| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডঃ এম এ আলী
সাধারণ পাঠক ও লেখক
বিধাতার পরে দুহাত তুলে
জানাই শুকরিয়া কারণ
অসীম শূন্যতার ভেতরেও
তিনি শুনেছিলেন প্রতিধ্বনি
নিজ সত্তারই গভীর আহ্বান।
তাই তিনি সৃজিলেন দুহু
আলো আর অন্ধকার
দিন আর রজনী
আকাশ আর ধরণী
প্রেম আর প্রত্যাশা।
একটি হৃদয় থেকে আরেকটি হৃদয়ে
প্রবাহিত হোক অনন্তের সুর
এই ছিল তাঁর প্রথম স্বপ্ন।
দুহু হতে বহু
বহু হতে বহুতর জীবন
নক্ষত্রেরা জ্বলে উঠল আকাশে
ধূলিকণায় জন্ম নিল গ্রহের গান।
জলের বুকে উঠল ঢেউ
মাটির বুকে ফুটল প্রথম সবুজ
মানবহৃদয়ে জেগে উঠল ভাষাহীন প্রার্থনা।
একাকীত্ব ভাঙার সেই মহাকাব্য
এখনও লেখা হয় প্রতিদিন
মায়ের কোলেতে শিশুর হাসি হয়ে
বন্ধুর কাঁধে ভরসার হাত হয়ে
প্রেমিকের চোখে অনন্ত প্রতিশ্রুতি হয়ে।
রক্তের ভেতর বয়ে চলে সম্পর্কের নদী
স্বপ্নেরা জুড়ে দেয় বিচ্ছিন্ন দ্বীপসম প্রাণ।
বিধাতা জানেন
একাকীত্বে সৃষ্টির রং ফিকে হয়ে যায়
দুহুর মিলনে জন্ম নেয় বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উৎসব।
তাই তিনি ছড়িয়ে দিলেন সম্পর্কের বীজ
রক্তে, মাটিতে, নক্ষত্রে, স্বপ্নে;
যেন প্রতিটি প্রাণ জানে
সে একা নয়, কখনও নয়।
কারণ দুহু থেকে বহু
আর বহু থেকে আবার
একই অনন্তের দিকে ফিরে যাওয়া
এই তো সৃষ্টির চিরন্তন যাত্রা।
কিন্তু
এখন এই চিরন্তন যাত্রায়
বিশ্বজুড়ে মরণপণ যুদ্ধে
মানুষ মানুষকে ভোলে
ভ্রাতা ভ্রাতার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়
জীবন ঘাতী ক্ষেপনাস্রের
অগ্নিশিখা গ্রাস করে নগর।
ক্ষমতা, হিংসা আর লোভ
ছিন্ন করছে হৃদয়ের সেতু।
এখন এই সৃষ্টিজগতে ঘটছে
মানবীয় কত সব মরণঘাতি লীলা
ধ্বংসের ভস্মে কি ফুটবে নব অঙ্কুর?
রক্তরাঙা ভোর কি রচনা করবে
আরও নির্মল প্রভাত?
