নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তাজ উদ্দীন বাবুল

জানতে, জানাতে এলাম। আমি একজন সরল, সোজা মানুষ। সত্য বলতে, জানতে, জানাতে পছন্দ করি।

তাজ উদ্দীন বাবুল › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিয়ের দাওয়াত : যেন গিফটের বিনিময়ে খাদ্য !

১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১১:৩৬

আমাদের পাশের বাড়ির পরিবারটা বেশ অস্বচ্ছল। একদিন শুনি মা তার ছেলেকে বলছে- আজকে শাহানার গায়ে হলুদ।
ছেলে : তো, যাও!
মা : নাহ! যামু না। (বিয়েতে) গেলেই পাঁচশ টাকা দিতে হইবো। আমার নিজেরই টানাটানির সংসার। পাঁচশ টাকাও অনেক।"


ঘটনাটা বললাম এই কারণে যে, দেখতে পাচ্ছি- বর্তমানে আত্মীয়তার সম্পর্কটি যেন টাকার কাছে ম্লান হয়ে গেছে। এই যেমন পাঁচশ টাকা দিলে সেই মহিলার সংসারে অর্থিক অসুবিধা হবে -এই আশঙ্কায় দাওয়াতী মেহমান হওয়ার পরও তিনি যাননি। যদি এমন হতো যে বিয়েতে গিফট দেয়ার কোনো চিন্তা না থাকতো তাহলে হয়তো কোনো চিন্তা না করে সম্পর্কের টানে বিয়ের দাওয়াতে তথা তাদের আনন্দে শামিল হতেন।
যদিও আমরা জানি, মানুষ মানুষকে গিফট দেয় খুশি মনে, এটা জোর করে চেয়ে নেয়ার বিষয় না। তবে আজকাল যেন বিয়েতে গিফট দেয়া- একটা বাধ্যতামূলক কাজ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়- কেউ বিয়েতে কম মূল্যের গিফট দিলে তার বদনাম করা হয়, তাকে ছোটলোক ভাবা হয়।

এদিকে, আজকাল নগদ হিসাবে এক হাজার টাকার নিচে গিফট দেয়া যায় না। আপনজন হলে টাকার পরিমাণ আরো বাড়াতে হয়।
বিয়ের দাওয়াত একটা আনন্দের খবর। কিন্তু দাওয়াত পেয়ে এখন মানুষ খুশি হওয়ার চেয়ে গিফটের কথা চিন্তা করে হিসাব কষতে থাকে। অন্যদিকে যারা দাওয়াত দিয়েছেন তারাও অনুষ্ঠানে সেন্টারের এক কর্ণারে টেবিল লাগিয়ে গিফট নেয়ার ব্যবস্থা রাখেন। কে কত টাকা দিলো তা খাতায় লিপিবদ্ধ হতে থাকে। এই কাজের জন্য আপন বিশ্বস্ত কাউকে টেবিলের কাজে বসানো হয়। আবার এমনও কিছু পরিবারের কর্তা আছেন যারা এই গিফটের হিসাব লিপিবদ্ধ করা খাতাটি সযত্নে উঠিয়ে রাখেন। কেউ দাওয়াত দিলে তার সেই পুরোনো খাতা বের করে দেখেন, ওই ব্যক্তি তার দাওয়াতে কত দিয়েছিল। তাই দেখে তাকে গিফট দেয়া হয়। কি অদ্ভূত কাণ্ড! এ কেমন আত্মীয়তা! এ কেমন সম্পর্ক!


এদিকে গিফটের চক্করে পড়ে দেখা যায়- অনেক গরিব মেহমানরা আসেন না বা তাদের আর্থিক অবস্থা সবার সামনে প্রকাশ পাবে- এমনটি ভেবে কষ্ট করে হলেও গিফট জোগাড় করে তারপর আসেন। মনে মনে তারা দুঃখ করে বলেন- 'সমাজে সম্মান নিয়ে বাঁচতে হলে এমনটি করতেই হয়!'
আসলে আমরা সামাজিক রীতিনীতিকে এতটাই কঠিন করে ফেলেছি যে, তা কখনো দেখা যাচ্ছে মানুষকে বাধ্য করছে, কখনো বা একটা ভুল বার্তা সমাজে ছড়াচ্ছে। তাই কিছু মানুষ মন থেকে সেগুলো মেনে না নিলেও 'সমাজে থাকতে হলে এসব করে থাকতে হবে'- এমন একটা ধারণা জন্মে গেছে। আমাদেরকে বদলাতে হবে এটাকেই।

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন- বিয়ের অনুষ্ঠানের মধ্যে সেই অনুষ্ঠানটিই নিকৃষ্ট যাতে ধনীদের দাওয়াত দেয়া হয় আর গরিবদের উপেক্ষা করা হয়। (মিশকাত)

আমি গিফট দেয়া-নেয়ার বিরোধিতা করছি না। কেননা রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন- 'তোমরা পরষ্পরের মধ্যে গিফট আদান-প্রদান করো এতে তোমাদের সম্পর্ক গভীর হবে'। তবে বর্তমানের বিয়ের গিফট প্রদান প্রথা দেখে মনে হচ্ছে- মেহমানেরা বাধ্য হয়েই গিফট নিয়ে আসছেন। এ যেন গিফটের বিনিময়ে খাদ্য!
তাই বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে বলতেই হয়- বিয়েতে এই সিস্টেম তুলে ফেলা উচিত। আত্মীয়দের মধ্যে কে বড়লোক, কে গরিব এসব বাছ-বিচার না করে, কারো কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশা না করে সন্তুষ্ট চিত্তে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দাওয়াত খাওয়াতে হবে।

