| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডঃ এম এ আলী
সাধারণ পাঠক ও লেখক
বালুর ঢেউ যেখানে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখে
সেখানে জন্ম নেয় মানুষ
যাদের ঘর ছিল দিগন্ত
আর ছাদ ছিল নক্ষত্রভরা রাত।
তারা বেদুইন
মরুর সন্তান, বাতাসের সাথী
তৃষ্ণার মাঝেও যাদের হৃদয়
অতিথির জন্য ঝরাতো মধুর হাসি।
খেজুরগাছের ছায়ায় বসে
তারা লিখত না কাগজে ইতিহাস
তাদের স্মৃতি ছিল জীবন্ত গ্রন্থ
কবিতাই ছিল তাদের পরিচয়পত্র।
যখন সভ্য শহর ঘুমিয়ে ছিল অজ্ঞতার অন্ধকারে
তখন মরুর পথে তারা বহন করত বাণিজ্যের আলো
দূর ইয়েমেন থেকে শাম
মক্কা থেকে পারস্যের প্রান্তে
উটের ঘণ্টায় বাজত সংযোগের সুর।
তাদের পথেই মিলেছিল সংস্কৃতি
ভাষা পেয়েছিল ছন্দ
আরবি কবিতা হয়েছিল মরুর বাতাসের মতো স্বাধীন
যার শব্দে জন্ম নিয়েছিল সাহস আর সম্মান।
তারা শিখিয়েছে
সম্পদ নয়, মর্যাদাই মানুষের পরিচয়
প্রাসাদ নয়, প্রতিশ্রুতিই সবচেয়ে দৃঢ় আশ্রয়।
মরুর কঠোরতা গড়েছিল তাদের চরিত্র
ধৈর্য ছিল তাদের পানীয় জল
আর স্বাধীনতা ছিল তাদের নিশ্বাস।
যখন রাসুল(স,) এর আহ্বান উঠল মানবতার নামে
এই বেদুইন হৃদয়ই প্রথম শুনেছিল সেই ডাক
তারা মরুর সীমা ছাড়িয়ে
বহন করল জ্ঞান, ন্যায় আর ঈমানের আলো
পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।
তাদের উটের পদচিহ্নেই খুলেছিল পথ
বিজ্ঞান, ভাষা আর দর্শনের যাত্রায়
কারণ পথ না থাকলে
সভ্যতাও কখনো পৌঁছায় না গন্তব্যে।
আজও মরুর বাতাস বলে
সভ্যতা শুধু নগর দেয় না জন্ম
কখনো কখনো ইতিহাসের মহান শিক্ষক
হয় এক যাযাবর জাতি।
হে বেদুইন
তোমাদের সরল তাঁবুর ভেতরেই লুকিয়ে ছিল
মানবতার সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়
যেখানে শেখানো হতো
সাহস, সম্মান, আর অতিথিকে ভালোবাসা।
বালুর বুক আজও ধরে রেখেছে তোমাদের পদচিহ্ন
কারণ সভ্যতা এগিয়েছে সামনে
কিন্তু পথ দেখিয়েছিল মরুর মানুষ।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
কবিতাটি বেদুইনদের প্রতি নিবেদিত ।
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:০১
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মন্তব্যে করা আপনার গুরুত্বপুর্ণ ভাবনার জন্য ধন্যবাদ । গতকাল ইফতারের সময় আরবীয় খেজুর খাওয়ার
সময় ভাবছিলাম একসময় এই খেজুরই ছিল আরবীয় বেদুইনদের মূল খাবার , তাদের উৎপাদিত খেজুর আমরা
এখন মঝা করে খাচ্ছি । আমাদের দেশের অর্ধকোটিরো বেশী মানুষ সেখানে এখন কর্মরত । তারপরেও
অনেকেই বেদুইন প্রসঙ্গ নিয়ে সঠিক ভাবনা ভাবেন না । তাই কবিতাটি সেই বেদু্ইন সাথে আমাদের
মানুষগুলির প্রতি নতুন করে দৃষ্টি ফেরাতে সাহায্য করবে, যারা দেশের সীমানার বাইরে কঠোর পরিশ্রম
করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে তুলছেন। আরব দেশগুলোতে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা
শুধু নিজেদের পরিবারই নয়, পুরো দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাদের
পাঠানো রেমিটেন্স আমাদের আমদানি ব্যয়ের বড় একটি অংশ সামাল দিতে সহায়তা করে এবং জাতীয়
অর্থনীতিকে সচল রাখছে।
এই প্রেক্ষাপটে বেদুইনদের নিয়ে কবিতা লেখা কেবল একটি সাহিত্যিক প্রয়াস নয়; বরং এটি প্রবাসজীবনের