তবে বিধাতা নিশ্চুপ নন
সংঘাতের গভীরে লুকিয়ে রাখেন বোধের বীজ
অন্ধকারের অন্তরালে জ্বালিয়ে দেন
অদৃশ্য প্রদীপ।
মরণপণ যুদ্ধের বুক চিরে
তিনি লিখে দেন সহমর্মিতার শপথ
ভগ্ন সভ্যতার ধ্বংসস্তূপে
রোপণ করেন পুনর্জন্মের আশা
যথা এটম বোমার পরেও
জাপানের নাগাশিকা
আর হিরোশিমা ।
কারণ তিনি জানেন
দুহুর বিভেদ চূড়ান্ত নয়
সংঘর্ষও শেষ সত্য নয়;
বহুর ভেতরেই লুকিয়ে থাকে
একটিরই অনন্ত সুর।
তাই ধ্বংসের পরেও সৃষ্টি
বিচ্ছেদের পরেও মিলন
অশ্রুর পরেও হাসি
এই চক্রেই ঘুরে চলে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড।
দুহু থেকে বহু
বহু থেকে আবার একে ফেরা
এই তো সৃষ্টির চিরন্তন লীলা
এই তো অনন্তের আহ্বান।
শুভেচ্ছা সকলের তরে ।
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:১৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মুল্যবান অনুপ্রেরণাদাক কথা বলার জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল ।
২|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৩
রাজীব নুর বলেছেন: কবিতা মূলত আবেগের খেলা।
আমি কবিতা বুঝি না। কবিতা লিখতে পারি না। আসলে আমি কিছুই লিখতে পারি না। তবু কিভাবে কিভাবে যেন ব্লগে টিকে আছি।
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ঠিকই বলেছেন, কবিতা আবেগের খেলা । তবে খেলার মতোই, নিয়ম না জানলেও মানুষ খেলতে খেলতেই
শিখে ফেলে।
আমি কবিতা বুঝি না এই স্বীকারোক্তিটাই আসলে কবিতা বোঝার প্রথম দরজা। কারণ কবিতা মানে সব বুঝে
ফেলা নয়; বরং অনুভবের দিকে এক ধাপ এগোনো।
আপনি যখন পাওয়ারফুল ল্যান্স দিয়ে ঢাকার রাজপথ, অলিগলি, আলো-ছায়া, মানুষের মুখ এসব ধরে রাখেন,
তখন আপনি কেবল ছবি তুলছেন না; আপনি মুহূর্তকে সংরক্ষণ করছেন। কবিতাও ঠিক তাই করে শব্দের মাধ্যমে
মুহূর্তকে স্থির করে।
কবিতা লিখতে হলে কবি হতে হয় না; লাগে শুধু লক্ষ্য করা, একটু থেমে থাকা, আর নিজের ভেতরের কথাটাকে
ভয় না পাওয়া। আপনি যেহেতু প্রতিদিনের ডায়েরি লিখছেন, তার মানে আপনি ইতিমধ্যে শব্দের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে
ফেলেছেন।
হয়তো একদিন দেখবেন আপনার কোনো একটি বাক্যই হঠাৎ কবিতা হয়ে গেছে। আর হয়ত কেন আপনার
লেখা কবিদিতো আপনার ব্লগেই দেখেছি ।
তাই লিখে যান। বুঝতে চাওয়ার চেয়ে অনুভব করতে শুরু করুন। কবিতা তখন নিজেই আপনার কাছে
এসে বসবে।
শুভেচ্ছা রইল
৩|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৯
শেরজা তপন বলেছেন: সুপ্রিয় ডাঃ এম আলী ভাই, ব্লগে ইদানিং আপনার নিয়মিত পদচারনা দেখে ভাল লাগছে। আপনি আগের থেকে নিশ্চয়ই ভাল আছেন, সুস্থ আছেন। অফ লাইনে আপনাআর লেখা পড়ি কিন্তু মন্তব্য করা হয় না।
যা হোক এখানে দুহু বলতে কি মিলন, পারস্পরিক অনুরাগ, বুঝিয়েচ্ছেন নাকি উভয়, দুইজন, দুই জনই বোঝাতে চেয়েছেন?
