নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লেখা লেখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

সাধারণ পাঠক ও লেখক

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:৫৭


মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা
সীমানা পেরিয়ে নীরবে হামলা চালায়
কেউ বলে ড্রোন, কেউ বলে গুপ্তচর
আঁধার রাতে আদান-প্রদান করে খবর!

এর হুলের যন্ত্রণায় আইরন ডোমও কাতরায়
মিসাইলও ভাবে এই যুদ্ধে কে বা জিতায়?
রণতরীও খোলসে ঢুকে ভেসে যায় দূরে
মশার ভয়ে জেনারেলেরও মাথা ঘোরে!

কী এক আজব বস্তু এলো এই দুনিয়ায়
ছোট্ট দেহ, তবু শক্তিতে সে বড় ভাই!
নমরুদের থেকেও বড় বড় শক্তিগুলো
বাংকারে লুকিয়ে নাকে গুঁজে তুলো!

বড় বড় নেতা ভাষণ দেয় মঞ্চে দাঁড়িয়ে
আমরাই জিতব! বলে হাত নাড়িয়ে
তবু রাতে চুপিচুপি মশারি টানায়
মশার সুরে তাদের ঘুম ভেঙে যায়!

নাকে মুখে কানে গুঁজে দেয় প্রতিরোধী তুলো
তবু সেই গুন গুনানী থামে না একটুও!
চুক্তি, বৈঠক, শান্তি, শাস্তির যত সব বুলি
মশার কাছে সবই শুধু ফাঁকা এক বুলি!

মশা বলে যুদ্ধ নয়তো এখন বড়দেরই খেলা
আমি ছোট, তবু ঘুম কেড়ে নিই বেলা!
রাজনীতি, শক্তি যত সব বড় বড় বুলি
একটি মশাই পারে সব করে দিতে ধুলি!

ইতিহাস বলে---
অহংকারের সিংহাসনে বসে ছিল এক রাজা
নিজেকেই ভাবত সে এই সৃষ্টির মহারাজা
আকাশ ছুঁতে চেয়েও মাটির কথা ভুলে
ক্ষমতার নেশায় ডুবে সত্যটাকে দলে।

ধরায় এসেছিল এক সত্য, শান্ত দৃপ্ত কণ্ঠে
বলেছিল আলো জ্বলে এক মহান সত্ত্বে
সূর্য ওঠে আর ডোবে তাঁরই হুকুমে প্রতিদিন
তুমি কি পারো বদলাতে তার পথ চলন ?

নীরব হলো গর্ব, থমকে গেল তার মুখ
মিথ্যার প্রাসাদে লাগল ভাঙনের দুঃখ
অহংকারের মুকুট পড়ল ধুলার তলে
ক্ষুদ্র এক মশাতে হার মানে তুমুলে।

শিখিয়ে গেল ইতিহাস নীরব ভাষায়
উঁচু নয় সে, যে থাকে দম্ভের আশায়
বিনয়ে যে নত, সে-ই হয় সত্য মহান
ন্যায়ের পথেই জ্বলে জীবনের প্রাণ।

জুলুমের রাত যতই দীর্ঘ হোক না কেন
সত্যের সূর্য নিশ্চয়ই উঠবে আবার যেন
মিথ্যার আঁধার ভেঙে আলো করবে জয়
সত্য আর ন্যায়েই মানুষের স্বার্থক পরিচয়।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৫৩

নজসু বলেছেন:



আস সালামু আলাইকুম প্রিয় ভাই। আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন।

আপনার রচিত [মশা কামরাইল রে, কামরাইল ইরানী মশা ] কবিতাটি পড়তে গিয়ে প্রথমে মনে হবে মজার এবং ব্যঙ্গাত্মক ধাঁচের। কিন্তু প্রিয় ভাই, পাঠকরা একটু গভীরে গেলেই বুঝতে পারবেন, এর মধ্যে লুকিয়ে আছে জটিল ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ। ক্ষুদ্র প্রাণী মশা কে কেন্দ্র করে যে রূপক রচনা করেছেন, তা সত্যিই চমৎকার। কবিতার কারিগররা সম্ভবতঃ এমনই হয়ে থাকেন। ক্ষুদ্র অতি এক নগন্য প্রাণী যে মহাশক্তিশালী নমরূদের পতনের কারণ হয়, সেটা মনে করিয়ে দিলেন। আপনার এই উপমা ব্যবহার করে বড় শক্তিওয়ালার ক্ষমতার অহংকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন খুবই বুদ্ধিদীপ্তভাবে। আপনার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই প্রিয় ভাই। সব পাঠকের সাথে এই ক্ষুদ্র আমিও অত্যন্ত মুগ্ধ।

