| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নতুন নকিব
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।
টেস্ট টিউব বেবি (IVF) ও সারোগেসি; ইসলাম কী বলে?
ছবি সংগৃহীত।
ভূমিকা
সন্তান মানুষের জীবনের অন্যতম গভীর আকাঙ্ক্ষা। পরিবার, উত্তরাধিকার, সামাজিক ধারাবাহিকতা ও মানসিক পূর্ণতার সঙ্গে সন্তান প্রত্যাশা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইসলাম এই মানবিক আকাঙ্ক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সন্তান দেওয়া বা না দেওয়া সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ও হিকমতের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿لِلّٰهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۚ يَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ الذُّكُورَ أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا ۖ وَيَجْعَلُ مَنْ يَشَاءُ عَقِيمًا ۚ إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ﴾
অর্থাৎ: আসমানসমূহ ও জমিনের সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দেন, যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দেন, অথবা উভয়ই দেন। আর যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বক্ষমতাবান। -সূরা আশ-শূরা: ৪৯–৫০
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতির ফলে আজ বন্ধ্যাত্ব বা প্রজনন সমস্যার সমাধানেও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। টেস্ট টিউব বেবি পদ্ধতি বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন In vitro fertilization (IVF) এবং সারোগেসি এই অগ্রগতির সবচেয়ে আলোচিত দুটি দিক। তবে এই প্রযুক্তিগুলো কেবল চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক নয়; এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত রয়েছে নৈতিকতা, আইন, সমাজ, অর্থনীতি এবং ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি। বিশেষত ইসলামী শরিয়তে বংশ সংরক্ষণ, বৈধতা ও পারিবারিক কাঠামোর প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিবন্ধটিতে টেস্ট টিউব বেবি ও সারোগেসি বিষয় দুটি ধাপে ধাপে সুসংবদ্ধভাবে আলোচনা করা হবে। প্রথম অংশে এসব পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তী অংশে আন্তর্জাতিক পরিসরে এদের সামাজিক ও আইনি বাস্তবতা বিশ্লেষণ করা হবে। এরপর ইসলামী শরিয়তের মূলনীতি, কুরআনুল কারিম ও সহিহ হাদিসের আলোকে সংশ্লিষ্ট ফিকহি বিশ্লেষণ তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
মূলত টেস্ট টিউব বেবি ও সারোগেসির মতো বিষয়গুলো আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক ও অগ্রসর আবিষ্কার। এসব বিষয়ে এখনো পর্যন্ত পর্যাপ্ত ও সহজপ্রাপ্য ইসলামী আলোচনা বা সুস্পষ্ট মাসআলা খুব বেশি পাওয়া যায় না। ফলে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেকেই নির্ভরযোগ্য তথ্য ও শরয়ি দিকনির্দেশনা থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে বাংলা ভাষায় প্রামাণ্য ও গবেষণাভিত্তিক আলোচনা এখনো অত্যন্ত সীমিত। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই বর্তমান নিবন্ধটি রচনার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।
বন্ধ্যাত্ব (Infertility): একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ দম্পতি কোনো না কোনো সময় বন্ধ্যাত্ব (Infertility) সমস্যায় ভোগেন। বন্ধ্যাত্ব কেবল নারীর সমস্যা নয়; প্রায় সমান হারে পুরুষ ও নারী উভয়ই এর জন্য দায়ী হতে পারেন। উন্নত চিকিৎসাবিজ্ঞানের আগে এই সমস্যাকে সামাজিক লজ্জা, নারীর অভিশাপ বা নিয়তির পরিহাস হিসেবে দেখা হতো। আধুনিক বিজ্ঞান এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রমান করেছে, সন্তান না হওয়ার জন্য নারী-পুরুষ উভয়েই সমানভাবে দায়ী হতে পারেন, তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বন্ধ্যাত্বের মূল কারণ:
