৪|
১৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১১
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
পড়লাম।
শ্যামলী শিশুমেলা হয়ে আগারগাঁও যাওয়ার ডান পাশে এডিবি আর ওয়াল্ড ব্যাংকের কার্যালয়।
১৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: একটা পেনশন স্কিম গ্রহণ করে ফেলুন।
৫|
১৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৫০
ঢাকার লোক বলেছেন: আমাদের দেশে মধ্যপ্রাচ্যে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে কামাই করা টাকা ছেলে দেশে নিজ বাপ্ বা ভাইয়ের কাছে জমা রেখে ফেরত পাবে ভরসা পায় না !
মানুষ এতদিন তাও টাকা ব্যাংকে রেখে বিশ্বাস করতে পারতো ফেরত পাবে , আজকাল সে বিশ্বাসও লুপ্ত প্রায়। সরকার এবং ব্যাঙ্কিং খাতে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে না পারলে এ স্কীমে অংশগ্রহন করতে সবাই ভয় পাবে।
১৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৫২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনি আসল ঘটনা ধরতে পেরেছেন । মরা গাছে মালি বদলালে ফুল ফোটে না ।
৬|
১৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:৩২
ঢাকার লোক বলেছেন: আমেরিকায় সোশ্যাল সিকিউরিটি বলে একটা সরকারি স্কীম আছে যাতে বেতন থেকে একটা এমাউন্ট কেটে জমা করা হয়, আপনি সরকারি বা প্রাইভেট যে চাকরিই করেন না কেন। ৬২ বা তার চেয়ে বেশি বয়স হলে অবসর নিলে সরকার তখন একটা এমাউন্ট মাসে মাসে দেয়। সে এমাউন্ট সাধারণত আপনি কাজ করে মোট কত টাকা কামাই করেছেন তার উপর নির্ভর করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রী দুইজনে কাজ করলে দুই জনে যে টাকা পাওয়া যায় তাতে একজনের সংসার চলে যায়। এখানে সবাই জানে অবসর জীবনে এ টাকা পাওয়া যাবে, তাই এ নিয়ে কোনো সংশয় বা দুশ্চিন্তা করে না। সরকার পরিবর্তন হবে, নতুন সরকার আসবে, কিন্তু এ টাকা মার্ যাবে না। আমাদের দেশে এ ভরসা কোথায় ?
১৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:৩৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: যে বিষয়ের ভাবমূর্তি আগে থেকেই ক্ষুণ্ণ, তার প্রতি রাতারাতি জনমানুষের বিশ্বাস জন্মানো প্রায় অসম্ভব।
৭|
১৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:০৭
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বাংলাদেশ এখন একটি ঋণের ফাঁদে আছে
...........................................................................
এ বিষয়ে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রশংসা করলেন ?
১৬ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: প্রশংসা মনে করলে প্রশংসা , সমালোচনা মনে করলে সমালোচনা ।
৮|
১৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:০১
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
এই ধরনের পেনশন সারা পৃথিবীতেই আছে।
আমি যে দেশে আছি সেখানেও আছে।
আপনি আপনার আয়ের একটা অংশ সরকারের কাছে জমা দিবেন।
সরকার ও কিছু দিবে।
একটি নির্দিষ্ট বয়স থেকে আপনি পেনশন পাবেন। সেটা আপনি যে কাজই করুন।
বাংলাদেশে মনে হয় সরকারী/বেসরকারী চাকরি না করলে অন্য কোন কাজ করলে কোন পেনশন নেই।
পেনশন দরকার আছে।
১৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সারা বিশ্বের সাথে বাংলাদেশকে মেলালে চলবে না। এখানে সরকারের ওপর জনগণের সেইভাবে আস্থা বা বিশ্বাস নেই। পেনশন নিয়ে প্রকল্প করে সেই টাকা লুটপাট হওয়ার সুযোগই বেশি। মির্জা ফখরুল শুরুতেই বলেছিলেন যে, এই পেনশন ফান্ড আওয়ামী লীগের নির্বাচনী তহবিল হবে। তিনি পেনশন ফান্ড বন্ধ করে দেবেন , এমন কথাও বলেছেন। এতে সমাজে কী বার্তা গেল? বার্তা গেল যে সরকারের এই উদ্যোগটি ভালো না। মির্জা ফখরুল বলতে পারতেন যে পেনশন ফান্ড ঠিক আছে এবং বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই ফান্ডকে আরও স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করবে। আবার আওয়ামী লীগ আমলে সরকারের ওপর টাকা লুটপাটের অভিযোগ আছে, তাই একই সরকার নতুন তহবিল গঠন করতে চাইলে মানুষ তো সন্দেহ করবেই।
