| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডঃ এম এ আলী
সাধারণ পাঠক ও লেখক
আল্লাহ বলেন এই তো আমার সোজা পথ
চলো এ পথে, ভেঙ্গে সব বিভেদের রথ
কিন্তু মানুষ দাঁড়ায় এক দ্বিধার মোড়ে
কে সত্য বলে? কে ডাকে আলোর ঘরে?
কেউ বলে শুধু কোরআন, আর কিছু নয়
কেউ বলে হাদিস ছাড়া পথ কোথায় ?
কেউ আবার ফিকাহ নিয়ে করে বিরোধ
অজান্তেই সৃষ্টি করে বিভেদের সুর ।
হে মানুষ! শোনো তবে মর্মকথা
ধর্ম নয় কখনো বিভক্ত ব্যাখ্যা
কোরআন হলো আল্লাহর কালাম
সুন্নাহ হলো জীবন্ত ইসলাম।
রাসূল দেখালেন জীবনের পথ
কিভাবে চলবে, কেমন হবে ইবাদত
কথা নয় শুধু আছে বাস্তব জীবন
সেখানেই লুকিয়ে রয়েছে দীন।
তবে প্রশ্ন আসে বোঝব কীভাবে?
সবাই কি পারে ডুব দিতে গভীরে?
আরবি ভাষা, হাদিসের স্তর
সহিহ-যঈফের জটিল খবর!
তখনই এলো জ্ঞানীর দল
যারা বুঝলেন কিতাবের ফল
রাতের পর রাত জেগে তারা
তুললেন বিধান আলোর ধারা।
চারটি পথ একই গন্তব্য
ভিন্ন রীতি, তবু এক সত্য
কারো হাতে যুক্তির আলো
কারো কাছে হাদিস ভালো।
কেউ নরম, কেউ কঠোর ব্যাখ্যা
সবাই চেয়েছেন আল্লাহর সন্তুষ্টি রাখা
তাই পথ তাঁদের আলাদা হলেও
লক্ষ্য কিন্তু এক রবের দিকেই চলা।
হে ভাই! বুঝে নাও এই কথা
মাযহাব নয় কোনো নতুন ব্যথা
এটা শুধু বোঝার সেতু
সোজা পথে চলার রীতি।
কেউ যদি বলে“শুধু আমিই ঠিক,”
জেনে রাখো, সে ভুলের দিক
আর কেউ যদি বলে“সবই ছেড়ে দাও,”
তাও এক প্রকার বিপদের ডেও।
সালাফের পথ ছিল সরল আলো
মাযহাব দিলো সেই পথের চালো
একটি নদী, চারটি ধারা
সবই মিলে সাগর পাড়া।
তবে সাবধান! হে মুসলিম ভাই
নফসের খেলা যেন না হয় ঠাঁই
সহজ দেখে মত বদলানো
এটা কিন্তু পথ হারানো।
তাকলীদ যদি হয় জ্ঞানের সাথে
তবে তা ঠিক আলোর পথে
অন্ধ হলে বিপদ বড়
জ্ঞান ছাড়া চলা অন্ধকার ঘর।
ইমামরা বলেন আমরা মানুষ
ভুল হতে পারে, নয়তো হতাশ
হাদিস যদি হয় আমাদের বিপরীত
তবে ছেড়ে দাও চলো সত্যের দিক।
কী বিনয়! কী গভীর বাণী!
আজ আমরা কেন করি এত টানাটানি?
ইমাম যাকে মানেননি অন্ধভাবে
আমরা কেন আটকে যাই সেই ফাঁদে?
আলেম যদি ভুল করেন কখনো
তবে থেমো না খুঁজে নাও সত্য তখনো
একজন নয় জিজ্ঞাসা করো আরো,
সত্যের আলোয় এগিয়ে চলো।
সাহাবারা ছিলেন আলোর প্রদীপ
তাদের মাঝে ছিল মতের বিপ
তবু তারা ছিলেন এক উম্মাহ
ভালোবাসায় ভরা ছিল তাদের দুনিয়া।
আজ আমরা কেন ভাগে ভাগে?
কেন ঘৃণা জমে অন্তরে আগুন লাগে?
ইসলাম বলে ধরো একসাথে
ভেঙো না হৃদয় বিভেদের রাতে।
হে পথিক! যদি জানতে চাও
কীভাবে জীবন সাজাতে পাও?