আর কারো যদি একান্তই গিফট দিতে ইচ্ছা করে বা তিনি নাছোড় বান্দা হয়ে গিফট দিতে প্রস্তুত, তাহলে- সদ্য বিবাহিত পরিবারে গিয়ে তাদের সুখী পরিবার দেখে তাদের হাতে গিফট দেয়াটাই ভালো মনে করি।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১১:৪৭

প্রামানিক বলেছেন: বিয়ের দাওয়াত মানেই কিছু না কিছু দিতে হয়। ধন্যবাদ

২| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১২:৫৭

বিপরীত বাক বলেছেন: বর্তমানে আত্মীয়তার সম্পর্কটি
যেন টাকার কাছে ম্লান হয়ে গেছে।
এই যেমন পাঁচশ টাকা দিলে সেই
মহিলার সংসারে অর্থিক অসুবিধা
হবে -এই আশঙ্কায় দাওয়াতী মেহমান
হওয়ার পরও তিনি যাননি।

৩| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১:২৪

প্রলয়শিখা বলেছেন: আমার মনে হয় আত্নীয়তার টানই এখানে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। উপহার কিছুই না।

৪| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ২:১১

ধমনী বলেছেন: এ ধরনের গিফট সংস্কৃতি বর্জন করা উচিত।

৫| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:৫৪

শামছুল ইসলাম বলেছেন: খুব নিষ্ঠুর একটা সত্য সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেনঃ
//কেউ দাওয়াত দিলে তার সেই পুরোনো খাতা বের করে দেখেন, ওই ব্যক্তি তার দাওয়াতে কত দিয়েছিল। তাই দেখে তাকে গিফট দেয়া হয়। কি অদ্ভূত কাণ্ড! এ কেমন আত্মীয়তা! এ কেমন সম্পর্ক!//

আসুন, আমরা এই দাওয়াতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসি।

৬| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৫২

সুমন কর বলেছেন: চমৎকার একটি বিষয় তুলে ধরেছেন। +
এখানে উপহারটি মূখ্য বিষয় হওয়া উচিত নয় বরং পাস্পরিক সম্পর্কটাই বড় হওয়া উচিত।

৭| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:৩২

ইমরান রণ বলেছেন: লেখকের সাথে সহমত।আসলেই বাস্তবতা এমন যে,আপনি বিয়ে জন্মদিন বা যেকোন অনুসঠান থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের অনুসঠানেই টাকা বা উপহারই দিতে বাধ্য অর না লোকের ছিঃ ছিঃ আপনাকে মুখবুজে সহ্য করতে হবে।

৮| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:৩৮

কমরেড নীল বলেছেন: কেউ দাওয়াত দিলে তার সেই পুরোনো খাতা বের করে দেখেন, ওই ব্যক্তি তার দাওয়াতে কত দিয়েছিল। তাই দেখে তাকে গিফট দেয়া হয়। কি অদ্ভূত কাণ্ড! এ কেমন আত্মীয়তা! এ কেমন সম্পর্ক

৯| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:৪২

ইকরাম বাপ্পী বলেছেন: আমার এক শিক্ষকের শিক্ষা... ...

"বিয়াত যাবি বাবা, তোরাতো শহরের পোলা মাইয়া, একটা কোরানশরীফ, একটা নামাজ শিক্ষা বই আর ভালো দেখে একটা রান্না শিক্ষার বই দিস। নতুন জামাই বৌ এর কাজে দিব। তোর টাকা পয়সা কম না বেশি এগুলা নিয়া কেউ কথা কইলে কউক।"

১০| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১২:১৩

অপু দ্যা গ্রেট বলেছেন: আমার বিয়েতে আপনেরে দাওয়াত দিমু না । :D ;) ;)

কারন আপনে গিফট দিবেন না । B-) ;) B-)

১১| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩৫

এরিক ফ্লেমিং বলেছেন: "দাওয়াতে যাবো, তৃপ্তি সহকারে খাবো, প্রাণভরে দোয়া করবো"

বি:দ্র:- আমার বিয়েতে উপহার আনার দরকার নেই।

১২| ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:০৭

গরল বলেছেন: আমার জাপানের একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি যেটা আমার ভাল লেগেছে এবং এখানেও প্রচলন করা যায় কিনা দেখেন। ওখানে বিয়ে, জন্মদিন, আ্যনিভার্সারী বা সাধারণ পার্টি দাওয়াত যাই হোক না কেন পার্টির টোটাল খরচ সবাই সমান ভাগে ভাগ করে নেয় মাথাপিছু। বড়সড় বা জাকজমক আয়োজনের ক্ষেত্রে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয় মাথাপিছু আনুমানিক কত লাগতে পারে। এতে যার সমর্থ্য হয় যায় না হলে জানিয়ে দেয় পারব না। তাতে আয়োজকের প্লান করতে সুবিধা হয়। এতে সবারি আনন্দ ও খরচ সমান ভাবে ভাগাভাগি করে নেয়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.