নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লেখক

মাহদী হাসান শিহাব

কৌতুহলী পাঠক ও লেখক

মাহদী হাসান শিহাব › বিস্তারিত পোস্টঃ

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে হয়।

অনেক সময় জনতুষ্টির চাওয়া ন্যায়বিচারের বিপক্ষে চলে যায়। কারণ জনতুষ্টির উদ্দেশ্য হলো জনগণকে সন্তুষ্ট করা, আর জনগণ সবসময় ন্যায়বিচার চায় না; অনেক সময় তারা নিজেদের চেয়ে ক্ষমতাশালী কারও প্রতি জমে থাকা ক্ষোভ বা রিসেন্টিমেন্টের বহিঃপ্রকাশ চায়।

মানুষ প্রায়ই চায় ক্ষমতাশালী কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হোক, কিন্তু সেই ক্ষতিতে তাদের সরাসরি ভূমিকা না থাকুক। অন্য কেউ কাজটি করুক, তারা শুধু হালকা ইন্ধন জোগায়। তাদের দেখতে ভালো লাগে। এই ঈর্ষাই সোস্যাল মিডিয়ার ফুয়েল।

.

এখানে ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মোটাদাগে এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

তিনি সোস্যাল মিডিয়া তথা ফেসবুকে কী করেছেন?

শুধু গান গেয়েছেন এবং কবিতা আবৃত্তি করেছেন। দুর্ভাগ্যবশত, তার গলায় হয়তো পেশাদার শিল্পীর মতো সুমিষ্ট সুর নেই। কিন্তু যদি তার গলায় অসাধারণ সুর থাকত এবং তিনি ফেসবুকে গান গাইতেন, তাহলে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতো?

হয়ত হতো না। তিনি আরো বাহবা পেতেন।

গলায় সুর না থাকার কারণে আজ তার এই দূরাবস্থা।

.

তিনি বেসুরো গলায় গান গেয়ে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের বা বাংলাদেশের প্রচলিত কোন আইন ভঙ্গ করেছেন? যদি না করে থাকেন, তাহলে কেবল শিল্পগত অদক্ষতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা কি যৌক্তিক?

শুধু বেসুরো গলায় গান গাওয়ার কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়ে গেল! খুবই দুঃখজনক।

অনেকেই বলছেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। সুতরাং বেসুরো গলায় গান গাওয়া তার ব্যক্তিত্বের সাথে যায় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ব্যক্তিত্ব কি আমরা ঠিক করবো? সে দায় কি আমাদের? প্রফেশন অনুযায়ী কি মানুষের ব্যক্তিত্ব ভিন্ন হতেই হবে?

কোনো পেশার মানুষের ব্যক্তিগত রুচি, শখ বা শিল্পচর্চার সীমা কি জনমত নির্ধারণ করবে? আর জনমতের সঙ্গে না মিললেই কি শাস্তি প্রাপ্য হবে?"

এখন তো নির্দিষ্ট করে দিতে হবে কোন কোন প্রফেশনের মানুষ বেসুরো গলায় গান গাইতে পারবে না। কোন কোন চাকরিতে বেসুরো গলায় গান গেলে চাকরি চলে যাবে।

এ বিষয়গুলো স্পষ্ট নীতিমালা ও আইনের আওতায় আনা উচিৎ।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:১২

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



কর্তৃপক্ষকে আমার গান শোনাতে হবে।

২| ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:২৮

শায়মা বলেছেন: বেচারা গায়ক হবার স্বপ্ন দেখা শিক্ষক!

আসলে ভেবেছিলো সহজে গায়ক হওয়া যায় সোশাল মিডিয়ার দুনিয়ায়! তাই সেই চেষ্টার নেশায় পড়েছিলো। মানুষের কমেন্ট দেখে তার শিক্ষা পাওয়া উচিৎ ছিলো কিন্তু সে এমনই নেশায় পড়েছিলো যে কারো কোনো কথা পাত্তা না দিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিলো। অকুতোভয় গায়ক!!!

