নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

মাহে রমজানের ফজিলত, গুরুত্ব ও তাৎপর্য

২৯ শে মে, ২০১৭ সকাল ১১:৪৪

সমস্ত প্রশংসা, শোকর, ছানা, হামদ সেই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার যিনি রমজানকে শ্রেষ্ঠ মাস হিসেবে নির্ধারন করেছেন এবং সে সময় মু'মিন মুসলিমের প্রত্যেক ভাল কাজের প্রতিদান বৃদ্ধি করে দেয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন। আহ! আমাদের সময়গুলো কতই না দ্রুত কেটে যাচ্ছে। চলন্ত মেঘমালার ন্যায় দিনগুলো গন্তব্যের দিকে ছুটে যাচ্ছে দূরন্ত গতিতে! বছর কতই না দ্রুত কেটে যাচ্ছে! আর আমরা জীবন চলার পথে বেখবর-অলস সময় কাটাচ্ছি! হায়, আমাদের চেতনা কবে ফিরে আসবে! আমরা কখন জাগব! আমাদের মধ্যে কম সংখ্যক লোক এমন আছেন যারা বাস্তবতা ও পরিণতি নিয়ে চিন্তা করছেন অথবা তার থেকে উপদেশ গ্রহণ করছেন। রমজানুল মোবারক আমাদের দ্বারে উপনীত। স্বাগতম প্রিয় মাহে রমজান!

আলহামদুলিল্লাহ। মানব জীবনের সংক্ষিপ্ত এবং নির্ধারিত বয়স ও অল্প সময়ের মধ্যে আল্লাহ তাআলা তার জন্য অধিক পরিমান সওয়াব লাভের জন্য ভাল কাজের কিছু মৌসুম রেখেছেন। তার জন্য স্থান এবং কালের মর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন কখনও কখনও। যে কাল ও স্থানের মাধ্যমে সে তার ত্রুটি বিচ্যুতির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে। সে সব বিশেষ মৌসুমের মধ্য থেকে অন্যতম একটি মৌসুম হল পবিত্র রমজান মাস।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴾ [البقرة:183].
হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।' (সূরা বাকারা, ১৮৩ আয়াত)।

রমজান মাসের আগমনে মুসলিমগণ আনন্দ প্রকাশ করে থাকেন। আনন্দ প্রকাশ করাই স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন :—

قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ (يونس: 58)

বল, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায়। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। তারা যা সঞ্চয় করে এটা তার চেয়ে উত্তম। [সূরা ইউনুস : ৫৮]

পার্থিব কোন সম্পদের সাথে আল্লাহর এ অনুগ্রহের তুলনা চলে না, তা হবে এক ধরনের অবাস্তব কল্পনা। যখন রমজানের আগমন হত তখন রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতিশয় আনন্দিত হতেন, তার সাহাবাদের বলতেন :—

أتاكم رمضان شهر مبارك

তোমাদের দ্বারে বরকতময় মাস রমজান এসেছে। এরপর তিনি এ মাসের কিছু ফজিলত বর্ণনা করে বলতেন :—

فرض الله عز وجل عليكم صيامه، تفتح فيه أبواب السماء، وتغلق فيه أبواب الجحيم، وتغل فيه مردة الشياطين، لله فيه ليلة خير من ألف شهر، من حرم خيرها فقد حرم. رواه النسائي

আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য সিয়াম পালন ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দ্বারসমূহ খুলে দেয়া হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো। অভিশপ্ত শয়তানকে বন্দি করা হয়। এ মাসে রয়েছে একটি রাত যা হাজার রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে মূলত সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল। বর্ণনায় : নাসায়ী
আমাদের কর্তব্য : আল্লাহর এ অনুগ্রহের মূল্যায়ন করতে চেষ্টা করা, এ মাসের ফজিলত ও তাৎপর্য অনুধাবনে সচেষ্ট হওয়া ও ইবাদত-বন্দেগিসহ সকল কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত থাকা।

রমজান মাসে মুমিন বান্দার উপরে শয়তানি প্রবৃত্তির আক্রমণ কম হয়, রাত দিনে মন নরম থাকে। একজন দেখা যায় তার গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইছে, আর একজন আনুগত্যের তাওফীক প্রার্থনা করছে। তৃতীয়জনকে দেখা যায় আল্লাহর শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছে, চতুর্থজন ভাল কাজের ফলাফল সুন্দরভাবে পাওয়ার আশা করছে, পঞ্চম জনকে দেখা যায় তার প্রয়োজনের জন্য প্রার্থনা করছে। তিনিই মহান যিনি তাদেরকে তাওফীক দেন। অনেক লোক এমন আছে যারা এ সমস্ত কাজ থেকে দুরে অবস্থান করছে।

রমজান মাসের ফজিলত:
রমজান মাস শক্তি অর্জন ও দানের মাস। এ মাসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম মক্কা বিজয়ের জন্য যুদ্ধ করেছেন। তখন তিনি এবং সমস্ত মুসলমান সিয়াম অবস্থায় ছিলেন, আর এ রমজানেই বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়ছিল। এ সমস্ত যুদ্ধে ইসলামের পতাকা সমুন্বত হয়েছিল, মূর্তি এবং পৌত্তলিকতার পতাকা অবনমিত হয়েছিল। এ মাসে মুসলমানদের অনেক যুদ্ধ জিহাদ এবং কুরবানি সংঘঠিত হয়েছে।

রমজানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম ও তাঁর সাহাবারা অধিক পরিমাণে শক্তি, সজিবতা এবং ইবাদতের জন্য ধৈর্য ধারণ করার উদ্যম অনুভব করতেন, তাইতো রমজান মাসকে সৎকাজ, ধৈর্য ও দানের মাস বলা হয়। রমজান দুর্বলতা, অলসতা, ঘুমানোর মাস নয়। কোন কোন সিয়াম পালনকারীকে হাত পা ছেড়ে দিয়ে, দিনের বেলায় ঘুমাতে, কাজ কম করতে দেখা যায়। এমন আচরণ সিয়ামের তাৎপর্যের বিরোধী। সিয়ামের উদ্দেশ্যের সাথে মিলে না।

পূর্বেকার মুসলমানেরা রমজান যাপন করতেন তাদের অন্তর এবং অনুভূতি দিয়ে। রমজান আসলে তারা কষ্ট করতেন। ধৈর্যের সাথে দিন যাপন করতেন। আল্লাহর ভয় এবং পর্যবেক্ষণের কথা তাদের স্মরণ থাকত। তার সিয়াম নষ্ট হয় অথবা ত্রুটিযুক্ত হয় এমন সব কিছু থেকে দুরে থাকতেন। খারাপ কথা বলতেন না, ভাল না বলতে পারলে নীরব থাকতেন।

তারা রমজানের রাত্রি যপন করতেন সালাত, কোরআন তেলাওয়াত, আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামের অনুসরণ করেই। সিয়ামের উপকার অথবা ফজিলত অনেক। তা গণনা করে শেষ করা যাবে না। তবে খেলাধুলা ও রং তামাশায় মত্তব্যক্তিরা কিংবা অলস শ্রেণির লোকজন যারা সারাদিন ঘুমিয়ে কাটায়, এবং রাত্রে বাজারে ঘুরে বেড়ায় তারা রমজানের এসব ফজিলত থেকে বঞ্চিত থাকবে।

সিয়াম আগুন থেকে রক্ষাকারী ঢাল:
ইমাম আহমাদ রহ. তার কিতাবে জাবের রা. থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
{ إنما الصيام جنة، يستجنّ بها العبد من النار }.

