নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

সালমান মুক্তাদীরের জুলাই আন্দোলন: কারণটা কি একান্ত ব্যক্তিগত ?

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০১


সালমান মুক্তাদীর বাংলাদেশের কনটেন্ট ক্রিয়েশন জগতের পথিকৃৎ। তার হাত ধরে এদেশে কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে কত তরুণ, তার কোনো হিসাব নেই। তার ভক্তের সংখ্যা অগণিত। তবে কাজের মাধ্যমে সে যতটা সুনাম কুড়িয়েছে, তার চেয়ে ঢের বেশি নাম কামিয়েছে ব্যক্তিগত জীবনের কালো অধ্যায়ের সুবাদে। সালমান মুক্তাদীর হলো বাংলার ক্যাসানোভা, যার গার্লফ্রেন্ডের সঠিক সংখ্যা কারো জানা নেই।

তার এই পথচলার শুরুটা হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন দেশ সবেমাত্র ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে হাঁটা শুরু করেছে। সে যত নাম, যশ ও প্রতিপত্তি অর্জন করেছে, তার সবকিছুই শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে। আওয়ামী লীগের কাছ থেকে সে ও তার সঙ্গীরা পেতেন রীতিমতো ভিআইপি মর্যাদা। যেকোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান হোক কিংবা রাজনৈতিক প্রচারণার মঞ্চ, সব জায়গাতেই তাদের অবাধ যাতায়াত ছিল চোখে পড়ার মতো।

সে সময়কার সরকারপন্থী কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কাছে শেখ হাসিনা ছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদূত। আওয়ামী লীগের যেকোনো মতবিনিময় সভায় তাদের সমাদর ছিল রাজকীয়। তারা সরাসরি আবদার করতো শেখ হাসিনার কাছে, খেতে চাই আপনার হাতের মোরগ পোলাও। রাষ্ট্রযন্ত্র এবং এই ইনফ্লুয়েন্সারদের সেই লাল নীল সুখের সংসার বেশ জমে উঠেছিল।

ক্ষমতার সঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের এই সুসম্পর্কের একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল। তরুণ প্রজন্ম তাদের অন্ধের মতো অনুসরণ করতো। কেউ কনটেন্ট বানাত, কেউ দেখত, আবার কেউ বা দুটোই একসঙ্গে করত। এভাবেই তৈরি হচ্ছিল একটি বিশেষ প্রজন্ম, যার দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি নিয়ে হয়তো অন্য কোনো দিন আলোচনা করা যাবে।

বাংলাদেশের মিলেনিয়াল ও জেনজি প্রজন্মকে বিপথগামী করার পেছনে যাদের প্রধান ভূমিকা রয়েছে, তাদের মধ্যে মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী ও সালমান মুক্তাদীর অন্যতম। মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী যেদিন অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভায় ডাক পেল, তাতে বিন্দুমাত্র অবাক হইনি। বরং এই চতুর সিলেকশনটি কার মাথা থেকে এসেছিল, তা ভেবেই কূল কিনারা পাচ্ছিলাম না। তবে সালমান মুক্তাদীর কেন হঠাৎ করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোটা আন্দোলনে নেমে পড়েছিল, তার হিসাব শত চেষ্টা করেও মেলাতে পারিনি।

এ ক্ষেত্রে একটু পেছনের পাতা উল্টে দেখা দরকার। সালমান মুক্তাদীর কখনোই বিএনপি জামায়াত জোটের আন্দোলনকে সমর্থন করতো বলে মনে হয় না। সে রাজনৈতিক দর্শনের ধার ধারার মানুষ নয়। খালেদা জিয়াকে নিয়ে সে কখনো টু শব্দটিও করেনি। সালমান বা তার সমসাময়িক প্রজন্মের কাছে দল হিসাবে বিএনপি ছিল বরাবরই উপেক্ষিত। বিএনপি মানেই ছিল তাদের কাছে ঈদের পরের আন্দোলন সর্বস্ব একটি দল।

