| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের গুরুত্ব এখনও আকাশের মতো বিশাল । কিন্তু একটা অদ্ভুত বিষয় খেয়াল করেছেন? যারা প্রকৃত অর্থে কোটা সংস্কারের দাবিতে বা একটা একটা ন্যায্য অধিকারের জন্য বুক চিতিয়ে মাঠে নেমেছিল, যাদের আসলেই একটা চাকরি বা ক্যারিয়ারের বড্ড দরকার ছিল, সেই সাধারণ ছাত্র বা চাকরিপ্রার্থীরা কিন্তু এখন একদম চুপচাপ। তারা হয় চাকরির পড়ার টেবিলে মুখ গুঁজে দিনরাত পার করছে, নয়তো কোনো রকমে একটা গতি করে সংসার চালাতে ব্যস্ত।
প্রতি শুক্রবার সকাল হলেই যে হাজার হাজার বেকার মানুষ চাতক পাখির মতো পরীক্ষার হলের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়, তাদের কাছে আসলে কোনো নির্দিষ্ট মাসের আলাদা কোনো মাহাত্ম্য বা চেতনার সময় নেই, চাকরিটা পাওয়াই তাদের একমাত্র চেতনা। আর যারা অলরেডি চাকরি করছেন, তারা অফিস আর ফ্যামিলির টানাপোড়েনে এতই বুঁদ হয়ে আছেন যে, তাদের রাজপথের এই গরম হাওয়া নিয়ে ভাবার সময় কোথায়?
তাহলে এখন জুলাই মাস নিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম করছে কারা? খুব সহজ সমীকরণ, মাঠে এখন মূলত দুই পক্ষ। একদল ক্ষমতা হারানো সাবেক সরকারি দল, আর অন্যদল তাদের অ্যান্টি-প্ল্যাটফর্ম বা বর্তমান ক্ষমতার অংশীদারদের জোট। একদল আপ্রাণ চেষ্টা করছে জুলাইয়ের স্মৃতিকে নিজেদের মতো করে ব্র্যান্ডিং করতে, আরেকদল চেষ্টা করছে এটাকে যেকোনো মূল্যে ডিফেম বা বিতর্কিত করতে। এই দুই পক্ষের কাউয়া ক্যাচালে আখেরে কার লাভ হচ্ছে জানি না, তবে সাধারণ মানুষের মনোযোগ যে নিত্যদিনের মূল সমস্যাগুলো থেকে একদম সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা নিশ্চিত।
পুরোনো বিষয় নিয়ে বারবার কুতর্ক করে এরা নিজেদের ঘরে কতটুকু রাজনৈতিক ফসল ঘরে তুলতে পারবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, ভবিষ্যতের বড় বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে মোকাবেলা করতে হবে, তা নিয়ে এদের কোনো মাথাব্যথা নেই। এদের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো যেভাবে হোক ক্ষমতায় যাওয়া, আর ক্ষমতা পেলে নখ-দন্ত দিয়ে সেটাকে আঁকড়ে ধরা।
বর্তমান ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা জোটটি এখন সাবেক সরকারের সমালোচনা করছে। তারা জনগণকে বোঝাতে চাইছে, ওই দলটা গণহত্যাকারী, তাই তাদের আর কোনো দিন ফিরে আসার অধিকার নেই। ঠিক আছে, ক্ষমতার লোভে যখন চৌদ্দশ মানুষের প্রাণ যায়, তখন সেই অধ্যায় ক্লোজ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একটা চেনা প্রবাদ আছে না, এই দিন দিন দিন না, আরও দিন আছে। আজ সাবেক সরকারের গায়ে ফ্যাসিবাদের যে তকমা এরা লাগাচ্ছে, কাল নিজেরাও যে ক্ষমতার লোভে একই পথের পথিক হবে না, তার গ্যারান্টি কে দেবে? নিজেদের ক্ষমতা ছাড়ার অতীত ইতিহাসও তো খুব একটা পজিটিভ ছিল না।
সতেরো বছর একনাগাড়ে একটা দল শাসন করায় মানুষ আপাতত এসব পুরোনো কাসুন্দি নিয়ে আর ঘাটতে চাইছে না। আমার কেবল টেনশন হয়, সাবেক দলকে যা যা গালি দেওয়ার এরা তো এখনই সব দিয়ে ফেলছে, পরে নিজেদের বেলায় বাকি থাকবে তো কিছু? যে যুক্তিতে একটা দলকে ফ্যাসিস্ট বলা হলো, সেই একই ফাঁদে বর্তমানের এই বিরোধী পক্ষ যে পা দেবে না, তা আমরা কেউ জানি না।