সিয়াম প্রবৃত্তির তাড়না থেকে বাঁচার জন্য ঢাল এর মাধ্যমে বান্দা আগুন থেকে মুক্তি পায়।
ইবনে মাসউদ রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
{يا معشر الشباب من استطاع الباءة فليتزوج، فإنه أغض للبصر وأحصن للفرج، ومن لم يستطع فعليه بالصوم، فإنه له وجاء } [أخرجه البخاري ومسلم].
হে যুবকেরা! যে সামর্থ রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা তা দৃষ্টিকে সংরক্ষণ করে এবং যৌনাঙ্গের হিফাজত করে। যে বিবাহের সামর্থ রাখে না সে যেন সিয়াম পালন করে। কেননা এটি তার জন্য সুরক্ষা। (বুখারী মুসলিম)।

সিয়াম জান্নাতের পথ:
ইমাম নাসাঈ রহ. আবু উমামা রা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আমাকে এমন বিষয়ের নির্দেশ দেন যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে প্রতিদান দেবেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলইহি অসাল্লাম বলেন:
{ عليك بالصيام فإنه لا مثل له }.
তুমি সিয়াম পালন কর। কেননা এর কোন তুলনা নেই।

জান্নাতে একটি দরজা আছে সেখান দিয়ে শুধু সিয়াম পালনকারী প্রবেশ করবে। সাহল ইবনে সাআদ রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
{ إن في الجنة باباً يقال له: الريّان، يدخل منه الصائمون يوم القيامة، لا يدخل منه أحد غيرهم، يقال: أين الصائمون، فيقومون، لا يدخل منه أحد غيرهم، فإذا دخلوا أغلق، فلم يدخل منه أحد } [أخرجه البخاري ومسلم].
জান্নাতে একটি দরজা আছে যার নাম রাইয়ান। কিয়ামত দিবসে সেখান দিয়ে সিয়াম পালনকারী প্রবেশ করবে। সে দরজা দিয়ে অন্য কেহ প্রবেশ করবে না। বলা হবে: সিয়াম পলনকারী কোথায়? তারা দাঁড়াবে, তারা ছাড়া আর কেহ প্রবেশ করবে না। তারা প্রবেশ করার পর দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। আর কেহ সে স্থান দিয়ে প্রবেশ করবে না। (বুখারী মুসলিম)।

সিয়াম পালনকারীর জন্য সিয়াম সুপারিশ করবে:
ইমাম আহমদ রহ. আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেন:
{ الصيام والقرآن يشفعان للعبد يوم القيامة، يقول الصيام: أي رب منعته الطعام والشهوات بالنهار فشفّعني فيه، ويقول القرآن: منعته النوم بالليل فشفّعني فيه، قال: فيشفعان }.
সিয়াম এবং কোরআন বান্দার জন্য কিয়ামত দিবসে সুপারিশকারী হবে, সিয়াম বলবে, হে প্রভু আমি তাকে দিনের বেলায় খাওয়া এবং প্রবৃত্তির তাড়না থেকে নিবৃত্ত রেখেছি, তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাত্রের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি, তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন, আল্লাহ তাআলা বলবেন: তাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হল।

সিয়াম গুনাহের ক্ষমা এবং কাফফারা হিসাবে গৃহিত হয়:
কেননা ভাল কাজ অন্যায়কে মুছে দেয়। আবু হুরায়রা রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
{ من صام رمضان إيماناً واحتساباً غفر له ما تقدم من ذنبه } [رواه البخاري ومسلم].
যে রমজানে ঈমান এবং এহতেসাবের সাথে সিয়াম পালন করবে, আল্লাহ তার পূর্বের গোনাহ মাফ করে দেবেন। (বুখারী মুসলিম)
সিয়াম ইহকাল এবং পরকালের সৌভাগ্যের কারণ: আবু হুরাইরা রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
{وللصائم فرحتان: فرحة حين يفطر، وفرحة حين يلقى ربه، ولخلوف فم الصائم أطيب عند الله من ريح المسك } [رواه البخاري ومسلم].
সিয়াম পালনকারীর দুটি খুশি, প্রথম খুশি যখন সে ইফতার করে, আর এক খুশি যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে। সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশক আম্বরের চেয়ে অধিক প্রিয়। (বুখারী মুসলিম)

রমজানে সুযোগ কাজে লাগানো:
এ বছর রমজান মাস কি আল্লাহ তাআলার দিকে ফিরে আসার মৌসুম হবে, এবং নিজের হিসাব নিকাশের সুযোগ করে দেবে, আর আল্লাহর সামনে নিজের গোনাহের ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ করে দেবে?
সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য সত্যিকারভাবে ইসলামী জীবন যাপন করার সুযোগ এনে দেবে কি এ মহান মাস?
এ মাস কে দাওয়াত দানকারীগণ তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দৃষ্টি-ভঙ্গি পাল্টিয়ে নুতন করে চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। এ কথা চিন্তা করে যে, তারা সর্বোত্তম দাওয়াতের দায়িত্ব পালনকারী। এবং তারা অতি উত্তম উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন। তারা নিজের সত্তার চিন্তা এবং তার জন্য ঘোরাফেরা করা থেকে মুক্ত হয়ে শুধু আল্লাহর নিকট যা আছে তা উত্তম ও স্থায়ী মনে করে কাজ করবে।

এ মাসটি প্রত্যেক মুসলমান তার মুসলমান ভাইকে সাহায্য করার মাস হিসাবে গ্রহণ করতে পারে। হোক না সে অত্যাচারী অথবা অত্যাচারিত। অত্যাচারীর অত্যাচার প্রতিরোধ করে তাকে সাহায্য করবে। অত্যাচারিতকে সাহয্য করবে তার সহযোগিতার মাধ্যমে। এর মাধ্যমে মুসলমান সমাজে সর্বত্র ভাল পরিবেশ তৈরী হবে।

