| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডঃ এম এ আলী
সাধারণ পাঠক ও লেখক
ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব
বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের নতুন সরকার জাতীয় নতুন পে স্কেল গ্রেডে ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি বেতন কাঠামো প্রদান করবে । কিন্তু দেখা গেল ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুমোদিত National Pay Scale 2026-এও ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামোতে আগের মতোই থাকছে ২০টি গ্রেড। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন হবে ৮ হাজার ২৫০ টাকার বদলে ২০ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের বেতন হবে নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকার বদলে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
তবে পুরো বেতনকাঠামো একসঙ্গে কার্যকর হবে না। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ এই দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে দেওয়া হবে বেতন-ভাতা। সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে।
সরকার জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়েছে।
তাই এই নীতিপত্রের মূল প্রশ্ন হলো:
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের জন্য ২০টি বেতন গ্রেড কি অপরিহার্য, নাকি কমসংখ্যক বিস্তৃত Pay Band-এর মাধ্যমে আরও ন্যায়সংগত, সরল ও দক্ষ একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব?
এই নীতিপত্রের উত্তর হলো দীর্ঘমেয়াদে ২০টি গ্রেডের পরিবর্তে ৭টি বিস্তৃত Pay Band বা বেতন-স্তর বিবেচনা করা যেতে পারে।তবে এখানে গ্রেড কমানো কে কেবল বেতন কাঠামো পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়নি। বরং প্রস্তাবটি একটি সমন্বিত প্রশাসনিক সংস্কার:
৭টি Pay Band + Job Evaluation + Salary Progression + Management Track + Expert Track + Performance Management + প্রয়োজনভিত্তিক ভাতা + প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ + জনবল পুনর্বিন্যাস + ডিজিটাল প্রশাসন।
প্রস্তাবিত মডেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২৫,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,৫০,০০০ টাকা ধরে একটি ধারণাগত কাঠামো দেখানো হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল বেতনের অনুপাত হবে ৬:১।
তবে এই অঙ্কগুলো সরকারি বেতন প্রস্তাব নয়; এগুলো একটি নীতিগত মডেল, যার উদ্দেশ্য হলো কীভাবে অধিক সমতাভিত্তিক কিন্তু মেধা ও দায়িত্বের পার্থক্যকে স্বীকৃত একটি সরকারি বেতন কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে তা দেখানো।
১. একটি রাষ্ট্রের বেতন কাঠামো শুধু কর্মচারীদের কত টাকা দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করে না।
এটি নির্ধারণ করে;
রাষ্ট্রীয় চাকরির সামাজিক মর্যাদা,
কর্মচারীদের মধ্যে আয় ও সুযোগের বৈষম্য,
মেধাবীদের সরকারি চাকরিতে আকৃষ্ট করার সক্ষমতা,
কর্মদক্ষতার প্রণোদনা,
পদোন্নতির কাঠামো,
প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তর,
রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়,
এবং শেষ পর্যন্ত নাগরিক সেবার মান।
সুতরাং একটি জাতীয় পে-স্কেলকে শুধু বেতন কত বাড়ল দিয়ে মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয়।
প্রকৃত প্রশ্ন হওয়া উচিত:
রাষ্ট্র কি এমন একটি বেতন কাঠামো তৈরি করতে পারছে, যেখানে নিম্নস্তরের কর্মচারী সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন, দক্ষ কর্মচারী যথাযথ প্রণোদনা পান এবং উচ্চ দায়িত্বশীল পদে কর্মরত ব্যক্তির পারিশ্রমিকও রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে?
এই নীতিপত্র সেই প্রশ্নের একটি বিকল্প উত্তর অনুসন্ধান করছে।
২. বর্তমান পরিস্থিতি
National Pay Scale 2026-এ ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে।
বিষয় National Pay Scale 2026
মোট গ্রেড ২০
সর্বোচ্চ মূল বেতন ৳১,৫৬,০০০
সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ৳২০,০০০
সর্বোচ্চ/সর্বনিম্ন অনুপাত প্রায় ৭.৮ : ১
কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৬
বাস্তবায়ন তিন ধাপে
আনুমানিক অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় ৳১,০৫,৫৮০ কোটি
সরকারি তথ্য অনুযায়ী নতুন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং প্রায় ৯.২৫ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিকও স্বীকার করতে হবে। সরকার জানিয়েছে যে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত আগের তুলনায় কমিয়ে প্রায় ১:১.৭৮ করা হয়েছে অর্থাৎ নিম্ন গ্রেডের বেতন তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানো হয়েছে।
অতএব এই নীতিপত্র বর্তমান সংস্কারের ইতিবাচক উদ্দেশ্যকে অস্বীকার করছে না।
বরং প্রশ্ন তুলছে:
এই বৈষম্য আরও কমানো এবং একই সঙ্গে প্রশাসনকে আরও সরল ও কার্যকর করার জন্য ভবিষ্যতে কি আরও মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন?
৩. সমস্যার প্রকৃতি
বর্তমান ২০-গ্রেড কাঠামোর সম্ভাব্য সমস্যাগুলোকে পাঁচ ভাগে দেখা যায়।
৩.১ অতিরিক্ত স্তরভিত্তিক বেতন কাঠামো
২০টি গ্রেড কর্মচারীদের মধ্যে বহুস্তরীয় বেতন-সিঁড়ি তৈরি করে।
ফলে:
Grade → Designation → Promotion → Pay
এই চারটি বিষয় অনেক সময় পরস্পরের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে যুক্ত হয়ে যায়।
৩.২ পদোন্নতি-নির্ভর বেতন বৃদ্ধি
কোনো কর্মচারী দক্ষ হলেও যদি উচ্চ পদ সীমিত থাকে, তাহলে তার বেতন বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত হতে পারে।এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সৃষ্টি হয়:
দক্ষতা বাড়লেও পদোন্নতি না হলে আয় বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত।
৩.৩ Cadre ও পদমর্যাদাভিত্তিক বৈষম্য
একই ধরনের দায়িত্ব বা Job Value থাকা সত্ত্বেও পেশা, ক্যাডার বা সাংগঠনিক অবস্থানের কারণে পারিশ্রমিকের পার্থক্য তৈরি হতে পারে।
৩.৪ প্রশাসনিক জটিলতা
গ্রেড, পদোন্নতি, বেতন নির্ধারণ, উচ্চতর গ্রেড, পদ সৃষ্টি, পদ পুনর্গঠন ইত্যাদি ব্যবস্থাপনা জটিল হয়ে ওঠে।
অর্থ বিভাগের বর্তমান কাঠামোতেই বিভিন্ন ধরনের grade ও pay-related প্রশাসনিক ব্যবস্থা রয়েছে।
৩.৫ নিম্নস্তরের কর্মচারীর জীবনযাত্রার নিরাপত্তা
সর্বনিম্ন বেতন বাড়ানো হলেও প্রকৃত প্রশ্ন হলো বেতনটি কি একটি পরিবারের মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয় যথেষ্টভাবে বহন করতে পারে?এই প্রশ্নের উত্তর শুধু nominal salary দিয়ে দেওয়া যায় না।
৪. নীতিপত্রের মূল দর্শন
এই নীতিপত্রের মূল দর্শন হল Equality of dignity, equity of pay.
অর্থাৎ:
মর্যাদায় সমতা, পারিশ্রমিকে ন্যায়সংগত পার্থক্য।
সবাইকে একই বেতন দেওয়া হবে না।কিন্তু পার্থক্য নির্ধারিত হবে:
দায়িত্ব,দক্ষতা,কাজের জটিলতা,সিদ্ধান্তের ক্ষমতা, ঝুঁকি, জনসেবায় প্রভাব, এবং কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে।
৫. প্রস্তাবিত ৭-গ্রেড কাঠামো
ধারণাগতভাবে নিম্নরূপ একটি Pay Band প্রস্তাব করা হচ্ছে:
গ্রেড প্রস্তাবিত মূল বেতন-পরিসর | দায়িত্বের প্রকৃতি
১ ৳১,২০,০০০–৳১,৫০,০০০ সর্বোচ্চ নীতি ও প্রশাসনিক নেতৃত্ব
২ ৳৯৫,০০০–৳১,২৫,০০০ কৌশলগত নেতৃত্ব
৩ ৳৭৫,০০০–৳১,০০,০০০ সিনিয়র ব্যবস্থাপনা ও বিশেষজ্ঞ
৪ ৳৫৫,০০০–৳৮০,০০০ মধ্যম ব্যবস্থাপনা ও পেশাজীবী
৫ ৳৪০,০০০–৳৬০,০০০ কর্মকর্তা ও দক্ষ পেশাজীবী
৬ ৳৩০,০০০–৳৪৫,০০০ দক্ষ ও কারিগরি কর্মী
৭ ৳২৫,০০০–৳৩৫,০০০ সহায়ক ও প্রাথমিক স্তর
গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
উপরের বেতনগুলো কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নয়।
এগুলো একটি Policy Simulation / Conceptual Model।
বাস্তব প্রয়োগের আগে প্রয়োজন হবে:
পদভিত্তিক Job Evaluation,
সরকারি বেতন ব্যয়ের পূর্ণ হিসাব,
মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিশ্লেষণ,
পেনশন দায়ের হিসাব,
রাজস্ব সক্ষমতা,
এবং স্বাধীন Pay Commission-এর সুপারিশ।
৬. ৬:১ নীতি
এই মডেলের একটি মৌলিক নীতি হবে:
সর্বোচ্চ মূল বেতন : সর্বনিম্ন মূল বেতন ≈ ৬ : ১
যেমন:
সর্বনিম্ন = ৳২৫,০০০
সর্বোচ্চ = ৳১,৫০,০০০
অতএব:
৳১,৫০,০০০ ÷ ৳২৫,০০০ = ৬
এই অনুপাত চূড়ান্ত হতে হবে এমন নয়।
ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন কমিশন ৫:১, ৬:১ বা ৭:১-এর মতো বিভিন্ন অনুপাতের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাব পরীক্ষা করতে পারে।
৭. কেন ৭টি গ্রেড?