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ক্ষমতার এই খেলায় কে আসল বিরোধী দল, তা নিয়ে জনগণের মনে বড় খটকা তৈরি হচ্ছে। একটা দল যতই নিজেদের আলাদা বা স্বতন্ত্র দাবি করুক না কেন, মানুষ কিন্তু তাদের একসাথেই জোটের অংশ হিসেবে দেখে। এই তো সেদিন যখন বাজেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পাস হলো, তখন কিন্তু এদের পক্ষ থেকে কোনো জোরালো সংশোধনী বা প্রতিরোধ দেখা গেল না। এই কুসুম কুসুম বিরোধিতা আর হাত ধরাধরি করে চলা দেখে মনে হচ্ছে, পাঁচ বছর পার হওয়ার আগেই মানুষ এদের দুই দলকে আসলে এক দল হিসেবেই মনে করবে। আর তখন প্রকৃতির অদ্ভুত নিয়তিতেই মানুষ আবার সাবেক দলটাকেই প্রকৃত বিরোধী দল হিসেবে কল্পনা করতে শুরু করবে।
আমাদের দেশের শাসক দলগুলোর একটা চিরন্তন রোগ আছে। তারা মনে করে, মিডিয়া আর প্রোপাগান্ডা দিয়ে জনগণকে যা গিলানো হবে, জনগণ সেটাই গিলবে। সরকারের শত্রু মানেই দেশের শত্রু, সরকারের শত্রু মানেই আম-জনতার শত্রু: এই সস্তা থিওরি অন্তত এখন আর খাটে না। সাধারণ মানুষের নিজস্ব চোখ আছে, কান আছে, আর সবচেয়ে বড় কথা হলো তুলনা করার ক্ষমতা আছে। সরকার মিডিয়া আর ক্ষমতা দেখিয়ে কাউকে যতই জাতীয় ভিলেন বানাক না কেন, সাধারণ মানুষ দিনশেষে নিজের পকেটের অবস্থা দিয়ে তুলনা করবে যে অমুক সরকারের আমলে আমি ভালো ছিলাম, নাকি এখন ভালো আছি। কিন্তু এই মনস্তত্ত্ব বোঝার মতো গভীরতা আমাদের রাজনীতিবিদদের নেই।
তাই নির্দিষ্ট কিছু মাস আসলেই টকশো আর মিডিয়াতে সার্কাস শুরু হয়ে যায়। কিছু বুদ্ধিজীবী নামক ভাড়াটে অভিনেতা টকশোতে এসে টেবিল গরম করেন। সাধারণ মানুষ এই নাটক দেখে বিভ্রান্ত হয় এবং দিনশেষে নিজের বুদ্ধি আরও কিছুটা হারিয়ে ফেলে। ওদিকে যারা অতিথি হয়ে যান তাদের পকেট ভারী হয়, টিভির টিআরপি বাড়ে, আরও নতুন নতুন মিডিয়া হাউজের জন্ম হয় , আরও নব্য বুদ্ধিজীবী তৈরি হয়। জনগণকে বোকা বানানোর এই চমৎকার চক্র চলতেই থাকে।
অথচ বাংলাদেশের মানুষের বাস্তব সমস্যার কি কোনো শেষ আছে? কোথাও কারেন্ট নেই, গরমে মানুষ সেদ্ধ হচ্ছে, কোথাও পানির হাহাকার। গ্যাসের সিলিন্ডার যেন সোনার হরিণ, রাত বারোটায় লাইনে গ্যাস আসলে গৃহিণীরা রান্না চড়ান। কয়দিন পর পর গার্মেন্টসের শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হচ্ছে, তারা বেতনের জন্য রাস্তায় নামছে। শিক্ষিত যুবকদের চাকরির অভাব, খাদ্যে ও ওষুধে ভেজাল, আর সড়কে প্রতিদিন লাশের মিছিল। এসব মৌলিক ক্রাইসিস নিয়ে টকশোর টেবিল কিন্তু কোনো দিন গরম হয় না। সেখানে যারা যান, তাদের সবার একটাই প্রেসক্রিপশন: সব রোগের মেডিসিন , প্যারাসিটামল তিন বেলা। অর্থাৎ, তাদের পছন্দের দল ক্ষমতায় গেলেই নাকি দেশের সব সমস্যা জাদুর মতো ঠিক হয়ে যাবে। আসলে কিছুই ঠিক হয় না। কীভাবে ঠিক করতে হবে, সেই রোডম্যাপও এদের জানা নেই।
আজ দেশের শাসনব্যবস্থার যে অবস্থা, তাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যদি মন্ত্রীর বদলে স্রেফ আমলাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলেও দেশ এখন যেভাবে চলছে তার চেয়ে খারাপ চলবে না। অথচ কথা ছিল উল্টো। রাজনীতিকরা দেশ চালাবেন, আমলারা অর্ডার ফলো করবেন, রাজনীতিবিদরা বিদেশ থেকে বড় বড় ডিল আনবেন, চুক্তি করবেন, অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এসব কি আমরা আদৌ বাস্তবে দেখতে পাচ্ছি? না, পাচ্ছি না। তাহলে প্রশ্ন থাকে, কী নিয়ে এত হাউকাউ করে নিজেদের পাশাপাশি দেশের মানুষের মাথা খাওয়ার চেষ্টা চলছে? এই তথাকথিত কাউয়া ক্যাচাল আর ক্ষমতার মিউজিক্যাল চেয়ার খেলা দিয়ে আমাদের গন্তব্য আসলে কোথায়? আমরা যাচ্ছিটা কোথায়?