এ মাসটি ধনী এবং আড়ম্বরপূর্ণ জীবন যাপনকারীদের জন্যও বিরাট সুযোগ। তাদের কাজ-কর্ম এবং অনুভূতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য তারা যেন দরিদ্রদের প্রয়োজন ও ব্যথা অনুভব করতে পারে। নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে। আল্লাহ যে পথে ব্যয় করতে সম্পদ দিয়েছেন সে পথে তারা সম্পদ ব্যয় করতে পারে। মুসলিম উম্মাহর মধ্যে যারা ক্ষুধার্ত আছে তাদের বাঁচাতে তারা যেন এগিয়ে আসতে পারে। তারা যদি তাদের ক্ষুধার্তদেরকে না খাওয়ায়, বস্ত্রহীনদেরকে বস্ত্র না দেয় আর দুর্বলদেরকে সাহায্য না করে মনে করতে হবে তাদের ঈমান বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে।

রমজান আমাদের নিজেদের জন্য এমন একটি পদ্ধতি অবলম্বনের সুযোগ এনে দেয় যার মাধ্যমে ইসলামী ভাবধারায় অভ্যস্ত হতে পারি। সকলের হাত, পা, চোখ, কান, জিহবা, মুসলমান হয়ে যাবে। যখনই এ সমস্ত অঙ্গ-প্রতঙ্গ নড়া-চড়া করবে তার সৃস্টিকর্তার ইচ্ছা অনুযায়ী করবে । হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন:
{ وما يزال عبدي يتقرّب إليّ بالنوافل حتى أحبه، فإذا أحببته كنت سمعه الذي يسمع به، وبصره الذي يبصر به، ويده التي يبطش بها، ورجله التي يمشي بها } [رواه البخاري].
আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, আমি তাকে ভালবাসি। যখন আমি তাকে ভালবাসি সে আমার কান হয়ে যায় যা দিয়ে সে শোনে। আমার চক্ষু হয়ে যায় যা দিয়ে সে দেখে। হাত হয়ে যায় যা দিয়ে সে ধরে। পা হয়ে যায় যা দিয় সে চলে। (বুখারী)।

এ সমস্ত কিছু রমজানের পাঠশালায় অর্জন করা সম্ভব। যে রমজান আমাদেরকে দৃঢ়তা অবলম্বন ও সত্য গ্রহণের শিক্ষা দেয়। যার মাধ্যমে কুপ্রবৃত্তির সমস্ত দেয়াল ভেঙ্গে যায়। খারাপের ইচ্ছা নষ্ট হয়ে যায়।

সে দৃঢ়তা এবং সুক্ষ্ম নিয়ম কি? যার মাধ্যমে সমস্ত পৃথিবীর মুমিনদেরকে দেখা যায় যে, তারা নির্দিষ্ট সময় পানাহার থেকে বিরত হচ্ছে আবার নির্দিষ্ট সময় পানাহার করছে। অত:পর নিজের নফসকে কুপ্রবৃত্তির মধ্যে পতিত হওয়া অথবা পথভ্রষ্টতার বাতাসে ভেসে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারছে। সে তো কুপ্রবৃত্তি এবং কামনার উদ্রেককারীকে না বলে দেবে। আর এই না বলা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী হয় তাহলে খুব ভাল হয়। সে অশ্লীল কাজ করবে না। ঝগড়া করবে না। উচু স্বরে কথা বলবে না। কোন মূর্খ যদি তার অনুভূতিকে আহত করে ও তার ভিতরের খারাপ জিনিসকে জাগিয়ে তোলে তবুও সে বলবে, আমি সিয়াম পালনকারী।

আর মানুষতো নিজের অভ্যাসের গোলাম। যতই সে চেষ্টা করে ফিরে আসতে পারে না নফসের গোলামী থেকে। কেননা অভ্যাসের বিরাট প্রভাব রয়েছে অন্তর ও নফসের উপর। আমাদের অনেকের পানাহার, ঘুমানো, জাগ্রত হওয়া ইত্যাদির ব্যাপারে অনেক রকম অভ্যাস রয়েছে তার থেকে সে বিরত হতে পারে না। সিয়াম এই সমস্ত অভ্যাস থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বিরাট উপকারী। মুসলমান ইচ্ছা করলে এর মাধ্যমে অনেক অভ্যাস থেকে নাজাত পেতে পারে কোন কষ্ট এবং ক্ষতি ছাড়াই। অত:পর যে সমস্ত অভ্যাস তার ক্ষতি করে সেগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে। যেমন, রাত্রি জেগে অনুষ্ঠান উপভোগ করা, গোনাহ হয় এমন অনুষ্ঠানে যাওয়া, কারো সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা, বিড়ি, সিগারেট, হুক্কা ইত্যাদির অভ্যাস করা। অর্থাৎ এ জাতীয় যত ধরণের নেশা জাতীয় অভ্যাস আছে তা পরিত্যাগ করা। মূলত এ সমস্ত কিছু হয় দুর্বল মানসিকতার কারণে, অথবা এগুলোর নিকট আত্মসমর্পনের কারণে। সুস্থ, ভদ্র ও বিবেকবানরা কখনও এমন কাজ করতে পারে না। যদি সিয়াম পালন করতে চাও তবে হিংসা, গোনাহ এবং অন্যায় থেকে বিরত থেকে সিয়াম পালন কর। সিয়াম অবস্থায় জিহবাকে অহেতুক কথা থেকে, দৃষ্টিকে হারাম থেকে বিরত রাখ। অনেক সিয়াম পালনকারী আছেন তার সিয়াম উপবাস এবং পিপাসিত থাকা ছাড়া আর কোন উপকারে আসে না। সে ঐ ব্যাক্তি যে আহার বাদ দিল, কিন্তু গীবতের মাধ্যমে নিজের ভাইয়ের গোস্ত খাওয়া থেকে বিরত হতে পারল না। পান করা থেকে বিরত থাকল কিন্তু মিথ্যা, ধোকা, মানুষের উপর অত্যাচার থেকে বিরত হল না।

সিয়াম পালনকারীর জন্য নসিহত :
মনকে প্রশস্ত কর, জিহবাকে খাটো কর, অন্যায় এবং ঝগড়া থেকে দুরে থাক। যদি বিচ্যুতির পথ দেখ তবে নিজেকে সামলে নাও। তোমার ভাইদের থেকে যদি কষ্ট পাও তাহলে ধৈর্য ধারণ কর। কেহ যদি তোমার সাথে ঝগড়া শুরু করে তবে তুমি তার মত করো না। বরং তুমি বলবে, আমি সিয়াম অবস্থায় আছি।