যারা এমন কবিতার গভীর তাৎপর্য অন্তর দিয়ে অনুভব করতে চায় বা পারে তাদের জন্য এটাআ অন্যতম আধ্যাত্মবাদী কাব্য।
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৪৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ব্লগটি দিনে দিনে কেমন জানি ম্রিয়মান হয়ে যাচ্ছে , তাই আমি বলতে গেলে সারক্ষনই লগ ইন অবস্থায় থাকি ।
নীজ পোস্ট খুব কমই দেই, তবে অনেকের পোস্টেই সক্রিয় বিচরণ করি ও মন্তব্য লিখি যতটুকু পারি ।
যাহোক। এবার আপনার প্রশ্নটি নিয়ে ্একটু আলোচনা শেয়ার করি , আপনি নিশ্চয়ই আমার থেকে এ বিষয়ে
ভালো জানেন , যিনি বিষয়ে কিছুই জানেননা তিনি গুছিয়ে প্রশ্নোও করতে পারেন না । সেই বিশ্বাস হতেই
বলি আপনি এ বিষয়ে ভাল জানেন , এখানে শুধু আমার জানা কথা কিছুটা শেয়ার করলাম সংক্ষেপে । বেশি
করে বলতে গেলে ভলিউমের পর ভলিউম ভরে যাবে কিন্তু কথা ফুরাবেনা ।
এখন বলি, বিধাতা প্রথমে একা ছিলেন, তারপর দু’হু হলেন এই বাক্যটি আক্ষরিক নয়, বরং গভীর আধ্যাত্মিক
প্রতীকের ভাষা। এখানে একা ও দুহু কোনো সংখ্যাগত পরিবর্তন নয় বরং তা সত্তা ও প্রকাশের রহস্য।
একত্ব তথা ওয়াহদাতুল ওজুদ (অস্তিত্বের একত্ব),মহান আল্লাহ তাঁর সত্তায় চিরকালই এক ও অদ্বিতীয়।
যেমন কুরআনে আছে কুল হুয়াল্লাহু আহাদ বলুন, তিনি আল্লাহ, এক।
সুফীরা বলেন, আল্লাহর এই একত্বের অবস্থাকে বোঝাতে তাঁরা গায়েবুল গায়েব (অদৃশ্যেরও অদৃশ্য) অবস্থা বলেন।
এই ধারণা বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ইবনে আরাবি তাঁর ওয়াহদাতুল ওজুদ তত্ত্বে। তাঁর মতে, বাস্তবে একটিই
সত্তা আল্লাহ। বাকি সব তাঁর তাজাল্লি (প্রকাশ)।
দুহু হওয়া মানে এখানে আল্লাহর সত্তায় বিভাজন নয় বরং খালিক (স্রষ্টা) ও মাখলুক (সৃষ্টি)এই সম্পর্কের প্রকাশ।
সুফী ভাষায় বলা হয় সত্তা এক কিন্তু সিফাত (গুণাবলি) প্রকাশের মাধ্যমে সৃষ্টি জগতের উদ্ভব।
আল্লাহ নিজেকে জানার জন্য সৃষ্টি করলেন এটি একটি বিখ্যাত সুফী হাদিসে কুদসির ব্যাখ্যায় বলা হয়,
আমি ছিলাম এক গোপন ধন, আমি চাইলাম পরিচিত হতে, তাই সৃষ্টি করলাম।সুফীরা এটিকে আক্ষরিক নয়,
প্রতীকী ব্যাখ্যায় নেন। অর্থাৎ সৃষ্টির মাধ্যমে আল্লাহর গুণাবলি প্রতিফলিত হলো রহমান, রহীম, খালিক,
রাজ্জাক ইত্যাদি।
সুফী মরমীরা বিষয়টিকে প্রেমের ভাষায়ও ব্যাখ্যা করেন।প্রেমে আমি ও তুমি আছে, কিন্তু গভীরতম স্তরে প্রেমিক
ও প্রিয়তম একাত্ম হয়ে যায়।মনসুর আল-হাল্লাজ বলেছিলেন আনাল হক (আমি সত্য)। তিনি নিজেকে আল্লা
দাবি করেননি বরং তাঁর আত্মা এতটাই আল্লাহর প্রেমে বিলীন হয়েছিল যে আমি ও তুমি ভেদরেখা মুছে গিয়েছিল।
মরমী উপলব্ধিতে সারকথা হল আল্লাহ কখনোই এক থেকে দুই হননি সংখ্যাগত অর্থে। দুহু তথা দুই হলো
সম্পর্কের ভাষা স্রষ্টা ও সৃষ্টি। সৃষ্টি হলো তাঁর সৌন্দর্য ও গুণাবলির প্রতিফলন।চূড়ান্ত সত্যে আবার সবই সেই
একের দিকে প্রত্যাবর্তন করে ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মুল্যবান প্রশ্নটি করার জন্য ধন্যবাদ । পোস্টটি এই রমজানে আমার নীজ প্রতিশ্রুত মরমী সিরিজের একটি
ছোট অংশ ।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:০১
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: আপনার কবিতার মান অনেক বেড়েছে।