বিএনপির কোনো পোড় খাওয়া ইন্টেলেকচুয়াল উইং নেই। বাংলাদেশের কোনো প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী বা তারকা কখনো দলীয়ভাবে বিএনপির পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারেনি। আসিফ আকবর বা কনকচাঁপারা তরুণ প্রজন্মের মনে চিরস্থায়ী কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। সুতরাং আদর্শগত কারণে সালমানের এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার বিন্দুমাত্র যৌক্তিকতা ছিল না। আমরা হলাম সাধারণ পরিবারের সন্তান। আমাদের জীবনে একটিমাত্র চাকরিই কেবল পারে ভাগ্য পুরোপুরি বদলে দিতে। কিন্তু সালমান তো ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। আমাদের সমাজে টিকে থাকার সংগ্রাম সে কোনোদিন বুঝবেও না।

অবশ্য অন্যের ব্যক্তিগত সংকট নিজের না হলেও মানবতার খাতিরে তার পাশে দাঁড়ানো যায়। সেটাই তো একজন সচেতন নাগরিকের মৌলিক দায়িত্ব। হয়তো সালমান তার অনুসারীদের জন্যই রাজপথে নেমেছিল। ইনফ্লুয়েন্সারদের সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক ভয় থাকে ফলোয়ার হারানোর আতঙ্ক। তবে সালমান যতটুকু কামানোর দরকার, তা বহু আগেই কামিয়ে ফেলেছে। সেইদিক থেকে তার তো কোনো হারানোর ভয় থাকার কথা ছিল না। তাহলে কোন অদৃশ্য টানে সে জুলাই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল ?

রাজনীতির ঘূর্ণাবর্ত থেকে এবার একটু সালমানের ব্যক্তিগত জীবনে প্রবেশ করা যাক। সালমানের এই আকস্মিক আন্দোলনে নামার নেপথ্যে কি তার বৈবাহিক সূত্রে প্রাপ্ত পারিবারিক কোনো সমীকরণ কাজ করেছিল ? সে বিয়ে করেছে বয়সে সিনিয়র এবং দুই সন্তানের জননীকে। হয়তো পরিণত নারীর প্রতি তার গভীর মনস্তাত্ত্বিক আকর্ষণ ছিল। নিজেই কিছুদিন আগে এক পডকাস্টে অকপটে স্বীকার করেছে যে, জীবনসঙ্গী হিসেবে সে সবসময় মাদার ফিগারের কাউকে প্রত্যাশা করতো।

বিয়ের আগে যখন সে পাত্রী খুঁজছিল, বাতাসে গুঞ্জন উঠেছিল কোনো তরুণীই তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি হচ্ছিল না। শেষমেশ নানা সমীকরণ মিলিয়ে সে একজন বয়সে বড়ো নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেয়। সিঙ্গেল মাদারকে বিয়ে করার এই সাহসী সিদ্ধান্তটি সামাজিকভাবে তার কিছুটা ইমেজ উদ্ধার করেছিল । নিন্দুকেরা ধারণা করেছিল, সালমান নিজের নষ্ট হওয়া ভাবমূর্তি ফিরে পেতেই এই পথ বেছে নিয়েছিল। কিন্তু সালমান যে পর্দার আড়ালে তার চেয়েও বেশি ধুরন্ধর, তা কে জানত!

সালমানের শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক ইতিহাস রহস্যময় ও অন্ধকারাচ্ছন্ন। তার শ্বশুর নুরুল ইসলাম ঢাকার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী; সে মূলত বার ও মদের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক সে। সালমানের স্ত্রীরা দুই বোন। সুতরাং সবকিছু হিসাব নিকাশ করেই সালমান এই সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। আর এখানেই সবচেয়ে রোমহর্ষক ও শিহরণ জাগানো তথ্যটির মুখোমুখি হতে হয়।

সালমানের স্ত্রীর মামার নাম সুইডেন আসলাম। নামটি উচ্চারণ করলেই মেরুদণ্ডে একপ্রস্থ শীতল স্রোত বয়ে যায়। কারো কারো মনে পড়ে যেতে পারে অতীতের সেই ভয়াল দিনগুলোর কথা, যখন খবরের কাগজের পাতায় পাতায় আসত দেশের শীর্ষ অপরাধীদের ত্রাসের রাজত্বের নানা চাঞ্চল্যকর বিবরণ। সুইডেন আসলাম হলো বাংলাদেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী ও পেশাদার খুনী। রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা পুরোপুরি তার ইশারায় চলত। আজ থেকে প্রায় সাতাশ বছর আগে শেখ হাসিনার শাসন আমলেই তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছিল। আমি পুরাতন খবরের কাগজ থেকে সুইডেন আসলামের ব্যাপারে জেনেছিলাম।