নারী বন্ধ্যাত্বের কারণগুলোর মধ্যে ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশন সমস্যা (যেমন- PCOS), ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক, জরায়ুর সমস্যা, বয়স বৃদ্ধি, এবং এন্ডোমেট্রিওসিস ইত্যাদি প্রধান। পক্ষান্তরে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব রোগে শুক্রাণুর সংখ্যা কম বা নিম্নমান, শুক্রাণুর গতিশীলতায় সমস্যা, হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা, এবং অণ্ডকোষে সমস্যাকে দায়ী করা হয়। এছাড়া, সাধারণ কারণ হিসেবে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অতিরিক্ত ওজন, মানসিক চাপ, এবং কিছু ক্ষেত্রে অজানা কারণও থাকতে পারে।
নির্ণয় ও চিকিৎসা:
চিকিৎসকরা সাধারণত রক্ত পরীক্ষা, হরমোন পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড, এবং সিমেন অ্যানালাইসিসের (Semen Analysis) মাধ্যমে বন্ধাত্য সমস্যা শনাক্ত করে থাকেন। এর চিকিৎসার মধ্যে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, ডিম্বস্ফোটন বা হরমোনজনিত সমস্যা দূর করতে কখনও কখনও প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হয়ে থাকে।
টেস্ট টিউব বেবি পদ্ধতি (IVF): বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক আলোচনা
IVF কী এবং কী নয়
টেস্ট টিউব বেবি হলো ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের প্রচলিত নাম। এখানে ‘ইন ভিট্রো’ অর্থ দেহের বাইরে। এটি কোনো কৃত্রিম সন্তান সৃষ্টি নয়, বরং স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়াকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের সহায়তায় নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সম্পন্ন করা।
IVF-এর ধাপসমূহ
প্রথম ধাপে ওভারিয়ান স্টিমুলেশন (Ovarian Stimulation)। এটিতে মূলতঃ হরমোন ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ডিম্বাশয় থেকে একাধিক পরিপক্ক ডিম্বাণু উৎপাদনে সহায়তা করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে ডিম্বাণু সংগ্রহ (Egg Retrieval): ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়। তৃতীয় ধাপে নিষেক (Fertilization): ল্যাবরেটরিতে স্বামীর শুক্রাণুর সঙ্গে ডিম্বাণু মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। চতুর্থ ধাপে ভ্রূণ স্থানান্তর (Embryo Transfer): ভ্রূণ পর্যবেক্ষণ ও নির্বাচনের পর সেটি স্ত্রীর জরায়ু বা গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়।
এই প্রক্রিয়ায় সন্তানটি জেনেটিক্যালি স্বামী ও স্ত্রীরই হয় এবং গর্ভধারণও স্ত্রী নিজেই করেন।
IVF-এর সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা
IVF শতভাগ সফল নয়। বয়স, স্বাস্থ্য, হরমোনগত ভারসাম্য ও চিকিৎসার মানের ওপর সাফল্যের হার নির্ভর করে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভ্রূণ সংরক্ষণ, ভ্রূণ ধ্বংস ও বাণিজ্যিকীকরণ ইত্যাদি নিয়ে নৈতিক প্রশ্ন রয়েছে।
সারোগেসি: ধারণা, ইতিহাস ও আধুনিক বাস্তবতা
সারোগেসি বলতে বোঝায় এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে একজন নারী অন্য ব্যক্তি বা দম্পতির সন্তানের গর্ভধারণ করেন ও প্রসব করেন। এটি প্রাচীন সমাজেও সীমিত আকারে বিদ্যমান ছিল, তবে আধুনিক সারোগেসি মূলত IVF (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।
সারোগেসির প্রকারভেদ
ট্র্যাডিশনাল সারোগেসিতে সারোগেট নারীর নিজস্ব ডিম্বাণু ব্যবহৃত হয়। জেসটেশনাল সারোগেসিতে স্বামী-স্ত্রীর ডিম্বাণু ও শুক্রাণু থেকে IVF-এর মাধ্যমে ভ্রূণ তৈরি করে সারোগেটের গর্ভে স্থাপন করা হয়। দ্বিতীয়টি বর্তমানে বেশি ব্যবহৃত হলেও নৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক এখানেও বিদ্যমান।
