| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৌদি আরবের লুনার ক্যালেন্ডার অনুযায়ী চাঁদ না দেখেই চাঁদ দেখার ঘোষণা দিয়ে আসছিল, যা বেশ কয়েকবার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রমাণ সহ তুলে ধরেছেন । কিন্তু অনেক অন্ধ ভক্তরা কেবল সৌদি আরবের ঘোষণাকেই সঠিক মনে করে যাচাই বাছাই না করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন । যা ভুল । কেননা “নবচাঁদ” আল্লাহ কেন উদিত করেন ?- এ বিষয়ক সূরা বাক্করহ্ এর ১৮৯ নম্বর আয়াতের নির্দেশ লংঘণ করে আসছেন । যারা এরকম অন্ধত্বের মধ্যে নিমজ্জিত আছেন, তারা বিষয়টাকে গুরুত্বই দিতে চান না ? কত বড় তামাশা এটা !!!
ঠিক এবারও সৌদি আরব রামাদানের চাঁদ না দেখে তাদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগেই ঘোষণা করে দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে সারা বিশ্বের কাছে সমালোচিত হয়েছে । কিন্তু তারা তাদের ভুল সংশোধন না করে চাঁদের হিসাবকে গন্ডোগোল পাকিয়ে দিয়েছে । কিন্তু দেখা যাচ্ছে ঈদের চাঁদ দেখা কমিটি গতকাল ১৮ ই মার্চ বুধবার তাদের ক্যলেন্ডারের তারিখ অনুযায়ী ঘোষণা না দিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ১৯ মার্চ বৃহষ্পতিবার পৃথিবীতে হিলাল দৃশ্যমান হবে বলে যে মতামত দিয়েছেন, তার ভিত্তিতে তারা ৩০ রোজা পূর্ণ করতে বলেছে ।
এর মানে কি দাঁড়ালো ? তারা রমাদানের চাঁদ না দেখে মিথ্যা রমাদান মাস ঘোষণা করে ঈদের চাঁদ নিয়ে যাতে আর সমালোচনার মুখে পড়তে না হয়, সে জন্য ৩০ রমাদান পূর্ণ করতে বলেছে ।
তাদের মিথ্যা ঘোষণা শুনে বাংলাদেশ বরাবরের মত যা করে, তাই করেছে । বাংলাদেশের আকাশে কোথাও রামাদানের চাঁদ দেখা না গেলেও তারা সৌদি আরবের পরের দিন থেকে ১লা রামাদান ঘোষণা করে দিয়েছিল । কাকতালীয়ভাবে সৌদির মিথ্যাচারের কারণে এবার বাংলাদেশ সঠিক সময়ে চাঁদের হিসাবটি পেয়ে গেছে । মানে সৌদি আরব যদি মিথ্যাচার না করত, তাহলে বাংলাদেশ বরাবরের মত চাঁদের ২য় দিনকে ১লা রামাদান ঘোষণা করত ।
চাঁদ দেখা নিয়ে এরকম প্রতারণার খেলা আর কতকাল চলবে ??
এ জন্য সকলের প্রতি নিবেদন, পৃথিবীর যেখানেই ”নবচাদ” উদিত হয়েছে, এরকম কোন ভাই এর প্রেরিত ঘোষণা শুনবেন, সেদিন থেকেই চাঁদের মাস শুরু করবেন । তাহলেই কেবল চান্দ্র মাসের হিসাব সঠিক পাবেন এবং আমলও সঠিক সময়ে হবে ।
মুসলিম উম্মাহ মানচিত্র দিয়ে ভাগ করার অবকাশ আছে ? পৃথিবীতে “নবচাঁদ” উদিত হবার খবর বর্তমানে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সারা পৃথিবীর মানুষ জানতে পারে । তাহলে চাঁদ দেখে হিসাব ঠিক করার সিদ্ধান্ত কেবল আপনাকে চাঁদ দেখেই নিতে হবে ? এই গোড়ামী থেকে বের হয়ে আসুন । কেননা যিনি চাঁদ দেখেছেন, তিনি মুসলিম উম্মাহ এর সদস্য । তিনি আমাদের ভাই । তার দেখা মানে আমার দেখা । এভাবে চিন্তা করলেই সমাধান । সারা পৃথিবীর মানুষ একই সময়ে রোজা রাখতে পারবে, একই সময়ে ঈদ করতে পারবে। যেহেতু হজ্জ্ব এর তারিখ স্থির করা সহ চান্দ্র মাসের দিনপন্জী নির্ণয় করার জন্য আল্লাহ সূরা বাক্বরহ্ এর ১৮৯ নম্বর আয়াতে “নবচাদ” উদিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন । তাহলে কেন সেই আয়াতের খেলাফ কাজ করছে মুসলিম জাতি ? মানচিত্র ভিত্তিক লুনার ক্যালেন্ডার তৈরী করছেন কোন যুক্তিতে ?
সুতরাং যারা সৌদি আরবের অন্ধভ্ক্ত হয়ে চাঁদের মাস গণনাকে সঠিক মনে করছেন, তারা সাবধান হোন । সৌদি আরব এর শাসকদের ঘোষণাকে অন্ধের মত বিশ্বাস করার কোন সুযোগ নেই । বিজ্ঞানীরা যেটা বলবে, সে অনুযায়ী চাঁদ দৃশ্যমান নিশ্চিৎ - এই ঘোষণা আমার যে ভাই পৃথিবীর যেখান থেকেই দিবে, সেইদিনই আমাদের লুনার ক্যালেন্ডার এর সংশ্লিষ্ট মাসের প্রথম দিন শুরু হিসেবে বিবেচনা করতে হবে । না হলে চরম ভুল করবেন । কুরআনের ঐ আয়াতকে লংঘণ করার দায়ে অভিযুক্ত হবেন । রাসুলের সুন্নাহকেও অমান্য করবেন । কেননা যে ভাই চাঁদ দেখে সারা পৃথিবীকে জানিয়ে দিল, তাকে আপনারা মুসলিম উম্মাহর সদস্য হিসেবে মানছেন না। সাধু ! সাবধান !!!
©somewhere in net ltd.