নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিরব

গহীনে রক্তক্ষরণ

ধার্মিক, সৎ, যোগ্য এবং মেধাবী তরুনদের আমি ছাত্র

গহীনে রক্তক্ষরণ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমাদের হানাফী মাযহাবের আলেম সমাজ তাদের ইগোর জন্য এক সময় আফসোস করবেন!

১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৫৯

কথিত চার মাযহাব এর অনুসারীর নামে মুসলিম জাতির বিভাজন এবং বিশেষ করে হানাফী মাযহাবের নামে আমাদের পূর্ব পুরুষদের যে আকিদাগত ভুল ত্রুটি হয়ে গিয়েছে এবং তারা ঐ অজানা অবস্থা নিয়ে দুনিয়া থেকে চলে গিয়েছেন, তাদেরকে অবশ্যই আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন বলে আমার বিশ্বাস । কেননা আমার দেখা মুরুব্বীগণকে ঈমামের অনুপস্থিতিতে ইমামতি করতে গিয়ে যতটুকু আকিদাগত বিষয়ে সচেতন দেখেছি ( তাদের ভুরি ভুরি ভুল আমল থাকা স্বত্তেও ), তাতে আমার মনে হয়েছে, তাদের কাছে যদি সত্যিকার অর্থে সকল জাল, জয়ীফ, মিথ্যা, বানোয়াট কিস্সা কাহিনী বিশিষ্ট হাদীস মুক্ত সহীহ দলিল প্রমাণ নির্ভর হাদীস সেই সময় হাজির থাকত, তাহলে অবশ্যই তারা হানাফী মাযহাবের দোহাই পেড়ে এত বড় বড় ভুল করতেন না, কাউকে করতে দিতেন না । কঠোর হাতে দমন করতেন । আল্লাহ আমাদের পূর্ব পুরুষদের সীমাবদ্ধতার জন্য অবশ্যই ক্ষমা করে দিবেন । কেননা তারা আর যাই করুন, ইমাম আবু হানীফার মত একজন শ্রেষ্ঠ ইমামের নামের দোহাই দিয়ে এখনকার জ্ঞান পাপী আলেম সমাজ সব কিছু জেনে-বুঝে যা করছেন, তারা কোনমতেই সেটা করতেন না। কেননা তারা ইমাম আবু হানীফার জীবনী যদি লেখা পড়া করতেন, তাহলে অবশ্যই তারা বুঝতেন, যে কাজ আবু হানীফা করেন নি, তা কি করে , কার নামে চালানো হচ্ছে ? তারা অবশ্যই সততা, স্বচ্ছতা এবং যুক্তিগ্রাহ্য দলিল প্রমাণের ভিত্তিতেই তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতেন পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রে ।

আমি বর্তমান হানাফী মাযহাবের সম্মানিত আলেম সমাজের কাছে কয়েকটা মৌলিক বিষয় প্রশ্ন রাখতে চাই । আপনারা ইমাম আবু হানীফার নামে এসব কি করছেন ? কোন যুক্তিতে করছেন ? আপনারা কি আল্লাহকে ভয় করেন না ?

আজকে আমি কেবল স’লাত কিভাবে চুরি করা হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত বলব ইন শা আল্লাহ ।

১। আপনাদের ইমামদের অধিকাংশই নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত ফরজ স’লাত চুরি করছেন ( কদাচ ব্যতিক্রম ব্যতিত ) ।

দেখুন স্পষ্ট হাদীসঃ- রাসুল(সঃ) বলেছেন- “সবচেয়ে নিকৃষ্ট চোর সেই ব্যক্তি, যে সালাতে চুরি করে। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সে কীভাবে সালাতে চুরি করে? তিনি বললেন, সে রুকু-সাজদাহ পরিপূর্ণরূপে আদায় করে না’[ মুসলিম শরীফঃ হাদীস নম্বর ১৭০ ]
রুকু -সিজদাহতে আমরা আসলে কি চুরি করি ? দেখুন, রাসুল(সঃ) কি কি দোয়া করতেন ? আর আমরা কি ভাবে তা না করে চুরি করছি। প্লীজ ! রুকু-সিজদাহ এর দোয়াগুলো বংগানুবাদ মন দিয়ে পড়লে বুঝতে পারবেন, আমরা কিভাবে সলাতে চুরি করছি ।

আমি তথ্য প্রমাণ সহ উপস্থাপন করলাম (একমাত্র আল্লাহর সন্তষ্টির জন্য এবং আমাদের আমল ঠিক করার জন্য । কাউকে ছোট করার জন্য নয় ) ।