সাতটি গ্রেডের উদ্দেশ্য হলো প্রশাসনিক স্তরকে কৃত্রিমভাবে কমানো নয়।
উদ্দেশ্য হলো:
২০টি ক্ষুদ্র Pay Grade থেকে ৭টি বিস্তৃত Pay Band এ রূপান্তর।
ফলে পদ থাকবে বহু।কিন্তু বেতন কাঠামো হবে সরল।মূল নীতি:Grade ≠ Designation
৮. Job Evaluation হবে নতুন ব্যবস্থার ভিত্তি
প্রতিটি সরকারি পদকে নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে।প্রস্তাবিত Job Evaluation Matrix:
মূল্যায়নের বিষয় | ওজন
প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ১৫%
কাজের জটিলতা ২০%
সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ২০%
আর্থিক দায় ১০%
জনসেবায় প্রভাব ১৫%
ঝুঁকি ১০%
নেতৃত্ব/ব্যবস্থাপনা ১০%
মোট ১০০%
এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিটি পদকে ১–৭ গ্রেডে স্থান দেওয়া হবে।
৯. Cadre নয়, Job Value প্রস্তাবিত ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি: একই Job Value হলে একই Pay Grade।
উদাহরণস্বরূপ:
একজন সিনিয়র প্রকৌশলী,
একজন সিনিয়র চিকিৎসক,
একজন সিনিয়র গবেষক,
একজন সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা
যদি একই মাত্রার দায়িত্ব, জটিলতা ও সিদ্ধান্তের ক্ষমতা বহন করেন, তাহলে তাদের মূল Pay Grade একই হওয়া উচিত।
তাদের কাজের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা Skill/Risk Allowance থাকতে পারে।
১০. Management Track ও Expert Track
এই নীতিপত্রের অন্যতম প্রধান সংস্কার প্রস্তাব হলো দুই ধরনের Career Track ।
Management Track
Junior Officer
↓
Manager
↓
Director
↓
Senior Director
↓
Top Executive
Expert Track
Junior Specialist
↓
Specialist
↓
Senior Specialist
↓
Principal Specialist
↓
National/Chief Expert
দুই পথের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সমমানের মর্যাদা ও পারিশ্রমিকের সুযোগ থাকবে।
এতে একজন দক্ষ বিশেষজ্ঞকে শুধু বেতন বাড়ানোর জন্য ব্যবস্থাপক হতে হবে না।
১১. Salary Band ও Salary Point
প্রতিটি গ্রেডে পাঁচটি Salary Point রাখা যেতে পারে।
উদাহরণ:
গ্রেড–৭
Salary Point মূল বেতন
Point–1 ৳২৫,০০০
Point–2 ৳২৭,৫০০
Point–3 ৳৩০,০০০
Point–4 ৳৩২,৫০০
Point–5 ৳৩৫,০০০
একজন কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়াই একই গ্রেডের মধ্যে বেতন বৃদ্ধি পেতে পারবেন।
১২. বেতন বৃদ্ধি: Seniority + Merit
বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দুইটি বিষয় বিবেচনা করা হবে:
৫০% — অভিজ্ঞতা/সময়
৫০% — কর্মদক্ষতা
তবে Performance Assessment হবে পরিমাপযোগ্য
Key Performance Indicator KPI তথা মূল কর্মদক্ষতা সূচক এর ভিত্তিতে।
১৩. Performance Management
প্রস্তাবিত মূল্যায়ন কাঠামো:
সূচক ওজন
Objective KPI ৫০%
Service Quality২০%
Discipline ১৫%
Innovation/Improvement ১৫%
মূল্যায়নকারী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ব্যবস্থা পরিহার করতে হবে।
১৪. ভাতা ব্যবস্থার সংস্কার
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পে-স্কেলের একটি বড় অংশের জটিলতা ভাতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রস্তাবিত নীতিতে ভাতা মূলত তিন ধরনের হবে:
১৪.১ Location Allowance
কর্মস্থলের জীবনযাত্রার ব্যয় ও দুর্গমতার ভিত্তিতে।
১৪.২ Skill Allowance
দুর্লভ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতার জন্য।
১৪.৩ Risk Allowance
ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য।
মূলনীতি:
Rank-based allowance নয়, need-based allowance
১৫. বাড়িভাড়া
বাড়িভাড়া নির্ধারণে তিনটি অঞ্চল বিবেচনা করা যেতে পারে:
১. ঢাকা মহানগর
২. অন্যান্য মহানগর/শহর
৩. জেলা/উপজেলা/দুর্গম এলাকা
এখানে উদ্দেশ্য হবে পদমর্যাদার কারণে অযৌক্তিক পার্থক্য নয়; বরং বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয় প্রতিফলিত করা।
১৬. স্বাস্থ্যসুরক্ষা
মাসিক চিকিৎসা ভাতার পাশাপাশি ধীরে ধীরে:
Universal Government Employee Health Coverage
চালু করা যেতে পারে।
কর্মচারী, নির্ভরশীল স্বামী/স্ত্রী এবং সন্তানদের জন্য নির্ধারিত স্বাস্থ্যসীমা থাকবে।
এতে নিম্নগ্রেডের কর্মচারীও মৌলিক স্বাস্থ্যনিরাপত্তা পাবেন।
১৭. Critical Skill Allowance
রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিন্তু বাজারে দুর্লভ দক্ষতার ক্ষেত্রে:
১০%–৩০% পর্যন্ত Skill Allowance বিবেচনা করা যেতে পারে।
সম্ভাব্য ক্ষেত্র:
Artificial Intelligence
Cybersecurit
Data Science
Advanced Engineering
Medical Specialisation
Nuclear/Scientific Technology
Public Finance
Procurement
Tax Administration
তবে Skill Allowance-এর তালিকা প্রতি তিন বছর পর পর পর্যালোচনা করতে হবে।
১৮. দুর্গম এলাকা ভাতা
রাষ্ট্রীয় সেবা সারা দেশে নিশ্চিত করতে:
পার্বত্য অঞ্চল,দ্বীপাঞ্চল, চর,হাওর,সিমান্তবর্তী এলাকা,দুর্গম উপজেলা
ইত্যাদিতে কাজ করা কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ভাতা থাকতে হবে।
এটি হবে স্থানভিত্তিক ন্যায্যতা।
১৯. পদোন্নতির নতুন দর্শন
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায়:
Promotion = Higher Responsibility
আর:
Increment = Experience + Performance
অর্থাৎ পদোন্নতি না পেলেও দক্ষ কর্মচারীর বেতন বাড়তে থাকবে।
এতে পদোন্নতির জন্য অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা কমবে।
২০. বর্তমান ২০ গ্রেড থেকে ৭ গ্রেডে সম্ভাব্য রূপান্তর
একটি প্রাথমিক Mapping:
বর্তমান গ্রেড| প্রস্তাবিত গ্রেড
১–২ ১
৩–৪ ২
৫–৭ ৩
৮–৯ ৪
১০–১২ ৫
১৩–১৬ ৬
১৭–২০ ৭
এটি চূড়ান্ত Mapping নয়।
বাস্তবে প্রতিটি পদকে Job Evaluation-এর মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে হবে।
২১. Pay Protection Principle
রূপান্তরের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হবে:
Structural Reform-এর কারণে কোনো কর্মচারীর বিদ্যমান মূল বেতন কমবে না।
অর্থাৎ নতুন গ্রেডে স্থানান্তরের ফলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে Personal Pay Protection দেওয়া হবে।
পরবর্তী ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নতুন Pay Band-এ তাকে আনা হবে।
২২. প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার
৭টি Pay Band তখনই কার্যকর হবে যখন প্রশাসনিক কাঠামোও সরল করা হবে।
প্রস্তাব:
Policy
মন্ত্রণালয়
↓
Regulation & Management
অধিদপ্তর
↓
Implementation
আঞ্চলিক/জেলা অফিস
↓
Service Delivery
উপজেলা/মাঠপর্যায়
এখানে প্রতিটি স্তরের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকবে।
২৩. Financial Delegation
দায়িত্ব দিয়ে ক্ষমতা না দিলে প্রশাসনিক সংস্কার সফল হয় না।
তাই Authority must follow Responsibility.
জেলা পর্যায়ে দায়িত্ব দেওয়া হলে প্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষমতাও দিতে হবে।
উদাহরণ:
Routine procurement
Minor repair
Local recruitment administration
Field service management
এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে মাঠ প্রশাসনকে ক্ষমতা দিতে হবে।
অর্থ বিভাগ ইতোমধ্যে Financial Power Delegation Order 2026-এর মতো ব্যবস্থা পরিচালনা করছে এই কাঠামোকে আরও ফলাফলভিত্তিক ও বিকেন্দ্রীভূত করার সুযোগ রয়েছে।
২৪. ফাইলের স্তর কমানো
একটি আধুনিক প্রশাসনে সব সিদ্ধান্ত শীর্ষ পর্যায়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
তাই সিদ্ধান্ত চার স্তরে ভাগ করা যেতে পারে:
Level–1 : Routine
Level–2 : Operational
Level–3: Management
Level–4: Policy
এতে ছোট সিদ্ধান্ত দ্রুত হবে এবং উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নীতিগত কাজে বেশি সময় দিতে পারবেন।
২৫. Right-Sizing of Government
শুধু বেতন কাঠামো সংস্কার যথেষ্ট নয়।প্রতিটি মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থায়:
কাজের পরিমাণ অনুযায়ী জনবল নির্ধারণ করতে হবে।
প্রতি পাঁচ বছর অন্তর Manpower Audit করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
প্রশ্ন হবে:
কতটি পদ প্রয়োজন?