এ মাসের বরকত:
এ মাসের অন্যতম বরকত হল ভাল কাজের প্রতিদান অনেক বেড়ে যায়। যেমন, রাত্রে দাড়িয়ে নামাজ আদায় করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের রাত্রে দাড়িয়ে নামাজ পড়তে উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেন:
{ من قام رمضان إيماناً واحتساباً غفر له ما تقدم من ذنبه } [رواه البخاري ومسلم].
যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে রমজানের রাত্রে দাড়িয়ে নামাজ আদায় করবে আল্লাহ তাআলা তার পূর্বের গোনাহ মাফ করে দেবেন। (বুখারী) মুসলিম)
এ মাসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দানের কথা বলতে গিয়ে সাহাবায়ে কেরাম বলেন:
{ كان النبي - صلى الله عليه وسلم - أجود الناس بالخير، وكان أجود ما يكون في رمضان حين يلقاه جبريل } [رواه البخاري ومسلم]،
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম সমস্ত মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। রমজানে যখন তিনি জিবরীলের সাথে সাক্ষাৎ করতেন আরো বেশি দানশীল হয়ে যেতেন। (বুখারী মুসলিম)

দান সদকা করা ভাল। বিশেষ করে রমজান মাসে বেশি করে করা। রমজান মাসে অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করা, পূর্বসূরীরা রমজান মাসে নামাজে এবং নামাজ ব্যতীত অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করতেন।
এতেকাফ: আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মসজিদে থেকে ইবাদত বন্দেগী করার নাম এতেকাফ।
{ كان النبي - صلى الله عليه وسلم - يعتكف العشر الأواخر من رمضان حتى توفاه الله } [رواه البخاري ومسلم].
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করেছেন।( বুখারী মুসলিম)
রমজান মাসে উমরা করার অনেক ফজিলত রয়েছে। বুখারী ও মুসলিম ইবনে আব্বাস রা. থেকে এ বিষয়ে তাদের কিতাবে বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

সিয়াম পালনকারীর জন্য সাহরী খাওয়া উত্তম:
ইমাম আহমাদ রহ. আবু সাইদ খুদরী রা. থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেন:
{ السحور أكله بركة، فلا تدعوه ولو يجرع أحدكم جرعة من ماء، فإن الله عز وجل وملائكته يصلون على المتسحربن }.
সাহরী বরকতের খাবার। তা খাওয়া থেকে বিরত হবে না। কেহ যদি এক ঢোক পানিও পান করে তবুও সে সাহরী খেল। কেননা আল্লাহ তাআলা এবং ফেরেশতাগণ সাহরীতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য দোয়া করতে থাকেন।

ইফতার তাড়াতাড়ি করা এবং তখন দোয়া করা উত্তম:
ইমাম তিরমিজি রহ. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
{ثلاثة لا ترد دعوتهم: الإمام العادل، والصائم حتى يفطر، ودعوة المظلوم.. }.

কোরআন নাজিলের মাস-
রমজান হল কোরআন নাজিলের মাস : আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন –

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآَنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ : البقرة : 184

রমজান মাস, এতে নাজিল হয়েছে আল-কোরআন, যা মানুষের দিশারি এবং স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী। সূরা বাকারা : ১৮৪
রমজান মাসে সপ্তম আকাশের লওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আকাশে বায়তুল ইজ্জতে পবিত্র আল-কোরআন একবারে নাজিল হয়েছে। সেখান হতে আবার রমজান মাসে অল্প অল্প করে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি নাজিল হতে শুরু করে। কোরআন নাজিলের দুটি স্তরই রমজান মাসকে ধন্য করেছে। শুধু আল-কোরআনই নয় বরং ইবরাহিম আ.-এর সহিফা, তাওরাত, যবুর, ইঞ্জিল সহ সকল ঐশী গ্রন্থ এ মাসে অবতীর্ণ হয়েছে বলে তাবরানী বর্ণিত একটি সহি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। (সহি আল-জামে)

এ মাসে মানুষের হেদায়াত ও আলোকবর্তিকা যেমন নাজিল হয়েছে তেমনি আল্লাহর রহমত হিসেবে এসেছে সিয়াম। তাই এ দুই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে বেশি বেশি করে কোরআন তিলাওয়াত করা উচিত। প্রতি বছর রমজান মাসে জিবরাইল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে পূর্ণ কোরআন শোনাতেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ও তাকে পূর্ণ কোরআন শোনাতেন। আর জীবনের শেষ রমজানে আল্লাহর রাসূল দু বার পূর্ণ কোরআন তিলাওয়াত করেছেন। সহি মুসলিমের হাদিস দ্বারা এটা প্রমাণিত।

জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় ও জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়-
রমজান মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় ও জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয় শয়তানদের। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :—

إذا جاء رمضان فتحت أبواب الجنة، وأغلقت أبواب النار، وصفدت الشياطين. وفي لفظ : (وسلسلت الشياطين) رواه مسلم

যখন রমজান মাসের আগমন ঘটে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদের আবদ্ধ করা হয়। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে-শয়তানের শিকল পড়ানো হয়। (মুসলিম)
তাই শয়তান রমজানের পূর্বে যে সকল স্থানে অবাধে বিচরণ করত রমজান মাস আসার ফলে সে সকল স্থানে যেতে পারে না। শয়তানের তৎপরতা দুর্বল হয়ে যায়। ফলে দেখা যায় ব্যাপকভাবে মানুষ তওবা, ধর্মপরায়ণতা, ও সৎকর্মের দিকে অগ্রসর হয় ও পাপাচার থেকে দূরে থাকে। তারপরও কিছু মানুষ অসৎ ও অন্যায় কাজ-কর্মে তৎপর থাকে। কারণ, শয়তানের কু-প্রভাবে তারা অনেক বেশি প্রভাবিত হয়ে পড়েছে।

রমজান মাসে রয়েছে লাইলাতুল কদর-
আল্লাহ তাআলা বলেন :—

لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ ﴿3﴾ تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ ﴿4﴾ سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ ﴿5﴾ (القدر: 3-5)

লাইলাতুল কদর সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, সে রজনি উষার আবির্ভাব পর্যন্ত। [সূরা আল-কদর : ৩-৫]

রমজান মাস দোয়া কবুলের মাস।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :—

لكل مسلم دعوة مستجابة، يدعو بـها في رمضان. رواه أحمد

রমজান মাসে প্রত্যেক মুসলিমের দোয়া কবুল করা হয়। (মুসনাদ আহমদ)
অন্য হাদিসে এসেছে –

إن لله تبارك وتعالى عتقاء في كل يوم وليلة، (يعني في رمضان) وإن لكل مسلم في كل يوم وليلة دعوة مستجابة. صحيح الترغيب والترهيب.