বাস্তবতা, সংগ্রাম এবং মানবিক অনুভূতিকে সামনে নিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছি। এমন লেখালেখি
আমাদের সমাজে প্রবাসী শ্রমজীবী মানুষের সাথে সেখানকার মানুষের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা ও কৃতজ্ঞতার
অনুভূতি জাগিয়ে তোলতে পারে , যা সামাজিকভাবেও হবে মুল্যবান ।
বাংলাদেশের মানুষের জন্য এর সুফল হতে পারে এ ধরনের সাহিত্য আমাদের অর্থনীতির নেপথ্যের নায়কদের
সম্পর্কে সচেতন করে, তরুণ প্রজন্মকে বাস্তব জীবনের মূল্যবোধ শেখায় এবং গ্লোবাল ঐক্য ও পারস্পরিক
শ্রদ্ধাবোধকে আরও দৃঢ় করতে পারে। তাই শুধু প্রশংসনীয় নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও
গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
সনেট কবিতা লেখা অনেক সাধ্যের কাজ। সেটা আপনার জন্যই শ্রদ্ধার সাথে তোলা রইল ।
শুভেচ্ছা নিবেন ।
২|
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মন্তব্যে করা আপনার গুরুত্বপুর্ণ ভাবনার জন্য ধন্যবাদ । গতকাল ইফতারের সময় আরবীয় খেজুর খাওয়ার
সময় ভাবছিলাম একসময় এই খেজুরই ছিল আরবীয় বেদুইনদের মূল খাবার , তাদের উৎপাদিত খেজুর আমরা
এখন মঝা করে খাচ্ছি । আমাদের দেশের অর্ধকোটিরো বেশী মানুষ সেখানে এখন কর্মরত । তারপরেও
অনেকেই বেদুইন প্রসঙ্গ নিয়ে সঠিক ভাবনা ভাবেন না । তাই কবিতাটি সেই বেদু্ইন সাথে আমাদের
মানুষগুলির প্রতি নতুন করে দৃষ্টি ফেরাতে সাহায্য করবে, যারা দেশের সীমানার বাইরে কঠোর পরিশ্রম
করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে তুলছেন। আরব দেশগুলোতে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা
শুধু নিজেদের পরিবারই নয়, পুরো দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাদের
পাঠানো রেমিটেন্স আমাদের আমদানি ব্যয়ের বড় একটি অংশ সামাল দিতে সহায়তা করে এবং জাতীয়
অর্থনীতিকে সচল রাখছে।
এই প্রেক্ষাপটে বেদুইনদের নিয়ে কবিতা লেখা কেবল একটি সাহিত্যিক প্রয়াস নয়; বরং এটি প্রবাসজীবনের
বাস্তবতা, সংগ্রাম এবং মানবিক অনুভূতিকে সামনে নিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছি। এমন লেখালেখি
আমাদের সমাজে প্রবাসী শ্রমজীবী মানুষের সাথে সেখানকার মানুষের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা ও কৃতজ্ঞতার
অনুভূতি জাগিয়ে তোলতে পারে , যা সামাজিকভাবেও হবে মুল্যবান ।
বাংলাদেশের মানুষের জন্য এর সুফল হতে পারে এ ধরনের সাহিত্য আমাদের অর্থনীতির নেপথ্যের নায়কদের
সম্পর্কে সচেতন করে, তরুণ প্রজন্মকে বাস্তব জীবনের মূল্যবোধ শেখায় এবং গ্লোবাল ঐক্য ও পারস্পরিক
শ্রদ্ধাবোধকে আরও দৃঢ় করতে পারে। তাই শুধু প্রশংসনীয় নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও
গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
সনেট কবিতা লেখা অনেক সাধ্যের কাজ। সেটা আপনার জন্যই শ্রদ্ধার সাথে তোলা রইল ।
শুভেচ্ছা নিবেন ।
৩|
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১৯
কাছের-মানুষ বলেছেন: কবিতাটি ভাল লেগেছে। আপনার কবিতা লেখার হাত ভাল, আরবদের জীবন ধারা কিছুটা উঠে এসেছে কবিতায়!