পাঁচটি ধাপ মনে রেখো আজ
নিয়ত ঠিক করোএটাই প্রথম কাজ
তারপর খোঁজো কোরআনের আলো
হাদিসে দেখো পথটা ভালো।
না বুঝলে যাও জ্ঞানীর কাছে
তাদের কথা রাখো মনে পাছে
সন্দেহ এলে যাচাই করো
আরেকজনকে জিজ্ঞাসা করো।
শেষে নাও সেই পথটি বেছে
যেখানে তাকওয়া হৃদয়ে মিশে।
এই তো ইসলাম সহজ সরল
তবু গভীর, জ্ঞানের ফল
অন্ধ না হও, না অহংকারী
মাঝামাঝি পথই আসল ভারী।
দল নয়, চাই এক উম্মাহ
ভালোবাসা হোক আমাদের ভাষা
মাযহাব হোক বোঝার পথ
কোরআন-সুন্নাহ হোক জীবনের রথ।
শেষে বলি হৃদয়ের ডাকে
চলো ফিরে যাই সেই আলোকে
যেখানে বিভেদ নেই কোন
আছে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি গুণ।
হে আল্লাহ! আমাদের দাও হিদায়াত
সঠিক পথে চলার শক্তি আর নিঃস্বার্থ নিয়ত
ভুল থেকে বাঁচাও, সত্যে রেখো দৃঢ় স্থির
তোমার পথেই হোক পথচলা মোদের।
ছবিসুত্র : ইন্টারনেট হতে সংগৃহিত
১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৪
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার মন্তব্যে ব্যক্তিস্বাধীনতার যে অনুভূতিটা আছে, সেটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানের দাবিদার।
ইসলামও মানুষের ইচ্ছা, বিবেক ও স্বাধীন চিন্তাকে অস্বীকার করে না বরং সঠিক পথে পরিচালিত করতে চায়।
অপনি অনেক জ্ঞানী মানুষ আপনাকে বুঝিয়ে বলার মত জ্ঞান আমার নেই । তবে এখানে কয়েকটি মৌলিক বিষয়
অলোচনাতো এগিয়ে নিতেই পারি আমরা।
প্রথমত স্বাধিনতা বনাম দিকনির্দেশনা
ইসলামে মানুষকে সম্পূর্ণ দাসত্বে আবদ্ধ করা হয়নি; বরং তাকে বুদ্ধি, বিবেক ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া
হয়েছে। কিন্তু এই স্বাধীনতা যেন নিজের বা সমাজের ক্ষতির কারণ না হয়, সেজন্য আল্লাহ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন
কুরআন-এর মাধ্যমে এবং নবীজি মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও বাণীর মাধ্যমে (হাদিস)।
দ্বিতীয়ত কেন মুসলমানদের জন্য কুরআন ও হাদিস মানা জরুরি
একজন মুসলিম বিশ্বাস করে, স্রষ্টা মানুষের চেয়ে ভালো জানেন মানুষের জন্য কী কল্যাণকর। তাই তাঁর দেওয়া
বিধানগুলো (কুরআন) এবং তার বাস্তব প্রয়োগ (হাদিস) অনুসরণ করা মানে নিজের জীবনকে সঠিক, ভারসাম্যপূর্ণ
ও কল্যাণমুখী পথে পরিচালিত করা। এটা কোনো অন্ধ বাধ্যবাধকতা নয়, বরং জ্ঞানের ভিত্তিতে গৃহীত পথনির্দেশ।
তৃতীয়ত ফিকাহর( নিয়মের) ভূমিকা
ইসলামি ফিকাহ হলো কুরআন ও হাদিসের আলোকে জীবনযাপনের বাস্তব নিয়মকানুন নির্ধারণের একটি পদ্ধতি।
এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জটিল বিষয়গুলো সহজভাবে বুঝতে সাহায্য করে যাতে ব্যক্তি নিজের সিদ্ধান্ত
গুলো আরও সচেতনভাবে নিতে পারে।
এখন আলোচনা করা যায় এটা কি ব্যক্তিস্বাধীনতার বিরুদ্ধে?
আসলে নয় বরং এর পক্ষে। কারণ ইসলাম বলে; তুমি স্বাধীন, কিন্তু দায়িত্বশীল, তুমি সিদ্ধান্ত নেবে, কিন্তু জ্ঞান ও
নৈতিকতার আলোকে তুমি নিজের মতো চলবে, তবে এমনভাবে যেন নিজের ও অন্যের ক্ষতি না হয়।যেমন, সমাজে
আইন থাকা ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করে না; বরং সবার স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত করে। তেমনি, ইসলামের বিধানগুলোও
মানুষের প্রকৃত কল্যাণ ও ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য।
মোট কথা ইসলাম ব্যক্তিকে চিন্তা, অনুভূতি ও সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা দেয়, কিন্তু সেই স্বাধীনতাকে অর্থবহ, নিরাপদ ও
কল্যাণকর করার জন্য কুরআন, হাদিস ও ফিকাহর আলোকে পথ দেখায়। তাই এটি কোনো বাধা নয়, বরং সঠিক
স্বাধীনতার দিশা।
শুভেচ্ছা রইল
২|
১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৩
রাজীব নুর বলেছেন: পথ দুটা। সঠিক পথ আর ভুল পথ।
ভুল পথে গেলে সর্বনাশ।
১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ একেবারে খাটি কথা বলেছেন ।
শুভেচ্ছা রইল
৩|
১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:৪৩
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: আমির অনুমোদীত মাযহাব একটি। সুতরাং আমিরের অনুমোদন বিহীন সব মাযহাব বাদ।
১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৪
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মুল্যবান কথা বলেছেন । মযহাববাদিগনও বলেছেন উন্নত আরো কিছু পাওয়া গেলে তাদের কে বাদ দেয়ার জন্য ।
বিষয়টি নিয়ে আধুনিকতা তথা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আরো বিস্তারিতভাবে যুক্তি তর্ক সহকারে আরো বিষদভাবে
আলোচনার জন্য সবিনয় অনুরোধ থাকল ।
শুভেচ্ছা রইল ।
৪|
১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২৭
কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: হে আল্লাহ আমাদের দাও হিদায়েত আরও
সুন্দর কবিতা
ভালো লাগলো
১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আল্লাহ আপনার মোনাজাত কবুল করুন ।
কবিতা সুন্দর অনুভবের জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল ।
৫|
১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫
রাজীব নুর বলেছেন: নববর্ষের শুভেচ্ছা।
১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার প্রতিও রইল
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:১০
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: হে পথিক! যদি জানতে চাও
কীভাবে জীবন সাজাতে পাও?
...........................................................
যার যার জীবন সে ,
নিজ ধারনা এবং মনের মাধূরী মিশায়ে
চলতে চায় !
ওখানে কেন আইনী বাধা থাকবে ???