হ্যাঁ ভালো গান গেলে সমাদৃত হত নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বটে। তবে তার গান হয়ে যাচ্ছিলো হিরো আলম টাইপ বা তার থেকেও খারাপ। এটা শুধু প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি না সেই শিক্ষকের ভাবমূর্তিও নষ্ট করেছে। এইভাবে ট্রল হওয়া শিক্ষককে সরাসরি কোনো স্টুডেন্ট উপহাস করে বসবে না গ্যারান্টি কি?

ভালো গান গাওয়া শিক্ষক হতে পারে স্টুডেন্টদের প্রেরনা আর উপহাসের পাত্র হওয়া শিক্ষক তাও আবার নিজের বোকামীতে উপহাস পাওয়া শিক্ষক স্টুডেন্টদের অনুপ্রেরনা না হয়ে উপহাসেরই পাত্র হবেন। তাই তার শিক্ষক না থাকাই ভালো।

তবে অনেক কষ্ট লেগেছে বোকাটার জন্য!

২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:০২

মাহদী হাসান শিহাব বলেছেন: শিক্ষকের গলায় সুর না থাকলে কি শিক্ষক গান গাইতে পারবে না?

বেসুরো গলায় শিক্ষক গান গাইলে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে কোন আইনে?

৩| ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:১৮

শায়মা বলেছেন: পারবে! অবশ্যই পারবে তবে নিজের বাড়িতে। নিজের আত্মীয় স্বজনের মাঝে। পাবলিকে আসলে এমনকি বন্ধুবান্ধবের সামনেও এইভাবে গাইলে ট্রলের শিকার হবেই। এমনই আমরা। উৎসাহ বা সঠিক পরামর্শ বা উপদেশ না দিয়ে হাসাহাসি করি। ছোট করি।

তাই সমাজ সংসার বুঝেই চলতে হবে। এই টিচার এরপর তার ক্লাসে যে কোনো সময় সন্মান হারাতে পারে। যাইহোক আমি জানিনা সে বোকাটাইপ নাকি অতি চালাক। তবে তার কবিতা আবৃতি বা কথার উচ্চারণ ভালোই আছে। হয়ত একটু চর্চার অভাব! তবে গানের গও শেখেনি জীবনে তা ছোট বাচ্চাও বলে দিতে পারবে। গান না শিখেও অনেকেই গান গাইতে পারে। সে শেখেও নি এবং গাইতেও পারেনা। তার সূর ও নেই গানের গলাও নেই। অথবা আছে ইচ্ছে করেই নিজেকে উপহাসের পাত্র বানিয়েছেন।

সবচেয়ে বড় কথা কারো পারসোনাল জীবন নিয়ে কর্মক্ষেত্রে কিছু বলা যায়না বলেই আমি মনে করি। কিন্তু সামাজিকতা বলে একটা কথা আছে। কাজেই এই লোক অন্য কোনো অফিসে কাজ করলে গান গাইলে হয়ত এত সমস্যা হত না যা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক হওয়াতে হয়েছে।

আমি জানিনা বাংলাদেশে কখন কোন আইন তৈরী হয়ে যায়। কিছুদিন আগে যে এক মায়ের মৃত্যুতে কোনো বিচার আচার সত্য মিথ্যা যাচাই বাছাই ছাড়াই ছেলেকে সরকারী চাকুরী থেকে ওএসডি করা হলো না বের করে দেওয়া হলো সেটারও কোনো আইন আছে কিনা। :(

৪| ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:২২

শায়মা বলেছেন: তবে সর্বনাশের কথা হলো আমিও স্কুলে বাচ্চাদেরকে পড়াই, নাচ গান শেখাইও। ইউটিউবে বা নিজের ফেসবুকে অনেক নাচা গানা যেমন আছে কবিতাও আছে।

এমন শুরু হলে কবে আমাকেই ....... :(

৫| ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১২:১৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: অযথা টিচারকে বাদ দেয়ার পায়তারা করছে; এর চেয়ে বেশি আকাম কুকাম করা লোক ঢাবি প্রশাসনে আছে ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.