IVF ও সারোগেসির মৌলিক পার্থক্য
IVF একটি চিকিৎসা প্রযুক্তি, সারোগেসি একটি সামাজিক ও আইনি ব্যবস্থা। IVF-এ তৃতীয় পক্ষের গর্ভ জড়িত নয়, সারোগেসিতে তৃতীয় পক্ষ অপরিহার্য। এই পার্থক্য ইসলামী মূল্যায়নের জন্য কেন্দ্রীয়।
ইসলামে বংশ সংরক্ষণ: একটি মৌলিক উদ্দেশ্য
ইসলামী শরিয়তের পাঁচটি মৌলিক উদ্দেশ্যের একটি হলো বংশ সংরক্ষণ। আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِندَ اللَّهِ﴾
অর্থাৎ: তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো, এটাই আল্লাহর কাছে অধিক ন্যায়সংগত। -সূরা আল-আহযাব: ৫
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
«مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ فَهُوَ حَرَامٌ عَلَيْهِ الْجَنَّةُ»
অর্থাৎ: “যে ব্যক্তি নিজের পিতার পরিবর্তে অন্য কাউকে পিতা দাবি করে, তার জন্য জান্নাত হারাম।” -সহিহ বুখারি: হাদিস নং 6022, সহিহ মুসলিম: হাদিস নং 1451
ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে টেস্ট টিউব বেবি (IVF)
যদি IVF বৈধ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, কোনো তৃতীয় পক্ষ যুক্ত না হয় এবং নসবের বিশুদ্ধতা রক্ষা পায়, তাহলে আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকহ একাডেমিসহ অধিকাংশ সমসাময়িক আলেম একে শর্তসাপেক্ষে বৈধ বলেছেন।
ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে সারোগেসি
কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী:
﴿إِنْ أُمَّهَاتُهُمْ إِلَّا اللَّائِي وَلَدْنَهُمْ﴾
অর্থাৎ: তাদের মাতা তো কেবল তারাই যারা তাদেরকে জন্ম দিয়েছে। -সূরা আল-মুজাদালাহ: ২
এই আয়াত অনুযায়ী গর্ভধারিণী নারীই সন্তানের প্রকৃত মা। ফলে সারোগেসি মাতৃত্ব বিভাজন সৃষ্টি করে, যা নসব সংরক্ষণের পরিপন্থী। এই কারণে আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমি সব ধরনের সারোগেসিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে।
আন্তর্জাতিক বিতর্ক ও আইনি বাস্তবতা
অনেক দেশে সারোগেসি নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। যেমন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালী, চীন, সুইজারল্যান্ড ও মাল্টা ও পাকিস্তানে এটি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত। কারণ এই পদ্ধতি নারীর শোষণ, শিশু বাণিজ্য ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন উত্থাপন করে। এছাড়া, বহু দেশেই সারোগেসিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে: যেমন স্পেন, সুইডেন, নরওয়ে (চুক্তি অপরাধ নয়, কিন্তু আইনগত স্বীকৃতি নেই) ও জাপানে।
নৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ
IVF ও সারোগেসি আধুনিক মানুষের সীমাহীন ক্ষমতার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ইসলাম বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে না, তবে তাকে নৈতিকতার অধীনে রেখে মানব কল্যানে ব্যবহারের গুরুত্বকে নির্দেশ করে।
উপসংহার
টেস্ট টিউব বেবি ও সারোগেসি আধুনিক বিজ্ঞানের দুটি আবিষ্কার। IVF শর্তসাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য হলেও সারোগেসি ইসলামী শরিয়তের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহভীতি ছাড়া এই প্রযুক্তির ব্যবহার মানবতার জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
রেফারেন্স
১. আল-কুরআনুল কারিম
২. সহিহ বুখারি
৩. সহিহ মুসলিম
৪. আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকহ একাডেমি (OIC) এর সিদ্ধান্তসমূহ
৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১৪
নতুন নকিব বলেছেন:
নিশ্চিতভাবেই এগুলো আধুনিক সময়ের চিকিৎসা বিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারের সঙ্গে ধর্মীয় বিধি-নিষেধের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সে কারণেই এসব বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা রাখা, বিশেষ করে মাসআলাভিত্তিক শরয়ী বিধান জেনে রাখা, ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। মূলত জানার উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্নজনের নিকট থেকে আমাদের কাছে প্রশ্ন আসে। আলোচ্য বিষয়টিও ঠিক সেই ধারার অন্তর্ভুক্ত।
প্রায় নিদ্রিত হয়ে পড়া ব্লগে আপনাকে অধিকাংশ সময় সজাগ ও সক্রিয় দেখে সত্যিই ভালো লাগে। আমি নিজে নানাবিধ ব্যস্ততার মধ্যে থাকি, ফলে এখানে নিয়মিত সময় দেওয়া হয়ে ওঠে না। ব্লগে যখন মাত্র দুই-তিনজনকে অনলাইনে দেখি, তখন স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত ও কিছুটা হতাশ হয়ে পড়ি। তবুও আশা ছাড়ি না। আপনার জন্য আন্তরিক শুভকামনা রইল।
২|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৭
কিরকুট বলেছেন: এই প্রক্রিয়া বন্ধা মানবকূলের জন্য আশির্বাদ স্বরুপ। একজন বন্ধা নারী বা পুরুষের যন্ত্রনা বোঝার ক্ষমতা আপনাদের নাই।
৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬
নতুন নকিব বলেছেন:
কিরকুট বলেছেন: এই প্রক্রিয়া বন্ধা মানবকূলের জন্য আশির্বাদ স্বরুপ। একজন বন্ধা নারী বা পুরুষের যন্ত্রনা বোঝার ক্ষমতা আপনাদের নাই।
-ইসলামী শরিয়াহ চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক এই উদ্ভাবনকে প্রত্যাখ্যান করেনি। শর্ত সাপেক্ষে টেস্ট টিউব বেবি (IVF) গ্রহণ করার বৈধতা দিয়েছে।
আর সারোগেসি মূলতঃ কোন আধুনিক পদ্ধতি নয়। এটি বহুকাল পূর্বেও পৃথিবীতে বিদ্যমান ছিল। সারোগেসি শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের সাথেই সাংষর্ঘিক নয়। বরং, অনেক দেশে সারোগেসি নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। উদাহরণ স্বরূপ, ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালী, চীন, সুইজারল্যান্ড ও মাল্টা ও পাকিস্তানে এটি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত। এছাড়া, বহু দেশেই সারোগেসিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে: যেমন স্পেন, সুইডেন, নরওয়ে (চুক্তি অপরাধ নয়, কিন্তু আইনগত স্বীকৃতি নেই) ও জাপানে।
সারোগেসি নিষিদ্ধ করার কারণটা হচ্ছে, এই পদ্ধতি নারীর অধিকার ও মর্যাদা ক্ষুন্ন করা, শোষণ ও বৈষম্য চাপিয়ে দেওয়া, শিশু বাণিজ্য ও মানবিক মর্যাদা ইত্যাদি প্রশ্নকে সামনে আনে।
তাহলে ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালী, চীন, সুইজারল্যান্ড, মাল্টা, পাকিস্তান, স্পেন, সুইডেন, নরওয়ে এমনকি জাপানও বুঝতে পারেনি? তারা কেন এই পদ্ধতি নিষিদ্ধ কিংবা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে?
৩|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭
রাজীব নুর বলেছেন: সব বুঝলাম।
মুল কথা আল্লাহর ইচ্ছা। আল্লাহ ইচ্ছা করলেই কেবল বাচ্চা হবে।
টেস্ট টিউবও আল্লাহর ইচ্ছা।
পরিস্কার বুঝতে পেরেছি। ভেরি ক্লিয়ার।
৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৭
নতুন নকিব বলেছেন:
হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন। সবকিছুর মূলে আল্লাহর ইচ্ছা। টেস্ট টিউব, চিকিৎসা, ওষুধ - এগুলোও তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কাজ করে না।
আল্লাহ যা চান, তাই হয়। ধন্যবাদ, বিষয়টি আপনি হৃদয়ঙ্গম করতে পেরেছেন।
৪|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩
নতুন বলেছেন: টাকার জন্য অন্যের গর্ভ ভাড়া নেওয়া অনেকটাই অমানবিক। তবে যদি কেউ সম্র্পন ইচ্ছায় কোন দম্পতিকে তাদের সন্তান এনে দিতে চায় তবে সেটা হয়তো ঠিক আছে।
কিন্তু পেজগি লাগবে যখন বিজ্ঞান আরো এগিয়ে যাবে। কিছু দিন পরে কৃত্তিম ওভারীর মতন ডিভাইসে মানব শিশু জন্ম নেবে।
বাবা মায়ের সুক্রানু আর ডিম্বানু আইভিএফ এর মাধ্যমে এ কৃত্তিম গর্ভে মানব শিশুর জন্ম হবে। তখন আলেম সমাজ কি ফতোয়া দেবে?
