নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

জীবনের গল্প- ১০১

১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে দেরী হয়ে গেছে। রাত সাড়ে বারোটায় মিরপুর পল্লবী থেকে সিএনজি'তে উঠেছি বাসায় ফিরবো। শ্যাওড়া পাড়া আসতেই সিএনজি চালক বললো- গ্যাস নিতে হবে। গ্যাস নিতে গিয়ে আধা ঘন্টা সময় লাগলো। রাত একটায় বাসার গলিতে ঢুকতেই দেখি কোহিনূর খালা বসে আছেন! ঘরের লাইট জ্বালানো, কেচি গেট খোলা। উনি সিড়িতে বসে আছেন। বললাম, খালা এত রাতে বসে আছেন কেন? খালা আমাকে দেখে হাসি দিলেন। বললেন, একজন আসবে অনেক টাকা নিয়ে। খালার জন্য আমার মায়া হলো! খালাদের আর্থিক অবস্থা আগে খারাপ ছিলো। এখন আর্থিক কোনো সমস্যা নেই। খালার সব ছেলেমেয়ে চাকরি করে।

এত রাতে কেউ টাকা নিয়ে আসবে না।
বললাম, টাকা দিয়ে কি করবেন? খালা বললেন, ছেলেমেয়েদের দিবো। আমি বললাম, আপনার ছেলেমেয়ে তো কেউ অভাবী নয়। খালা বললেন, ওরা আমার খরচ দিতে গেলে ওদের সংসারে কষ্ট হয়। ঝগড়া হয়। প্রতিমাসে আমার খরচের টাকা দিতে গেলে ওরা ভাইবোন সব ঝগড়া করে। ওদের জন্য আমার মায়া হয়। খালার বয়স ৬০/৬৫ হবে। স্বামী মারা গেছেন অনেক আগে। খালার মাথায় কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। খালার এক ছেলে থাকে, আমেরিকা। সে মাঝে মাঝে মায়ের জন্য দামী দামী ওষুধ পাঠায়। তার ছোট মেয়ে সরকারি চাকরি করে। একসময় খালার অনেক অভাব গেছে। কিন্তু এখন তো কোনো অভাব নেই, তবুও কেন খালা সারাদিন টাকা টাকা করেন! রাতে না ঘুমিয়ে অপেক্ষা করেন। কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবেন।

২। আরেক মায়ের কথা।
গতকাল উনি আমাকে ফোন দিয়েছেন। উনি ফোন দিলে কথা বলতেই থাকেন। কারণ উনি দীর্ঘদিন ধরে বাসায় একা থাকেন। তার কথা বলার মানুষ নেই। তার ছেলেমেয়েরা তার সাথে থাকে না। তবে কেউ কেউ বছরে দুই একবার খোজ খবর নেয়। উনার সমস্যা হলো উনার কাছে ৭ লাখ টাকা ছিলো। তার কোনো ছেলেমেয়েই এই খবর জানতো না। তখন মায়ের সাথে তার ছেলেমেয়েদের সম্পর্ক ভালোই ছিলো। ছেলেমেয়ে খোজ খবর নিতো। একদিন উনি তার ছেলেমেয়ের কাছে সাত লাখ টাকার কথা বলেন। এরপর থেকেই সমস্যা শুরু। এক ছেলে বলল, মা আমি কানাডা যাচ্ছি, তোমার টাকা আমাকে দিয়েও দাও। প্রয়োজনে আমি কানাডা গিয়ে তোমার টাকা ফিরিয়ে দেবো। মা টাকা দেয়নি। আরেক মেয়ে বলল- মা টাকা টা আমাকে দাও। আমি ফ্লাট কিনবো। কিছু টাকা কম আছে। তুমি সাত লাখ দিলে, আমার হয়ে যাবে। প্রয়োজনে তোমাকে তিন মাস পর, তোমার টাকা তোমাকে ফিরিয়ে দিবো।