রুকুতে যে দোয়া করতেন ( বাংলা অর্থ সহ )-
১) سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ
সুব্-হানা র’ব্বিয়্যাল আ’জীম
অর্থঃ- (আমি) স্বীকারোক্তি দিচ্ছি যে আমার‘রব’ই একমাত্র মহান ।

২) اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، خَشَعَ لَكَ سَمْعِيْ وَ بَصَرِيْ وَ مُخِّي وَ عَظْمِيْ وَ عَصَب
আল্লা-হুম্মা লাকা রাকাআতু ওয়াবিকা আ-মানতু ওয়া লাকা আসলামতু। খাশাআ লাকা সামঈ, ওয়া বাসারি, ওয়া মুখখি ওয়া আজমি, ওয়া আসাবি
অর্থঃ- “হে আল্লাহ! আমি আপনার সামনে নতযানু হলাম, আপনার উপরই ঈমান এনেছি, আপনার কাছেই আত্ম সমর্পণ করলাম। আমার শ্রবণশক্তি আপনার কাছে অবনত, আরো অবনত আমার দৃষ্টিশক্তি, আমার মজ্জা, আমার অস্থি ও আমার শিরা-উপশিরা।”

সিজদায় যে দোয়া করতেন ( বাংলা অর্থ সহ )-
১) সুব্-হানা র’ব্বিয়্যাল আ’লা - سُبحَانَ رَبِّيَ الْاَعْلَي
অর্থঃ- (আমি) স্বীকারোক্তি দিচ্ছি যে আমার মহান রব সর্বোচ্চ সুমহান !

২) اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ وَأَنْتَ رَبِّي سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ تَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ
আল্লাহুম্মা লাকা সাজাদতু ওয়া বিকা আমানতু ওয়া লাকা আসলামতু ওয়া আন্তা র’ব্বি- সাজাদা ওয়াজহিয়া লিল্লাজি খ’লাকাহু ওয়া ছ’ও্ওয়ারাহু ওয়া শাক্ক’ সাম্আ’হু ওয়া বাছ’রাহু তাবার’ কাল্লাহু আহ্সানুল খ’লিক্বিন।
অর্থঃ- হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যই সিজদাবনত (আমার মাথা নত) করেছি, আপনার উপরই ঈমান এনেছি, আপনার কাছেই নিজেকে সমর্পণ করেছি। আমার মুখমণ্ডল অবনত এই সিজদাতেই, সেই মহান সত্তার জন্য; যিনি একে সৃষ্টি করেছেন এবং আকৃতি দিয়েছেন, আমার শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি সচল রেখেছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ অত্যন্ত আমাদের জন্য সব কিছু করেছেন বরকতময়।

এ ছাড়াও অরো অনেক দোয়া করতেন, তার মধ্যে প্রধানতঃ ২টা করে দোয়ার উল্লেখ করেছি । যার মধ্যে কেবলমাত্র ১ম তাসবিহ্ (আল্লাহর প্রশংসা) আমাদের শেখানো হয়েছে । অন্যগুলোর কথা কেউ বলেনই না । জানতে চাইলে বলেন, অতিরিক্ত দোয়া রাসুল(সঃ) তাহাজ্জদ নামাযে করতেন, ফরজ নামাযে নয় । ফরজ নামায সংক্ষিপ্ত করতে বলা হয়েছে । পুরোপুরি ভুল কথা । সলাতে কিরাত সংক্ষিপ্ত করতে বলেছেন, অন্য কোন দোয়াকে সংক্ষেপ করতে বলেন নি । তার প্রমাণ [ সহীহ মুসলিম, বায়হাকী, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ এর সলাত অধ্যায় এর হাদীস থেকে নিয়ে সংক্ষেপে বর্ণনা করছি ]
রাসুল(সঃ) যখন ইমামতী করতেন, তখন রুকু এবং সিজদাহতে যেয়ে এত সময় তাসবিহ করতেন যে, প্রথম প্রথম সাহাবীরা মনে করেছিলেন, রাসুল(সঃ) মনে হয় সলাতের পরবর্তী করনীয় বিষয় ভুলে গিয়েছেন ।

