নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটা অন্যরকম হবার কথা ছিল!

শেরজা তপন

অনেক সুখের গল্প হল-এবার কিছু কষ্টের কথা শুনি...

শেরজা তপন › বিস্তারিত পোস্টঃ

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না কি দৃষ্টিভঙ্গির দ্বন্দ্ব?
মানুষের ইতিহাসে ধর্ম ও বিজ্ঞান—এই দুই শক্তি একে অপরের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করলেও তাদের সম্পর্ক কখনো সহযোগিতামূলক, আবার কখনো প্রবল সংঘর্ষপূর্ণ। প্রশ্ন জাগে, ধর্মের সঙ্গে বিজ্ঞানের এই সংঘাত কি শুধুই মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও মৌলিক দুর্বলতার ফল, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো কাঠামোগত কারণ বা চিন্তাগত সংকট রয়েছে?

সংঘর্ষের মূল কারণ: প্রশ্ন করার ধরন
ধর্ম সাধারণত “কেন” প্রশ্নের উত্তর দেয়—জীবনের অর্থ কী, অস্তিত্বের উদ্দেশ্য কী, নৈতিকতা কোথা থেকে আসে।
অন্যদিকে বিজ্ঞান মূলত “কিভাবে” প্রশ্ন নিয়ে কাজ করে—প্রকৃতি কীভাবে কাজ করে, কোন নিয়মে মহাবিশ্ব চলছে। সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন এক পক্ষ অন্য পক্ষের ক্ষেত্র দখল করতে চায়।
বিজ্ঞান যখন অস্তিত্বের চূড়ান্ত অর্থ নির্ধারণ করতে যায়, অথবা ধর্ম যখন প্রকৃতির যান্ত্রিক ব্যাখ্যায় হস্তক্ষেপ করে—তখনই সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। এটি আসলে ধর্ম বনাম বিজ্ঞান নয়; বরং সীমা না মানার প্রবণতা বনাম সীমাবদ্ধতা স্বীকার করার অভাব।

বিবর্তন তত্ত্ব: বিজ্ঞান কেন একে আঁকড়ে ধরল?
অনেকের কাছে প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ—বিজ্ঞান কেন এমন একটি তত্ত্বকে (যেমন বিবর্তন) এত দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করল, যাকে কেউ কেউ অযৌক্তিক বা অসম্পূর্ণ বলে মনে করেন?
এখানে বোঝা জরুরি, বিজ্ঞান কোনো তত্ত্বকে “সত্য” বলে ঘোষণা করে না; বরং বলে—“এটি এখন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণের সাথে সবচেয়ে বেশি মেলে।” বিবর্তন তত্ত্ব জীবের বৈচিত্র্য ব্যাখ্যায় কার্যকর হলেও, এটি জীবনের চূড়ান্ত উৎস বা চেতনার ব্যাখ্যা দিতে পারে না। তবু অনেক বিজ্ঞানী একে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন এর বাইরে আর কিছু ভাবাই অবৈজ্ঞানিক—এখানেই সমস্যার শুরু।
এই প্রবণতার পেছনে ষড়যন্ত্রের চেয়ে বেশি কাজ করে প্রাতিষ্ঠানিক জড়তা, একাডেমিক নিরাপত্তা ও মানবিক অহংকার। প্রতিষ্ঠিত কাঠামোর বাইরে চিন্তা করলে ক্যারিয়ার, স্বীকৃতি ও গ্রহণযোগ্যতা হারানোর ভয় অনেককেই নতুন প্রশ্ন থেকে দূরে রাখে।

মহাবিশ্ব কি কেবল দুর্ঘটনা, নাকি এক বিশাল বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ?
মহাবিশ্বকে যদি আমরা গভীরভাবে দেখি, তবে এটি কেবল এলোমেলো কণার সমষ্টি নয়। পদার্থবিজ্ঞানের সূক্ষ্ম ধ্রুবক, জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিখুঁত ভারসাম্য, জীবনের জন্য উপযোগী পরিবেশ—সবকিছু মিলিয়ে মহাবিশ্ব যেন একটি সুবিশাল গবেষণাগার, যেখানে প্রতিটি নিয়ম অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবু এই সম্ভাবনাকে “বুদ্ধিমত্তার ফল” হিসেবে ভাবতে অনেকের অস্বস্তি হয়। কারণ, এতে মানুষের সেই ধারণা ভেঙে যায় যে আমরাই সর্বোচ্চ বুদ্ধিমান পর্যবেক্ষক। বাস্তবে আমরা মহাবিশ্বের এক ক্ষুদ্র অংশও পুরোপুরি জানি না—ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, চেতনার প্রকৃতি—সবই এখনো রহস্য।

