| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে যে বড় ধরনের সংস্কারের হাওয়া দেখা যাচ্ছে, তাকে অনেকেই এখন বলছেন 'তারেক রহমান ম্যাজিক'। বর্তমান সরকারের ১০০ দিন ও ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রনালয় যেভাবে একের পর এক সাহসী পদক্ষেপের ঘোষণা দিচ্ছে, তা দেশের ঝিমিয়ে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন এক প্রাণের সঞ্চার করেছে। শুধু গালভরা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং মাঠপর্যায়ে এর বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য একটি বড় ধরনের মহাপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।
সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা শুরু হয়েছে একদম গোড়া থেকে-প্রাথমিক শিক্ষা খাত দিয়ে। বর্তমান সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য এবার শুরু হচ্ছে এক অভিনব উদ্যোগ। প্রথম পর্যায়ে দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও জুতা (কেডস) বিতরণ করা হয়েছে, যা ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি উপজেলার সব প্রাথমিক শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শুধু পোশাকেই শেষ নয়, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এবং স্কুল থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে প্রতিটি উপজেলায় চালু হচ্ছে মিড-ডে মিল বা স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম। ১৯৯৩ সালের ঐতিহাসিক 'ফুড ফর এডুকেশন' (FFE) বা শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির কথা যাদের মনে আছে, তারা মিল খুঁজে পাবেন বর্তমানের এই বর্ধিত পরিকল্পনায়। সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশের কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় যেন এই পোশাক আর দুপুরের খাবারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।
তবে এই ম্যাজিকের আসল চমক লুকিয়ে আছে খোদ শিক্ষাপদ্ধতি বা কারিকুলামের আমূল পরিবর্তনে। মুখস্থ বিদ্যার পুরোনো ও জরাজীর্ণ খোলস ভেঙে এবার শিক্ষা ব্যবস্থাকে করা হচ্ছে সম্পূর্ণ প্র্যাকটিক্যাল ও স্কিল-ভিত্তিক। প্রস্তাবিত নতুন শিক্ষা কাঠামোয় তাত্ত্বিক পড়াশোনা কমিয়ে আনা হচ্ছে মাত্র ৪০ শতাংশে। বাকি ৬০ শতাংশের মধ্যে ৩০% থাকবে হাতে-কলমে প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা, ২০% ইন্টার্নশিপ ও প্রজেক্ট-ভিত্তিক লার্নিং এবং ১০% বরাদ্দ থাকবে এন্ট্রেপ্রেনিউরশিপ ও সফট স্কিলসের জন্য। অর্থাৎ, স্কুল-কলেজ থেকে পাস করে একজন শিক্ষার্থী যেন শুধু সার্টিফিকেটের বোঝা না বয়ে, সরাসরি কর্মক্ষেত্রের উপযোগী হয়ে বের হতে পারে—সেই ব্যবস্থাই করা হচ্ছে।
এই নতুন রূপান্তরের অংশ হিসেবেই আসছে বড় ধরনের বইয়ের পরিবর্তন ও নতুন নতুন বিষয়। চতুর্থ শ্রেণি থেকেই যুক্ত হচ্ছে 'স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার' এবং 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' বা আনন্দময় শিক্ষার মতো দারুণ সব বিষয়। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে অত্যন্ত যুগোপযোগী দুটি বিষয় -'টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন' এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও মূল্যবোধ বিকাশের জন্য 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস'।