৯|
১৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:০৪
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
বাংলাদেশের সমস্যা হচ্ছে একটি মানুষও নেই যাকে সততার ধারক বলা যাবে।
এটুজেড সবাই অসত। ঠক বাছতে গাঁ উজার।
এখানে আপনি কিছু আশা করতে পারেন না। আগে প্রতিটি নাগরিককে সত হতে হবে।
১৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:১১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সততার পাশাপাশি সঠিক শিক্ষা জরুরি । রাজনৈতিক দলগুলোকে সবার আগে সত হতে হবে ।
১০|
১৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২৫
শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার এই লেখাটার মানে আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না।
পৃথিবীর সব উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশে এইরকম পেনশন ফান্ড আছে। যেমন ধরেন কানাডায় এরকম একটা ফান্ড আছে যেটার নাম কানাডিয়ান পেনশন প্লান, যেটা ৫৮০ বিলিয়ন ইউএস ডলারের একটা ফান্ড। ভারতেও এরকম একটা আছে ন্যাশনাল পেনশন নাম বোধহয়।
মীর্জা ফখরুলের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল, এবং মাঝে মাঝে তার কবিতা আবৃত্তি শুনতে পছন্দ করি!
যতদূর জানি তিনি অর্থনীতিতে পাশ দেওয়া লোক, কিন্তু তার কথা শুনলে মনে হয়, তিনি যে জিনিসটা সবচেয়ে কম বোঝেন সেটা অর্থনীতি।
১৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বিএনপি সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। তবে এখানে একটি বড় প্রশ্ন থেকে যায়। এই সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে একসময় বিএনপি তীব্র সমালোচনা করেছিল; তারা বলেছিল এটি আওয়ামী সরকারের একটি 'লুটপাটের প্রকল্প' এবং জনগণকে এতে অ্যাকাউন্ট না খোলার আহ্বান জানিয়েছিল। এমনকি তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় গেলে এই প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হবে। এখন সেই একই প্রকল্প যখন বিএনপি নিজেই চালু রাখার কথা বলছে, তখন সাধারণ মানুষ তাদের ওপর কীভাবে আস্থা রাখবে?
পাশাপাশি, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে আইসিইউতে রয়েছে। সরকারের ওপর মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই চরম সংকটময় মুহূর্তে এ ধরনের একটি ফান্ড বা তহবিল নিয়ে তাড়াহুড়ো করলে কোনো ভালো ফলাফল আসবে না।
বরং এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত -জনগণের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনা। পুরো প্রকল্পটিকে নতুনভাবে 'রিব্র্যান্ডিং' করা দরকার, তারপর এটি নতুন করে শুরু করা উচিত। তা না হলে, মানুষ এই স্কিমে অংশ নিতে মোটেও আগ্রহী হবে না এবং দিনশেষে এটি আরেকটি ব্যর্থ প্রকল্পে পরিণত হবে।
১১|
১৬ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৯
রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।
১৬ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার অশেষ দয়া ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬
নাহল তরকারি বলেছেন: বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার জন্য ধন্যবাদ। ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকতেই পারে, তবে জনগণের আস্থা, সুশাসন ও কার্যকর বাস্তবায়ন যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আরও গঠনমূলক আলোচনা হবে।