| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আয়না কুমার (ছোট গল্প)
(শামীম জাহাঙ্গীর)
আনমনে ঘুরতে ঘুরতে অচেনা এক রাজ্যে এসে পড়লো আয়না কুমার । এদিকের বাতাসে কেমন যেন একটা কান্নার সুর বয়ে যাচ্ছে । যতই সামনে যায় কুমার, কান্নার শব্দ যেন ততই বাড়ে । মন খারাপ করা সেই বাতাসই যেন তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে সেই করুণ কান্নার উৎসের দিকে ।
রাজা শয্যাশায়ী । একমাত্র কন্যা হারানোর শোকে রাজার সাথে সাথে তার পুরো সাম্রাজ্যও শোকাহত । পথে কোন মানুষ পাওয়া গেল না এবং পথ-ই কুমারকে রাজার বাড়িতে পৌছিয়ে দিল । সেখানে অনেক মানুষের ভীড় । সবাই আকাশের দিকে তাকিয়ে নিরবে হাহাকার করছে শুধু । কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করলেও কেউই আকাশের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে রাজকুমারের দিকে তাকালোই না ।
রাজ জোতিষীর গণণা মতে কেউ একজন আসছে রাজকুমারীর উদ্ধারে ! সেই আশায় এখনো টিমটিম করে জ্বলছে রাজার জীবন প্রদীপ । এই পর্যন্ত এই জোতিষীর একটা গণণাও ভুল হয়নি । সেই কুমারের অপেক্ষায় পায়চারি রত জোতিষী কুমারকে দেখেই চিনতে পারে যে এই-ই তার সেই কাঙ্ক্ষিত জন। জোতিষীর কাছ থেকে সব জেনে কুমারের মনটা খুব খারাপ হয়ে যায় । জোতিষী আকাশের দিকে তাকিয়ে এক টুকরো কালো মেঘ দেখায় কুমারকে । ঐখানেই রাজকুমারীর বন্দি আছে বলে জোতিষীর স্থির বিশ্বাস । কুমার এতক্ষণে বুঝতে পারলো এখানকার সবার আকাশের দিকে তাকিয়ে হাহাকারের কারন ।
এতদিন পর মেয়ের মুখ দেখে শয্যাশায়ী পিতার দেহে কিছুটা শক্তি ফিরে এল । বিছানা থেকে উঠে কুমারকে জড়িয়ে ধরলো । কুমারের সাথে থাকা আয়নায় ঘুমন্ত রাজকুমারীকে দেখা যাচ্ছে শুনে রাজ বাড়ির বাইরে প্রজাদের মাঝে তীব্র উল্লাস ছড়িয়ে পড়লো । কুমার হিসাব করে বলে গেল আগামী এগারো দিন পর আপনার মেয়ে ফিরে আসবে । আমার উপর ভরসা করতে পারেন ।
কুমারের আশ্বাসে রাজা জোতিষীর দিকে তাকালে জোতিষী মাথা উপর নীচ করে সম্মতি দিতে ঈশারা দেয় । রাজা তাই করে । জোতিষী কুমারের কাঁধে হাত রেখে একবার নিজের বাবা মা কে দেখে তারপর রওনা দিতে অনুরোধ করে । রাজা তখন কিছু না বললেও কুমার যাওয়ার পর তার কারন জানতে চায় জোতিষীর কাছে । জোতিষীর ইচ্ছাকৃত দেরি করানোর কারন বুঝতে পারে না শোকার্ত পিতৃত্ব । "কারণ তো ছিলই মহারাজ । এর বেশি কিছু বলতে আমি অপারগ । গুস্তাফি মাফ করবেন।" জোতিষী এর বেশি বলেওনি তখন।