তিনি সলাত শেষে সাহাবীদের মনের উত্থিত সকল প্রশ্নের উত্তর দিতেন এবং সলাতে আল্লাহর কাছে পরপিূর্ণরূপে আত্ম সমর্পণ করা, আল্লাহর সাথে রুকু-সিজদাহ সহ তাশাহহুদের সাক্ষ্যদানে যেসব অংগীকার করা হয়, তা বর্ণনা করতেন । নতুন নামাযীকে এভাবেই তিনি নামায শেখাতেন । এই বিষয়ে একটা হাদীস আমরা সবাই জানি, এক সাহাবীর নামায দেখে আবার নামায পড়তে বলেছেন এবং বলেছেন, “তোমার নামায হয়নি, আবার পড়, এভাবে ৪ বার পড়ার পর আবার বলেছেন “না , নামায হয়নি । তখন তাকে রাসুল(সঃ) দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে নামায আদায় করতে হয়? এই হাদীসে কি শুধুমাত্র নামাযের উঠা বসা শিখিয়েছেন বলে বোঝানো হয়েছে ? মোটেই না । এখানে আমাদের ব্যাখ্যাপ্রদানকারিগন হদীসের ভুল ব্যাখ্যা করেছেন । কেননা এই ব্যাখ্যা কুরআনের সূরা ২৩ নম্বর সূরা মুমিনুন এর ১-৯ আয়াত এবং ৩৯ নম্বর সূরা যুমার এর ২৩ নম্বর আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক । ঐ দুই সূরাতে বর্ণিত আয়াতে আল্লাহ স’লাত কিভাবে আত্ম সমর্পিত অবস্থায় আদায় করতে হবে, কতটা আল্লাহর ভয়ে নতযানু হতে হবে, তা বর্ণনা করেছেন । সুতরাং এই আয়াতসমূহের নির্দেশ অনুযায়ী রুকু-সিজদাহ চুরি করা বলতে রাসুল(সঃ) স’লাতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ আত্ম সমপর্মণের চরিত্র, অংগীকার, স্বীকারোক্তি চুরি করার কথাই বলেছেন । কথা স্পষ্ট ।

এ কারণে আল্লাহ ১০৭ নম্বর সূরা আল মাঊনের ৪ ও ৫ ও ৬ নম্বর আয়াতে বলেছেন, “দুর্ভোগ ঐ নামাযীদের জন্য” , “ যারা তাদের স’লাতের বিষয়ে উদাসীন”, “ যারা তা কেবল লোকদের দেখানোর জন্য আদায় করে” ।

দেখুন, এখানে ৬ নম্বর আয়াতের মর্ম যদি বুঝতে হয়, তাহলে অনুভব করবেন, আমাদের অধিকাংশ হানাফী মাযহাবের আলেমগনের স’লাত আদায়ের ধরন কেমন? যখন স্বজোরে তিলাওয়াত করেন, তখন আরবী হরফের সঠিক সহীহ উচ্চারণ এবং কিরাতের ভংগিমার এমনই উত্তম কারিশমা মুসল্লীগণকে শোনানো হয়, যেন মুসল্লীগণ তার গুনগান করেন, “মাশ্-আল্লাহ আমাদের হুজুরের তিলাওয়াত কত মধুর ! কত বিনয়ী তার ভাষা !” কিন্তু যখন চুপি চুপি পড়েন ( অর্থাৎ কেবলমাত্র আল্লাহকে শোনানোর জন্য পড়েন, তখন তার গতি কেমন হয় ? আপনি ঐ সূরে মনে মনে সূরা ফাতিহা পড়ে দেখবেন, ২ আয়াত পড়তে না পড়তেই তিনি রুকুতে চলে যান । এমনকি যোহর, আসর এর স’লাতে খেয়াল করবেন, “আপনি প্রথম ২ রাকাতে বিনয়ের সাথে সহীহ উচ্চারণ করে সূরা ফাতিহা পড়বেন, আপনার ফাতিহা শেষ হবার আগেই তিনি একটা সূরা সহ পাঠ করে রুকুতে চলে গিয়েছেন । রুকু-সিজদাহতে দোয়া করাতো দূরে থাক, কেবলমাত্র আল্লাহর প্রশংসামূলক তাসবিহ আপনি বিনয়ের সাথে মাত্র ১ বার পড়তে পারবেন অথবা ২য়বার পড়ার শুরুতেই তিনি তার পাঠ শেষ করেন । ভাবুনতো , সূরা মাউনের ৬ নম্বর আয়াতে যা বলেছেন, সেই চরিত্রে কত শত শত ইমাম সাহেব উপনীত হয়েছেন ? ( ব্যতিক্রম ব্যতিত) । যারা তা কেবল লোকদের দেখানোর জন্য আদায় করে মানেতো এটাও বোঝায় যে, যারা কেবল লোকদের শোনানোর জন্য মধুর তিলাওয়াত করেন, অথচ আল্লাহকে শোনানোর ব্যাপারে উদাসীন ? তাহলে ৫ নম্বর আয়াতও মিলে যায় কি না ? আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিন । এই অবস্থার জন্য দায়ি কিন্তু ইমাম সাহেব একা নন, দায়ি আমরা মসজদি কমিটি, দায়ি আমরা মুসল্লীগণ প্রায় সবাই । কেননা আমরা এমন তাড়াহুড়ো নামাযই পছন্দ করি ।