কোন কাজ ডিজিটাল করা যায়?
কোন কাজ একীভূত করা যায়?
কোন কাজ Outsource করা যায়?
কোন পদ আর প্রয়োজন নেই?
২৬. Zero-Based Manpower Planning
কোনো পদ শুধু ঐতিহাসিক কারণে বহাল থাকবে না।প্রতিটি নতুন পদ সৃষ্টির আগে প্রশ্ন:
এই পদটি কেন প্রয়োজন? এবং:
এই কাজটি কি বিদ্যমান জনবল দিয়ে করা সম্ভব?
এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধির ঝুঁকি কমবে।
২৭. Digital Government
৭-গ্রেড সংস্কারের সঙ্গে Digital Government বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করতে হবে।
যেসব কাজ:
অনলাইনে করা যায়,
স্বয়ংক্রিয় করা যায়,
AI/Software দিয়ে করা যায়,
সেসব কাজের জন্য অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ না করে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা উচিত।
তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে কর্মচারীদের হঠাৎ চাকরিচ্যুত না করে:
Reskill + Redeploy নীতি অনুসরণ করা উচিত।
২৮. পেনশন সংস্কার
পেনশন একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় দায়।National Pay Scale 2026-এও পেনশনকে ধাপে ধাপে সংস্কারের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী one grade, one pension নীতির দিকে ধীরে ধীরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
৭-গ্রেড মডেলে পেনশনের ক্ষেত্রে:
Career Average Pay
অথবা
Last 5 Years Average Pensionable Pay পদ্ধতি বিবেচনা করা যেতে পারে।
এতে অবসরের ঠিক আগে কৃত্রিম বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে পেনশন দায় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার ঝুঁকি কমবে।
২৯. মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন সমন্বয়
নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর বহু বছর অপেক্ষা করে আবার বড় ধরনের বেতন কমিশনের প্রয়োজন যেন না হয়। তাই:National Pay Review Commission প্রতি ৩–৫ বছর অন্তর কাজ করবে।
পর্যালোচনায় থাকবে:
Inflation
Consumer Price Index
Cost of Living
GDP growth
Government revenue
Private-sector wages
Public-sector productivity
৩০. একটি Pay Equity Commission
সাধারণ Pay Commission-এর পাশাপাশি একটি স্থায়ী Pay Equity Commission প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হচ্ছে। এর দায়িত্ব হবে:
একই কাজের বেতন বৈষম্য শনাক্ত করা,
ক্যাডারভিত্তিক অযৌক্তিক পার্থক্য বিশ্লেষণ,
Gender Pay Gap পর্যবেক্ষণ,
অঞ্চলভিত্তিক বেতন বৈষম্য পর্যালোচনা,
Skill Allowance পর্যালোচনা।
৩১. Gender Equity
একই পদে নারী ও পুরুষের বেতন অবশ্যই সমান হবে।কিন্তু শুধু Basic Pay সমান হলেই হবে না।
Promotion, Performance Assessment, Training, Leadership Opportunity
সব ক্ষেত্রেই সমতা নিশ্চিত করতে হবে।
৩২. সামাজিক ন্যায়বিচারের দৃষ্টিকোণ
একজন সমাজবিজ্ঞানীর দৃষ্টিতে একটি ন্যায়সংগত রাষ্ট্রীয় বেতন কাঠামোর তিনটি স্তম্ভ:
মর্যাদার সমতা
সব সরকারি কর্মচারী রাষ্ট্রের সেবক।
সুযোগের সমতা
যোগ্যতা অনুযায়ী ক্যারিয়ার অগ্রগতির সুযোগ।
ফলাফলের ন্যায়সংগত পার্থক্য
বেশি দায়িত্ব ও দক্ষতার জন্য বেশি পারিশ্রমিক।
এটাই:Equity, not absolute equality.
৩৩. অর্থনীতির দৃষ্টিতে দক্ষতা
একজন অর্থনীতিবিদের দৃষ্টিতে ভালো Pay System-এর চারটি লক্ষ্য:
Attraction
যোগ্য মানুষকে সরকারি চাকরিতে আনা।
Retention
দক্ষ মানুষকে ধরে রাখা।
Motivation
ভালো কাজের প্রণোদনা দেওয়া।
Fiscal Sustainability
রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে থাকা।
৭-গ্রেড মডেলকে এই চারটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
৩৪. সম্ভাব্য ঝুঁকি
৭-গ্রেড ব্যবস্থা চালু করলে কিছু ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ঝুঁকি–১
উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা বেতন কমার আশঙ্কা করতে পারেন।
সমাধান
Pay Protection + Gradual Transition
ঝুঁকি–২
নতুন গ্রেড নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ হতে পারে।
সমাধান
স্বাধীন Job Evaluation Commission।
ঝুঁকি–৩
Performance Pay দুর্নীতির উৎস হতে পারে।
সমাধান
Objective KPI + Appeal System + Digital Performance Record।
ঝুঁকি–৪
বিশেষ ভাতা আবার নতুন বৈষম্য তৈরি করতে পারে।
সমাধান
Allowance-এর সংখ্যা সীমিত করা এবং নিয়মিত পর্যালোচনা।
ঝুঁকি–৫
সরকারের বেতন ব্যয় কমার পরিবর্তে বেড়ে যেতে পারে।
সমাধান
Pay Reform-এর সঙ্গে Right-Sizing এবং Manpower Audit বাধ্যতামূলক করা।
৩৫. আর্থিক বাস্তবায়ন
National Pay Scale 2026-এর জন্য সরকার আনুমানিক অতিরিক্ত ১,০৫,৫৮০ কোটি টাকা বার্ষিক ব্যয়ের কথা জানিয়েছে।
তাই ভবিষ্যৎ ৭-গ্রেড সংস্কারের আগে একটি পূর্ণাঙ্গ Fiscal Impact Assessment করতে হবে।
এই হিসাবের মধ্যে থাকতে হবে:Basic Pay, Allowances, Pension, Gratuity, GPF/retirement liabilities, Recruitment, Promotion, Skill Allowance, Health Coverage সবকিছু।
৩৬. Pay Reform Fund
বেতন সংস্কারের জন্য একটি পৃথক মধ্যমেয়াদি Fiscal Framework তৈরি করা যেতে পারে।
এর অর্থায়নের সম্ভাব্য উৎস:
Tax-GDP ratio বৃদ্ধি
Tax administration automation
Non-tax revenue improvement
Unnecessary expenditure reduction
State-owned entity reform
Procurement savings
Administrative duplication reduction
নীতিটি হবে:
বেতন বাড়ানোর আগে রাষ্ট্রের রাজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
৩৭. বাস্তবায়ন রোডম্যাপ
পর্যায়–১: গবেষণা ও প্রস্তুতি
সময়: ১২ মাস ; Job Evaluation, Manpower Audit, Pay Database, Fiscal Assessment and Pension Assessment .
পর্যায়–২: Pilot : সময়: ১২ মাস নির্বাচিত একটি মন্ত্রণালয়, একটি অধিদপ্তর, একটি মাঠ প্রশাসন , একটি কারিগরি সংস্থায় ৭-গ্রেড কাঠামোর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ।
পর্যায়–৩: প্রথম সম্প্রসারণ সময়: ১৮ মাস অধিকাংশ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে প্রয়োগ।
পর্যায়–৪: পূর্ণ বাস্তবায়ন সময়: ৩–৫ বছর সমগ্র সরকারি প্রশাসনে নতুন Pay Band কার্যকর।
৩৮. পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা : প্রতি বছর একটি Public Service Pay & Performance Report প্রকাশ করা উচিত।
এতে থাকবে Average Pay, Lowest Pay, Highest Pay, Pay Ratio, Gender Pay Gap, Regional Pay Gap, Productivity, Employee Turnover, Pension Liability, Wage Bill/GDP, Wage Bill/Revenue
এতে জনগণ জানতে পারবেন রাষ্ট্রীয় বেতন ব্যবস্থায় কী হচ্ছে।
৩৯. নাগরিক সেবার সঙ্গে বেতনকে যুক্ত করা
সরকারি কর্মচারীর বেতন শুধু কর্মচারীর অধিকার নয়।এটি নাগরিক সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাই কিছু ক্ষেত্রে Service Delivery Performance এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের Incentive যুক্ত করা যেতে পারে।
যেমন:
Passport processing time
Land service delivery
Tax service
Health service
Social safety-net delivery
Digital service completion
তবে নাগরিকের অধিকারভিত্তিক সেবা কখনো Bonus-এর জন্য আটকে রাখা যাবে না।
৪০. প্রশাসনের চূড়ান্ত লক্ষ্য
এই নীতিপত্রের লক্ষ্য সরকারি কর্মচারীর বেতন কমানো নয়। লক্ষ্য হল কম বৈষম্য, বেশি দক্ষতা, বেশি মর্যাদা, দ্রুত সিদ্ধান্ত, ভালো নাগরিক সেবা, আর্থিক স্থায়িত্ব এই ছয়টি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করা।
৪১. প্রস্তাবিত ১২ দফা নীতি
বাংলাদেশ সরকার ভবিষ্যতে একটি ৭-গ্রেড Pay Reform বিবেচনা করলে নিম্নলিখিত ১২টি নীতি গ্রহণ করতে পারে:
১. ২০টি গ্রেডের পরিবর্তে ৭টি Pay Band ।
২. সর্বনিম্ন জীবনযাপনযোগ্য বেতন নিশ্চিত করা।
৩. সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাতের একটি সীমা নির্ধারণ।
৪. প্রতিটি গ্রেডে একাধিক Salary Point ।
৫. Promotion এবং Increment পৃথক করা ।
৬. Management ও Expert Career Track চালু করা।
৭. Job Value-এর ভিত্তিতে Grade নির্ধারণ।
৮. Location, Skill ও Risk ভিত্তিক সীমিত ভাতা।
৯. Pay Protection-এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে রূপান্তর।
১০. Financial এবং Administrative Decentralisation ।
১১. প্রতি পাঁচ বছর অন্তর Manpower Audit ।
১২. স্বাধীন Pay ও Pay Equity Commission।
৪২. প্রস্তাবিত মডেলের মূল চিত্র
বর্তমান দর্শন
২০ Grade
↓
Grade-based Career
↓
Promotion-based Salary Growth
↓
Administrative Hierarchy
প্রস্তাবিত দর্শন
৭ Pay Bands
↓
Job Evaluation
↓
Salary Progression
↓
Management + Expert Track
↓
Performance
↓
Decentralised Administration
↓
Better Public Service
৪৩. এখন প্রশ্ন হল কেন এটি বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক?
