| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মার্চ মাসে দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে মাসিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে মানবাধিকারের ভয়াবহ চিত্র ফুঠে উঠেছ।
মার্চ মাসে সারা দেশে ২৭৩ জন লোক হত্যার স্বীকার হয়েছে। এ মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯ জন মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ৮ টি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ১২ জন নিহত হয়। সহিংস হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছে ৭১ জন, আহত হয়েছে ৬৮ জন এবং গুলিবিদ্ধ ৯ জন। এছাড়াও গণপিটুনির ১০ টি ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৩ জন এবং আহত হয়েছে ৩ জন।
এমাসে আইন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ২ জনকে গুমের অভিযোগ রয়েছে। অপহরণ হয়েছে ৪৮ জন, অপহরণের পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং হত্যা করা হয়েছে ৭ জনকে।
রাজনৈতিক_সহিংসতার ১৬ টি ঘটনায় নিহত হয়েছে ৮ জন, আহত হয়েছে ১৩৪ জন, গুলিবিদ্ধ হয়েছে ১২ জন এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হয়রানী ও নির্যাতনের অংশ হিসেবে ১৪ টি ঘটনায় বিরোধী দলের ৩৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ও ২য় ধাপের সহিংসাতয় ১জন শিশুসহ নিহত হয়েছে ৩১ জন, আহত হয়েছে ১৫০১ জন এবং গুলিবিদ্ধ হয়েছে ১৩৫ জন।
ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ‘বিএসএফ’ কর্তৃক ৩ টি হামলার ঘটনায় শারীরিক নির্যাতন ও গুলি করে ২ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করা হয়েছে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ১ জন বাংলাদেশীকে। #নারী নির্যাতনের অংশ হিসেবে যৌতুকের জন্য নির্যাতনে নিহত হয়েছে ১১ জন নারী এবং শারিবীক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৭ জন নারী, পারিবারিক কলহে নিহত হয়েছে ১৮ জন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১১ জন নারী, এসিড নিক্ষেপের ২ টি ঘটনায় আহত হয়েছে ৪ জন, আত্মহত্যার করেছে ২৫ জন, ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭০ জন নারী, ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে ৪ জনকে। এছাড়াও ২৩ টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৩ জন নারী। শিশু নির্যাতনের ২১ টি ঘটনায় নিহত হয়েছে ১২ জন এবং আহত হয়েছে ১০ জন।
জাতিসংঘের মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষনা অনুযায়ী, মানবাধিকার অধিকার হচ্ছে মানুষের জন্মগত অধিকার, যা জাতি, গোত্র, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। সার্বজনীন ঘোষনার ৩ নং অনুচ্ছেদে প্রত্যেকরই জীবন ধারণা, স্বাধীনতা ও ব্যক্তি নিরাপত্তা অধিকার, ৭ নং অনুচ্ছেদে আইনের কাছে সকলেই সমান এবং কোনরূপ বৈষম্য ব্যতিরেকে সকলেরই আইনের দ্বারা সমভাবে রক্ষিত হওয়ার অধিকার, ১৮ নং অনুচ্ছেদে প্রত্যেকেরই চিন্তা, বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এবং বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৬ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেকটি মানুষের স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার, ৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সমাবেশের স্বাধীনতা, ৩৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংগঠনের স্বাধীনতা ও ৩৯ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে, এই সব অধিকারের সবগুলিই বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বর্নিত হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশের কোন নাগরিকই পরিপূর্ণভাবে উপরোক্ত অধিকারগুলি ভোগ করতে পারছেনা। অথচ রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব নাগরিকের এই অধিকারগগুলি পরিপূর্নভাবে বাস্তবায়ন করা।
এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সন্ত্রাসী ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের ৫ টি হামলায় আহত হয়েছে ৪ জন সাংবাদিক এবং হুমকি দেয়া হয়েছে ২ জন সাংবাদিকে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর 8 টি হামলা হয়েছে, এ ঘটনায় নিহত হয়েছে ১ জন। ক্ষমতাশীন দলের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার ৭ টি ঘটনায় নিহত হয়েছে ১জন এবং আহত হয়েছে ২৭ জন ছাত্র। এ মাসে ৮২ টি #বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ ৪৫ জন পুরুষের, ১৬ জন নারীর এবং ২১ জনের অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে।
ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিভাগ মনে করে, সংবিধান স্বীকৃত মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চত করা না গেলে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে না পারলে এবং মানুষ মত প্রকাশের স্বাধীনতা না পেলে শুধু কাগজে কলমে গণতন্ত্র শব্দটি ব্যবহার করলেই সেটিকে গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা বলা যায়না। রাষ্ট্র পরিচালনার সকলক্ষেত্রে জনগণ নিজেদেরকে নাগরিক ভাবতে ও অংশগ্রহন করতে না পারলে সেখানে প্রকৃত গণতন্ত্র গড়ে উঠবেনা। এজন্য সাম্য, ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো প্রনয়ন অতীব গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে কোনদিনই মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের পৃষ্টপোষকতায় বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, প্রশাসনের হেফাজতে নির্যাতন, সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিরীহ বাংলাদেশী হত্যা ও নির্যাতন, নারীর প্রতি সহিংসতা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে হামলা দিন দিন বেড়েই চলছে। বিশেষ করে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে, দিন দিন ধর্ষণ যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এতে সমগ্র দেশের নারী সমাজের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে পড়েছে।
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে জনগনের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাবে। তাই ইসলামী ছাত্রাশিবিরের কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিভাগের পক্ষ থেকে দেশের সকল সচেতন নাগরিক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও দেশি-বিদেশী মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে মানবাধিকার রক্ষায় আরো সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

২|
০২ রা এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ২:৩৬
নতুন বলেছেন: ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিভাগ মনে করে,
ইসলামী ছাত্রশিবির মানবাধিক বিভাগের কাছে পাকীদের সাহাজ্য কারী জামাতীদের ১৯৭১ এ পাকী সাহাজ্যের তথ্য আছে তো?
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ২:০২
বার্তা বাহক বলেছেন: কঠিন সময় চলছে!