রুকু এবং সিজদাহ উভয়ের ২ নম্বর দোয়ার অর্থগুলো হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করলেই বুঝা যাবে- কেন আমাদের নামায ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রে কোন প্রভাব বিস্তার করে না ? কারণ আমরা আসলে রুকু-সিজদাহতে চুরি করছি । কেবলমাত্র আনুষ্ঠানিক কপাল ঠুকাঠুকি করছি । আল্লাহর সাথে স’লাতে কি কি কথা বলছি, তার কোন মানেই আমরা জানি না । এই নামায কি কাজে লাগবে ? আল্লাহই ভালো জানেন । পৃথিবীর কোন ধর্ম কি এমন আছে, যে তারা তাদের ইশ্বরের কাছে যা চায়, তার অর্থ না বুঝে ঠোট নাড়িয়ে যপ করে ? নিশ্চই নয় । তাহলে আমাদের মুসলমানদের এই হাল কেন ? আল্লাহর সাথে কি কথা বলছি, তার অর্থ আদৌ কিচ্ছু জানি না ?

বিনীত নিবেদন করছি যারা এসব লেখা পড়ার ধার না ধেরে কেবল টিউব হুজুরদের ওয়াজ শুনে বিচার-ফয়সালা করেন, তারা ইচ্ছে হলে কথাগুলো মিলিয়ে দেখতে পারেন । যা বলছি, একটাও আমার কথা নয়, আল্লাহ এবং রাসুল(সঃ) এর কথা । নাক সিঁটকায়ে বলবেন, টিউব হুজুররাওতো একই কথা বলে । একই কথা কি না, নিজে মিলিয়ে দেখেছেন কখনো ? তাই দয়া করে মিলিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিন । কেন ? কারণ আপনার মৃত্যুর পর কেবলমাত্র আপনাকেই জবাব দিতে হবে । কোন টিউব হুজুরই বলেন আর বড় বড় প্রখ্যাত আলেমদের রেফারেন্সই বলেন, আল্লাহর হিসেবে না মিললে আপনার করা গোজামিল দিয়ে মেলানো অংকের নম্বর আপনি পাবেন না । অতএব সাবাধান!!

প্রথমে দেখুন, ক্বু্র’আনের সেই আয়াত এবং হাদীসের সতর্কবাণী, যেখানে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল(সঃ) আখেরী জামানার সাধারণ মু’মিনদের জন্য কি সতর্কবাণী দিয়েছিলেন ?

৬ নম্বর সূরা আল্-আনআ’ম এর ১৫৯ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন “ নিশ্চই যারা তাদের নিজেদের দ্বীনকে (পরিপূর্ণ জীবন বিধানকে) তাদের ইচ্ছেমত খন্ডে খন্ডে বিভক্ত করে নিয়েছে (আপন আপন মতাদর্শের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করেছে) এবং নিজস্ব দল গঠণ করে নানা দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে তাদের কোন কাজের সাথে তোমার কোন সম্পর্ক নেই। তাদের ব্যাপারটি পুরোপুরি আল্লাহর ইখতিয়ারভুক্ত। (সময় হলেই) তিনি তাদেরকে জানিয়ে দেবেন তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে।”

আরো স্পষ্ট করেছেন ২৩ নম্বর সূরা আল-মু’মিনুন এর ৫২ এবং ৫৩ নম্বর আয়াতে-
৫২. (হে নবী) তোমার এ উম্মততো একই উম্মত এবং আমিই তোমাদের রব; অতএব তোমরা আমারই তাক্বওয়াহ্ অবলম্বন কর।
৫৩. কিন্তু তারা নিজেদের মধ্যে তাদের দ্বীনকে ( অর্থাৎ পূর্ণাংগ জীবনবিধানকে) বহু দলে উপদলে বিভাজিত হয়ে বিভক্ত করেছে (নিজস্ব চিন্তা ভাবনার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করেছে) । প্রত্যেক দলই তাদের বানানো মতাদর্শ নিয়েই উল্লাসিত।