কবিতার শুরু [ইরানী মশা, [ড্রোন], এবং [আইরন ডোম] ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার পাঠককে যথেষ্ট আনন্দ দিলেও, তার মধ্যেই একটা কাঁটা লুকিয়ে আছে। প্রিয় ভাই আমার ক্ষেত্রে একটা সত্যি কথা বলছি, ধীরে ধীরে কবিতাটি যখন নমরুদের গল্প ও ইতিহাসের দিকে যাচ্ছিলো, তখন আমার গায়ের রোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলো। আসলেই তো কবিতাটা শুধু ব্যঙ্গেই সীমাবদ্ধ নেই। অবশ্যই এটি দার্শনিক আর নৈতিকতার বক্তব্যে রূপ নিয়েছে। এই যে এই টোনাল পরিবর্তন সত্যিই আপূর্ব সুন্দর এবং অর্থবহ হয়েছে।

প্রিয় ভাই, আমার বেয়াদবি নেবেন না। একজন পাঠক হিসেবে শুধু প্রশংসা করলে সেটা তোষামোদী হয়ে যায়। আমার কাছে কিছু জায়গায় ভাষার ভঙ্গি কথ্য এবং প্রমিত মিশ্রিত মনে হলো। হতে পারে আমার বিভ্রম। আপনার ত্রুটি ধরার সাহস আমার নেই। আমি ক্ষুদ্র। আমার বোঝার ভুল হতেই পারে। আপনি সম্ভবতঃ ইচ্ছে করেই কবিতার খাতিরে এমনটি করেছেন।

সব শেষে বলতে পারি, এটি আপনলেই আপনার একটি বুদ্ধিদীপ্ত ও উপভোগ্য ব্যঙ্গাত্মক এবং চরম শিক্ষামূলক কবিতা রচনা। পাঠককে কবিতাটা যতোটা হাসাবে, তারচেয়ে বেশি ভাবাবে। আর সবার শেষে একটি একটি শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে অহংকারের কাছে নয়, বরং বিনয় ও সত্যের কাছেই শেষ পর্যন্ত জয়। ইনশা আল্লাহ।

আমার মন্তব্যে কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন প্রিয় ভাই। আপনাকে অনেক ভালোবাসি। আপনার জন্য, আপনার পরিবারের জন্য আমার দোয়া সর্বদা। ভালো থাকবেন। দোয়া করবেন আমার জন্য। আল্লাহ হাফিজ।

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৪২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ওয়ালাইকুম সালাম সুপ্রিয় ভাই নজসু ।
আপনার আন্তরিক ও গভীর পর্যবেক্ষণসমৃদ্ধ মন্তব্যটির জন্য হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। একজন
পাঠক হিসেবে আপনি যে মনোযোগ ও অনুভব নিয়ে কবিতাটিকে গ্রহণ করেছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।
বিশেষ করে আপনি যেভাবে ব্যঙ্গের আড়ালে নিহিত সামাজিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য, এবং নমরুদের প্রসঙ্গের
মাধ্যমে অহংকারের পরিণতি তুলে ধরার দিকটি অনুধাবন করেছেন তা কবিতার মূল ভাবনাকে যথার্থভাবে স্পর্শ
করেছে।