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রমজানের প্রতি রাতে ও দিনে বহু মানুষকে মুক্তি দিয়ে থাকেন এবং প্রতি রাত ও দিবসে মুসলিমের দোয়া-প্রার্থনা কবুল করা হয়। (সহি আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব)
তাই প্রত্যেক মুসলমান এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজের কল্যাণের জন্য যেমন দোয়া-প্রার্থনা করবে, তেমনি সকল মুসলিমের কল্যাণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জ্ঞাপন করবে।

রমজান পাপ থেকে ক্ষমা লাভের মাস।
যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার পাপসমূহ ক্ষমা করানো থেকে বঞ্চিত হলো আল্লাহর রাসূল তাকে ধিক্কার দিয়েছেন। তিনি বলেছেন :—

.. رغم أنف رجل، دخل عليه رمضان، ثم انسلخ قبل أن يغفر له. .رواه الترمذي

ঐ ব্যক্তির নাক ধুলায় ধূসরিত হোক যার কাছে রমজান মাস এসে চলে গেল অথচ তার পাপগুলো ক্ষমা করা হয়নি। (তিরমিজি)
সত্যিই সে প্রকৃত পক্ষে সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত যে এ মাসেও আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল।

রমজান জাহান্নাম থেকে মুক্তির লাভের মাস-
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :—

إذا كان أول ليلة من رمضان صفدت الشياطين ومردة الجن، وغلقت أبواب النار، فلم يفتح منها باب، وفتحت أبواب الجنة فلم يغلق منها باب، وينادي مناد كل ليلة : يا باغي الخير أقبل! ويا باغي الشر أقصر! ولله عتقاء من النار، وذلك في كل ليلة. رواه الترمذي

রমজান মাসের প্রথম রজনির যখন আগমন ঘটে তখন শয়তান ও অসৎ জিনগুলোকে বন্দি করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়, এ মাসে আর তা খোলা হয় না। জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, এ মাসে তা আর বন্ধ করা হয় না। প্রত্যেক রাতে একজন ঘোষণাকারী এ বলে ঘোষণা দিতে থাকে যে, হে সৎকর্মের অনুসন্ধানকারী তুমি অগ্রসর হও ! হে অসৎ কাজের অনুসন্ধানকারী তুমি থেমে যাও ! এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে বহু মানুষকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। (তিরমিজি)

রমজান মাসে সৎকর্মের প্রতিদান বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেয়া হয়।
যেমন হাদিসে এসেছে যে, রমজান মাসে ওমরাহ করলে একটি হজের সওয়াব পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, বরং, রমজান মাসে ওমরাহ করা আল্লাহর রাসূলের সাথে হজ আদায়ের মর্যাদা রাখে। এমনিভাবে সকল ইবাদত-বন্দেগিসহ সকল সৎকাজের প্রতিদান কয়েক গুণ বেশি দেয়া হয়।

রমজান ধৈর্য ও সবরের মাস।
এ মাসে ঈমানদার ব্যক্তিগণ খাওয়া-দাওয়া, বিবাহ-শাদি ও অন্যান্য সকল আচার-আচরণে যে ধৈর্য ও সবরের এত অধিক অনুশীলন করেন তা অন্য কোন মাসে বা অন্য কোন পর্বে করেন না। এমনিভাবে সিয়াম পালন করে যে ধৈর্যের প্রমাণ দেয়া হয় তা অন্য কোন ইবাদতে পাওয়া যায় না। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন :—

إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ. الزمر:

ধৈর্যশীলদের তো বিনা হিসাবে পুরস্কার দেয়া হবে। [সূরা যুমার : ১০]

তিন ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ তাআলা ফেরৎ দেন না: ন্যায়পরায়ণ শাষক, সিয়াম পালনকারী যখন ইফতার করে ও অত্যাচারিতের দোয়া।
আল্লাহ পাক আমাদের সকলের সিয়াম সাধনাকে কবুল করুন। আমাদের ভাল কাজগুলোকে আমাদের জন্য নাজাতের উসিলা হিসেবে কবুল করুন। হে আল্লাহ! সিয়াম পালনকারীদের সিয়াম কবুল করুন, দানকারীদের দান কবুল করুন, রাত্রে ইবাদতকারীদের ইবাদত কবুল করুন, প্রার্থনা কারীদের প্রার্থনা কবুল করুন, আমাদের পূর্বের এবং পরের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন, এ মাস যেন আমাদের সকলের জন্য ক্ষমার মাস হয়। আমীন! আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।

লেখাটি তৈরিতে কৃতজ্ঞতা যাদের প্রতি:
১। আবদুল বারী আস-সুবায়তী রচিত রমজানের ফজিলত ও তাৎপর্য প্রবন্ধ, অনুবাদ : আখতারুজ্জামান মুহাম্মাদ সুলায়মান।
২। কুরআনের আলো ডট কম ওয়েসাইট।
৩। আল কুরআন।
৪। বুখারি শরীফ।
৫। তিরমিজি শরীফ।
৬। মুসলিম শরীফ।
৭। আবু দাউদ শরীফ।
৮। নাসায়ী শরীফ।
৯। ইবনে মাজাহ শরীফ।
১০। সহি আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব।
১১। মুসনাদ আহমদ।

মন্তব্য ৪১ টি রেটিং +১২/-০

মন্তব্য (৪১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে মে, ২০১৭ দুপুর ১২:১৫

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: সুন্দর পোস্ট। পুরোটা পড়িনি। একটু একটু করে পড়ে নিবো ইনশাআল্লাহ

নকিব ভাইয়া একটা কথা ছিল-
আচ্ছা জন্মদিন পালন সম্পর্কে কিছু বলবেন। কাল আমার বড় ছেলের জন্মদিন েছিলো। আমি বলেছিলাম যে জন্মদিন পালন গুনাহ। কিন্তু অনেকেই বলেছে যে জন্মদিন পালন গুনাহ কে বলেছে । উপযুক্ত তথ্য দেন।
আর যদি আমরা নিজেরা নিজেরা ঘরোয়াভাবে জন্মদিন পালন করি যেমন ভাল রান্না কিংবা বাচ্চাদের কেক খাওয়ানো কিংবা কিছু গিফট এসব কি গুনাহের পর্যায়ে পড়বে?