বাংলাদেশ এখন এমন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করছে যেখানে শুধু সরকারি চাকরির সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়।প্রয়োজন দক্ষ প্রশাসন,ডিজিটাল প্রশাসন,জ্ঞানভিত্তিক জনবল,দ্রুত সিদ্ধান্ত,আর্থিক শৃঙ্খলা,এবং নাগরিককেন্দ্রিক সেবা।
অর্থ বিভাগ ইতোমধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন ও পরবর্তী দুই বছরের বাজেট প্রক্ষেপণের জন্য Medium-Term Budget Framework অনুসরণ করছে।
অতএব Pay Reform-কে আলাদা কোনো বিষয় হিসেবে না দেখে মধ্যমেয়াদি রাষ্ট্রীয় আর্থিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
৪৪. সুপারিশ
এই নীতিপত্রের আলোকে নিম্নলিখিত সুপারিশ করা হচ্ছে:
স্বল্পমেয়াদে
১. বর্তমান ২০ গ্রেডের ওপর একটি স্বাধীন পর্যালোচনা।
২. সরকারি সব পদের পূর্ণ Job Database তৈরি।
৩. Job Evaluation শুরু।
৪. একই কাজের বেতন বৈষম্য শনাক্ত করা।
৫. সর্বনিম্ন বেতনের জীবনযাত্রার সক্ষমতা পর্যালোচনা।
মধ্যমেয়াদে
৬. ৭টি Pay Band-এর Pilot চালু।
৭. Management ও Expert Track চালু।
৮. Performance Management System ডিজিটাল করা।
৯. Location ও Skill Allowance rationalise করা।
১০. Financial Delegation বৃদ্ধি করা।
দীর্ঘমেয়াদে
১১. সমগ্র সরকারি প্রশাসনে ৭-গ্রেড Pay Band চালু।
১২. Right-sizing ও Digital Government সম্পন্ন করা।
১৩. Pay Equity Commission প্রতিষ্ঠা।
১৪. Career Average Pension System বিবেচনা।
১৫. প্রতি ৩–৫ বছর অন্তর Pay Review বাধ্যতামূলক করা।
৪৫. উপসংহার
বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামোর প্রশ্নটি আসলে শুধু টাকা-পয়সার প্রশ্ন নয়।
এটি রাষ্ট্রের দর্শনের প্রশ্ন।রাষ্ট্র কি এমন একটি প্রশাসন চায় যেখানে-
পদমর্যাদা মানুষের মর্যাদাকে ছাড়িয়ে যাবে?
নাকি এমন একটি প্রশাসন চায় যেখানে-
প্রত্যেক কর্মচারী সম্মান পাবেন, কিন্তু বেশি দায়িত্ব ও দক্ষতার জন্য ন্যায্যভাবে বেশি পারিশ্রমিক পাবেন?
এই নীতিপত্র দ্বিতীয় পথটির পক্ষে।
২০টি গ্রেড থেকে ৭টি Pay Band-এ যাওয়া নিজে কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। কিন্তু যদি এর সঙ্গে Job Evaluation, Performance Management, Expert Career, Administrative Decentralisation, Manpower Audit এবং Fiscal Discipline যুক্ত করা যায়, তাহলে এটি বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসনকে আরও সরল, ন্যায়সংগত ও দক্ষ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এই সংস্কারের মূল দর্শন হতে পারে:
সবার মর্যাদা সমান; পারিশ্রমিক হবে দায়িত্ব, দক্ষতা ও কর্মদক্ষতার ন্যায়সংগত প্রতিফলন।
আরও সংক্ষেপে:
কম গ্রেড — কম বৈষম্য — বেশি দক্ষতা — দ্রুত প্রশাসন — উন্নত নাগরিকসেবা।
একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বেতননীতির চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত সর্বোচ্চ বেতনভোগীকে আরও ধনী করা নয়, আবার নিম্নবেতনভোগীকে কেবল ভাতা দিয়ে টিকিয়ে রাখাও নয়।
লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা যেখানে-
সর্বনিম্ন কর্মচারী সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারেন,
মেধাবী কর্মচারী তার মেধার যথাযথ মূল্য পান,
দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তার দায়িত্বের উপযুক্ত পারিশ্রমিক পান,
এবং
রাষ্ট্র তার সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে পারে।
এই ভারসাম্যই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য একটি ন্যায়সংগত, মেধাবান্ধব, আর্থিকভাবে টেকসই এবং নাগরিককেন্দ্রিক সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভিত্তি।
পরিশিষ্ট–১: প্রস্তাবিত ৭-গ্রেড মডেল এক নজরে
গ্রেড মূল বেতন-পরিসর | প্রধান বৈশিষ্ট্য
১ ৳১,২০,০০০–৳১,৫০,০০০ জাতীয় নেতৃত্ব
২ ৳৯৫,০০০–৳১,২৫,০০০ কৌশলগত নেতৃত্ব
৩ ৳৭৫,০০০–৳১,০০,০০০ সিনিয়র ব্যবস্থাপনা/বিশেষজ্ঞ
৪ ৳৫৫,০০০–৳৮০,০০০ মধ্যম ব্যবস্থাপনা
৫ ৳৪০,০০০–৳৬০,০০০ কর্মকর্তা/পেশাজীবী
৬ ৳৩০,০০০–৳৪৫,০০০ দক্ষ/কারিগরি কর্মী
৭ ৳২৫,০০০–৳৩৫,০০০ সহায়ক/প্রাথমিক কর্মী
সর্বোচ্চ : সর্বনিম্ন = ৬ : ১
পরিশিষ্ট–২: ৭-গ্রেড মডেলের নীতিগত সূত্র
Fair Pay = Job Value + Responsibility + Skill + Performance + Cost of Living
Promotion = Higher Responsibility
Increment = Experience + Performance
Allowance = Location + Skill + Risk
Public Administration = People + Process + Technology + Accountability
পরিশিষ্ট–৩: প্রস্তাবিত সংস্কারের ১০টি পরিমাপযোগ্য ফলাফল
সরকার এই নীতি বাস্তবায়ন করলে প্রতি বছর অন্তত নিম্নলিখিত সূচক প্রকাশ করতে পারে:
১. সর্বোচ্চ/সর্বনিম্ন বেতন অনুপাত
২. সরকারি বেতন ব্যয়/GDP
৩. সরকারি বেতন ব্যয়/রাজস্ব
৪. কর্মচারীপ্রতি গড় উৎপাদনশীলতা
৫. নাগরিক সেবা প্রদানের গড় সময়
৬. পদোন্নতির গড় সময়
৭. Gender Pay Gap
৮. Regional Pay Gap
৯. Employee Turnover Rate
১০. Pension Liability
এর ফলে সরকারি বেতননীতি একটি রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় না থেকে পরিমাপযোগ্য Public Policy-তে পরিণত হবে।
নীতিপত্রের চূড়ান্ত বক্তব্য
বাংলাদেশের সরকারি বেতন সংস্কারের লক্ষ্য হওয়া উচিত সবাইকে সমান বেতন নয়; বরং কেউ যেন অযৌক্তিকভাবে বঞ্চিত না হন এবং কেউ যেন অযৌক্তিক সুবিধাও না পান।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা ও সর্বনিম্ন কর্মচারীর মধ্যে দায়িত্বের পার্থক্য থাকবে, কিন্তু মর্যাদার মৌলিক ভিত্তি হবে এক।
৭-গ্রেডভিত্তিক Pay Band সেই ন্যায়সংগত ভারসাম্যের দিকে একটি সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি পথ।
দীর্ঘ সময় সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩০
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার মুল।যবান মন্ত্যের মূল শক্তি হলো আমার কাছে মনে হল সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান হারানো মানুষ ও তাদের পরিবারের দুরবস্থার কথাও রাষ্ট্রকে বিবেচনায় নিতে হবে। তবে
অভুক্ত থাকবে নাকি চুরি-ডাকাতিতে লিপ্ত হবে এই আশঙ্কাকে একটু পরিশীলিত করে বলা যায় কর্মসংস্থান ও সামাজিক
নিরাপত্তার অভাব মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, হতাশা ও সামাজিক ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সেই দৃষ্টিকোণ
থেকেই আমি এখানে প্রাসঙ্গিক কিছু কথা বলতে প্রয়াস নিলাম । ধারনা করছি প্রতিমন্তব্যটি বেশ বড় হয়ে যাবে ।
হয়ত পৃথক পোস্ট দিলেই ভাল হবে । তবে এখন এখানেই বলব যা বলার আছে , তারপর গুণী ব্লগারদের মুল্যবান
মন্তব্যের ( যদি পাওয়া যায়) প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় যোগ বিয়োগ করে পরে একটি পৃথক পোস্ট আকারে দেয়ার
ইচ্ছা রাখি ।
এখন কথা হলো-
বেতন স্কেল শুধু সরকারি কর্মচারীর জন্য নয় ,রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্মজীবী মানুষের কথাও ভাবতে হবে, সরকার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে বলেছেন-
“নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের
জীবনমান এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়েছে।”
এই বক্তব্যের সঙ্গে নীতিগতভাবে দ্বিমত করার কারণ নেই। একজন সরকারি কর্মচারীও একজন নাগরিক; তাঁর আয়-ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও পারিবারিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো রাষ্ট্রকে অবশ্যই বিবেচনা করতে
হবে।
কিন্তু এখানেই আপনার মন্তব্যের সুত্র ধরেই বলা যায় যে এখানে একটি আরও বড় প্রশ্ন সামনে আসে
রাষ্ট্র যখন সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করছে, তখন
একই রাষ্ট্রের বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান হারানো লাখ লাখ কর্মজীবী মানুষের জীবনমানের দায়িত্ব
কে নেবে?