গ্লোবাল মার্কেট ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের কথা মাথায় রেখে মাধ্যমিক স্তর থেকে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ফ্রেঞ্চ, জাপানি কিংবা চাইনিজের মতো একটি 'তৃতীয় ভাষা' শেখার সুযোগ বাধ্যতামূলক করার কাজ চলছে। এই বিপুল কর্মযজ্ঞকে সফল করতে 'ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব' ও ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের মতো ডিজিটাল সাপোর্ট নিয়ে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫% বরাদ্দের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘোষণা ও পরিকল্পনা কতটা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেটাই দেখার বিষয়; তবে শিক্ষা খাত নিয়ে সরকারের এই আধুনিক চিন্তাভাবনা যে দেশের কোটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে নতুন এক আশার আলো জ্বেলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
কালেকটেড
০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আগের হাল যেভাবে গিয়েছে এখনের টাও যাবে । আমলারা আগের সরকারের ডিসিশন নেয়া ফাইল কাগজ নতুন সরকারের হাতে তুলে দিতেসে । সেটাই রংচং মেখে সরকার জনগণকে বলছে ।
২|
০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:২৯
রাজীব নুর বলেছেন: দেশের ভালো যে করবে, আমি তার পক্ষে থাকবো।
০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: তারেক রহমান এবং বিএনপিকে নিয়ে পজেটিভ ভাবুন।
৩|
১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৪
আলামিন১০৪ বলেছেন: শিক্ষাখাতের অন্যতম চালিকা শক্তি- শিক্ষক।
বাংলাদেশে এত এত মানুষ কিন্তু উদ্ভাবন নেই বললেই চলে। শিক্ষকরা ভুল-ভাল পড়ায়। বেতন-যৎ সামান্য, ছেলে-পেলেদের সত্যিকার অর্থে শিখানোতে আগ্রহ পান না। শুনতেছি সিলেবাস পরির্তিত হবে, কিন্তু আমার মনে হয় এতে লাভ হবে সামান্যই। অভিভাবক-শিক্ষার্থীরা হবে গিনিপিগ। আমার মনে আছে, নৈর্ব্যক্তিক পরিক্ষা-পদ্ধতি চালু করার আগে অনেক পরিক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছিল। নতুন কিছু আমদানীর আগে পর্যাপ্ত সময় নি্য়ে তার অনুকুল-প্রতিকুল প্রভাব নিয়ে বিস্তর গবেষণা ও পরিক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তার আগে কিছু করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। মনে রাখবেন নতুন ওষুধ মানুষের উপর প্রয়োগের আগে পশুদের উপর প্রয়োগ করে ভালো মন্দ দেখা হয়। আমাদের শিশু-কোমলমতি শিক্ষার্থীদের গিনিপিগ বানাবেন না।
কিছু কাল আগে অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভালো শিক্ষকদের পাঠদান শিক্ষক-বাতায়ন বা এ জাতীয় কিছু সরকারী ওয়েবে পাওয়ো যেত। আামি মনে করি এটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বাংলাদেশে বেতনভুক্ত শিক্ষক ছাড়াও উম্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণীর বিষয়ভিত্তিক পাঠদানের ভিডিও থেকে সহজবোধ্যগুলো নির্বাচন করে সেগুলো আপলোডের ব্যবস্থাসহ আকর্ষণীয় সম্মানীর ব্যবস্থা করতে হবে। এতে করে এদেশের বিভিন্ন বিষয়ের সত্যিকারের শিক্ষিতদের সাথে আমাদের ছাত্রদের সয়যোগ স্থাপিত হবে। মুখস্ত নির্ভর শিক্ষা তারা বের হতে পারবে আর আনন্দ নিয়ে পড়তে পারবে। আমাদের শিক্ষকদেরও অনলাইনে নাম পরিচয় গোপন রেখে পাঠদানের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে, যার উত্তরগুলো বোর্ডের এনলিস্টেড বিশেষজ্ঞরা এড্রেস করবেন।
১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার সাথে সহমত ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:১৬
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: খুব ভালো উদ্দোগ। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেনো আওয়ামীলীগ আমলের মতো ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে ভাত, ডিম ভাজি, ডাল রান্না করা এবং কিভাবে বিছানা গুছাতে হয় তা শিখানো হয়েছে সেগুলোর পুনরাবৃত্তি যেনো না হয়। কারন সৃজনশীলতার নামে তখন জাতীকে মেধাহীনভাবে গড়ে তোলার প্রোজেক্ট নেয়া হয়েছিলো। কভিডের পর থেকে যে ব্যাচগুলো বের হয়েছে তাদের প্রত্যেকের লেখাপড়ার মান অত্যন্ত নীচুমানের। এটা স্টুডেন্টদের দোষ নয় শিক্ষাব্যবস্থার গলদ।