কবিতার কথ্য ও প্রমিত ভাষা প্রসঙ্গে আপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের প্রতি বিশেষভাবে আলোকপাত করে
একটি কথা জানাতে চাই যে আজ হতে অর্ধশত বছরেরো বেশি আগে আমাদের এলাকায় যুব সমতির উদ্যোগে
আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দর্শক শ্রোতাদের বিশেষ অনুরুধে বেতার বাংলাদেশ ( ততকালীন রেডিও
পাকিস্তানের) প্রখ্যাত গীতিকার ( তিনি ভাল গানও গাইতে পারতেন) প্রয়াত আবদুল হাই আল হাদী এলাকার
কথা তুলে ধরে একটি স্বরচিত গান গেয়েছিলেন, যার প্রথম লাইনটি ছিল “ মশা কামরবইল রে , কামরাইল
বেলদিয়ার মশা “ সে গানটি হৃদয়ে এমনভাবে বসে গিয়েছিল যে আজ এতদিন পরে টিভিতে যখন শাহেদ
ড্রোনের আঘাতে শক্তিশালী মারনাস্রও যেভাবে হার মানছে, সে দৃশ্য দেখার পরে মনে বেজে উঠে সেই গান
"মশা কামরাইল রে , কামরাইল বেলদিয়ার মশা", এখানে বেলদিয়া বাদ দিয়ে ইরানী বসিয়ে কবিতা লেখা
করেছিলাম শুরু , এই কথ্য ভাষা দিয়ে শুরুর পরে আমার চিরাচরিত রিতী প্রমিত ভাষায় লেখা এগিয়ে চলে ,
পরে এই অসঙ্গতি দুর করার কথা ভুলে যাই একেবারে । এখন আপনার কথায় টনক নড়ে ,আপনার মন্তব্য
পাঠের সাথে সাথেই কবিতার ভাব, ব্যঙ্গ এবং শক্তি অক্ষুণ্ণ রেখে আমি এটিকে সম্পূর্ণ প্রমিত ও ভাষাগতভাবে
পরিশীলিত করে কথ্য ও প্রমিতের মিশ্রণ দূর করে একধারার রূপে সাজিয়েছি ।হৃদয়ের অন্তস্থল হতে ধন্যবাদ
বিষয়টির দিকে নজর দেয়ার জন্য , সহৃদয় পাঠকের এমন সূক্ষ্ম দৃষ্টিই কবিতা পরিশীলনে সহায়ক হয়।

কবিতায় আপনি যে টোনাল পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তথা হালকা ব্যঙ্গ থেকে ধীরে ধীরে দার্শনিক
গভীরতার দিকে যাত্রা, এটি সচেতনভাবেই নির্মাণের চেষ্টা ছিল, এবং আপনি সেটি অনুভব করতে পেরেছেন জেনে
সত্যিই ভালো লাগছে।

আপনার বিনয়ী ভাষা, আত্মসমালোচনার ভঙ্গি এবং ভালোবাসাপূর্ণ দোয়া সব মিলিয়ে আপনার মন্তব্যটি শুধু একটি
প্রতিক্রিয়া নয়, বরং একধরনের হৃদ্যতাপূর্ণ সংলাপ। আপনার এই আন্তরিকতা আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে
তোলে।

আপনার জন্যও রইল আন্তরিক শুভকামনা ও দোয়া। আল্লাহ আপনাকে ও আপনার পরিবারকে সুস্থ, সুন্দর ও
শান্তিতে রাখুন। আবারও কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাই।

২| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

নজসু বলেছেন:



দুই তিনবার রিভিশন করে মন্তব্য পোষ্ট করার পরেও দেখছি বানান ভুল রয়ে গেছে। :(
বোল্ডে কিছু শব্দ দিয়েছিলাম। সেটাও বন্ধনী হয়ে গেছে। :D

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



এটাই হলো সামু ব্লগের একটি সীমা্দ্ধতা । পাঠক একবার মন্তব্য সাবমিট করার পরে তাতে কোন ভুল বা অসঙ্গতি
ধরা পড়লে তা সংশোনের আর কোন উপাই থাকেনা । অনেক কষ্ট করে আড় সর একটি মন্তব্য লেখার পরেও তাতে
ভুল থাকলে মনে বড় ব্যথাই লাগে কিছু করার থাকেনা । এরকমটি আমারই হয় বেশি , যা হোক আফছুছ করে
কোন লাভ নেই , বিষয়টি আমরা সকলেই জানি ও সমভাবে ভুক্তভুগী । তবে কোন বানান ভুল হয়নি হয়েছে শুধু
আপনার ইচ্ছা বোল্ড না হয়ে হয়েছে [ দ্বিতীয় বন্ধনী ] তবে এটাকে যে হাইলাইট করেছেন তা বুঝতে কোন অসুবিধা
হয়নি । :)