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা
মানুষ নিজেকে বুদ্ধিমান ভাবতে ভালোবাসে, কারণ এতে সে নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি পায়। কিন্তু প্রকৃত জ্ঞান যত বাড়ে, ততই স্পষ্ট হয়—আমাদের অজানা অংশ জানা অংশের তুলনায় অসীম। বিজ্ঞান যদি সত্যিই সৎ হয়, তবে তার প্রথম স্বীকারোক্তি হওয়া উচিত—“আমরা সব জানি না।”
এই স্বীকারোক্তিই ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে। ধর্ম যদি বিজ্ঞানের আবিষ্কারকে ভয় না পায়, আর বিজ্ঞান যদি অস্তিত্বের গভীর প্রশ্নকে অবজ্ঞা না করে—তাহলেই সংঘর্ষ কমবে।
ধর্ম ও বিজ্ঞানের সংঘর্ষ কোনো গূঢ় ষড়যন্ত্রের চেয়ে বেশি মানুষের মানসিকতা, ক্ষমতার কাঠামো ও অহংকারের ফল। বিজ্ঞান ব্যাখ্যা দেয়, ধর্ম অর্থ দেয়। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিকে পূর্ণাঙ্গ করা যায় না।
মহাবিশ্ব হয়তো নিছক দুর্ঘটনা নয়, আবার হয়তো আমাদের কল্পনার মতো সরল নকশাও নয়। কিন্তু এটুকু নিশ্চিত—আমরা এখনো জানার শুরুতেই আছি। আর সেই অজানাকে স্বীকার করার সাহসই মানুষকে সত্যিকার অর্থে বুদ্ধিমান করে তোলে।

জ্ঞান না অহংকার: আধুনিক “বিজ্ঞানমনস্কতা”র দার্শনিক সংকট
আজকের পৃথিবীতে এক অদ্ভুত প্রবণতা দেখা যায়—কিছু মানুষ নিজেদের “বিজ্ঞানমনস্ক” প্রমাণ করতে গিয়ে মহাবিশ্বের সম্ভাব্য বিশাল বুদ্ধিমত্তাকে হেয় করে। তারা মনে করে, মানুষের বাইরে বা মানুষের ঊর্ধ্বে কোনো বুদ্ধিমত্তা কল্পনা করাই নাকি অশিক্ষিত বা দুর্বল মনের পরিচয়। অথচ এই মনোভাব আসলে বিজ্ঞান নয়, এটি নতুন রূপের অহংকার।
বিজ্ঞান যদি সত্যিই বিনয়ী হয়, তবে তার প্রথম স্বীকারোক্তি হওয়া উচিত—আমরা প্রায় কিছুই জানি না।
________________________________________
অজানা স্বীকার করতে না পারার ভয়
মানুষ ভয় পায় সেই জিনিসকে, যেটা সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। মহাবিশ্ব যদি আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান, অনেক বেশি স্তরবিশিষ্ট হয়—তাহলে মানুষ আর কেন্দ্রবিন্দু থাকে না। এই ধারণাই অনেককে অস্বস্তিতে ফেলে।
তাই তারা বলে—
• “এগুলো কল্পনা”
• “এগুলো অবৈজ্ঞানিক”
• “এগুলো অশিক্ষিতদের ভাবনা”
এই বক্তব্যগুলো আসলে যুক্তি নয়, আত্মরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া।

আমরা কতটুকুই বা জানি?

মানুষ নিজের পৃথিবী সম্পর্কেই কতটুকু জানে?
• পৃথিবীর কেন্দ্রে কী আছে—এ নিয়ে এখনো একাধিক পরস্পরবিরোধী তত্ত্ব
• মহাসাগরের বিশাল অংশ এখনো কার্যত অজানা
• জীবনের উৎপত্তি নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা নেই
• চেতনা কী—এ প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞানের কাছে নেই
এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে বলা যে “মানুষই সর্বোচ্চ বুদ্ধিমান সত্তা”—এটা কি জ্ঞান, না আত্মপ্রতারণা?