২৯ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৩:৩২

নতুন নকিব বলেছেন:



জন্মদিন পালনের বিষয়টি ইসলামের কোন অনুসঙ্গ নয়। এটি একটি স্পষ্ট বিদআত। আর হাদিসে বলা আছে, প্রত্যেক বিদআত গোমরাহীর পথ উম্মুক্ত করে, প্রত্যেক গোমরাহী জাহান্নামের পথ খুলে দেয়। নাউজুবিল্লাহ। মূলত: সঠিকভাবে বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, এই জাতীয় আচার অনুষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই আমাদের প্রতিবেশি ভিন্ন ধর্মীয় কৃষ্টি কালচার ইত্যাদি থেকে মুসলিম সমাজে অনুপ্রবেশ করেছে, আর কিছু সংখ্যক পশ্চিমাদের থেকে গ্রহন করা।

আপনি জন্মদিনের তারিখটিকে নির্দিষ্ট না করে সারা বছরের যে কোন দিন যে কোন সময়ে আপনার বাচ্চাদের ভাল কিছু খাওয়াতে পারেন। গিফট দিতে পারেন। কোন সমস্যা নেই। আপনার অজান্তেই যদি সে ধরনের কোন কাজ করার পরে দেখেন, ঐ তারিখটি আপনার বাচ্চার জন্মদিন ছিল। তাহলে সমস্যা নেই।

এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা পাবেন নিচের লিঙ্কটিতে দেয়া বইয়ের ১৮৬-১৮৭ পৃষ্ঠায়। আশা করি, পড়ে মতামত জানাবেন।
ইসলামী আকীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ

পোস্টটি পড়ার ইচ্ছেকে স্বাগত।

ভাল থাকবেন।

২| ২৯ শে মে, ২০১৭ দুপুর ১২:১৭

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: রমজান মাসে এমন সুন্দর একটি পোষ্টের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ নকিব ভাই।
আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালই আছেন।
আল্লাহ আমাদের সকলকে রমজান মাসের গুরুত্ব অনুধাবন করে সঠিক ইবাদত করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

২৯ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৪

নতুন নকিব বলেছেন:



প্রিয় সোহেল ভাই,
প্রানঢালা অভিনন্দন আপনাকেও।

জ্বি, আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছি।

আপনার দোআর সাথে গলা মেলাচ্ছি-

''আল্লাহ আমাদের সকলকে রমজান মাসের গুরুত্ব অনুধাবন করে সঠিক ইবাদত করার তৌফিক দান করুন। আমিন।''

ভাল থাকবেন ভাই।

৩| ২৯ শে মে, ২০১৭ দুপুর ১:৩০

মানবী বলেছেন: পোস্টটি সময় নিয়ে মনযোগ দিয়ে পড়তে ইচ্ছে করছে। পরে সময় করে পড়বো ইনশাহআ্ল্লাহ্।

পোস্টের জন্য ধন্যবাদ নতুন নকিব।
এই রমজানের সিয়াম সাধনা আর নেক আমলের তৌফিক দেন এবং যেনো কবুল হয় দোয়া করবেন ।


কাজী ফাতেমা ছবি, খুব সম্ভবত জন্মোৎসবকে ক্রিসমাস, জন্মাষ্ঠমীর(নিশ্চিত নই) মতো ধর্মীয় দিবসে পালনের কারণে মুসলিমদের এবিষয়ে অণুৎসাহিত করা আছে। আমি যেটুকু জানি এবিষয়ে বাড়াবাড়ি না করে, উদযাপনকে নিয়মিত উৎসবে পরিণত না করে মাঝে মাঝে করলে হয়তো কোন দোযের নয়। এটা নিতান্তই আমি যা বুঝি, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খন বিশ্লেষনে কি বলে জানা নেই। আমি খুব প্র্যাক্টিসিং মুসলিমদেরও দেখেছি সন্তানের জন্মদিন এবার দুবার পালন করতে। খুব আড়ম্বর করে না হলেও, সাধারণ পারিবারিক দাওয়াতে(জন্মদিনের কথা না জানিয়ে দাওয়াত)র শেষে শুধুমাত্র একটি কেক কেটে সন্তানকে খুশি করা টাইপ অনেকেই করেন এখানে।

২৯ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৩:৪০

নতুন নকিব বলেছেন:



আল্লাহ পাক আপনার মনের ইচ্ছেকে বাস্তবায়িত করার তাওফীক দিন।

আপনার ইসলামিক জ্ঞানও মাশাআল্লাহ উন্নত। আপনার উত্তর প্রায় মিলে যায় ইসলামী আকিদার সাথে। সামান্য কিছুটা ব্যতিক্রম ছাড়া। আলহামদুলিল্লাহ। ইসলাম নিয়ে আরও অধ্যবসায় অব্যহত রাখলে আমাদের প্রানের প্রফুল্লতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

দয়া করে যদি ১ নং কমেন্টের প্রতিমন্তব্যে দেয়া লিঙ্ক থেকে বইটি দেখে নেন, কৃতজ্ঞতা থাকবে।

ভাল থাকবেন নিরন্তর।

২৯ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৫

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনার মত বিশিষ্টজনদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা। আপনার প্রতিটি পোস্ট অসাধারন। গভীর মনযোগ দিয়ে পড়ার মত। আপনার প্রতিটি মন্তব্যও।

আল্লাহ পাক আপনার নেক হায়াত দারাজ করুন। ইসলামের জন্য আপনাকে কবুল করুন।

৪| ২৯ শে মে, ২০১৭ দুপুর ২:৪৫

তারেক ফাহিম বলেছেন: খুব সুন্দর পোষ্ট ভাই, পুরোটি পড়ি নাই সময় নিয়ে পড়ব।

২৯ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৭

নতুন নকিব বলেছেন:



অভিনন্দন! ফাহিম ভাই,
পোস্টটি আপনার কাছে ভাল লাগায় কৃতজ্ঞতা।

জ্বি, সময় নিয়ে পড়ার ইচ্ছাকে স্বাগত।

৫| ২৯ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৪

সমাজের থেকে আলাদা বলেছেন: যতবড় পোস্ট দিয়েছেন, পড়তে পড়তে ঈদ এসে পড়বে।

২৯ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৯

নতুন নকিব বলেছেন:



ভাই,
আপনি আলাদা কেন? কেউ আপনাকে কষ্ট দিয়েছে?

আহারে, না জানি কত কষ্ট এই ভাইটার মনে!