শুভেচ্ছা রইল

৩| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:০৩

হুমায়রা হারুন বলেছেন: এই অসাধারণ ও শিক্ষণীয় কবিতাটি আমাদের উপহার দেবার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এই সৃজনশীল রচনা আমাদের সত্য, ন্যায়, বিনয় ও মানবিকতায় উদ্বুদ্ধ করে।
এই কবিতাটি সত্য, ন্যায় ও বিনয়ের চেতনা নিয়ে রচিত একটি কবিতা । নিম্নোক্ত লাইনটি
—'ধরায় এসেছিল এক সত্য',
অর্থাৎ সত্য চিরকালীন, চিরন্তন এবং অপরিবর্তনীয়। সত্যের কণ্ঠ দৃঢ়, শান্ত ও নির্ভীক—সে জানিয়ে দেয়, পৃথিবীর আলো, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, সবই মহান সত্যের নিয়মে চলে এবং মানুষ চাইলেই তা পরিবর্তন করতে পারে না।
এরপর গর্ব ও অহংকারের পতনের চিত্র আঁকা হয়েছে। মিথ্যার প্রাসাদ যেমন টেকসই নয়, অহংকারের মুকুটও এক সময় ধূলায় লুটিয়ে পড়ে। এমনকি ক্ষুদ্র এক মশার কাছে অহংকারী মানুষ পরাজিত হয়—এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উপমা। এখানে বোঝানো হয়েছে, অহংকার আসলে মানুষকে ক্ষুদ্র বানায় ও অপমানিত করে।
কবির মূল বার্তা, ইতিহাস নীরবে এই শিক্ষা দেয় যে, উঁচু মর্যাদা বা মহানত্ব কেবল অহংকারে পাওয়া যায় না। বিনয়ী মানুষই প্রকৃত অর্থে মহান। ন্যায়ের পথে থাকলে জীবন সত্যিকারের প্রাণ পায়, আলো পায়।
কবিতার শেষাংশে জুলুম বা মিথ্যার রাতের দীর্ঘতাকে অতিক্রম করে সত্যের সূর্য আবারও উদিত হবে—এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। মিথ্যার অন্ধকার যতই গভীর হোক, শেষ পর্যন্ত সত্য ও ন্যায়েরই জয় হয় এবং এই সত্য-ন্যায়ের মধ্যেই মানুষের আসল পরিচয় নিহিত।
কবিতাটিতে মানবজীবনের আদর্শ ও নৈতিকতার কথা বলেছেন। এখানে সত্য, ন্যায়, বিনয় ও অহংকারের চিরন্তন দ্বন্দ্ব এবং শেষ পর্যন্ত সত্য ও ন্যায়ের জয়গান গাওয়া হয়েছে। ভাষা সহজ, বক্তব্য স্পষ্ট এবং নৈতিক শিক্ষা অত্যন্ত গভীর—যা পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
আপনার কলমে উঠে আসা চিরন্তন মূল্যবোধ ও অনুপ্রেরণা আমাদের পথ চলার প্রেরণা হয়ে থাকবে।

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার গভীর অনুধ্যান ও হৃদয়স্পর্শী মন্তব্যটি পড়ে সত্যিই আনন্দিত হলাম। আপনি যে সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে কবিতার
অন্তর্নিহিত বার্তা সত্যের চিরন্তনতা, অহংকারের অনিবার্য পতন এবং বিনয়ের মহিমা,এগুলোকে বিশ্লেষণ করেছেন,
তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