আবার ক্লনিং এর মতন প্রযুক্তিতে যখন নারী তার নিজের কোন থেকেই কন্যা সন্তানের মা হতে পারবে তখন কি ফোতয়া দিবে সেটা নিয়ে ভাবতেছি। ![]()
৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৬
নতুন নকিব বলেছেন:
আলেম সমাজের বেশিরভাগ মতামত অনুযায়ী:
- কৃত্রিম গর্ভ (আর্টিফিশিয়াল ওয়েম্ব): এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এই বিষয়ে স্পষ্ট কোন ফতোয়া নেই। তবে যদি শুধু স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু-ডিম্বাণু ব্যবহার করে চরম প্রয়োজনে (যেমন: অকাল প্রসবিত শিশু বাঁচানো, মায়ের জীবন রক্ষা) ব্যবহার হয়, তাহলে অনেকেই "জায়েজ" মনে করেন। কিন্তু সুস্থ নারী-পুরুষের গর্ভধারণ এড়ানোর জন্য বা শুধু সুবিধার জন্য হলে "হারাম" হতে পারে।
- ক্লোনিং (মানব ক্লোনিং): আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকহ একাডেমি, আল-আজহার, ইসলামকিউএ ইত্যাদির ফতোয়া অনুযায়ী "সম্পূর্ণ হারাম"। কারণ এতে বংশ-পরিচয় নষ্ট হয়, পরিবারের কাঠামো ভেঙে যায় এবং আল্লাহর সৃষ্টির স্বাভাবিক নিয়মে হস্তক্ষেপ হয়।
সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছা ও শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। ভবিষ্যতে নতুন প্রযুক্তি এলে তখন আলেমরা নতুন করে ইজতিহাদ করবেন। ইসলামি শরীয়তের ইজতিহাদ বা সংস্কার সর্বযুগেই চলমান। তাই তেমন টেনশনের কিছু দেখছি না।
ধন্যবাদ।
৫|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার আজকের লেখা ইসলামিক লেনসে আধুনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা বেশ ভালো সাড়া ফেলেছে ।
৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫
নতুন নকিব বলেছেন:
আপনার কাছে এই লেখার গুরুত্ব থাকলেও কারও কারও কাছে ধর্মীয় আলোচনা মানেই গার্বেজ।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
৬|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:১০
নতুন বলেছেন: সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছা ও শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। ভবিষ্যতে নতুন প্রযুক্তি এলে তখন আলেমরা নতুন করে ইজতিহাদ করবেন। ইসলামি শরীয়তের ইজতিহাদ বা সংস্কার সর্বযুগেই চলমান। তাই তেমন টেনশনের কিছু দেখছি না।
ভবিষ্যতে যারা এই সব প্রযুক্তি ব্যবহার করবে তারা মোল্যাদের ফোতয়ার জন্য বসে থাকবে না। ![]()
৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:০৭
নতুন নকিব বলেছেন:
ভবিষ্যতে যারা এই সব প্রযুক্তি ব্যবহার করবে তারা মোল্যাদের ফোতয়ার জন্য বসে থাকবে না।
-আপনার বলা মোল্লাগণও নতুন নতুন আবিষ্কার আর উদ্ভাবনের দুশ্চিন্তায় ঘুম খাওয়া ছেড়ে দিয়ে অস্থির বেকারার হয়ে পড়বেন বলে মনে করা হাস্যকর।
কথা হচ্ছে, যার কাজ তাকে করতে দেওয়া উচিত। বিজ্ঞানীরা বিজ্ঞান গবেষণা করবেন এবং মানবকল্যাণে অবদান রাখবেন, এটা তাঁদের দায়িত্ব। তেমনই আলেম-ওলামাগণও নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদেরকে বিজ্ঞানের বিপক্ষে ঠেলে দেওয়া বিপজ্জনক। বিজ্ঞান চলবে নিজস্ব গতিতে, আর আলেম-ওলামাদের দায়িত্ব হলো, ধর্মীয় বিশ্বাস বা নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় সামনে এলে ধর্মের সঠিক বিধান ব্যাখ্যা করে সেটির স্বরূপ মানুষের সামনে তুলে ধরা। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করা কখনোই তাঁদের কাজ নয়।
ধন্যবাদ।
৭|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৬
Akasher tara বলেছেন: নতুন বলেছেন :ভবিষ্যতে যারা এই সব প্রযুক্তি ব্যবহার করবে তারা মোল্যাদের ফোতয়ার জন্য বসে থাকবে না।
)
তাতে মোল্যাদের কয়গাছ চুল ছিড়ে যাবে শুনি।
মোল্যদের কাজ শুধু সঠিক কথা পৌঁছে দেওয়া,কেউ মানুক বা না মানুক এটা মোল্যদের দেখার বিষয় না, বুঝেছেন মশাই
©somewhere in net ltd.
১|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: কঠিন টপিক নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন দেখে ভালো লাগলো।