এই প্রশ্নটি কোনোভাবেই সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বিরোধিতা নয়। বরং এটি রাষ্ট্রের
সামগ্রিক অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন।
সরকারি কর্মচারীর বেতন বাড়ুক, কিন্তু বেকার মানুষের কান্নাও রাষ্ট্র শুনুক এটাই আমরা চাই।
সরকারি চাকরি একটি সংগঠিত ও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ কর্মসংস্থান। নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো, নিয়মিত বেতন, ভাতা, অবসরকালীন সুবিধা এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা থাকায় সরকারি কর্মচারীদের আয়-নিরাপত্তা তুলনামূলকভাবে
বেশি।অন্যদিকে গার্মেন্টস, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, নির্মাণ, পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে
কর্মরত একজন শ্রমিক বা কর্মচারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে মুহূর্তেই আয় হারাতে পারেন।
তাঁর সামনে তখন কয়েকটি কঠিন প্রশ্ন দাঁড়ায়-
আগামী মাসের বাড়িভাড়া কীভাবে দেবেন?
সন্তানের স্কুলের বেতন কীভাবে দেবেন?
পরিবারের খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যয় কোথা থেকে আসবে?
ব্যাংক বা এনজিওর ঋণের কিস্তি কীভাবে পরিশোধ করবেন?
নতুন চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত পরিবারটি কীভাবে চলবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর শুধু ব্যক্তির ওপর ছেড়ে দেওয়া একটি কল্যাণরাষ্ট্রের জন্য যথেষ্ট নয়।
চাকরি হারানো শুধু একজন মানুষের সমস্যা নয় একজন কর্মী চাকরি হারালে শুধু একজন মানুষ বেকার হন না।
তার সঙ্গে নির্ভরশীল একটি পরিবার,একটি সন্তানদের ভবিষ্যৎ,একটি বাড়ির অর্থনীতি,একটি স্থানীয় বাজারের
ক্রয়ক্ষমতা এবং শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ধরা যাক, একটি কারখানায় ৫০০ কর্মী কাজ করতেন। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেল।
তাহলে শুধু ৫০০টি চাকরি হারাল না।৫০০টি পরিবারের আয় কমে গেল।তাদের বাজারে কেনাকাটা কমবে।স্থানীয়
দোকানের বিক্রি কমবে।পরিবহন খাতে আয় কমবে।বাড়িভাড়া পরিশোধে সমস্যা হবে।সন্তানের শিক্ষা ব্যাহত হতে
পারে।ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।অর্থাৎ একটি প্রতিষ্ঠানের বন্ধ হওয়া একটি বহুগুণ অর্থনৈতিক অভিঘাত
সৃষ্টি করতে পারে।
তাই নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে একটি Employment Protection Package প্রয়োজন। নতুন বেতন কাঠামো
বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরকারের একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত।
এটি কোনোভাবেই সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্য সুবিধা কমানোর প্রস্তাব নয়।বরং মূল বক্তব্য হলো সরকারি বেতন
সংস্কার এবং জাতীয় কর্মসংস্থান সুরক্ষা দুটিকে একই অর্থনৈতিক নীতির অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
১. Job Loss Support Fund প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। যে সব প্রতিষ্ঠানের আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়া বা বড়
ধরনের ছাঁটাইয়ের কারণে কর্মীরা চাকরি হারান, তাদের জন্য একটি Temporary Employment Support
Fund গঠন করা যেতে পারে।যোগ্য বেকার কর্মী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পেতে পারেন সীমিত সময়ের আয় সহায়তা,
খাদ্য সহায়তা,স্বাস্থ্যসেবা,পুনঃপ্রশিক্ষণ,এবং নতুন চাকরি খোঁজার সহায়তা।এটি স্থায়ী বেকার ভাতা নয়।
বরং চাকরি হারানো থেকে নতুন চাকরিতে যাওয়ার মধ্যবর্তী সেতু।
২. Unemployment Insurance-এর দিকে ধীরে ধীরে যেতে হবে। বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে একটি কার্যকর Unemployment Insurance Scheme বিবেচনা করা যেতে পারে।কর্মী, নিয়োগকর্তা এবং রাষ্ট্র তিন পক্ষের
অংশগ্রহণে একটি তহবিল গড়ে উঠতে পারে।তবে এটি একদিনে চালু করা সম্ভব নয়।প্রথমে নির্বাচিত শিল্পখাত
বা নির্দিষ্ট আয়ের কর্মীদের নিয়ে Pilot Project শুরু করা যেতে পারে।
৩. প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার আগে Early Warning System চালু করতে হবে । কোনো বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান হঠাৎ
বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।তাই সরকারকে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে
বড় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকটের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে শ্রম মন্ত্রণালয়,অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ,ব্যাংক,
মালিকপক্ষ,শ্রমিক প্রতিনিধি একসঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করতে পারে।নীতিটি হওয়া উচিত:
কারখানা বন্ধ হওয়ার পর বেকারকে সাহায্য নয়; সম্ভব হলে কারখানা বন্ধ হওয়াই প্রতিরোধ করা।
৪. Viable Industry-কে পুনর্গঠন সহায়তা দিতে হবে । সব বন্ধ প্রতিষ্ঠানকে সরকার বাঁচাবে এমন নীতি বাস্তব
সম্মত নয়।কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়েছে, অথচ তার ব্যবসা অর্থনৈতিকভাবে টেকসই
তাহলে পুনর্গঠন, ঋণ পুনঃতফসিল, ব্যবস্থাপনা সংস্কার বা প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখার
উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। কারণ একটি টেকসই শিল্প প্রতিষ্ঠান বাঁচানো মানে শুধু একজন মালিককে বাঁচানো
নয়; হাজার হাজার কর্মসংস্থান রক্ষা করা।
৫. Skill Conversion Programme বাস্তবায়ন করতে হবে । চাকরি হারানো মানুষকে শুধু আর্থিক সহায়তা দিলে
সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।তাকে নতুন কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে হবে।যেমন
Garments worker → Advanced machine operator
Office worker → Digital service operator
Sales worker → E-commerce/logistics
Traditional technician → Modern industrial technician
অর্থাৎ:Job Loss → Training → Re-employment এই পথ তৈরি করতে হবে।
৬. সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে Employment Impact বিবেচনা করতে হবে । সরকার যখন বড় প্রকল্প গ্রহণ
করবে, তখন শুধু অর্থনৈতিক রিটার্ন নয় কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে?এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন সূচক হওয়া
উচিত।একটি প্রকল্পের মূল্যায়নে থাকতে পারে কত সরাসরি চাকরি?কত পরোক্ষ চাকরি?স্থানীয় কর্মসংস্থান
কত?নারী কর্মসংস্থান কত?প্রকল্প শেষ হওয়ার পর কর্মসংস্থান থাকবে কি না? এভাবে সরকারি বিনিয়োগকে
Employment Multiplier-এর দৃষ্টিতেও দেখা সম্ভব।
৭. SME খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার সঙ্গে
সম্পর্কিত।তাই নতুন বেতন স্কেলের সঙ্গে অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য সহজ ঋণ,প্রযুক্তি সহায়তা,বাজার সুবিধা,কর-সহনীয়তা,উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ,ডিজিটাল কমপ্লায়েন্স ইত্যাদি বিষয়ে SME-কে সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।কারণ বড়
কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয় হাজার হাজার ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানই দেশের বিস্তৃত কর্মসংস্থানের ভিত্তি।
৮. Wage Policy ও Employment Policy আলাদা করা যাবে না। এখানেই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রশ্নটি রয়েছে।সরকারি কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধি একদিকে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে।এটি
অর্থনীতিতে ইতিবাচক চাহিদা সৃষ্টি করতে পারে।কিন্তু যদি একই সময়ে বেসরকারি খাতে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়,বিনিয়োগ
কমে,চাকরি কমে,শ্রমিকের আয় কমে, তাহলে অর্থনীতিতে একটি বৈপরীত্য তৈরি হতে পারে।
একদিকে নিরাপদ কর্মসংস্থান + বেতন বৃদ্ধি
অন্যদিকে:
চাকরি হারানো + আয় হ্রাস + অনিশ্চয়তা
রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা।
৯. সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা অপরিহার্য। চাকরি হারানো পরিবারকে সাময়িকভাবে সামাজিক নিরাপত্তার
আওতায় আনা যেতে পারে।তবে সহায়তা হতে হবে:
Targeted + Temporary + Transparent অর্থাৎ প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চিহ্নিত হবে,নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সহায়তা থাকবে,ডিজিটাল ব্যবস্থায় অর্থ প্রদান হবে।এতে অপচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর সুযোগ থাকবে।
১০. এখন বড় কথা হল চুরি-ডাকাতি করবে?”এই আশঙ্কার উত্তর কী?