এখানে উল্লেখ্য ইতিহাস বলে নমরূদ ছিলেন এক অত্যাচারী শাসক, যিনি নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবি করতেন এবং
নবি হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর সাথে তর্কে লিপ্ত হন।নমরূদ আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করে বলেছিল “আমিই জীবন
দিই এবং মৃত্যু ঘটাই।” তখন হযরত ইবরাহিম (আ.) যুক্তি দিয়ে বলেন আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদয় করেন,
তুমি যদি পারো পশ্চিম দিক থেকে উদয় করাও। এতে নমরূদ নির্বাক হয়ে যায়। পরবর্তীতে, তার অহংকার ও
অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ তাকে এক ক্ষুদ্র প্রাণীর মাধ্যমে ধ্বংস করেন,একটি মশা তার নাকে ঢুকে তাকে অসহনীয়
যন্ত্রণায় ফেলেছিল, এবং শেষ পর্যন্ত সে অপমানজনকভাবে মারা যায়।

“ক্ষুদ্র এক মশার কাছে অহংকারের পরাজয়” এই উপমাটির তাৎপর্য আপনি যেভাবে তুলে ধরেছেন, তা কবিতার
মর্মবাণীকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। সত্যিই, এই সামান্য চিত্রকল্পের মধ্যেই জীবনের এক গভীর দর্শন লুকিয়ে
আছে মানুষ যত বড়ই ভাবুক নিজেকে, প্রকৃতির বা সত্যের সামনে সে কখনোই সর্বশক্তিমান নয়।

আপনার ব্যাখ্যায় যে বিষয়টি বিশেষভাবে প্রতিভাত হয়েছে, তা হলো সত্য ও ন্যায়ের পথ কখনো সহজ না হলেও,
সেটিই শেষ পর্যন্ত আলোর পথ। আর বিনয়ই মানুষকে সেই পথে অবিচল রাখে। এই উপলব্ধি কেবল সাহিত্যিক নয়,
জীবনঘনিষ্ঠ এক মূল্যবোধের প্রতিফলন।

এমন চিন্তাশীল ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিক্রিয়া কেবল একজন সচেতন পাঠকের পক্ষেই সম্ভব। আপনার এই মনোজ্ঞ
মন্তব্যটি কবিতাটির তাৎপর্যকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করেছে। আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা রইল। আপনার এ
ধরনের চিন্তার আলো আমাদের সাহিত্যচর্চাকে সমৃদ্ধ করুক।

শুভেচ্ছা রইল

৪| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

রাজীব নুর বলেছেন: মাঝে মাঝে মানুষের স্খলন হয়। স্খলন হয় কবিতার।
অনেকে বলেন, কবিতা পড়ে যেটুকু বুঝা যায় না, সেটুকুই আসল কবিতা।
আমি কবিতা বুঝি না। আমার কাছে যে কবিতা পড়ে আরাম পাই, সেটাই ভালো কবিতা।

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
আপনার মন্তব্যটি কবিতা-অনুভূতির এক গভীর ও বহুমাত্রিক সত্যকে স্পর্শ করে। এখানে যেমন আত্মস্বীকারের
বিনয় আছে, তেমনি রয়েছে নান্দনিক বোধের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান।

প্রথমত, মানুষের স্খলন হয়, স্খলন হয় কবিতার এই বক্তব্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে কবিতা
কোনো যান্ত্রিক নির্মাণ নয়; এটি মানব-অনুভূতিরই এক রূপ, তাই তার ভেতরেও অসম্পূর্ণতা, দ্বন্দ্ব ও বিচ্যুতি
থাকতে পারে। বরং অনেক সময় এই ‘স্খলন’-ই কবিতাকে জীবন্ত ও মানবিক করে তোলে।

দ্বিতীয়ত, যেটুকু বোঝা যায় না, সেটুকুই আসল কবিতা এই ধারণাটি আধুনিক ও উত্তর-আধুনিক কবিতা
বিশ্লেষণে বহুল আলোচিত। এখানে কবিতার রহস্যময়তা, বহুমাত্রিকতা ও ব্যাখ্যার উন্মুক্ততাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তবে এটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরা কঠিন। কারণ, কবিতা যদি সম্পূর্ণরূপে দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে, তবে তা পাঠকের
সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হতে পারে।

তৃতীয়ত, আপনার ব্যক্তিগত অবস্থান যে কবিতা পড়ে আরাম পাই, সেটাই ভালো কবিতা এটি অত্যন্ত
স্বাভাবিক এবং গ্রহণযোগ্য একটি পাঠ-দৃষ্টিভঙ্গি। সাহিত্যতত্ত্বে একে reader-response বা পাঠক-প্রতিক্রিয়া
ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি বলা হয়, যেখানে কবিতার মূল্য নির্ধারিত হয় পাঠকের অনুভূতি, স্বস্তি ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে।

