| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে তাদের একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরে সেই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। ভিডিওতে হিজড়া সম্প্রদায়ের কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, যৌন কাজ করার পর অর্থ পরিশোধ না করায় তারা জুবায়েরকে আটক করে ভিডিও ধারণ করেছেন।
অন্যদিকে জুবায়ের ও তার সঙ্গীদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, পরিবাগ ওভারব্রিজ এলাকার সিন্ডিকেটের অসামাজিক কর্মকাণ্ড, মাদক ও ছিনতাই সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে তারা অনুসন্ধানী সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলতে গেলে তারা উল্টো হামলার শিকার হন এবং অসৎ উদ্দেশ্যে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তারা বিষয়টি শাহবাগ থানাকেও অবহিত করেছিলেন।
এখানেই একটি বড় প্রশ্ন তৈরি হয়। জুবায়েরের সঙ্গে থাকা সাংবাদিক সিফাতুল্লাহ তাসনিমের আগের কিছু স্ট্যাটাস থেকে মনে হয়, তারা ওই এলাকায় ট্রান্সজেন্ডারদের উচ্ছেদ বা প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। আবার কিছু সহপাঠী ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা নাকি কাউকে উদ্ধার করতে সেখানে গিয়েছিলেন। তাহলে আসল উদ্দেশ্যটা কী ছিল? উচ্ছেদ, উদ্ধার নাকি সাংবাদিকতা? উদ্দেশ্য পরিষ্কার না হলে পুরো ঘটনাটি বিচার করা কঠিন।
তবে হিজড়াদের সঙ্গে জড়িয়ে জুবায়েরের বিরুদ্ধে যে ধরনের যৌন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে, সেটাকে সত্য বলে মেনে নেওয়া কঠিন। আমাদের দেশে কোনো অভিযোগের সত্যতা বা প্রমাণের অপেক্ষা না করেই ভিডিও দেখে একজনের সামাজিক সম্মান নষ্ট করা বা ভাইরাল করা নেটিজেনদের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডাকসুর রাজনীতি ও শিবিরের মোরাল পুলিশিং নিয়ে ঢাবি এলাকার ভাসমান মানুষ, চা বিক্রেতা ও প্রান্তিক মানুষের মধ্যে আগে থেকেই ক্ষোভ থাকতে পারে। আবার জুবায়েরের নিজেরও কিছু বিতর্কিত অতীত আছে। তার বিরুদ্ধে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে, শাহবাগে ইমি নামের এক তরুণীকে ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে মারধর করে থানায় দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আছে। ফলে জুবায়েরের ওপর অনেকেরই আগে থেকে রাগ রয়েছে এবং তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মোসাদ্দেককে নিয়েও নানা কথা আছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শ্রেণীর মানুষ যেভাবে প্রমাণ ছাড়া অভিযোগকে বিনোদন বানিয়ে জুবায়েরের চরিত্র হনন করছে, তা অত্যন্ত নিম্নমানের আচরণ। একজন মানুষকে অপছন্দ করা আর তাকে মিথ্যা অভিযোগে সামাজিকভাবে ধ্বংস করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। জুবায়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তারও একটা সম্মান আছে।
একই সঙ্গে এই ঘটনার আড়ালে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চাপা পড়ে যাচ্ছে। জুলাইয়ের আন্দোলনের পর থেকে সমাজে প্রান্তিক ও ভাসমান মানুষদের ওপর এক ধরনের নতুন নৈতিক পুলিশিং ও ক্ষমতা দেখানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে। কখনও ভাসমান যৌনকর্মীদের ওপর অত্যাচার, আবার কখনও মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষদের ধরে মাথার চুল দাড়ি কেটে দেওয়ার নামে হয়রানি দেখা যাচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে সাইকো সম্রাটের কথা মনে পড়ে। পুলিশ ফাঁড়ির কাছে একটি পরিত্যক্ত ভবনে ভাসমান নারী যৌনকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের পর তাদের হত্যা করার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। মানসিকভাবে অসুস্থ বলা হলেও সে একা এটি করত নাকি পেছনে কোনো স্বার্থ কাজ করত, সেই তদন্ত না হতেই থানায় তার মৃত্যু হয়। কিছুদিন আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাজিব শাহ নামে এক মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি জায়গা দখল করে মসজিদ বানাতে চেয়েছিল। এসব ঘটনায় মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষকে কেউ ব্যবহার করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার । পরিবাগের ঘটনায় সরাসরি যোগসূত্র না থাকলেও প্রান্তিক মানুষদের ওপর বলপ্রয়োগের এই মানসিকতা দুটোতেই স্পষ্ট।
অনলাইনের মানুষজন জুবায়েরের ঘটনাটিকে সস্তা ট্রলে রূপ দিয়েছেন। জুবায়েরকে অপছন্দ করা যেতে পারে, কারণ হিজড়া জনগোষ্ঠী, বাউল বা মাজারে তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করার জায়গা আছে। কিন্তু তাই বলে প্রমাণ ছাড়াই তাকে অপরাধী বানিয়ে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। একইভাবে হিজড়া বা ভাসমান মানুষ বলেই তাদের কথা অন্ধভাবে বিশ্বাস করারও সুযোগ নেই।
৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: হিজড়াদের আমরা দূরে ঠেলে দিয়েছি তাই তাদের আচরণ খারাপ।
২|
২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০০
সাইফুলসাইফসাই বলেছেন: হিজড়া দেখলে আমিও দূরে থাকি উশৃংখল তবে ভালো আছে ওদের মধ্যে অনেকে
৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ঠিক বলেছেন ।
৩|
৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:০১
ঋণাত্মক শূণ্য বলেছেন: কেউ যদি বলে যে হিজরারা BAL এর টাকা খেয়ে নেমেছে, তা বিশ্বাস করতেও আমার কোন দ্বিধা নাই!
৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ইহা সঠিক হলেও হতে পারে ।
৪|
৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৩০
মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: জামায়াত হলো মোনাফেকের দল। সমাজে বিভক্তি, সহিংসতা, অস্থিরতা সৃষ্টি, গুপ্ত এজেন্ডা লালন, ক্ষনে ক্ষনে অবস্হান বদলানো, এসবই এই দলটির বৈশিষ্ট্য। পাকিস্তান সৃষ্টির একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ন কারন ছিলো, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার একটা স্থায়ী সমাধান। মুসলিমদেরই যখন আলাদা রাষ্ট্র হয়ে গেলো, তখন হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার তো কোন সুযোগই রইলো না। কিন্তু মউদুদী ঠিকই অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেললো। হিন্দু নেই তো কি হয়েছে, কাদিয়ানী তো আছে। ১৯৫৩ সালে লাহোরে রক্তক্ষয়ী কাদিয়ানী মুসলিম দাঙ্গা বাধিয়ে বসলো।
শিবিরের মনস্তত্ব গড়ে ওঠে জামায়াতের বৈশিষ্ট্য সমূহ লালন করেই। আমরা ছেলেবেলা থেকে এটাই শিখে বড় হয়েছি যে, what goes around comes around..কিন্তু শিবির শৈশবস্থা থেকে এটাই শেখে যে, what goes around never comes around for Jamat-Shibir........
৭১ নিয়ে বিবিধ অপবাদের পসরা সাজিয়ে বসা জামায়াত শিবিরের জনৈক ব্যাক্তি অপবাদের শিকার হলে তাকে নিয়ে কিভাবে দুঃখ প্রকাশ করা যায়?
৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৩৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জুবায়েরের এমন অবস্থা নিয়ে আমার কিছুই বলার নেই ।
৫|
৩০ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৭
কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: হিজরাদের অপবাদ বিশ্বাস না করাই ভালো। এরা যে খারাপ।
দেবরের বাচ্চা ছোট যখন। তারা তখন আমার বাসায় এসে হামলা দেয়। বাসায় পুরুষ মানুষ কেউ ছিল না। কী যে এক অবস্থা হয়েছিল । ভয়ে এখনো বুক কেঁপে উঠে। পরিস্থিতি খুব কষ্ট করে সামলাতে হয়েছে। শেষে বলে যায় হতিনের ঘরের হতিন দুই দিনের ভিতরে তোদের কারো না কারো লাশ শ্বশানে যাবে।
৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: হিজড়াদের নিয়ে এমন শত শত অভিযোগ আছে ।
৬|
৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭
নতুন বলেছেন: অনলাইনে ব্যাক্তিআক্রমনের বিরুদ্ধে আইন দরকার।
অনলাইনে মানুষ যাকে ইচ্ছা তাকে অপমান করছে গালিগালাজ করছে, এটা বন্ধে আইন দরকার।
দেশে অনলাইনে ব্যক্তিআক্রমনের জন্য ২-৩ লক্ষটাকা জরিমানার ব্যবস্থা রাখা দরকার। তাহলে ফেসবুক সহ সোসাল মিডিয়াতে এরকমের মিথ্যাচার, ব্যক্তিআক্রমন থাকবেনা।
৭|
৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৯
নতুন বলেছেন: কয়েকদিন আগে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এমন একটা অপপ্রচার থেকে সবাই মিলে গানের তালে ভিডিও প্রচার ভাইরাল হইলো।
কিন্তু এমন ব্যক্তিআক্রমন বন্ধে আইনের জন্য শিক্ষক সহ বাকিদের কোন কথা দেখলাম না।
৮|
৩০ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭
কিরকুট বলেছেন: কেন মেনে নেয়া কঠিন ?
হিজড়াদের উচ্ছেদ করতে তাকে কেন যেতে হবে ?
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৫২
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: যৌন কাজ করার পর অর্থ পরিশোধ না করায় তারা
জুবায়েরকে আটক করে ভিডিও ধারণ করেছেন।
.......................................................................
বিষয়টি মোটেও বিশ্বাস যোগ্য নয় ।
হিজড়াদের আচরন খুব খারাপ, তাই দেখলে আমি দূরে থাকি ।
তবে সরকারের উচিৎ তাদের নিয়ে সুষ্ঠ পরিকল্পনা করা
এবং তাদের সমাজে সঠিক পূর্ণবাসন দেয়া ।