আপনার বক্তব্যের এই অংশটি আবেগপূর্ণ এবং এর পেছনে বাস্তব সামাজিক উদ্বেগ অবশ্যই রয়েছে।তবে আমাদের
এটিকে আরও বৈজ্ঞানিকভাবে দেখা উচিত।চাকরি হারালেই কেউ অপরাধী হয়ে যাবেন এমন কোনো সরল সম্পর্ক
নেই।কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী
বেকারত্ব + দারিদ্র্য + ঋণের চাপ + সামাজিক হতাশা + ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
একটি সমাজে নানা ধরনের সামাজিক ঝুঁকি বাড়াতে পারে।তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে না দেওয়া।
অর্থাৎ:
অপরাধ হওয়ার পর শাস্তি দেওয়ার চেয়ে, অর্থনৈতিক হতাশা ও সামাজিক বঞ্চনার কারণগুলো আগেই মোকাবিলা করা
অধিক কার্যকর রাষ্ট্রনীতি।
১১. সরকারি কর্মচারী বনাম বেসরকারি কর্মচারীএটি যেন আমরা বনাম তারা না হয়
এখানে একটি বিষয় খুব পরিষ্কার হওয়া দরকার।সরকারি কর্মচারীর বেতন বাড়ানোর বিপক্ষে বেসরকারি কর্মচারীর
দুর্দশাকে দাঁড় করানো ঠিক হবে না।কারণ উভয়েই দেশের অর্থনীতির অংশ।একজন সরকারি কর্মকর্তা প্রশাসন চালান।
একজন গার্মেন্টস কর্মী বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অবদান রাখেন।একজন কৃষক খাদ্য উৎপাদন করেন।একজন উদ্যোক্তা
কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন।
একজন পরিবহন শ্রমিক পণ্য ও মানুষ পরিবহন করেন।একজন শিক্ষক মানবসম্পদ তৈরি করেন।
একজন চিকিৎসক স্বাস্থ্যসেবা দেন।অতএব রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার মানে কোনো একটি শ্রেণিকে অন্য
শ্রেণির বিরুদ্ধে দাঁড় করানো নয়; বরং প্রত্যেক শ্রেণির ন্যায্য অবদান ও নিরাপত্তাকে স্বীকৃতি দেওয়া।
১২. নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সরকারের ১০টি আশু করণীয়
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময় সরকারের একটি সমন্বিত Action Plan গ্রহণ করা যেতে পারে:
১.সরকারি বেতন সংস্কারের পাশাপাশি জাতীয় Employment পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা।
২.সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও চাকরি হারানো কর্মীদের একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরি।
৩.চাকরি হারানো পরিবারগুলোর জন্য Temporary Income Support চালু।
৪.Unemployment Insurance-এর Pilot Programme শুরু।
৫.বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা টেকসই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য পুনর্গঠন সহায়তা।
৬.চাকরি হারানো কর্মীদের দ্রুত Reskilling ও Re-employment Programme।
৭.SME ও labour-intensive শিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা।
৮.সরকারি প্রকল্পের মূল্যায়নে Employment Impact অন্তর্ভুক্ত করা।
৯.মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্য/বাসস্থান/স্বাস্থ্য ব্যয়ের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া।
১০.প্রতি বছর National Employment & Wage Report প্রকাশ করা।
১৩. একটি আরও বড় সংস্কারের প্রস্তাব করা যায় এই সাথে
আমাদের জাতীয় নীতিতে তিনটি বিষয়কে একই ফ্রেমে আনতে হবে:
Wage Security- যারা কাজ করছেন, তারা যেন ন্যায্য পারিশ্রমিক পান।
Employment Security- যারা কাজ করতে সক্ষম ও আগ্রহী, তারা যেন কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।
Social Security-সাময়িকভাবে কাজ হারালে পরিবার যেন সর্বনাশের মুখে না পড়ে।
এই তিনটি একত্রে হলো Decent Work + Fair Wage + Social Protection
এটাই হওয়া উচিত একটি আধুনিক কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের শ্রম ও অর্থনৈতিক নীতির ভিত্তি।
সুতরাং আপনার বক্তব্যকে আমি সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বিরোধিতা হিসেবে দেখি না।
বরং এটি একটি আরও বড় প্রশ্নের দরজা খুলে দিয়েছে।সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়বে এটি প্রয়োজন হতে পারে।
কিন্তু একই সঙ্গে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে কর্মসংস্থান হারানো মানুষ যেন অসহায় হয়ে না পড়েন,শ্রমিক যেন আকস্মিক
চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় না পড়েন,যোগ্য তরুণ যেন দীর্ঘদিন বেকার না থাকেন, উদ্যোক্তা যেন
সাময়িক সংকটে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য না হন,এবং একটি পরিবার যেন একজন উপার্জনক্ষম সদস্যের চাকরি
হারানোর কারণে দারিদ্র্যের অতলে নেমে না যায়।তাই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সময় সরকারের সামনে শুধু
একটি প্রশ্ন থাকা উচিত নয়
সরকারি কর্মচারীদের বেতন কত বাড়ানো হবে? এর পাশাপাশি আরও চারটি প্রশ্ন থাকা উচিত-
কত নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে?
কত কর্মসংস্থান রক্ষা করা যাবে?
চাকরি হারানো পরিবারকে পুনরায় কর্মসংস্থানে কীভাবে ফিরিয়ে আনা হবে?
দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও সামাজিক নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?
কারণ রাষ্ট্রের অর্থনীতি তখনই সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী হয়, যখন শুধু সরকারি কর্মচারীর আয় নয়, কৃষক,
শ্রমিক, উদ্যোক্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক, কারিগর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বেসরকারি কর্মচারী এবং নতুন প্রজন্মের
কর্মপ্রত্যাশী তরুণ সবার জন্য অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
অতএব আমাদের স্লোগান হওয়া উচিত নয়-
সরকারি কর্মচারীর বেতন বনাম বেকার মানুষের দুর্দশা।
বরং হওয়া উচিত
ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং সবার জন্য সামাজিক সুরক্ষা এই তিনের সমন্বয়েই অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার।
একটি নতুন পে-স্কেল তখনই সত্যিকার অর্থে ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক হবে, যখন সেটি শুধু সরকারি কর্মচারীর
জীবনমান উন্নত করবে না; বরং সামগ্রিক অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা, ক্রয়ক্ষমতা ও সামাজিক
নিরাপত্তা বৃদ্ধির বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হয়ে উঠবে।
আপনার মুল্যবান মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত ভাবনার সুযোগ তৈরী করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল ।
২|
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: পে-স্কেল দেয়ার কারনে সরকারি চাকুরির নিয়োগ সারকুলার কমে যাবে । পরিচালন ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে যাবে । মন্ত্রণালয়ের বাজেট ফিক্সড । তাই নতুন পদ সৃজন এবং শূণ্য পদ খালি থাকলেও নিয়োগ দেয়া কমে যাবে ।
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার মন্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাবের পাশাপাশি সরকারি নিয়োগ, শূন্য পদ,
পরিচালন ব্যয় এবং জনবল পরিকল্পনার একটি বাস্তব উদ্বেগ উঠে এসেছে। তবে বিষয়টি একটু ভারসাম্যপূর্ণভাবে
দেখা দরকার বেতন ব্যয় বাড়লেই নিয়োগ অবশ্যই কমবে, এমন সরল সিদ্ধান্তে না গিয়ে সরকার কীভাবে জনবল
ও বাজেট পুনর্বিন্যাস করবে, সেটিই মূল প্রশ্ন।
আপনার কন্ঠের সাথে সুর মিলিয়ে আমিও বলি পে-স্কেল বাস্তবায়নে শুধু বেতন নয় নতুন নিয়োগ, শূন্য পদ ও
জনবল ব্যবস্থাপনাও ভাবতে হবে।
আপনার মন্তব্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তব অর্থনৈতিক উদ্বেগ থেকে উৎসারিত। ভাল কথা বলেছেন
“পে-স্কেল দেওয়ার কারণে সরকারি চাকরির নিয়োগ সার্কুলার কমে যাবে। পরিচালন ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
মন্ত্রণালয়ের বাজেট ফিক্সড। তাই নতুন পদ সৃজন এবং শূন্য পদ খালি থাকলেও নিয়োগ দেওয়া কমে যাবে।”
এই আশঙ্কাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে বিষয়টিকে আরও একটু গভীরভাবে দেখা প্রয়োজন।
কারণ নতুন পে-স্কেলের কারণে সরকারি নিয়োগ কমবেই এটি একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি হতে পারে, কিন্তু অনিবার্য
ফল নয়। এর সম্পূর্ণ নির্ভরতা থাকবে সরকারের বেতন ব্যয়, মোট পরিচালন ব্যয়, রাজস্ব আয়, জনবল
কাঠামো, বাজেট পুনর্বিন্যাস এবং নতুন পদ সৃষ্টির নীতির ওপর।তাই আসল প্রশ্ন হওয়া উচিত-
বেতন বাড়ানোর পর সরকার কীভাবে এমন একটি জনবল ও বাজেট ব্যবস্থাপনা করবে, যাতে একদিকে কর্মরত
সরকারি কর্মচারীরা ন্যায্য বেতন পান, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সরকারি কর্মসংস্থানের
দরজাও অযথা সংকুচিত না হয়?