ঈদ এসে গেলে ক্ষতি কি? ঈদের আনন্দ সাথে সামুর পোস্ট পড়ার মজা। এক সাথে দুটোই চলবে।

ভাল থাকবেন।

৬| ২৯ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৫:৫৯

সত্যের ছায়া বলেছেন: রমজানের ফযিলত নিয়ে অনেক সুন্দর এবং তথ্য ভিত্তিক পোষ্ট।

২৯ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:০২

নতুন নকিব বলেছেন:



ভেবেছিলাম কেউ না কেউ একাজে এগিয়ে আসবেন। কিন্তু, কারও কোন উদ্যোগ চোখে না পরায় শেষ পর্যন্ত এ অধমকেই রমজানের প্রাসঙ্গিক সামান্য আলোচনা নিয়ে হাজিরা দিতে হল।

অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা।

ভালো আছেন তো?

৭| ২৯ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:০১

সত্যের ছায়া বলেছেন: ব্যক্তিগত অভিমত: পোষ্টের মন্তব্য পড়ে মনে হল দুই বা তিন পর্বে দিলে ভাল হত।

২৯ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:০৮

নতুন নকিব বলেছেন:



জাজাকুমুল্লাহু খাইরান। আপনার অভিমত সঠিক।

আসলে রমজান ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে এই দিকটি চিন্তা করেই পরিমানে কিছুটা লম্বা হওয়ার পরেও কিস্তি না করে একবারেই দিয়ে দেয়ার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি।

যাক, দেয়া যেহেতু হয়েই গেছে, পরবর্তীতে বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য থাকবে ইনশাআল্লাহ।

ভাল থাকবেন, ভাই।

২৯ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:০৯

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনার কোন পোস্ট পাচ্ছি না কেন?

৮| ২৯ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১০

সত্যের ছায়া বলেছেন: আমি অবরুদ্ধ হয়ে আছি।

২৯ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১৫

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনার ব্যাপারে কথা বলব ইনশাআল্লাহ। আপনি নিয়মিত লিখতে থাকুন। মানসম্পন্ন লেখা আপনার অবস্থান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

৯| ২৯ শে মে, ২০১৭ রাত ৯:৩৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ মাহে রমজান নিয়ে অনেক মুল্যবান পোষ্ট , এর অপেক্ষায় ছিলাম ।
অনেক প্রয়োজনীয় কথা জানা গেল, বিষয়টি নিয়ে যত বেশি লেখা লেখি হবে ততই মঙ্গল । পোষ্টটি প্রিয়তে গেল ।
একটি ছোট অনুরোধ করব , সুরা আহ্যাবের ৫৬ নং আয়াতের (৩৩.৫৬) এর সঠিক বঙ্গানুবাদটি জানালে খুশী হব , বিভিন্ন তরজমায় কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

৩০ শে মে, ২০১৭ সকাল ১০:০৭

নতুন নকিব বলেছেন:



প্রিয় আলী ভাই,
আপনার আগমনে হৃদয়-মন উষ্ণ হয়ে উঠল। পরিশ্রমী মানুষদের দেখলেও অলসতা ভয়ে পালায়।

পোস্ট প্রিয়তে নেয়ায় কৃতজ্ঞতা।

সূরাহ আল আহযাবের ৫৬ নং আয়াতের অনুবাদ হিসেবে বিভিন্নজনের কৃত অনুবাদে সামান্য পার্থক্য পরিলক্ষিত হলেও আমার মনে হয়, মূল ভাব কিংবা বক্তব্য সম্ভবত: ঠিক রেখেই তারা এটা করে থাকেন। এরপরেও কিছু অসঙ্গতিও কোন কোন অনুবাদের ক্ষেত্রে আমিও প্রত্যক্ষ করেছি। উদাহরন হিসেবে বলা যায়, নিচের লিঙ্কে আল কুরআনের যে অনুবাদ রয়েছে সেখানে বলা হয়েছে-

সূরা আল আহযাব ( মদীনায় অবতীর্ণ ), আয়াত সংখাঃ ৭৩

''আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে রহমতের তরে দোয়া কর এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ কর।''

এই অনুবাদটি সঠিকভাবে করা হয় নি। এটিতে স্পষ্টত: ভুল রয়েছে। বরং আয়াতের সঠিক অনুবাদ হওয়া উচিত-

''আল্লাহ পাক নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা কর এবং তাঁর প্রতি যথাযথভাবে সালাম প্রেরণ কর।''

একটু ক্লিয়ার করার জন্য-

আলী ভাই,
হাদিস শরীফসমূহের বর্ননাদৃষ্টে একথা প্রতীয়মান হয় যে, 'সালাত' শব্দটি আল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে এর অর্থ দাঁড়াবে- রহমত, অনুগ্রহ, করুনা, মহিমা। আর ফিরিশতাদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হলে অর্থ হবে- দোআ প্রার্থনা বা ক্ষমা প্রার্থনা। আর মানুষের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হলে অর্থ হবে- তোমরা অনুগ্রহপ্রার্থী হও তোমাদের মহামহিম রসুলের জন্য, দোআ করো, যেনো তাঁর উপরে হয় আল্লাহর রহমতের সীমাহীন বর্ষন। আর তার প্রতি প্রেরন কর শান্তি সম্ভাষন।

ভাল থাকবেন ভাই।

৩০ শে মে, ২০১৭ সকাল ১১:৪৮

নতুন নকিব বলেছেন:



আলী ভাই,
আরবি গ্রামার না জানা কিছু সংখ্যক ব্যক্তিদের দেখবেন তারাও ইংরেজি কিংবা অন্যান্য ভাষার অনুবাদ থেকে কুরআনের বাংলা অনুবাদের মত জটিল ও দূরুহ কাজে হাত দেন। এতে করে গ্রামারগত ভুলসহ মারাত্মক অর্থগত ভুলও অনেক সময় পরিদৃষ্ট হয়। যা কোনভাবেই কাম্য নয়।

সংশ্লিষ্ট আয়াতের উল্লেখিত ১ম অনুবাদেও আল্লাহ পাক এবং ফিরিশতাদের সমকাজে ব্যপৃত বলে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা স্পষ্টত: ভুল, নিতান্তই দৃষ্টিকটু এবং গর্হিত-নিন্দনীয়।

এসব অপরাধ থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাচ্ছি।

১০| ২৯ শে মে, ২০১৭ রাত ১০:২০

ধ্রুবক আলো বলেছেন: অনেক সুন্দর ও উপকারী একটা পোষ্ট। +++

৩০ শে মে, ২০১৭ সকাল ৯:০৭

নতুন নকিব বলেছেন:



প্রিয় ধ্রুবক আলো ভাই,
পোস্টে ভাললাগা জানানোয় কৃতজ্ঞতা অশেষ।

ভাল থাকবেন নিরন্তর।

১১| ২৯ শে মে, ২০১৭ রাত ১০:৩৫

আরজু পনি বলেছেন: পোস্টের জন্যে ধন্যবাদ আপনাকে।

৩০ শে মে, ২০১৭ সকাল ১১:৩৯

নতুন নকিব বলেছেন:



জ্বি, আপনাকেও ধন্যবাদ, অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা অগনন।

আপনার সহাস্য উপস্থিতি এবং মূল্যায়ন পোস্টটিকে সম্মানিত করেছে।

ভাল থাকবেন অহর্নিশ।

১২| ২৯ শে মে, ২০১৭ রাত ১১:১৩

সাহিদা সুলতানা শাহী বলেছেন: নতুন নকিবের এ পোষ্ট যথেষ্ট ভাল হয়েছে। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন।

৩০ শে মে, ২০১৭ সকাল ৯:২০

নতুন নকিব বলেছেন:



পোস্টের প্রশংসা করায় কৃতজ্ঞতা।

আল্লাহ পাক আপনার প্রতিও অশেষ রহমত বর্ষন করুন।

১৩| ২৯ শে মে, ২০১৭ রাত ১১:৫৫

ওমেরা বলেছেন: এত সুন্দর লিখার জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম জাজা দান করুন ।



হে আল্লাহ আমাদের সকলের সিয়াম সাধনাকে কবুল করুন। আমাদের ভাল কাজগুলোকে আমাদের জন্য নাজাতের উসিলা হিসেবে কবুল করুন। হে আল্লাহ! সিয়াম পালনকারীদের সিয়াম কবুল করুন, দানকারীদের দান কবুল করুন, রাত্রে ইবাদতকারীদের ইবাদত কবুল করুন, প্রার্থনা কারীদের প্রার্থনা কবুল করুন, আমাদের পূর্বের এবং পরের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন, এ মাস যেন আমাদের সকলের জন্য ক্ষমার মাস হয়। আমীন! সুম্মা আমীন ।

৩০ শে মে, ২০১৭ সকাল ৯:২২

নতুন নকিব বলেছেন:



বোন ওমেরা,
পোস্টে আসায় এবং সুন্দর মন্তব্য রেখে যাওয়ায় অসংখ্য মোবারকবাদ।

আল্লাহ পাক আমাদের সকল নেক দোআ কবুল করুন।

১৪| ৩০ শে মে, ২০১৭ রাত ১:২২

সচেতনহ্যাপী বলেছেন: জানার অনেক কিছই আছে।। কষ্টসাধ্য এই পোষ্টটির জন্য ধন্যবাদ।।

৩০ শে মে, ২০১৭ সকাল ৯:২৪

নতুন নকিব বলেছেন:



প্রিয় সচেতনহ্যাপী,
অশেষ কৃতজ্ঞতা আপনি এই পোস্টটিকে মূল্যায়ন করায়।

আল্লাহ পাক তার রহমতের ছায়ায় আপনাকে স্থান দিন।

১৫| ৩০ শে মে, ২০১৭ সকাল ৯:২০

সারাফাত রাজ বলেছেন: প্রয়োজনীয় পোস্ট। আপনাকে ধন্যবাদ। প্রিয়তে নিলাম লেখাটা। :)

৩০ শে মে, ২০১৭ সকাল ৯:৪৩

নতুন নকিব বলেছেন:



প্রিয় রাজ ভাই,
আপনাকে দেখে মনটা আনন্দে ভরে গেল।

পোস্টটি প্রিয়তে নেয়ায় কৃতজ্ঞতা অশেষ।

ভাল থাকবেন।

১৬| ৩০ শে মে, ২০১৭ সকাল ১০:৫৭

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: অনেকেই বলছে পোষ্টি লম্বা। ব্লগে অযথা ফালতু পোষ্টে সময় কম দিয়ে এই সব ভাল পোষ্ট পড়ার যাদের সময় নাই তাদের এ সব পোষ্টে এসে ফালতু কমেন্ট না করায় ভাল। আর রমজানের শুরুতেই যদি পোষ্টটি না হয় তা হলে এই পোষ্টের গুরুত্ব কমে যেত।

৩০ শে মে, ২০১৭ সকাল ১১:৩৫

নতুন নকিব বলেছেন:



সোহেল ভাই,
প্রানঢালা অভিনন্দন আপনার মূল্যবান সুন্দর মন্তব্যে।

পুরোপুরি সহমত।
ভাল থাকবেন নিরন্তর।

১৭| ৩০ শে মে, ২০১৭ সকাল ১০:৫৯

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: নকিব ভাই তারাবির নামায নিয়ে সহী হাদিসের আলোকে খুব শিঘ্রই একটি পোষ্ট দেওয়ার অনুরোধ করছি।
অবশ্যই রেফারেন্স সহ।

৩০ শে মে, ২০১৭ সকাল ১১:৩৮

নতুন নকিব বলেছেন:



আজকেই ইনশাআল্লাহ আপনার কথা রাখার চেষ্টা করব।

অবশ্যই উইথ রেফারেন্স।

ধন্যবাদ আবারও।

১৮| ৩০ শে মে, ২০১৭ রাত ৯:৩৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , এই আয়াত সস্পর্কে আরো অনেক গবেষনার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি । বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে আমি অনেক রকম অনুবাদ দেখছি , প্রত্যেকে্ই যার যার দৃষ্টি ভঙ্গী নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যখ্যা বিশ্লেশন দিয়ে এই আয়াতটির অনুবাদ করেছেন ।

যাহোক, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে প্রচারিত বিখ্যাত এ বহুল প্রচারিত হামদ ও না'ত সম্পর্কে
সঠিক মুল্যায়ন জনতে পারলে ভাল হত ।
অনেক অনেক শুভেচ্ছ রইল

০৬ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:৩২

নতুন নকিব বলেছেন:



ধন্যবাদ আলী ভাই।

জ্বি, ইনশাআল্লাহ দেখি আপনার কথা মনে রাখার চেষ্টা থাকবে। আয়াতে কারীমাটি নিয়ে আরও কিছু ব্যাখ্যা বিশ্লেষনের ইচ্ছা রয়েছে।

বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে প্রচারিত বিখ্যাত এ বহুল প্রচারিত হামদ ও না'ত সম্পর্কে যদি আরও ক্লিয়ার করতেন, মানে এক্সাক্ট কোন হামদটি কিংবা কোন না'তটি নিয়ে কথা বলা দরকার তাহলে আরেকটু ভাল হত।

ভাল থাকবেন প্রিয় ভাই।

১৯| ০৬ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:২৩

লিযেন বলেছেন: ধন্যবাদ,পরিশ্রমী পোষ্ট :)

০৬ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:২৮

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ, অভিনন্দন পোস্ট পঠন এবং মূল্যায়নে।

ভাল থাকবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.