এদিকে আরেক ছেলে বলছে-
সংসারের জন্য আমি অনেক করেছি। কোনোদিন টাকা পয়সা জমাইনি। সব তোমাদের জন্য খরচ করেছি। এখন আমি অসুস্থ। তোমার জমানো টাকা আমায় দিয়ে দাও। চিকিৎসা করাই। সুস্থ হই। কিন্তু মা কাউকেই টাকা দেন নাই। বড় ছেলে একদিন মাকে বুঝিয়ে বলল, তুমি বাসায় একা থাকো। কোনদিন চুরি-টুরি হয়ে যাবে। তারচেয়ে ভালো টাকাটা আমার কাছে দাও। ব্যাংকে রেখে দেই। তুমি যখন চাইবে, তখনই তোমাকে দিয়ে দিবো। কোনো সমস্যা নাই। মা বড় ছেলেকে টাকা দিয়ে দেয়। টাকা হাতে পেয়েই বড় ছেলে বদলে যায়। মাকে টাকা ফেরত দেয় না। এমনকি মায়ের ফোনও ধরে না। এদিকে মা টাকার জন্য ডাক্তার দেখাতে পারেন না। ওষুধ কিনতে পারেন না। অন্য ছেলেমেয়েরা সবাই খুশি। বলে, মায়ের উচিৎ শিক্ষা হয়েছে। এখন মা একা বাসায় থাকেন। ভীষন অসুস্থ। ডাক্তার দেখাতে হবে, ওষুধ কিনতে হবে। ঘরের বাজার করতে হবে। তার টাকা নেই।

৩। আমার মা কোনো কারণে আমার উপর যত্নশীল ।
সে আমাকে বেশ খাতির করে। আমার শরীরের খোজ খবর নেয়। চা'য়ে চিনি যেন না খাই। ভুলে যেন না যাই- আমার ডায়বেটিকস। মা গত ১৫ বছর ধরে রান্না করে না। কিন্তু আমার জন্য প্রায়ই রান্না করে। গোপনে আমায় ডেকে খাওয়ায়। বাসার কেউ জানে না। কিন্তু আগে পরে বাসার সবাই জেনে যায়। মা রান্না না করতে করতে, ভুলে গেছে রান্না করা। মায়ের রান্না ভালো হয় না। স্বাদ হয় না। তবু আমি চুপ করে খাই। মারাত্মক আগ্রহ দেখাই। মা খুশি হয়। মায়ের কাছ থেকে টাকা নিই। আমার টাকার প্রয়োজন নেই। তবু নিই। মা খুশি হয়। মাকে খুশি করার জন্যই টাকা নিই। সমাজের অনেক মায়ের চেয়ে আমার মা ভালো আছে। বলা যায় কোনো অভাব অনটনের মধ্যে নেই। সময় মতো খাওয়া দাওয়া করছে, পুরো মাসের ওষুধ এক তারিখেই চলে আসে। সারাদিন মা টিভি দেখে অথবা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তার সুন্দর সময় কেটে যায়।

সমাজের অনেক মা ভালো নেই।
আবার অনেক মা খুব ভালো আছে। সব ছেলেমেয়ে বাবা মায়ের যত্ন নেয় না। বাবা মায়ের বয়স হয়ে গেলে যত্ন দরকার। ছোটবেলা বাবা মা আমাদের যে ভাবে লালনপালন করেন, বাবা মায়ের বয়স হয়ে গেলে, তাদের সেভাবে যত্ন করতে হয়। বাবা মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব আছে। আমার দাদা দাদীকে দেখেছি, তারা রাজার হালে জীবনযাপন করেছেন। তাদের সব ছেলেমেয়ে বাবামাকে অনেক সম্মান করতেন। আমরা চার ভাই বাবা মাকে হৃদয়ে ধারন করেই জীবনযাপন করছি। আমার মা চিকিৎসা আর ওষুধের কথা ভাবতে হয় না। এখনও মা আমাদের বুদ্ধি পরামর্শ দেয়। মায়ের সাথে অনেক সময় ঝগড়া হয়, চিল্লাচিল্লি হয়। সেসব আমরা এবং মা দশ মিনিট পরেই ভুলে যাই। আব্বা করোনা'তে মারা গেলো। মা না থাকলে তো অসহায় হয়ে যাবো।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:০৮

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



মা তো মা-ই!!!
আর, বড় ও ছোট ছেলের জন্যে মায়ের আলাদা আদর থাকে।

আমার আজ যে অর্জন, তা আমার মায়ের কারণেই! উনার দেওয়ার বুদ্ধি মতো চলেছি বলেই আজ উপার্জন করতে পারছি। মাঝে মাঝে খুব বকা খাই, এখনো!!!

২| ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:০৩

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার লেখাটা ভালো ; পাঠক কম হলো কেন বুঝলাম না ।

৩| ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৫৯

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



মিরপুরে খালি বাসায় এক বৃদ্ধা মহিলা মরে পড়ে ছিলেন, তার জীবনের সাথে আপনার লেখার মিল পেলাম। তবে আপনার লেখা আমাদের দেশের সমাজের অবস্থার সাথে সঠিক। সিরিয়াল আর নাটক দেখে দেখে দেশের পরিবারগুলোর ভয়াবহ অবস্থা চলছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.