সেই ভয়ংকর মানুষটি গত ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে গেছে। এখন সময়ের হিসাবগুলো একটু মেলাতে হবে। সালমান বিয়ে করেছিল ২০২৩ সালের ৩০শে মে। আর তার ঠিক পরের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে কোটা আন্দোলন। সালমানের স্ত্রীর সাথে তার নানীর পরিবারের যোগাযোগ ছিল না, তা কি কখনো বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে ? জুলাই আন্দোলনে সালমানের সরব উপস্থিতি এবং সুইডেন আসলামের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তিলাভ-ঘটনা দুটি কি নিছকই কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো অদৃশ্য সমঝোতা?

এমন কোনো প্রত্যক্ষ বা অকাট্য প্রমাণ আমার হাতের মুঠোয় নেই, যা দিয়ে জোর গলায় বলতে পারব যে সালমান এই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেয়েছিল। কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো, এই সংশয় কেন মানুষের মনে জাগবে না? সুইডেন আসলাম এখন আইনগতভাবে সালমানের মামাশ্বশুর। সম্প্রতি যখন সন্ত্রাসীরা তার ইসিবি স্টুডিওতে ভাঙচুর চালায়, তখন হামলাকারীরা সুইডেন আসলামের নাম শোনার পরেই আরও বেশি হিংস্র ও আগ্রাসী হয়ে উঠেছিল। এই বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করে দেখা দরকার।

জুলাই মাসে সালমান রাজধানীর অভিজাত এলাকার কিছু তরুণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে শোডাউন করেছিল। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সালমান মুক্তাদীর সেই আন্দোলনে না নামলেও কোটা আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি একচুলও এদিক থেকে ওদিক হতো না। অথচ এর আড়ালে অলৌকিকভাবে মুক্তি পেয়ে গেল এক দুর্ধর্ষ পেশাদার খুনি। শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদে গ্রেপ্তারের পর বিএনপির পুরো দ্বিতীয় টার্মেও যার ভাগ্যের একচুলও পরিবর্তন হয়নি, সেই সুইডেন আসলাম জুলাই পটপরিবর্তনের পর দিব্যি জামিনে বেরিয়ে এল!

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসাবে সালমানের নৈতিকতার মানদণ্ড তলানিতে ঠেকলেও তার সামাজিক প্রভাবে এখনো ভাটা পড়েনি। অতীতে সে যেমন পুরো একটি প্রজন্মের সাংস্কৃতিক ও নৈতিক চরিত্র ধ্বংস করে দিয়েছিল, বর্তমান সময়ে এসে রীতিমতো দুর্ধর্ষ কিলার ও গ্যাংস্টারদের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তাদের সমাজের চোখে মর্যাদাবান করে তুলছে। দেশের অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকদের এখনই সময় গভীরভাবে তালাশ করা-সালমানের জুলাই আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার প্রকৃত অভিসন্ধি কী ছিল। সুইডেন আসলামের আকস্মিক মুক্তির সঙ্গে তার কোনো যোগসাজশ আছে কি না। এমন সুবর্ণ সুযোগ কারো হাতছাড়া করা উচিত হবে না ।

ফটোকার্ড ক্রেডিট: ট্রেন্ডলাইন




মন্তব্য ১২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

raselabe বলেছেন: নিজেই তো অনেক তালাশ ( তালশাঁস) বের করে আন্দাজে বলে গেছো, অন্যেরা এখানে আর কি বলবে? অনুমান নির্ভর গল্প বা উপন্যাস হয় কারু চরিত্র বা অবদান লিখা হয় না।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:১৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আন্দাজে কি বলেছি ? সালমানের সাথে সুইডেন আসলামের রিলেশন আছে । না জেনে বলছি না । আর জুলাই আন্দোলনে সালমানের মতো পাবলিক না গেলে কিছুই হতো না ।

২| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সালমান মুক্তাদীর হলো বাংলার ক্যাসানোভা,
যার গার্লফ্রেন্ডের সঠিক সংখ্যা কারো জানা নেই।

..............................................................................
তাহলে বিয়ে করার প্রয়োজন ছিল কি ?