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৫২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: যখন বিএনপি সরকার ভাতা কার্ড দেয়া শুরু করে আমি বলেছিলাম যে এগুলো পরে করলেও চলবে । ইরান যুদ্ধের সময় এমন জনসেবা না করলেও চলতো । কমপক্ষে ১ বিলিয়ন ডলার শুধু বাড়তি গেছে এলএনজি কিনতে । লোডশেডিং শুধু ঢাকায় নাকি টের পাওয়া যায় বাকি সব জায়গায় অবস্হা বেশি সুবিধার না । নিজেরও কিছু পারসোনাল এক্সপেরিয়েনস হয়েছে । সামনে কঠিন সময় আসছে সুদ পরিশোধের পরিমাণ বাড়ছে । সরকার বিদেশি বিনিয়োগ টানতে কি করছে সেটা পরিস্কার নয় । এদিকে জুলাই মাস আসলেই নাগরিক সব অসুবিধা নিয়ে আলোচনা বাদ দিয়ে কেবল সারাদিন একে তাকে সমালোচনা ,গালাগালি এসব শুরু হয় । এগুলো সুস্হ ও উন্নত সমাজের লক্ষণ নয় ।
২|
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:০৬
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
Zoo Lie CDI
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:১১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: দেখেন এভাবে যদি ফিরে আসতে পারেন । ![]()
৩|
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৫১
শ্রাবণধারা বলেছেন: উপরে যে আলোচনাটার ছবি দিয়েছেন, সেটা আমি দেখিনি। তবে দেখলাম, বোধহয় নিলোফার চৌধুরী মনিকে তার দল সাবধান করেছে, অথবা তিনি ক্ষমা চেয়েছেন - এ ধরনের কিছু হয়েছে।
আমার মতে, এই আলোচনাটি আরও বেশি হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। পাশাপাশি, আপনার কোটা-সংক্রান্ত প্রশ্নটিও যুক্তিযুক্ত। যে আন্দোলন কোটা-বিরোধী দাবি থেকে শুরু হয়ে হেলমেট-হাতুড়ি-লুটেরাদের উদ্ধত শিরোমণি হাসিনার পতনে গিয়ে শেষ হলো, সেখানে কীভাবে জামাতের মতো একটি জঙ্গি রাজনৈতিক দল পরে পুরো মাঠ দখল করল, এটি এই ধরনের আলোচনার মাধ্যমেই আমাদের জানা ও বোঝা সম্ভব হবে।
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: দেখেন চিরকাল কোনো একটি একক দল ক্ষমতায় থাকতে পারবে না ; তাই এমন কোনো কথা বলা উচিত নয় যেটা শেষে নিজেদের উপর বুমেরাং হয় ।
৪|
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪
নতুন বলেছেন: জাসি খারাপ কোন সন্দেহ নাই. তাদের বাবা দাদারা রাজাকার কোন সন্দেহ নাই। তারা বাংলাদেশ চায়ইনাই্ এখনো পাকিপ্রেমে তারা মশগুল সেটাও সত্য।
সেই কারনেই জামাত ক্ষমতায় আসতে পারেনাই।
এইসব জাসির জুজু দেখাইয়া আমলীগের হত্যা, গুম, দূনিতি ঢাকার চেস্টা করা ঠিক না।
১৭ বছরে আমলীগ যেই দানবে পরিনত হয়েছিলো তার পতন অনিবার্য ছিলো। জুলাই একটা বাহানা মাত্র।
তারা মানুষ হত্যা করেছে, জনগন আরো ক্ষি্প্ত হয়েছে।
যখন শেখ হাসিনার গদি নড়বড়ে তখন সবাই একসাথে টান দেবে এটাই সাভাবিক।
যদি শেখ হাসিনা ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারতেন তবে জনগনের সমর্থন পেতেন, জাসা বা অন্য কেউই সুবিধা করতে পারতো না।
বিএনপি যদি সেই একই পথে হাটে তবে পরিনতিও একই হবে।
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বিএনপির এখন একটাই কাজ ; সঠিক ভাবে দেশ পরিচালনায় মনোযোগ দেয়া ।
৫|
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৫৪
রাজীব নুর বলেছেন: দেখেন যা ভালো মনে করেন।
©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:১৮
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: দুই পক্ষের কাউয়া ক্যাচালে আখেরে কার লাভ হচ্ছে জানি না,
..........................................................................................
গাঁজা ধংশ করে দেবার পর কার লাভ হচ্ছে ?
শুনেছি সেখানে পর্যটন শহর বানানো হবে, তার বড় একজন ষ্টেক হোল্ডার
হবে ট্রাম্পের জামাতা । দেখা যাক ভবিষ্যৎ কি বলে ?
তেমনি কারও ঘর পোড়া, কারও বা আলু পোড়া উৎসব লাগতে পারে ।
ইতিহাসের চাকা ঘুরবেই, তখন দেখব অন্য চিত্র !!!
.............................................................................................
হায় সেলুকাস ! কি বিচিত্র এই বঙ্গাল দেশ !!!