| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।
ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।
পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার স্ত্রী আর তিন তিনটি সন্তান রয়েছে তার।
নামাজ-কালাম যারা নিয়মিত পড়েন তাদের কারো কারো কপালে কুখ্যাত এস আলমের কপালে যে ধরণের কালো দাগ আছে সে প্রকৃতির দাগ দেখা যায়। হাজি সাহেবের কপালেও তেমন দাগ স্পষ্ট। এ বিবেচনায় তাকে ভাগ্যবান বলতেই হয়, কারণ, আমাদের অনেকে পাঁচ-ছয় ওয়াক্ত নামাজ পড়েও কপালে সেই কাঙ্খিত দাগটি ফেলতে পারিনা। এ দাগ যাদের কপালে আছে তারা যে নিয়মিত নামাজ পড়েন সে কথা আলাদা করে বলে দিতে হয়না।
দেশবিদেশে বিভিন্ন প্রকারের ব্যবসা আছে হাজী মামুনের। সে কারণে বিদেশ ভ্রমন তাকে একপ্রকার নিয়মিতই করতে হয়। সে ধারায় কিছুদিন আগে তিনি চায়না গেলেন এক কোম্পানির আমন্ত্রণে। কোম্পানি তাকে তাদের প্রোডাক্ট দেখাবে, আর, সে প্রোডাক্ট মনঃপুত হলে মামুন তা বাংলাদেশে আমদানি করে বাজারজাত করবেন - এমনই পরিকল্পনা।
চীন দেশে অনেক বাংলাদেশী কাজ করে আজকাল। সেই চীনা কোম্পানি তাদের প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত এক টগবগে বাংলাদেশী তরুণকে দায়িত্ব দিলো মামুন সাহেবের দেখভাল করার। এ তরুণ দেশ থেকে এমবিএ করে চায়না গিয়ে সেখানে চাইনীজ ভাষা শিখে কোম্পানির মার্কেটিং টীমে কম বয়সেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান করে নিয়েছে।
তরুণ এয়ারপোর্টে এসে শ্মশ্রুশোভিত বয়স্ক ভদ্রলোক মামুন সাহেবকে রিসিভ করে আগে থেকে তার জন্য বুক করা এক হোটেলে নিয়ে গেলো। এর আগে ভিডিও কলে কয়েকবার কথাবার্তা বলে তরুণ মামুন সাহেবের ধার্মিক মনমানসিকতা নিয়ে বেশ ভালো একটা ধারণা পেয়েছিল। একারণে সে যথাসম্ভব মুসলমানবান্ধব একটা হোটেল তার জন্য বুক করেছিল। একইসাথে, হোটেলে খাবারদাবারও যেন হালাল হয় সেদিকেও তরুণ নজর রেখেছিল।
হাজি মামুন হোটেলে তার কক্ষে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে তরুনের কাছে জানতে চাইলেন সেখানে ভালোমানের বার আছে কিনা।
মেহমানের চাহিদা শুনে তরুণ যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলো না। তাই, সে আরেকবার জানতে চাইলো, তিনি আসলেই মদ পান করা যায় সে ধরনের বার-এর কথা বলছিলেন কিনা।
কিছুটা বিরক্তির সুরে মেহমান বললেন, 'হ্যাঁ, তাই বলছি।'
তরুণ তাৎক্ষণিক জবাব দিলো, 'সমস্যা নেই, আমি হোটেলকে সেভাবে বলে দেব।'
উত্তর শুনে মামুন বললেন, 'এই হোটেলে কি একটু আনন্দ-ফুর্তি করার ব্যবস্থা আছে? মানে বুঝলে তো, দেশে আমরা অনেক খাটাখাটুনি করি, কিন্তু, সেখানে এমিউজমেন্টের ব্যবস্থা সেভাবে নেই, আর, থাকলেও সবাই সেখানে যেতে পারেনা ...'
