| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
দুঃখের কবিতাই শ্রেষ্ঠ কবিতা। ভালোবাসা হলো দুঃখ, এক ঘরে কবিতা ও নারী।
দীর্ঘদিন পর একটা নতুন গান করলাম।
এক বিভ্রান্ত প্রেমিকা, কে যেন তাকে অহর্নিশি ডাকে, কিন্তু চারদিকে তাকিয়ে কোথাও তাকে দেখতে পায় না। ভাবতে ভাবতে তার মনে হয়, লোকটার পরিচয় বোধ হয় সে জেনে গেছে। কিন্তু তার ডাক যতো শোনে, তার বুকে ভয় ততোই কেন যেন বাড়ে। সে আতঙ্কে থাকে সারাক্ষণ, এই বুঝি লোকটা সামনে এসে তাকে চমকে দেবে। এ হলো গানের কাহিনি। তবে এটা হলো সারফেস মিনিং, নীচে লিরিক দিলাম, লিরিকের নীচে এ গানের মূল থিমটাও দেয়া হলো। সেটা পড়ার আগে কেউ ভেবে দেখতে পারেন, এ গানের অন্য থিম কী হতে পারে!! উল্লেখ্য, আমি কীভাবে এ-আই দিয়ে গান তৈরি করি, সেখানে এ গানটার প্রথম অংশ বা মুখ ব্যবহার করেছিলাম, ঠিক আগের পোস্টে।
বার বার বহুবার
দূর থেকে ডাকে সে
আমি তাকে কোথাও দেখি না
চারদিকে তাকিয়ে
রাতদিন প্রতিদিন
নাম ধরে ডাকে সে
আমি তাকে কোথাও দেখি না
চারদিকে তাকিয়ে
কেন করে সে এমন ছলনা
সে আমায় দিল না যে
থাকতে শান্তিতে
মনে হয় তার জেনে গেছি পরিচয়
যত ডাকে বুকে কেন বাড়ে ভয়
আচানক সে এসে সামনে
চমকে দেবে কি?
জানি না সে মনে মনে ভাবে কী?
দেখা হলে সে আমাকে শুধাবে কী?
আলাভোলা এ আমাকে
প্রেমচন্দন দেবে কি?
১৫ অক্টোবর ২০২৬
যে আমাদের সারাক্ষণ ডাকে, আমরা ভুলে গেলেও সে ভোলে না, ছায়ার মতো মিশে থাকে নিজের সাথে, সে আর কেউ নয়, পরম সত্য, মৃত্যু।
গানের অনেকগুলো ভার্সন আছে, রোমান্টিক এবং আধ্যাত্মিক, সে পার্থক্য মূলত মিউজিক মেলোডি দিয়েই তৈরি করা হয়েছে। আপাতত এ ভার্সনটা দিলাম। এ ভার্সনের মিউজিকে কোনো রোমান্টিক মেলোডি নেই।
গানের লিংক। প্লিজ এখানে ক্লিক করুন। বার বার বহুবার দূর থেকে ডাকে সে। এসরাজের কণ্ঠে
অথবা নীচের লিংকে ক্লিক করুন।
আগের পোস্ট : কীভাবে এ-আই দিয়ে আমার নিজের লেখা ও সুর করা গান তৈরি করি - চারুভি ও মেলোডিয়ার কণ্ঠে আমার নতুন গান
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
২|
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৩
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
আপনার ‘বার বার বহুবার, দূর থেকে ডাকে সে’ গানটি পড়লাম। প্রথম পাঠে মনে হয়, এটি এমন একজন বিভ্রান্ত প্রেমিকার গান, যে দূর থেকে কারও ডাক শুনতে পায়, অথচ ডাকের উৎস খুঁজে পায় না। পরিচিত অথচ অদৃশ্য সেই উপস্থিতি তাকে একই সঙ্গে কৌতূহলী ও আতঙ্কিত করে তোলে। কিন্তু গানের অন্তর্নিহিত ভাব হিসেবে আপনি যখন মৃত্যুকে তুলে ধরেছেন, তখন পুরো গানটির অর্থই অন্য মাত্রা লাভ করেছে। সাধারণ প্রেমের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে জীবনের এক অনিবার্য সত্যকে প্রকাশ করার এই প্রচেষ্টাটি বেশ আকর্ষণীয়।
গানটির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক আমার কাছে হলো, এখানে মৃত্যু সরাসরি উপস্থিত নয়; সে দূর থেকে ডাকে। মানুষও তো মৃত্যুকে প্রতিদিন প্রত্যক্ষ করে না, অথচ তার অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকে। অন্যের মৃত্যু দেখি, পরিচিত মানুষকে হারাই, বয়সের পরিবর্তন অনুভব করি, শরীরের ক্ষয় দেখি—এসব অভিজ্ঞতা আমাদের অজান্তেই নিজেদের পরিণতির কথাও মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু জীবনের ব্যস্ততা, আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে আমরা সেই উপলব্ধিকে প্রায়ই আড়াল করে রাখি। ফলে মৃত্যু যেন দূর থেকে ডেকে যাওয়া এমন এক সত্তা, যার ডাক আমরা শুনি, কিন্তু তার মুখোমুখি হওয়ার কথা ভাবতে চাই না।