বুদ্ধিমত্তা কি আকারে মাপা যায়?
আমরা বুদ্ধিমত্তাকে বড় মস্তিষ্ক, বড় প্রযুক্তি, বড় সভ্যতার সাথে মিলিয়ে দেখি। কিন্তু প্রকৃতি আমাদের বারবার দেখিয়েছে—
ক্ষুদ্র মানেই দুর্বল নয়।
আমাদের চোখে অদৃশ্য ক্ষুদ্র প্রাণী পুরো বাস্তুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে। ভবিষ্যতে এমন জীব আবিষ্কৃত হওয়া কি অসম্ভব, যারা আমাদের চেয়ে ভিন্নভাবে কিন্তু আরও গভীরভাবে “বুদ্ধিমান”? আমরা কেন ধরে নিই—বুদ্ধিমত্তার একমাত্র মডেল আমরা নিজেরাই?

মহাবিশ্বকে দুর্ঘটনা বলার তাড়াহুড়ো
মহাবিশ্বের সূক্ষ্ম নিয়ম, নিখুঁত ভারসাম্য, গণিতের সৌন্দর্য—এসবকে “দুর্ঘটনা” বলে শেষ করে দেওয়া অনেকের কাছে সহজ। কারণ এতে আর কোনো প্রশ্ন থাকে না। প্রশ্ন থাকলে ভাবতে হয়, আর ভাবতে হলে নিজের সীমা মানতে হয়।
কিন্তু প্রশ্ন তোলাই কি মানুষের মহান বৈশিষ্ট্য নয়?
মহাবিশ্ব যদি সত্যিই একটি সুবিশাল গবেষণাগার হয়, যেখানে অসংখ্য স্তরের বুদ্ধিমত্তা কাজ করছে—তবে সেটি ভাবতে পারা কি মানুষের কল্পনার ব্যর্থতা, না বরং তার সর্বোচ্চ সৃজনশীলতা?

প্রশ্ন করলেই কেন “লঙ্কাকাণ্ড”?
আজকের বৌদ্ধিক পরিমণ্ডলে এক অদ্ভুত দ্বৈত মানদণ্ড দেখা যায়—
• বিবর্তনের পক্ষে অদ্ভুত ও দুর্বল যুক্তি দিলে প্রশ্রয়
• কিন্তু সেই তত্ত্বের সীমা বা বিকল্প প্রশ্ন তুললেই তীব্র প্রতিক্রিয়া
কারণ প্রশ্ন তোলা মানেই ক্ষমতার কাঠামো নড়ে যায়। প্রতিষ্ঠিত ধারণা চ্যালেঞ্জ হলে শুধু তত্ত্ব নয়—অহংকারও আহত হয়।

প্রকৃত বুদ্ধিমত্তার সংজ্ঞা
প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা মানে সব উত্তর জানা নয়।
প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা মানে—
• “আমি জানি না” বলতে পারা
• নিজের সীমা স্বীকার করা
• নিজের বাইরে সম্ভাবনার জন্য মন খোলা রাখা
যে মানুষ মহাবিশ্বের অজানাকে সম্ভাবনা হিসেবে ভাবতে পারে, সে দুর্বল নয়—সে সাহসী।
মানুষ যদি সত্যিই বুদ্ধিমান হয়, তবে তাকে প্রথমেই এই প্রশ্নটি মেনে নিতে হবে—
**আমরা কি আদৌ সব জানার মতো অবস্থানে আছি?**

মহাবিশ্বের বাইরে বা ভেতরে আমাদের চেয়ে বহু গুণ বেশি বুদ্ধিমান কোনো সত্তা থাকতে পারে—এ কথা ভাবা অন্ধবিশ্বাস নয়। এটি বরং মানুষের সবচেয়ে পরিণত ও বিনয়ী চিন্তা।
ভয় পায় সে-ই, যে নিজের সীমা মানতে চায় না।
আর ভাবতে সাহস করে সে-ই, যে সত্যিকারের মুক্ত।

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মিরোরডডল বলেছেন:





আর ভাবতে সাহস করে সে-ই, যে সত্যিকারের মুক্ত।

লেখা এখানে শেষ হয়ে যাবার পর, ১৪ টা প্যারা আবারও রিপিট হয়েছে।
ফিক্স করবে প্লীজ, নাহলে এতো বড় লেখা দেখে অনেকেই পড়বে না।

ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না কি দৃষ্টিভঙ্গির দ্বন্দ্ব?
মানুষের ইতিহাসে ধর্ম ও বিজ্ঞান—এই দুই শক্তি একে অপরের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করলেও তাদের সম্পর্ক কখনো সহযোগিতামূলক, আবার কখনো ……………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………..................................ভয় পায় সে-ই, যে নিজের সীমা মানতে চায় না।
আর ভাবতে সাহস করে সে-ই, যে সত্যিকারের মুক্ত।





১০ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭

শেরজা তপন বলেছেন: ইমেজ যোগ করতে গিয়ে আমি বিঝেছিলাম যে কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে, কিন্তুদুটো লাইন মিলে যাওয়ায় আর ধরতে পারিনি, অবাক হয়েছিলাম ভেবে আমার আওছোট্ট লেখা এত্তো বড় হইল ক্যামনে!! :)
আপনার চোখ বটে; শুধু সুন্দর নয় দৃষ্টিশক্তিও চরম প্রখর। আমি নিজের দৃষ্টি শক্তি নিয়ে খুব গর্ববোধ করতাম; দূর থেকে এক দেড় সেন্টিমিটারের ফারাক ধরে ফেলি অনায়াসেই।
অনেক অনেক ধন্যবাদ ( ভুল ধরিয়ে দেবার জন্য নয় শুধু) আপনার আগমন ও মন্তব্যে।

২| ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩

মিরোরডডল বলেছেন:




আমার অবজারভেশন রাজীব আর দশজন মুসলিমের মতোই ধর্ম কর্ম করে, নামাজ পড়া রোজা রাখা, কিছু করে কিছু করেনা, কিছু মানে কিছু মানে না। মেজরিটি মানুষই এরকম, নানারকম প্রশ্ন আসে মাথায়, লজিক্যাল উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় না অনেকসময়। কিন্তু তার বাইরে রাজীব যা করে সকালে আস্তিক পোষ্ট, বিকেলে নাস্তিক পোষ্ট এগুলো করার কারণ, কিছুটা এটেনশন সিকার, কিছুটা মানুষকে কনফিউজড করে একধরনের আনন্দ পায়। পাবলিক খায়, তাই পাবলিককে খাওয়ায়, মূলত একটা মজা নেওয়া, এই আর কি। তবে এখন আর আগের মতো সেরকম একটা করেনা।

১০ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

শেরজা তপন বলেছেন: হ্যাঁ সে এটেনশন নেয়া ও বেশ আলোচনায় থাকতে পছন্দ করে।
যে কোন আস্তিকবাদী আলোচনায় সে 'খাঁচকাটা কুমিরের গল্পে চলে যায়' :)
আপনার অব্জার্ভেশন সঠিক।

৩| ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৬

মিরোরডডল বলেছেন:





আগের দুইটা লেখা আনেক বেশি খটমট ছিলো।
এবারেরটা পড়লাম কিন্তু এরকম উচ্চমার্গের লেখায় ক্ষুদ্র মানুষের আসলে বলার কিছু নেই :)


১০ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৪

শেরজা তপন বলেছেন: কি কন- আপনি এই কথা কইলেন!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
গাজী সাহেব কইলে কথা ছিল ( সিধা গরুর রচনা কইত) [ চামে চামে জিগাই; হে গ্যাছে কই??]

প্রথমটা পইড়্যা দেইখেন মজা আছে!

এখন 'কোয়ান্টাম' জানার চেষ্টা আছি- পুলায় খালি হাসে আর কয়; কি বাজান কেমন বুঝতাছ?
আমি ভাব লইয়া কই; দাড়া ব্যাটা কয়দিন পড়ে তোরে পড়াব।

'' আসলে কোয়ান্টাম না জানলে জীবন বৃথা মনে হবার একটা চান্স আছে- তাই ট্রাই মারতাছি''

৪| ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

শাহিন-৯৯ বলেছেন:


আমি অশিক্ষিত মানুষ তবুও আপনার লেখার পড়ে নিজের দুই লাইন বলে যাই।
এক, বিগ ব্যাং থিওরী অনুসারে আমরা আলোর ক্ষুদ্র কণা পর্যন্ত মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য জানতে পারি কিন্তু আলোর ক্ষুদ্র কণার পূর্ব অবস্থায় কিভাবে ছিল তা বিজ্ঞান এখনো অবধি বলতে পারে না!! সেখানেই বিশ্বাস জন্ম হয়, আমরা যারা ধর্ম বিশ্বাসী তারা মনে করি সৃষ্টিকর্তা আছেন তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন তিনি অসীম বাকি সব সসীম।

দুই, বিজ্ঞানের থিওরী চলমান.... আজ যা আমাদের কাছে খুবই স্পষ্ট থিওরী মনে হচ্ছে দেখা যাবে এক শতাব্দী পরে তা ভুল বলে প্রমানিত।

শেষে একজন সনাতন ধর্মগুরুর বক্তব্য দিয়ে শেষ করি-- একজন ধর্মগুরুকে প্রশ্ন করেছে- পাপ পুণ্য কি?
তিনি বলেছেন- জীবের উপকারে আসে এমন কর্মই পুণ্য আর অকল্যান কর্মই পাপ।

বিজ্ঞানে ভাষায় পাপ-পুণ্য নেই, মানুষ হত্যা হোক আর অন্য জীব হত্যা হোক কিন্তু ধর্মে মানুষ হত্যা পাপ (যদি কোন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত না হয়, বিজ্ঞানে অপরাধ বলতে কিছু প্রমান করা সম্ভব নয়)। অন্য জীব আহার হিসাবে গ্রহণ করা জন্য হত্যা করলে পাপ নেই কিন্তু মনের আনন্দে হত্যা করলে পাপ।

এখন বলুন আমাদের সামাজিক বসবাসের জন্য দুইটি প্রয়োজন নাকি শুধু বিজ্ঞান দিয়ে বসবাস সম্ভব?



১০ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯

শেরজা তপন বলেছেন: ভাইরে এমন আধ্যাত্মিক কথা কইলেন, যে এখন আমার মাথার উপ্রে দিয়া যাচ্ছে।
মানুষ হিসেবে জন্ম কেন নিলাম; এখানে ধর্মে চিন্তার গণ্ডি আছে ( মোটামুটি অযথাই বলা যায়)
কিন্তু বিজ্ঞানের চিন্তা অসীম- সেই অসীমতা আমাদের ভাবনার খোরাক দেয় নতুন করে। আমরা পৃথিবীতে খেয়ে পড়ে মরে যেতে আসিনি শুধু- এর বাইরে আমাদের অনেক কিছু করার আছে; ধর্মগুরুরা বাঁধা দিলেও ধর্ম এই ভাবনার পথ রোধ করে না।
বিজ্ঞান ভীষনভাবে উন্মুক্ত হলেও মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ভাবনায় বিজ্ঞান নেই, এজন্য ধর্মের প্রয়োজন আছে।

৫| ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৬

শাহিন-৯৯ বলেছেন:

কিছু হাস্যকর মন্তব্য করি-- বিজ্ঞানের আবিস্কৃত প্রতিটি বস্তুর কিন্তু ধর্ম আছে?
চুম্বক!! উত্তর - দক্ষিন মেরু বরাবর স্থির থাকে! আপনি চুম্বককে কখনো একক মেরুতে স্থির করতে পারবেন? পারবেন না, কারণ তার জন্ম হয়েছে দুই মেরুর অবস্থান করার ধর্ম নিয়ে।

উত্তর মেরু পৃথিবীর উপরের অংশ আর দক্ষিন মের নিচের অংশ তাহলে আর্কটিক মহাসাগরের সব পানি নিচে পড়ে যাওয়া কথা :D (যদিও সরাসরি উপর নিচু বলা যায় না)
তাহলে পড়ে না কেন? পৃথিবীর গ্রাভিটির বল আর পৃথিবীর গূর্ঘণের কারনে। গ্রভিটির ধর্মই হচ্ছে সবকিছুকে পৃথিবীর কেন্দ্র বরাবর টেনে নিয়ে যাওয়া।

এ রকম সব বস্তুর ধর্ম আছে, আমি বিশ্বাস করি এ সব কিছু এমনি এমনি তৈরি হয়নি একজন সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টিকর্তা অসীম আর বাকি সব সসীম যার শুরু আছে তার শেষ আছে।