কুমার জোতিষীর অনুরোধে সাড়া না দিয়ে সরাসরি রাজকন্যার উদ্ধার অভিযানে নেমে পড়ে । কুমারের ।। একের পর এক মেঘমালা পেরিয়ে যাচ্ছে ঝড়ের বেগে । কুমার আয়নায় নজর রাখছে । সেই আয়নায় রাজকুমারীকে একাই ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে এখনো । কে নিয়ে গেল রাজকুমারীকে ? কাউকে রাজকুমারীর পাশে কাউকে না দেখে চিন্তিত কুমার ।
কুমারের মনে প্রশ্ন উদয় হওয়া মাত্রই আয়নায় ভয়ালদর্শী এক রাক্ষসের চেহারা ভেসে উঠে । একে পরাজিত করেই রাজকুমারীকে উদ্ধার করতে হবে বূঝতে পারে কুমার । একটা মাত্র রাক্ষসকে পরাজিত করা তার জন্য কঠিন কিছু হবে না ।
ময়ূরপঙ্খি নীচে নামতে শুরু করায় কুমার তার আয়নার দিকে তাকায় । এটা কোন মেঘমালা নয় । দূর থেকে তেমন দেখা গেলেও এটা শূন্যে ভাসমান একটা মরুভূমি । চারিদিকে ধূ ধূ বালুকা বেলা । তার মাঝে ছবির মতো একটা মরূদ্যান । চারপাশে দেয়াল দিয়ে ঘেরা সেই মরূদ্যানের গেটে ঘুমিয়ে আছে ভয়ানক সেই রাক্ষস । কুমার ঘুমন্ত রাক্ষসের মাথা এক কোপে ঘাড় থেকে আলাদা করে ফেলল ।
বলতে গেলে কোন কষ্ট ছাড়াই উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার তৃপ্তি নিয়ে কুমার তার সুলেমানি তলোয়ার খাপে রাখতে গিয়ে যা দেখলো তাতে কিছুটা ভয়-ই পেয়ে গেল যেন । রাক্ষসের প্রতি ফোটা রক্ত মাটিতে পড়তেই তা থেকে একটা রাক্ষসের বাচ্চা জন্ম নিচ্ছে । যেভাবে দ্রুত বড় হচ্ছে এরা, এদের নির্মূল করা কিভাবে সম্ভব?
সাথে সাথে আয়নার মাঝে ভেসে উঠলো রাক্ষসের কাটা মূন্ডুটাকে চার খন্ড করে চারটা আলাদা আলাদা মেঘমালায় রেখে আসতে হবে । তবেই রাক্ষস বংশের কেল্লা ফতে ।
সেইমতো সব কিছু সম্পাদন শেষে ক্লান্ত কুমার রাজকন্যার শিয়রের সোনার কাঠি রূপার কাঠির প্রান্ত বদল করতেই জেগে উঠে রাজকুমারী । বিস্মিত রাজকুমারী অবাক হয়ে দেখছে, এখানে বন্দি অবস্থায় আধ ঘুম আধ জাগরণে এই কুমারই সর্বক্ষণ তার পাশে পাশে ছিল ।
রাজকুমারী যতটা বিস্ময় নিয়ে কুমারের দিকে তাকিয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি বিস্মিত হয়ে গেল যখন দেখল তার চাঁদ মুখটার দিকে একবারও না তাকিয়ে শুয়েই চোখ বুঁজলো কুমার । তাঁর মতো সুন্দরীরা এই অপমান সইবে কেন? অতি সুন্দরীগণের বেশিরভাগই প্রচন্ড অভিমানী ও নিষ্ঠুর হয়ে থাকে ।
ঠিক এগারো দিনের দিন আকাশে ময়ূরপঙ্খি দেখে রাজ্যের মানুষ আনন্দে হৈ হৈ করে উঠলো । ময়ূরপঙ্খি কিছুক্ষণের মাঝেই মাটিতে নেমে এলো । তাতে একা রাজকুমারী । আর তার হাতে কুমারের সেই আয়না । আয়নাটা যেন এখন একটা ছবির ফ্রেম। অথবা তাতে এখন শুধু ঘুমন্ত কুমারের অবস্থানই দেখা যায় । ঘুমন্ত কুমারের শিয়রে সোনার কাঠি রূপার কাঠি। আয়না কুমারের ঘুম ভাঙ্গবে না আর কোনদিন ।
©somewhere in net ltd.
১|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৫৩
স্বপ্না ইসলাম ছোঁয়া বলেছেন: আবার পড়লাম।