সালমান বিয়ে করেছিল ২০২৩ সালের ৩০শে মে।
সে বিয়ে করেছে বয়সে সিনিয়র এবং দুই সন্তানের জননীকে।
...................................................................................
তাহলে অসংখ্য গার্লফ্রেন্ডে কোথায় গেল ? তাহার স্ত্রীর নামটি
উল্লেখ করলে চিনতে পারতাম ।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আশা করি চিনতে পেরেছেন ।

৩| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২০

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ফেসবুক থেকে প্রাপ্ত তথ্য মিলায়ে নিন ।
..............................................................
Halima Akter Toma is in Dhaka.
·
Follow a day ago
·
নুরুল ইসলাম নামে এক #Businessman আছে ঢাকা শহরে। খুব একটা লাইম লাইটে নাই। তবে তার সহায় সম্পত্তি, অর্থবিত্ত সবমিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা
অর্থাৎ ১৫,০০০,০০০0০০০ টাকা৷
উনার #উপার্জিত অর্থের প্রায় পুরোটাই #অবৈধ। ঢাকা শহরের #আন্ডারওয়ার্ল্ড এর #সুইডেন আসলাম তার শালা। কথিত শালা ও হতে পারে। এই রেফারেন্স আর ব্যাকাপে #তেঁজগায় শিল্পাঞ্চল ও এই জোনে হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদ লুটপাট করেছে।
নুরুল ইসলাম এর প্রধান পেশা #মদ বেচাকেনা! জ্বী ঢাকা মহানগর সহ বাংলাদেশের সব মদের ওয়ার হাইজের একক মালিক সে।
নুরুল ইসলাম এর কোন ছেলেনাই৷ ২ কন্যা। একজনের নাম তাসনিম বর্ষা ইসলাম বা RJ তাজ ---- অপরজন দিশা ইসলাম।
এই দিশা ইসলাম টা কে?
: #ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের ওয়াইফ। Salman Mohammad Muqtadir
সালমান কেন #বিবাহিত এই মহিলাকে ২ বাচ্চা কে সহ #বিয়ে করলো?
শুধুই #ভালোবাসার জন্য?
: সালমান আগাগোড়া একটা বিজনেস মাইন্ডেড ছেলে। ওর মার্কেটিং লাইন আপ ভালো। দিশা তার বাপের পৈতৃক #সম্পত্তির ২০ হাজার কোটি টাকার অর্ধেক ১০ হাজার কোটি টাকা পাবে। এই #অর্থ আর সাম্রাজ্য ঘুরেফিরে সালমান এর হাতেই উঠবে কয়েক বছর এর মধ্যে। অলরেডি বড় একটা অংশের মালিকানা ও পেয়েছে৷ সালমান জেনে বুঝেই কোপ টা দিছে এইখানে।
দিশা ইসলাম এর প্রথম স্বামী #শ্রীলঙ্কান। সালমান এর বউয়ের যে ২ মাইয়া। এরা অরিজিনাল শ্রীলঙ্কান। দিশার আগের সংসারের।
দিশাকে বিয়ে করার মূল উদ্দেশ্য একটাই মদের এই সিন্ডিকেট এর ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণভার তার কন্ট্রোলে নেওয়া।
নুরুল ইসলাম এর ৭ টা বার।
১-ডিপিএল - গ্রিন রোড ফার্মগেট
২-ফুওয়াং- তেঁজগাও ব্রাঞ্চ।
৩-ফুওয়াং- কক্সবাজার ব্রাঞ্চ।
৪-বুফেট লাউঞ্জ- কুয়াকাটা।
৫-আইরিশ ক্লাব- পোস্তগোলা।
৬-হলিদি বার- ডেমরা, কোণাপাড়া।
৭- থাইক্লাব- মিরপুর।
এই ৭ টা বার মূলত ব্ল্যাক মানি হোয়াইট করার জায়গা। আর মানি লন্ডারিংয়ের হাব!
নুরুল ইসলাম এর ২ টা ওয়্যার হাউজ আছে।
১- এইচ কবির, তেজঁগাও, ঢাকায়।
(সাবেক মালিক রাকিব রানা আংকেল, ইউনিয়ন গ্রুপ)
২- টসবন্ড - রোড ১৩০ - গুলশান ঢাকা
তার আয়ের প্রধান উৎস,
বিনা শুল্কে মদের আমদানি, সংরক্ষণ ও খুচরা বিক্রির একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক। কাগজে সবকিছু বৈধ দেখালেও বাস্তবে এই নেটওয়ার্কের বড় অংশ চলে ট্যাক্স ফাঁকি, ক্যাশ ট্রানজেকশন ও রেকর্ড ম্যানিপুলেশনের ওপর।
প্রশ্ন হলো,
একটি উচ্চ-নিয়ন্ত্রিত পণ্যের ব্যবসা কীভাবে এত কম আলোচনায় থেকে যায়?
আন্ডারওয়ার্ল্ড রেফারেন্স আর জামায়াত বিএনপি ও প্রশাসনের সবাইকে টাকা পয়সা দিয়ে। আওয়ামী লীগ আমলে এই নুরুল ইসলাম সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী ছিল। আমলাদের ম্যানেজ করে।
সীমিত লাইসেন্সে আমদানি, আংশিক ভ্যাট–ট্যাক্স পরিশোধ, ওয়্যারহাউজে স্টক ঘোরানো, নিজস্ব বার–লাউঞ্জে অতিরিক্ত বিক্রি দেখানো, বিপুল ক্যাশকে ব্যবসায়িক আয় বানানো!