১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১০

শেরজা তপন বলেছেন: 'আমরা কেন এখানে এলাম' আমার এই লেখাটা পড়তে শুরু করুন। প্রথমে খটমট লাগলেও চিন্তাশীল মানুষের মৌলিক কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন নিশ্চিত।
সহজ করে বলি;;
ফিজিক্সের অনেক চিরাচরিত নিয়ম যা আমরা জানি সেটা 'ব্ল্যাকহোলে' ঠিক উলটো ঘটতে পারে কিংবা নাই হয়ে যেতে পারে।
চুম্বক আমাদের পৃথিবীতে বা আমাদের সৌরজগতে যেভাবে কাজ করবে সেটা মহাবিশ্বের সবখানে একইরকম। পৃথিবী নিজেই একটি বিরাট চুম্বকের মতো আচরণ করে। সমমেরু একে অপরকে বিকর্ষণ করে এবং বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে বলে চুম্বকের উত্তর মেরু পৃথিবীর উত্তর দিককে নির্দেশ করে স্থির হয়ে যায়।

এবার পরের উত্তর পুস্তকের ভাষায়;
গ্রাভিটি সব বস্তুকে সুষমভাবে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে টানে।
উত্তর মেরুর পানিকে গ্রাভিটি সোজা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে টেনে ধরে রাখছে। দক্ষিণ মেরু কিংবা বিষুবরেখার পানিকেও একইভাবে কেন্দ্রের দিকেই টানা হচ্ছে।
যেহেতু পানি সবদিক থেকেই কেন্দ্রমুখী বল দিয়ে বাঁধা, তাই কোনো পানিই নিচে "পড়ে যাওয়ার" জায়গা নেই।

পৃথিবী যখন নিজ অক্ষের ওপর ঘোরে, তখন একটি কেন্দ্রবিমুখী বল (Centrifugal Force) তৈরি হয় যা জিনিসপত্রকে বাইরের দিকে ছিটকে ফেলতে চায়। কিন্তু পৃথিবীর গ্রাভিটি বল এই ছিটকে ফেলার বলের চেয়ে প্রায় ৩০০ গুণ বেশি শক্তিশালী।
ফলে ঘূর্ণন থাকা সত্ত্বেও গ্রাভিটি জয়ী হয় এবং মহাসাগরের সমস্ত পানি ও বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর গায়ে শক্তভাবে আটকে থাকে।

৬| ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:১৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: স্টিফেন শাহিন্সকে আমার সালাম।

৭| ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:২১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আপনার পোস্ট পড়ার মতো অবস্থায় নাই। শুধু স্টিফেন শাহিন্সের কমেন্ট আর আপনার একটা রিপ্লাই পড়ে (৪ নাম্বার) দৌড় দিলাম।

৮| ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৩০

রোকসানা লেইস বলেছেন: ধর্ম আর বিজ্ঞান কখনো এক হবে বলে মনে হয় কি?

৯| ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪২

জ্যাক স্মিথ বলেছেন: রাজীব নুর মোটেও ইশ্বরে অবিশ্বাসী কেউ নন- মাঝে মাঝে তিনি ব্লগে এটা সেটা লিখেন মাত্র, এগুলো সরিয়াস নেওয়ার কিছু নেই।

ধর্ম আর বিজ্ঞান একে অপরের পুরোপুরি সাংঘর্ষিক দুটি বিষয়- ধর্ম এক সময় বিজ্ঞানকে শত্রু হিসেবে বিবেচিত করতো, কিন্তু বর্তমানে উপায় অন্তর না পেয়ে ধর্মগ্রন্থগুলো বিজ্ঞানের কোলে আশ্রয় নিয়ে বাঁচার শেষ চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা তাতে সফল হবে না কারণ তেল আর জল কখনোই মিশতে পারে না।

আজকাল কমন একটা ডায়ালগ হচ্ছে- বিজ্ঞান আর ধর্মের কোন শত্রুতা নেই শুধুই বন্ধত্ব, বিজ্ঞানের কোথাও বলা নেই ধর্ম মানা যাবে না, বিজ্ঞান কোথাও বলে নাই স্রষ্টা বলতে কিছু নেই..... ইত্যাদি । =p~

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.