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় নীতিগত প্রশ্ন।
১. বেতন বাড়বে, কিন্তু নিয়োগ বন্ধ হওয়া কোনো সমাধান নয়
সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি যদি মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার জন্য প্রয়োজনীয়
শুধু নিয়োগ কমিয়ে তার আর্থিক ভার সামলানো দীর্ঘমেয়াদে ভালো সমাধান নয়।কারণ একজন সরকারি কর্মচারীর
বেতন বাড়িয়ে যদি একই সঙ্গে শূন্য পদে নিয়োগ বন্ধ করা হয়,প্রয়োজনীয় নতুন পদ সৃষ্টি না করা হয়,কর্মরত
কর্মচারীর ওপর অতিরিক্ত কাজ চাপানো হয়, তাহলে কয়েক বছর পর প্রশাসনে জনবল ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
এর ফল হতে পারে-
কম কর্মী → বেশি কাজ → বেশি চাপ → সেবার গতি কমে যাওয়া → নাগরিক অসন্তোষ।
অতএব পে-স্কেল সংস্কারের সঙ্গে Workforce Planning অপরিহার্য।
২. শূন্য পদ মানেই নিয়োগ দিতে হবে এমনও নয় এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। সরকারি দপ্তরে কোনো
পদ শূন্য হলেই সেই পদে অটোমেটিক নিয়োগ দেওয়া উচিত এমন নীতিও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়।প্রতিটি শূন্য
পদের ক্ষেত্রে তিনটি প্রশ্ন করা উচিত:
প্রথমত:এই পদটি কি এখনও প্রয়োজনীয়?
দ্বিতীয়ত:এই কাজটি কি প্রযুক্তির মাধ্যমে করা সম্ভব?
তৃতীয়ত:এই কাজটি কি বিদ্যমান অন্য কোনো পদের কর্মচারীদের দিয়ে করা সম্ভব?
যদি উত্তর হয় হ্যাঁ, তাহলে সেই পদে নতুন নিয়োগ না করে জনবল পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে।
কিন্তু যদি পদটি অপরিহার্য হয়, তাহলে শুধুমাত্র বেতন ব্যয়ের অজুহাতে নিয়োগ বন্ধ করা উচিত নয়।
৩. Fixed Budget ধারণাটিও নতুন করে ভাবতে হবে
আপনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হলো মন্ত্রণালয়ের বাজেট ফিক্সড।
বাস্তবে সরকারি বাজেটকে একেবারে স্থির কোনো পাথরের কাঠামো হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।প্রতি অর্থবছরে
সরকারের রাজস্ব, ব্যয়, অগ্রাধিকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিত্তিতে বাজেট পুনর্বিন্যাস করা হয়।তাই প্রশ্ন হওয়া
উচিত সীমিত সরকারি অর্থের মধ্যে কোন ব্যয়টি অগ্রাধিকার পাবে?
অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে যদি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা যায়, সেটি একটি ভালো ব্যবস্থাপনা।
আবার অপ্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি করে শুধু জনবল বাড়ানোও ভালো প্রশাসন নয়।
৪. পরিচালন ব্যয় কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় শুধু নিয়োগ বন্ধ করা নয়
একটি ভুল ধারণা হলো সরকারি বেতন ব্যয় বেড়েছে → তাই নিয়োগ কমাও।
এর পরিবর্তে সরকারের উচিত সরকারি পরিচালন ব্যয়ের কোন অংশ অপ্রয়োজনীয় তা শনাক্ত করা।
যেমন অপ্রয়োজনীয় অফিস ব্যয়,অতিরিক্ত ভাড়া,যানবাহন ব্যয়,কাগজপত্র ও ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া,পুনরাবৃত্ত প্রশাসনিক কাজ,অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ব্যয়,অতিরিক্ত স্তরের অনুমোদন,একই ধরনের কাজ করা একাধিক প্রতিষ্ঠান,
এসব ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ানো গেলে বেতন ব্যয়ের চাপ আংশিকভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব।
৫. Digitalisation এখানে বড় সমাধান হতে পারে। সরকার যদি একই সঙ্গে পে-স্কেল এবং ডিজিটাল প্রশাসন
এগিয়ে নেয়, তাহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হবে।
ধরা যাক একটি অফিসে ১০০ জন কর্মচারী দিয়ে যে কাজ করা হয়, ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালু করার পর সেটি ৭৫ জন
দিয়েও করা সম্ভব হলো।তাহলে পরবর্তী সময়ে অবসর বা স্বাভাবিক পদত্যাগের মাধ্যমে জনবল কমলে প্রতিটি শূন্য
পদে নতুন নিয়োগ না করেও কাজ চালানো সম্ভব হতে পারে। এটিকে বলা যায় Natural Attrition + Digital Transformation
অর্থাৎ কাউকে হঠাৎ চাকরিচ্যুত করা নয়; বরং স্বাভাবিকভাবে পদ শূন্য হলে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্গঠন করা।
৬. তবে একটি বিপজ্জনক ভুল যেন না হয়। ডিজিটালাইজেশনের অজুহাতে প্রয়োজনীয় জনবল কমিয়ে দেওয়া যাবে না।
বিশেষ করে স্বাস্থ্য,শিক্ষা,আইনশৃঙ্খলা,রাজস্ব,স্থানীয় সরকার,কৃষি সম্প্রসারণ,সামাজিক নিরাপত্তা,বিচার প্রশাসন ইত্যাদি জনসেবামূলক খাতে প্রয়োজনীয় কর্মী কমিয়ে দিলে নাগরিক সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তাই:প্রযুক্তি কর্মীকে প্রতিস্থাপন করবে নয়; বরং প্রযুক্তি কর্মীর উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এই দর্শন গ্রহণ করা উচিত।
৭. নতুন পদ সৃষ্টিতে Need-Based Recruitment প্রয়োজন
আগামী দিনে সরকারি চাকরিতে নতুন পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি জাতীয় নীতি গ্রহণ করা যেতে পারে:
New Post Creation = Demonstrated Public Need
অর্থাৎ কোনো মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর নতুন পদ চাইলে তাকে দেখাতে হবে কেন পদটি প্রয়োজন? কী কাজ করবে?
কত নাগরিক উপকৃত হবে?বিদ্যমান জনবল দিয়ে কেন কাজটি সম্ভব নয় ? প্রযুক্তি দিয়ে কাজটি করা সম্ভব কি না?
এই পদের বার্ষিক আর্থিক দায় কত?ভবিষ্যৎ পেনশন দায় কত? এতে অপ্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি বন্ধ হবে।
৮. একই সঙ্গে Vacancy Utilisation Review প্রয়োজন। প্রতি বছর প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের শূন্য পদ
পর্যালোচনা করা যেতে পারে।শূন্য পদকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে:
Category A Essential অবশ্যই নিয়োগ দিতে হবে।
Category B Important জনবল পরিস্থিতি ও বাজেট অনুযায়ী নিয়োগ।
Category C Redundant পুনর্বিন্যাস/বিলুপ্তি বিবেচনা।
এটি করলে শূন্য পদ আছে কিন্তু নিয়োগ নেই এই সমস্যাটি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
৯. নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে National Manpower Audit করা উচিত। এখানেই সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
শুধু নতুন বেতন নির্ধারণ করলেই হবে না।প্রতিটি মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থায় জানতে হবে কাজের তুলনায়
কতজন কর্মচারী প্রয়োজন? জন প্রশাসন মন্ত্রনালয়কে শুধু পদোন্নতি ও বদলিতেই সীমাবদ্ব রাখলে চলবেনা ।
তাদেরকে দেখতে হবে কোথাও হয়তো প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম।
আবার কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। ।ঐ মন্ত্রনালয়ে সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ বা তারচেয়েও বেশী
উপযুক্ত কেও যদি থেকে থাকেন তবে তাদের দৃষ্টিতে সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতি হবে:
যেখানে জনবল কম → নিয়োগ
যেখানে জনবল বেশি → পুনর্বিন্যাস
যেখানে কাজ অপ্রয়োজনীয় → পদ বিলুপ্তি
যেখানে প্রযুক্তি সম্ভব → Digitalisation
এটাই হওয়া উচিত আধুনিক Workforce Policy।
১০. সরকারি চাকরির নিয়োগ কমলে তরুণ প্রজন্মের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
এটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রশ্ন।বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ সরকারি চাকরিকে একটি স্থিতিশীল ও
মর্যাদাপূর্ণ ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচনা করেন।
যদি দীর্ঘদিন-
বেতন ব্যয় বেশি → নিয়োগ কম → শূন্য পদ জমা → নতুন পদ সৃষ্টি বন্ধ
এই ধারাটি চলতে থাকে, তাহলে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়তে পারে।
তাই সরকারি চাকরি সীমিত করা নয়, বরং:
সরকারি চাকরিকে প্রয়োজনভিত্তিক, মেধাভিত্তিক ও দক্ষতাভিত্তিক করা উচিত।
১১. সরকারি চাকরিই যেন কর্মসংস্থানের প্রধান আশ্রয় না হয়ে যায়। অন্যদিকে আরেকটি বাস্তব সত্যও আমাদের
স্বীকার করতে হবে।একটি দেশের সব শিক্ষিত তরুণকে সরকার চাকরি দিতে পারে না।সরকারের দায়িত্ব হওয়া
উচিত সরকারি চাকরি সৃষ্টি করা + বেসরকারি খাতে চাকরি সৃষ্টির পরিবেশ তৈরি করা।
যদি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ১,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, তাহলে রাষ্ট্রকে ১,০০০টি সরকারি পদ
সৃষ্টি করতে হয় না।তাই একটি শক্তিশালী বেসরকারি খাতই সরকারি চাকরির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে পারে।
১২. তাই পে-স্কেল সংস্কারের সঙ্গে Private Sector Job Creation জরুরি
সরকারকে একই সময়ে উৎসাহিত করতে হবে শিল্প বিনিয়োগ,SME,রপ্তানি,প্রযুক্তি খাত,কৃষিভিত্তিক শিল্প,পর্যটন,লজিস্টিকস,স্বাস্থ্যসেবা,শিক্ষা,এবং নতুন অর্থনীতির কর্মসংস্থান।
কারণ সরকারের পক্ষে ১০ লাখ নতুন সরকারি চাকরি সৃষ্টি করা সম্ভব নয়; কিন্তু এমন অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি
করা সম্ভব, যেখানে বেসরকারি খাতে বহু গুণ বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
১৩. পে-স্কেল ও নিয়োগদুটিকে প্রতিদ্বন্দ্বী না করে পরিপূরক করতে হবে
সঠিক নীতি হবে না বেতন বাড়াও অথবা নিয়োগ দাও।
বরং:
Fair Pay, Right-Sized Workforce, Merit-Based Recruitment, Digitalisation
Private Sector Employment= Sustainable Employment Policy
১৪. আমার ৭-গ্রেড প্রস্তাবের সঙ্গে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তাবিত ৭-গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামোর
অন্যতম উদ্দেশ্যই হলো প্রশাসনিক স্তর সরল করা।
যদি ২০টি গ্রেডের পরিবর্তে ৭টি Pay Band করা হয়, তবে পদোন্নতির স্তর কমবে,
Salary Administration সহজ হবে,Job Evaluation সহজ হবে,একই কাজের বেতন বৈষম্য কমানো সম্ভব হবে,Management ও Expert Track তৈরি করা যাবে।
কিন্তু এর সঙ্গে যদি Manpower Audit না করা হয়, তাহলে শুধু গ্রেড কমিয়ে প্রকৃত আর্থিক সাশ্রয় নিশ্চিত করা
যাবে না।
১৫. কম কর্মচারী নয় বরঙ সঠিক সংখ্যক কর্মচারী এই নীতিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত নয় কম সরকারি কর্মচারী বরং হওয়া উচিত সঠিক কাজের জন্য সঠিক সংখ্যক সরকারি
কর্মচারী।কোথাও ১০০ জনের প্রয়োজন হলে ৫০ জন দিয়ে কাজ করানো যেমন ভুল,তেমনি ৫০ জনের কাজের
জন্য ১০০ জন রাখাও অপচয়।
১৬. শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি বেতনের নয়, Productivity-এর । সরকার যদি একজন কর্মচারীর বেতন বাড়ায়, তাহলে
একই সঙ্গে তার কাজের পরিবেশ, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং উৎপাদনশীলতাও বাড়াতে হবে।
অর্থনীতির ভাষায়:
Higher Wage should be accompanied by Higher Productivity.