এভাবে প্রতি বছর প্রায় হাজার কোটি টাকার অর্থ সিস্টেমের বাইরে ঘোরে। এগুলো মানি কনভার্সন সেন্টার। ভুয়া ইভেন্ট, অতিরিক্ত বিলিং, ক্যাশ-হেভি সেল। সব মিলিয়ে ব্ল্যাক মানি ধোয়ার নিখুঁত কাঠামো।
এত বড় অপারেশন কি একা সম্ভব?
: না নুরুল ইসলাম ক্লান্ত। উত্তরাধিকার, বিয়ে এবং ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে। বিজনেস লাইন ও ট্রান্সফার হয়েছে। কারণ নুরুল ইসলাম এর কোনো পুত্র নেই। দুই কন্যা। তাই সালমান চান্স টা গ্রহণ করে, আড়ালে এই নেটওয়ার্ক এখন তার হাতে।
নুরুল ইসলাম এর একটা ওয়্যারহাউজ এর ও সব চালানের কাগজ নেই, স্টক আর রেকর্ডে গরমিল, ব্যাচ নম্বর মিল নাই।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রেইড দিলে হাজার কোটি টাকার গড়মিল এক রাতেই পাবে। কিন্তু দিবে না। কারণ এইখানে বর্তমানে জামায়াতের ব্যাকাপ আছে।
**জুলাই মাসের পর ২৪ এর জেল থেকে মুক্তি পাওয়া বড় বড় জঙ্গিদের পেছনে নুরুল ইসলাম এর অবৈধ মদ বিক্রির টাকা থেকে ও ফান্ড যায় ! এটা সালমান ও দিশার হাত দিয়ে। অনেকেই ভাবে সালমান ডলার খেয়ে আন্দোলন করেছিল শীর্ষ জঙ্গিদের হয়ে - জুলাই যোদ্ধাদের পাশে নিয়ে এটা ভুল। সালমান নিজেই ইনভেস্ট করে। আর এই ১ বছরে তারচেয়ে ৫০০ গুণ বেশি উঠাইয়া নেয় অবৈধ মদ আমদানি করে! বাংলাদেশে জংগীবাদ ও ইসলামের নামে সন্ত্রাসবাদের সাথে একটি দল কতটা নিবিড়ভাবে জড়িত তা সবাই জানে। অনেকেই হয়তো জানেন না বোমা হত্যা ও বিভিন্ন মামলায় জড়িত জংগী'রা অস্বাভাবিকভাবে জামিন পেতে শুরু করেন জুলাই মাসের পর।
এক কথায় -
জঙ্গিদের অস্বাভাবিক জামিন ও মুক্তি — জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলনের পর (বিশেষ করে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর) জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত শত শত ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষের হিসেবে এ সংখ্যা ৩০০+ (পরবর্তী রিপোর্টে ৩৪৬ জন)।
মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে কারা আছে — সন্দেহভাজন, বিচারাধীন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, শীর্ষ সন্ত্রাসী (যেমন: মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী), দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার আসামি, এবং বিভিন্ন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্য (যেমন: আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, জেএমবি ইত্যাদি)।
বিবিসি বাংলার রিপোর্ট — ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর জঙ্গিবাদের মামলায় অভিযুক্ত ৩০০+ (পরে নিশ্চিত ৩৪৬) ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযোগ: অর্থায়নের উৎস — এই মুক্তিপ্রাপ্ত বড় জঙ্গিদের পেছনে ফান্ডিং/অর্থায়ন আসে নুরুল ইসলামের অবৈধ মদ বিক্রি ও আমদানির টাকা থেকে। এ টাকা সালমান ও দিশার হাত ধরে যায়।
সালমান সম্পর্কিত দাবি — অনেকে ভাবেন সালমান ডলার/বাইরের টাকা খেয়ে জঙ্গিদের পক্ষে আন্দোলন করেছেন, কিন্তু এটা ভুল। সালমান নিজেই বিনিয়োগ করেছেন এবং গত ১ বছরে অবৈধ মদ আমদানি করে তার চেয়ে ৫০০ গুণ বেশি লাভ তুলেছেন।
সামগ্রিক অভিযোগ — বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও ইসলামের নামে সন্ত্রাসবাদের সাথে একটি নির্দিষ্ট দল খুব নিবিড়ভাবে জড়িত (যা সবাই জানে)।
জুলাইয়ের পর জঙ্গিরা অস্বাভাবিকভাবে জামিন পাচ্ছেন, যা এই সংযোগকে আরও স্পষ্ট করে।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এখানে কিছু কথা ভুল আছে । হেলমেট বাহিনীর সন্ত্রাসী কার্যক্রম চেপে যাওয়া হয়েছে । আওয়ামী লীগের পতন অনিবার্য ছিলো।