তবে এখানে একটি ভারসাম্যের প্রশ্নও আসে। শুধুমাত্র আরামদায়ক অনুভূতি নয়, অনেক সময় অস্বস্তিকর, প্রশ্নমুখর
বা চ্যালেঞ্জিং কবিতাও গভীরতর সত্য উন্মোচন করে এবং আমাদের ভাবনার পরিধি প্রসারিত করে। অর্থাৎ,
কবিতার সৌন্দর্য কেবল প্রশান্তিতে নয়, কখনো কখনো অস্থিরতাতেও নিহিত।

সার্বিকভাবে বলা যায়, আপনার মন্তব্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় কবিতার কোনো একক মানদণ্ড নেই। বোঝা,
না-বোঝা; আরাম, অস্বস্তি সব মিলিয়েই কবিতার পূর্ণতা। একজন পাঠক হিসেবে নিজের অনুভূতিকে মূল্য দেওয়া
যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নতুন ও ভিন্ন ধরনের কবিতার প্রতি উন্মুক্ত থাকাও সমানভাবে প্রয়োজন।

শুভেচ্ছা রইল

৫| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৪৮

রাজীব নুর বলেছেন: পুরুষের দশ দশা, কখনও হাতি কখনও মশা ।

— মীর মশারফ হোসেন

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৩১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




অত্যন্ত প্রাসঙ্গিকভাবে পুরুষের দশ দশা, কখনও হাতি কখনও মশা মুল্যবান প্রবচনটি এখানে তুলে
ধরার জন্য। এই প্রবচনটি মানবজীবনের চিরন্তন ওঠানামার এক সংক্ষিপ্ত অথচ তীক্ষ্ণ প্রকাশ। এখানে ‘হাতি’
শক্তি, প্রভাব, প্রতিপত্তি ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক; আর ‘মশা’ দুর্বলতা, অসহায়তা ও তুচ্ছতার ইঙ্গিত বহন করে।
অর্থাৎ, মানুষের জীবনে এমন সময় আসে যখন সে প্রবল শক্তিমান ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে, আবার এমন সময়ও
আসে যখন সে সীমাবদ্ধতা ও অসহায়তার বাস্তবতার মুখোমুখি হয়।

এই কথাটি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য মনে করিয়ে দেয় জীবন কখনো স্থির নয়। সাফল্য যেমন চিরস্থায়ী
নয়, তেমনি ব্যর্থতাও শেষ কথা নয়। যে ব্যক্তি আজ ক্ষমতাবান, কাল সে দুর্বল হতে পারে; আবার যে আজ
অবহেলিত, সে-ই হয়তো আগামীতে শক্তির প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। এই অনিশ্চয়তাই মানবজীবনের
স্বাভাবিক ছন্দ।

তাই এই প্রবচনের অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো ভারসাম্য ও বিনয়ের প্রয়োজনীয়তা। যখন মানুষ ‘হাতি’-র মতো
শক্তিশালী অবস্থানে থাকে, তখন যেন সে অহংকারে অন্ধ না হয়; আর যখন ‘মশা’-র মতো দুর্বলতায় পড়ে,
তখন যেন হতাশ হয়ে না পড়ে। বরং উভয় অবস্থাকেই জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করে ধৈর্য,
সংযম ও প্রজ্ঞার সঙ্গে পথ চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

তবে এই প্রবচনটি কেবল পুরুষের নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্যই একটি গভীর জীবনদর্শন তুলে ধরে
শক্তি ও দুর্বলতার এই পরিবর্তনশীলতার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত শিক্ষা নিহিত।

শুভেচ্ছা রইল

৬| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৩১

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: তুচ্ছের হাতে উচ্চের নিপাত ঘটে, এবারও হয়ত তেমন ঘটতে পারে।

৭| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:২৮

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ইরানি মশার কারণে উচ্চের নিপাত যাক সেই কামনা করি ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.