অর্থাৎ
বেতন বাড়বে→দক্ষতা বাড়বে→উৎপাদনশীলতা বাড়বে→নাগরিক সেবা দ্রুত হবে→
অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়বে→রাজস্ব আয় বাড়বে এই চক্রটি তৈরি করাই হবে প্রকৃত সাফল্য।
একটি ভারসাম্যপূর্ণ জাতীয় নীতি হতে পারে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার সঙ্গে সরকার যদি নিম্নলিখিত পাঁচটি
কর্মসূচি গ্রহণ করে, তাহলে আপনার উত্থাপিত আশঙ্কা অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব:
১. National Manpower Audit প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের জনবল প্রয়োজন নির্ধারণ।
২. Vacancy Review প্রতিটি শূন্য পদে নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা যাচাই।
৩. Digital Government প্রযুক্তির মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজ কমানো।
৪. Merit & Need-Based Recruitment প্রয়োজনীয় পদে দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগ।
৫. Private Sector Employment Strategy সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বৃহৎ কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
সুতরাং আপনার আশঙ্কাটি আমাদের অবহেলা করা উচিত নয়।
পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি বেতন ও পরিচালন ব্যয় বাড়লে, রাজস্বের ওপর অবশ্যই অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি
হতে পারে। কিন্তু সেই চাপ সামলানোর প্রথম এবং একমাত্র পথ যদি হয় সরকারি নিয়োগ কমিয়ে দেওয়া, তাহলে
দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনিক দক্ষতা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।আবার উল্টোভাবে,
প্রয়োজন-অপ্রয়োজন নির্বিশেষে শুধু শূন্য পদ পূরণ এবং নতুন পদ সৃষ্টি করাও রাষ্ট্রীয় অর্থের দায়িত্বশীল ব্যবহার নয়।
তাই আমাদের প্রয়োজন তৃতীয় একটি পথ-
Right Pay + Right Size + Right Person + Right Job
অর্থাৎ ন্যায্য বেতন,প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল,যোগ্য ব্যক্তির নিয়োগ,এবং সঠিক ব্যক্তিকে সঠিক দায়িত্ব।সরকারের
উচিত হবে না পে-স্কেলের ব্যয় মেটাতে অন্ধভাবে নিয়োগ বন্ধ করা।বরং সরকারের উচিত হবে অপ্রয়োজনীয় পদ ও
ব্যয় কমানো, প্রয়োজনীয় পদে নিয়োগ নিশ্চিত করা, প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং একই সঙ্গে
বেসরকারি খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
কারণ একটি দক্ষ রাষ্ট্রে সরকারি চাকরি কমানোই লক্ষ্য নয়; অপ্রয়োজনীয় সরকারি চাকরি কমানো এবং প্রয়োজনীয়
সরকারি জনবলকে আরও দক্ষ করে তোলাই লক্ষ্য।
আর একজন তরুণের জন্যও রাষ্ট্রের বার্তা হওয়া উচিত সরকারি চাকরির দরজা বন্ধ নয়; কিন্তু সরকারি চাকরি হবে প্রয়োজনভিত্তিক, মেধাভিত্তিক ও দক্ষতাভিত্তিক। পাশাপাশি রাষ্ট্র এমন অর্থনীতি গড়ে তুলবে, যেখানে সরকারি
চাকরির বাইরেও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের অসংখ্য সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এই ভারসাম্যই পারে একদিকে নতুন পে-স্কেলের আর্থিক চাপ সামলাতে, অন্যদিকে সরকারি প্রশাসনের কার্যকারিতা, নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তিনটিকেই একসঙ্গে এগিয়ে নিতে।
সুতরাং পে-স্কেলের প্রশ্নটি হওয়া উচিত নয় বেতন বাড়বে, তাই নিয়োগ কমবে কি?”
বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত বেতন বাড়ানোর সঙ্গে কীভাবে সরকারি কর্মচারীর উৎপাদনশীলতা, প্রশাসনের দক্ষতা এবং
দেশের সামগ্রিক কর্মসংস্থান তিনটিই একসঙ্গে বাড়ানো যায়?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হবে এবং এখানেই একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় বেতন ও জনবল নীতির প্রকৃত সাফল্য।
মুল্যবান মন্তব্য করে প্রাসঙ্গিক আলোচনার সুযোগ তৈরী করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল
৩|
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩
মাথা পাগলা বলেছেন: সরকারি চাকরিতে নিয়োগ কমবে, বছরভিত্তিক চাকরি নিয়োগের বৃদ্ধি বা হ্রাসের স্ট্যাটিসটিকসটা বের করতে পারলে ভালো হতো। ব্যবসা-বানিজ্য খারাপ যাচ্ছে তার উপর পে-স্কেলের জন্য বাজারে জিনিপত্রের দাম আরও বাড়বে।
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার বক্তব্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সরকারি নিয়োগের প্রবণতা, বেসরকারি
কর্মসংস্থান এবং মূল্যস্ফীতির সম্পর্কটি তথ্য-উপাত্ত দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন। বছরভিত্তিক সরকারি নিয়োগ কতটা
বেড়েছে বা কমেছে—এবং একই সময়ে বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের কী পরিবর্তন হয়েছে তার একটি ধারাবাহিক পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ হলে আলোচনাটি আরও শক্তিশালী হবে।
তবে পে-স্কেলের কারণে বাজারে পণ্যের দাম অবশ্যই বেড়ে যাবে এমন সরল সিদ্ধান্তও ঠিক হবে না। সরকারি
বেতন বৃদ্ধি যদি উৎপাদনশীলতা, রাজস্ব আয় ও বাজেট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে এর একটি
ইতিবাচক চাহিদাগত প্রভাব থাকতে পারে; কিন্তু অর্থায়ন যদি অতিরিক্ত ঘাটতি সৃষ্টি করে এবং একই সময়ে
পণ্য ও সেবার সরবরাহ না বাড়ে, তখন মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তাই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সরকারের উচিত একযোগে তিনটি বিষয় পর্যবেক্ষণ করা
১. সরকারি নিয়োগ ও শূন্য পদের বছরভিত্তিক প্রবণতা,
২. বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ/ছাঁটাইয়ের প্রবণতা,
৩. পে-স্কেল বাস্তবায়নের পর মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার পরিবর্তন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সরকারি কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধি যেন বেসরকারি কর্মসংস্থান সংকোচন, নতুন নিয়োগ বন্ধ
এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণ না হয়। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য বেতনও
অস্বীকার করা যায় না।
অতএব আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত
ন্যায্য বেতন + নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি + অধিক কর্মসংস্থান + উৎপাদনশীল অর্থনীতি।
এই চারটির মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই নতুন পে-স্কেল সত্যিকার অর্থে জাতীয় অর্থনীতির জন্য
কল্যাণকর সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হবে।
শুভেচ্ছা রইল
৪|
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:০৭
রাজীব নুর বলেছেন: গুরুত্বপূর্ন সমস্যা গুলো নিয়ে আগে কাজ করতে হবে। সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে কষ্ট হবে জনগনের।
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ , একেবারে সঠিক কথা বলেছেন ।
শুভেচ্ছা রইল
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়,
সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর
প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়েছে।
....................................................................................................................
আনুমানিক ভাবে বলা হচ্ছে ১০% সরকারী কর্মকর্তার বেতন ভাতা, যা নিয়ে তুলকালাম কান্ড
বেতন কি হবে , কিভাবে হবে ইত্যাদি ।
আমার প্রশ্ন হলো বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ( গার্মেন্ট সহ ) বন্ধ হবার পর কতজন কর্মকর্তা
কর্মচারী বেকার হলো । সেই সব পরিবারের কি হবে ? তাদের অর্থের সংস্হান কে করবে ?
তাদের পরিবারের সদস্যরা কি অভুক্ত থাকবে নাকি চুরি ডাকাতিতে লিপ্ত হবে ???