তরুণ বললো, 'জী, বুঝেছি; তবে আপনি ঠিক কি ধরনের আনন্দ-ফুর্তি করতে চাচ্ছেন তা নিয়ে সরাসরি হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে পারেন, আমি সে ব্যবস্থা করে দেব। আর, আপনি চাইলে আমি দোভাষীর কাজটিও করতে পারি।'
ঠিক এ সময়ে মেহমানের অনুমতি নিয়ে তরুণ হোটেলের ম্যানেজারকে ফোন দিয়ে চাইনিজ ভাষায় জানতে চাইলো মেহমানের জন্য কি কি ধরনের আনন্দফুর্তির ব্যবস্থা বা নাইট-লাইফের ব্যবস্থা তারা করে থাকে।
হোটেল ম্যানেজারের সাথে আলাপ শেষে তরুণ মেহমানকে যা জানালো তা শুনে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে তরুণকে বললেন, 'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে, আজকাল জামাতের লোকজনও তো এসব হোটেলে থাকে না, এখানে তো বলতে গেলে এমিউজমেন্টের কিছুই নেই? সোজা কথা, আমার আজ রাতেই মে*** লাগবে।'
অবস্থা বেগতিক দেখে তরুণ তার ম্যানেজারের সাথে জরুরি কথা বলে মামুন সাহেবের জন্য তড়িঘড়ি অন্য একটা হোটেলের বুকিং দিলো। - -
প্রিয় পাঠক, আপনার বিশ্বাস হউক বা না হউক, এটি একটি সত্য ঘটনা। তরুণ নিজেই আমার সাথে কিছুদিন আগে এ কাহিনী শেয়ার করেছে।
- এম এল গনি - কানাডীয় অভিবাসন পরামর্শক, প্রকৌশলী, কলামনিস্ট ও কথাসাহিত্যিক। https://www.facebook.com/moh.l.gani/
২|
১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:২৬
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আমি ৬/৭ বার চায়না গিয়েছি , এরকম কিছু ঘটতে দেখি নাই ।
তবে শুনেছি বেশীরভাগ হোটেলে এরকম ব্যবস্হা থাকে, বিশেষত
স্পার নাম করে । কাষ্টমার চাইলে চুড়ান্ত বিনোদন দিতে রাজী আছে
টাকার বিনিময়ে ।
......................................................................................
চাইনীজদের দোষ দেইনা , তারা নাস্তিক । ব্যবসার জন্য সব
করতে রাজী আছে । সেখানে মেয়েদের মূল্য খুবই সস্তা !!!
৩|
১৯ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৭:৩৫
আলামিন১০৪ বলেছেন: সেই তরুনকে আপনি বিশ্বাস করেছেন? তার বোধ হয় অনেক দৌড় ঝাপ হয়েছে- মনের মাধুরী মিশিয়ে গল্প ফেদেছে সে কারণে-
আর যদি বুড়োটা সেরকম চেয়েও থাকে- তাহলে আমি বলব ব্যতিক্রম কখনো উদাহরণ হতে পারে না
৪|
১৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫
রাজীব নুর বলেছেন: ওকে।
৫|
১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৪
আব্দুল হাদী আল নাফী খান বলেছেন: বাংলাদেশী প্রশাসনের ছোট থেকে শুরু করে বড় কর্তাদের একটা বড় অংশ বাইরে আসার জন্য মুখিয়ে থাকে, লাল পানির আশায়। কেউ কেউ আবার ক্যাসিনোও খেলে।
আমি কিছু মুসলিম নিয়ে এই প্রশ্ন বেশ কবার পেয়েছি যে, এরা পর্ক খাচ্ছেনা হারাম বলে, কিন্ত মদ খাচ্ছে কেন?
আমার নিজের দেখায়, পর্ক খাচ্ছে না, কিন্তু ঠিকমত জবাই করা না হলেও গোশত হারাম, কিন্তু সেটা খাচ্ছে।
এরপর, অনেকেই হারাম সোর্স থেকে ইনকাম করে। আমার অনেক মুসলিমই নিজে হয়ত খায় না কিন্তু দোকানে মদ বিক্রি করে।
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:১৮
সাইবার সোহেল বলেছেন: ঘটনাটি পড়ে একটুও অবাক হইনি, কারণ, আমরা বংলাদেশীরা এমনই..। চীনে গিয়ে হুবহু নকল পন্য বানানোর অর্ডার দিই ক্রেতাকে ধোঁকা দেওয়া জন্য , আর খাওয়ার সময় খুজি হালাল খাবার..। কিংবা, ঘুষ বা মাদকের ব্যবসার টাকা দিয়ে বানাই মসজিদ বা মাদ্রাসা অথবা হজ্জে যাই..।