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৫৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
বেদুইন আরবদের জীবন ধারা ও গ্লোবাল ব্যাবসা বানিজ্য প্রসারে তাদের ভুমিকা হয়ত ভনেকের এখনো
রয়েছে অজানা । বিষযটি নিয়ে কিঞ্চিত আলোচনার অবকাশ আছে বলে মনে করি । বিষয়টি নিয়ে পরে
আলাদা একটি পোস্ট দিব ভাবছি ।
শুভেচ্ছা রইল
৪|
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
আরবদের মাঝে এখনো বেদুইন জীবন ব্যবস্থার প্রতি টান রয়ে গিয়েছে।
আমি দুই মাস সৌদি আরব ছিলাম। বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেছি, তারা তাঁদের কৃষ্টি ধরে রেখেছে। একদিকে আধুনিকতার ছোঁয়া, অন্যদিকে যাযাবর জীবনের প্রতি টান। তারা হাতে কিছু সময় হলেই সেই সংস্কৃতির টানে ভেসে বেড়ায়।
এই বেদুইনদের জাতির সাহস অসাধারণ। নাহলে, সেই আরব থেকে দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে? অবাক হতে হয়, যখন শুনি ইসলামের বানী প্রচারে তাঁরা হাজারো ঝড় ঝঞ্জা পেরিয়ে অন্য জাতির কাছে পৌঁছায় দিয়েছে সেই বাণী।
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৪৯
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
বেদুইনদের নিয়ে তো তাহলে আপনার রয়েছে অনেক
বাস্তব অভিজ্ঞতা । লিখুন তাদের নিয়ে গল্প কবিতা ।
আমিউ লিখব তাদের নিয়ে গর্ব করার মত আরো
একটি কবিতা , জানুক সকলে তাদের কৃত্তিকথা ।
শুভেচ্ছা রইল
৫|
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৯
রাজীব নুর বলেছেন: বেদুইন আর যাযাবর তো একই কথা বা একই জাত বা গোত্র।
সৌদিতে এখনও কিছু বেদুইন আছে। সমাজ এদের মেনে নেয়নি।
দূরে মরুভূমিতে এদের দেখা পাওয়া যায়। এরা মূলত পতিতা। প্রবাসীরা অনেক রিস্ক নিয়ে বেদুনইনের কাছে সময় কাটাতে যায়।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০৮
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: কবিতাটি বেশ ভালো লেগেছে। আরবে আমাদের বহু লোক কাজ করে খায়। তাদের পাঠানো রেমিটেন্সে আমাদের আমদানী ব্যয়ের অনেকখানি মিটে। সেজন্য তারা আমাদের জন্য বেশ উপকারী। আপনি তাদেরকে নিয়ে ভাবেন, তাদেরকে নিয়ে কবিতা লিখেন এটা ভালো দিক। আপনার আর সনেট লেখা বাকি। হয়তোবা কোন এক সময় সেটাও দেখে ফেলব। সবচেয়ে বড় কথা আপনি ব্লগকে ভালো বাসেন।