যারা সঠিক জ্ঞান পাওয়ার পরও তা বিকৃত করে বা নিজেদের ইচ্ছেমত জ্ঞানের বয়ান ছড়িয়ে নিজেদের মত প্রতিষ্ঠিত করে তাদের জন্য আল্লাহর হুশিয়ারী এরকমঃ ২ নম্বর সূরা আল্-বাক্বরহ্ এর আয়াত ১৬- “ এরাই তারা, যারা হিদায়াতের পরিবর্তে গোমরাহী ক্রয় করেছে। ফলে তাদের ব্যবসায়ে লাভ হয়নি এবং তারা সঠিক পথও পায়নি।”

রাসুল(সঃ) হাদীস, যা আমরা প্রায় সবাই জানি, কিন্তু ধারণ করি না- (তন্মধ্যে ২ টা উল্লেখ করছি ) ।

“আমার উম্মতে ৭৩ টি দল সৃষ্টি হবে। তন্মধ্যে একদল ছাড়া সবাই জাহান্নামে যাবে। সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেনঃ মুক্তিপ্রাপ্ত দল কোনটি? উত্তর হল, যে দল আমার ও আমার সাহাবীদের পথ অনুসরণ করবে, তারাই মুক্তি পাবে। [তিরমিযীঃ ২৬৪০, ২৬৪১]

“হযরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (স.) বলেছেন, ভবিষ্যতে মানুষের সামনে এমন একটা যুগ আসবে যখন নাম ব্যতিরেকে ইসলামের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, আল-ক্বুর’আনের আক্ষরিক তিলাওয়াত ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। তাদের মসজিদ গুলো হবে বাহ্যিক দিক দিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা হবে হেদায়াত শূণ্য। আর তাদের আলেমগণ হবে আকাশের নিচে জমিনের উপরে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। কারণ তাদের মধ্য থেকে ইসলাম/দ্বীন সম্পর্কে ফিতনা প্রকাশ পাবে। অতঃপর সেই ফিতনা তাদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে।” (বায়হাকী, ঈমান অধ্যায়) ।

এখন বলবেন, সেই একটা দলওতো এখন বিশ্বাস করার মত নেই । তাহলে কি করব ? আলেমগণই যখন বিভ্রান্ত করে ফেলবে সেই অবস্থায় আমরা কি করব ? এ পথও বাতলে দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ নিজেই ।

আল্লাহ যেমন করে ৩ নম্বর সূরা আলে-ইমরান এর ১০৩ আয়াতের শুরুতে বলেছেন “ তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে
( অর্থাৎ পরিপূর্ণ জীবনবিধান) শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে”

৩০ নম্বর সূরা আর-রূম এর আয়াত ৩২- “যারা নিজদের দ্বীনকে বিভক্ত করেছে এবং যারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। প্রত্যেক দলই নিজদের যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত।”

পরিশেষে বলছিঃ-
ইসলামের ভালো কাজ সালাম দেয়া । সেই ভালো কাজটাকেও আমরা নষ্ট করে ফেলেছি কিভাবে ?
আস-সালামু আ’লাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ !”
“আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার প্রতি সালাম ( অর্থাৎ দোয়া, শান্তি, নিরাপত্তা ) রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক ।"

আর যখন তোমাদেরকে সালাম দেয়া হবে, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম সালাম দেবে। অথবা জবাবে তাই দেবে। নিশ্চয় আল্লাহ সব বিষয়ে পূর্ণ হিসাবকারী।" [ সূরা আন্-নিসাঃ আয়াত-৮৬ ]

সহীহ আল বুখারী হাদীস নং ২৭- এক ব্যক্তি রাসুল(সঃ)কে জিজ্ঞেস করলেন, “ইসলামের কোন্ কাজ সবচেয়ে ভালো ?“ তিনি বললেনঃ- “অভুক্তকে খাবার দেয়া এবং চেনা, অচেনা সকল মানুষকে সালাম দেয়া ।”

আমাদের অবস্থা কি ? পরিচিত ছাড়া কাউকে সালাম দেই-ই না । এমনকি বড় বড় হুজুরদের সালাম দিলে আগে চোখ দুটো বড় করে তাকিয়ে দেখেন, লোকটা কি টি-শার্ট পরা ? স্যুট প্যান্ট পরা ? হয়তো তা দেখেই তিনি সালামের জবাব পর্যন্ত দেন না । আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা বললাম ।

অতএব , কবরে যাবার আগে আমাদের নিজেদের আমল নিজেদেরকেই ঠিক করা জরুরী । অমুক পীর বা হুজুরের অনুসারী হয়েছিলাম বলে গাফিলতি হয়ে গিয়েছে ? এই অযুহাত সেদিন কোন কাজে আসবে না । আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন । সঠিক আমল করে মরে যাওয়ার তৌফিক দিন ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.