৪| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭

সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: নৈতিকতার দিক বিবেচনা করলে সালমানের অবস্থান খুবই খারাপ।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:১৯

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সরকার যখন রাড্ডা ক্লিনিক নিয়ে বিব্রত তখন সালমান গুজব ছড়িয়েছে ।

৫| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
বিশ্লেষণ যথার্থ হয়েছে। সুইডেন আসলাম মামা শ্বশুর এইটা তো জানতাম না।‌ Rj Taz নামে আরেক মেয়ে আছে নুরুল ইসলামের। কিছুদিন দেশে ডিজে-ফিজে, রেডি জকি মকি করেছিলো দেশে এসে; ভাত না পেয়ে আবার বিদেশে চলে গেছে। Ibiza তে এখন বিদেশী নিয়ে নগ্ন পার্টি করে।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জামায়াত এবং আওয়ামী লিগ এই ঘটনার পিছনে জড়িত ।

৬| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৮

রাজীব নুর বলেছেন: রসিকে সাপ ভাবা বন্ধ করুন।
অতি তুচ্ছ বিষয়কে টেনেটুনে লম্বা করেন। অযথাই।
ফালতু বক বক করতে গিয়ে আপনি আসল কথা হারিয়ে ফেলেন।
সালমানের স্টুডিও ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে চাঁদার জন্য। এটাই মুল সমস্যা। আসামী এখনো ধরা পরে নাই। অথচ শিলং সালাদিন চ্যাটাং চ্যাটাং করেই যাচ্ছে। একটা চাঁদা বাজ কে ধরতে পারেনি।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৩

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার কাছে যেটা তুচ্ছ আমার কাছে সেটা দরকারি । আমি সবসময় মনে রাখতে চাই কার অরিজিন কোথায় । এতে কারো কারো জ্বালা ধরা স্বাভাবিক । চাঁদাবাজী যেখানে হয়েছে সেটার কথাও বলেছি । তবে সালমান মিয়ার বাড়িতে চাদাবাজীর ঘটনা ঘটেনি । সেখানে আওয়ামী লিগ এবং জামায়াতের লোকদের মাঝে জমি দখল নিয়ে ভাংচুর হয়েছে । পাশাপাশি একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী এভাবে ছাড়া পেয়ে গেলো যেটা সঠিক বলে আমার কাছে মনে হয় না ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.