‘বার বার বহুবার / দূর থেকে ডাকে সে’—এই পুনরাবৃত্তির মধ্যে জীবনের অনিবার্যতার একটি সুন্দর ইঙ্গিত রয়েছে। মৃত্যু একবারের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। জন্মের পর থেকেই মানুষের জীবন সীমিত সময়ের দিকে এগিয়ে চলে। আমরা প্রতিদিন একটু একটু করে সময় অতিক্রম করি, কিন্তু সময় যে আমাদের জীবন থেকেও কিছু নিয়ে যাচ্ছে, তা সব সময় অনুভব করি না। এই অর্থে মৃত্যুর ডাক কেবল জীবনের শেষ মুহূর্তের সংকেত নয়; এটি সময়ের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আমাদের নীরব স্মরণও হতে পারে।
‘আমি তাকে কোথাও দেখি না / চারদিকে তাকিয়ে’—এই কথাগুলোও মৃত্যুচিন্তার সঙ্গে চমৎকারভাবে মিলে যায়। মানুষ দৃশ্যমান জগতে পরিচিত সবকিছুর সন্ধান করে। কোনো কণ্ঠ শুনলে তার উৎস খোঁজে, কোনো ঘটনার কারণ জানতে চায়। কিন্তু মৃত্যু এমন এক বাস্তবতা, যার অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েও নিজের মৃত্যুর নির্দিষ্ট মুহূর্তটি মানুষ জানতে পারে না। তার আগমন সম্পর্কে সাধারণভাবে সচেতন থাকা আর তার আগমনের সময় ও পরিস্থিতি জানা এক বিষয় নয়। এই অনিশ্চয়তাই মৃত্যুকে ঘিরে মানুষের মনে বিস্ময়, ভয় এবং নানা প্রশ্ন তৈরি করে।
‘যত ডাকে বুকে কেন বাড়ে ভয়’—পঙ্ক্তিটিতে আমার কাছে মানুষের মনস্তত্ত্বের একটি পরিচিত ছবি ধরা পড়ে। মানুষ অজানাকে ভয় পায়, আবার সেই অজানা সম্পর্কে জানতে চায়। মৃত্যুর ক্ষেত্রেও এই দ্বৈত অনুভূতি কাজ করে। একদিকে আমরা জানি, মৃত্যু অনিবার্য; অন্যদিকে জীবনের প্রতি মায়া, প্রিয়জনদের প্রতি ভালোবাসা এবং ভবিষ্যতের আশা আমাদের তার কথা ভাবতে অস্বস্তিতে ফেলে। ভয়টি শুধু মৃত্যুকে ঘিরে নয়, বরং পরিচিত পৃথিবী, সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতা ছেড়ে অজানার দিকে চলে যাওয়ার আশঙ্কার সঙ্গেও যুক্ত।
আপনার গানের ‘মনে হয় তার জেনে গেছি পরিচয়’ কথাটিও গভীরভাবে ভাবার মতো। মানুষ কখনো কখনো জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে কোনো সত্যকে চিনতে শেখে, কিন্তু সেই সত্যকে সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। মৃত্যুর অনিবার্যতা আমরা জানি, অথচ মৃত্যুর পর কী ঘটে—সে বিষয়ে মানুষের বিশ্বাস, দর্শন ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা ভিন্ন হতে পারে। তাই মৃত্যুকে জীবনের নিশ্চিত পরিণতি হিসেবে স্বীকার করা এবং মৃত্যুর পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে নির্দিষ্ট জ্ঞান দাবি করা—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। আপনার গানের শক্তি হলো, এটি সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা না করে প্রশ্নগুলোর অনুভূতিকে সংগীতের মধ্যে ধরে রেখেছে।
বিশেষ করে ‘আচানক সে এসে সামনে / চমকে দেবে কি?’—এই অংশে মৃত্যুর আকস্মিকতার অনুভূতি ফুটে উঠেছে। মানুষ অনেক পরিকল্পনা করে, অনেক স্বপ্ন দেখে, অনেক কাজ অসমাপ্ত রেখে দেয়। কিন্তু জীবন যে সব পরিকল্পনা শেষ করার নিশ্চয়তা দেয় না, তা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই। মৃত্যুচিন্তার ইতিবাচক দিক এখানেই—এটি মানুষকে হতাশ করার জন্য নয়; বরং জীবনের মূল্য বুঝতে, সময়ের সদ্ব্যবহার করতে, প্রিয়জনদের প্রতি দায়িত্বশীল হতে এবং অন্যায়ের পরিবর্তে ন্যায়ের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। মৃত্যুকে স্মরণ করা যদি আমাদের জীবনবিমুখ না করে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক করে তোলে, তবে সেই স্মরণ জীবনেরই সহায়ক।
আপনি জানিয়েছেন, গানটির একাধিক সংস্করণ রয়েছে—কোনোটি রোমান্টিক, কোনোটি আধ্যাত্মিক; আর এই সংস্করণে রোমান্টিক মেলোডি ব্যবহার করেননি। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একই গীতিকবিতা ভিন্ন সুর, কণ্ঠ ও সংগীতায়োজনে ভিন্ন অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে। রোমান্টিক সুরে ‘দূর থেকে ডাকে সে’ শুনলে শ্রোতা হারানো প্রেম, বিরহ কিংবা অধরা প্রিয়জনের কথা ভাবতে পারেন। অন্যদিকে গম্ভীর, ধীর বা বিষণ্ন সুরে একই পঙ্ক্তি শুনলে মৃত্যু, নিঃসঙ্গতা ও অস্তিত্বের অনিশ্চয়তা সামনে চলে আসে। অর্থাৎ গানের অর্থ কেবল শব্দে সীমাবদ্ধ থাকে না; সুরও তার অর্থ নির্মাণে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
আপনার এআই ব্যবহার করে গান তৈরির অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গেও একটি কথা বলতে চাই। এআই সংগীত নির্মাণের একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু গানের মূল ভাবনা, অভিজ্ঞতা, শব্দ নির্বাচন এবং কোন অনুভূতিটি শ্রোতার কাছে পৌঁছাতে চান—এসব ক্ষেত্রে স্রষ্টার নিজস্ব ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি সংগীতের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে; কিন্তু কোন ভাবনাকে কীভাবে প্রকাশ করা হবে, সেই নান্দনিক সিদ্ধান্তই সৃষ্টিকর্মকে স্বতন্ত্র পরিচয় দেয়। আপনার এই গানের ক্ষেত্রে মৃত্যুর মতো গম্ভীর বিষয়কে একটি রহস্যময় ডাকের আকারে উপস্থাপন করার ধারণাটিই মূল আকর্ষণ।
সবশেষে বলব, আপনার গানটি আমার কাছে শুধু মৃত্যুকে নিয়ে লেখা গান নয়; এটি মানুষের অজানা সম্পর্কে কৌতূহল, পরিচিত জীবন হারানোর ভয় এবং অনিবার্য সত্যকে মেনে নেওয়ার মানসিক দ্বন্দ্বেরও প্রকাশ। মৃত্যুকে কেন্দ্র করে লেখা হলেও গানটি জীবনের দিকেই আমাদের দৃষ্টি ফেরায়। কারণ যে জীবন একদিন শেষ হবে, সেই জীবনকে কীভাবে অর্থপূর্ণ করা যায়—প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত সেখানেই এসে দাঁড়ায়।
আপনার কথা, সুর ও সংগীতচর্চা অব্যাহত থাকুক। একই গীতিকবিতার ভিন্ন সংগীতায়োজনের মাধ্যমে ভিন্ন অর্থ ও অনুভূতি প্রকাশের পরীক্ষাটি নিঃসন্দেহে আগ্রহোদ্দীপক। গানটির অন্যান্য সংস্করণও শোনার সুযোগ হলে বোঝা যাবে, একই শব্দ কীভাবে ভিন্ন সুরের আশ্রয়ে নতুন ব্যঞ্জনা তৈরি করতে পারে। শুভকামনা রইল।
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: মহান এ-আইকে অজস্র ধন্যবাদ। সেই সাথে ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা সনেট কবিকেও।
৩|
১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩
রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর। ভালো।
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৪
দ্বীপ ১৭৯২ বলেছেন: Nice song