| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মঞ্জুর চৌধুরী
আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি, আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’। আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’ পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ ফিং দিয়া দিই তিন দোল; আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা, করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পান্জা, আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা! আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর; আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন চির-অধীর! বল বীর - আমি চির উন্নত শির!
আমি পলিটিক্স এবং পলিটিশিয়ান পছন্দ পারি না। কোন দলের প্রতিই আমার আলগা মোহ কাজ করেনা। "দলকানা" "দলদাস" ইত্যাদি গুণাবলী তাই আমার খুবই চোখে লাগে।
কেন পলিটিক্স পছন্দ করি না সেটা বলি।
যেকোন রাজনৈতিক দল যখন ক্ষমতার জন্য নির্বাচন করে, তখন ওরা বলে, ওরা ক্ষমতায় যেতে চায়, যাতে ওরা পাবলিকের "সেবা" করতে পারে।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে, পাবলিকের "সেবা" করতে হলে তোমাকে কেন ক্ষমতায় যেতে হবে? ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই তুমি সেবা শুরু করতে পারো।
তুমি তোমার এলাকার পথশিশুদের ক্লাস নিতে পারো। তোমার এলাকার ধনী-গরিবদের নিয়ে একটা সমিতি করতে পারো যারা ব্যবস্থা নিবে এলাকার কেউ ক্ষুধার্ত ঘুমাতে যাবেনা। এলাকার কোন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের জন্য নিজের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারো। এলাকার পুরুষ ও নারীদের কারিগরি শিক্ষা দিয়ে ওদের ভাগ্য বদলাতে সাহায্য করতে পারো। কারোর চিকিৎসা প্রয়োজন, তুমি সবাইকে নিয়ে ওর সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারো। এগুলো কি সেবা নয়? এগুলোর জন্য আমাকে নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার অপেক্ষা করতে হবে কেন?
হ্যা, এইসব করতে গেলে রাজনীতিবিদেরা আমাকে ঠিকই বাধা দিবে।
কেন? কারন আমি ওদের চেয়ে পপুলার হয়ে যাব। ওরা টেনশনে পড়ে যাবে, আমি বুঝিবা নির্বাচনে দাঁড়াবো, তাই এমন করছি। অথবা ধরে নিবে আমি অন্য পার্টির হয়ে কাজ করছি। নাহলে আমার স্বার্থ কি? যদি বলেন "আমি এমনটা করছি কারন আমাকে আমার আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন এমন করতে" - তাহলে ধরে নিবে আপনি জামাতে ইসলামী, আপনাকে "জিহাদিস্ট" "পাকিস্তানী এজেন্ট" বা ইত্যাদি ট্যাগ দিবে।
আপনি হিন্দু হলে আপনাকে র'য়ের এজেন্ট ঘোষণা দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেললেও অবাক হব না।
আপনি খ্রিষ্টান হলে দাবি করবে আপনি এইসব করে লোকজনকে খ্রিষ্টান ধর্মে কনভার্ট করে ফেলবেন।
আর যদি নাস্তিক হয়ে থাকেন এবং বলেন "আমি শুধু মানুষকে সাহায্য করতেই এমনটা করছি" - তাহলেও ধরে নিবে এর পিছনে আপনার নিশ্চই কোন কুমতলব আছে। আপনি মানুষকে নাস্তিক বানানোর পায়তারা করছেন। বাংলার জমিনে নাস্তিকের ঠাঁই নাই!
যে চোর, সেতো সবাইকেই নিজের মতই ভাবে। দেখেন না, ক্রিকেটে আইসিসির অন্যায়ের সমালোচনা করলে একদল তেড়ে এসে বলে আমরা পাকিস্তানের দালাল হয়ে গেছি? ওরা নিজেরা ইন্ডিয়ার পদলেহী বলেই কল্পনাও করতে পারে না শুধুমাত্র বাংলাদেশের স্বার্থেও কেউ কোন কথা বলতে পারে।
এখন নিজের জীবনের একটা উদাহরণ দেই তাহলে বুঝবেন।
আমেরিকায় প্রতি কোরবানির ঈদে আমরা কয়েকজন সাউথ ডালাসের মসজিদে নিজেদের তিন ভাগের এক ভাগ গরুর মাংস দিয়ে আসি। গরিব এলাকা। রিফিউজিরা আসে মাংস নিতে। বছরে এই একটা সময়েই ওদের পাতে "প্রোটিন" জোটে। ওদের জন্য খুব মায়া লাগে। কিন্তু আমাদের ক্ষমতা সীমিত।
গত বছর মসজিদ কর্তৃপক্ষ আমাদের জানালো আমরা যদি কিছু মনে না করি, তাহলে আমরা যেন মাংস না নিয়ে যাই।
খুবই অবাক হলাম। মনে হলো আমরা কি কোন ভুলটুল করছি যে ওরা আমাদের সাহায্য নিতে চায় না?
গিয়ে জানলাম আমেরিকার অতি বড় একটি ইসলামিক প্রতিষ্ঠান ওদের মাংস প্রদানের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে। আমাদের মতন টুটাফুটা সাহায্য না, বিশাল এইটিন হুইলার ফ্রিজার ট্রাক ভরে ওদের জন্য মাংস নিয়ে হাজির হয়েছে। এত মাংস ম্যানেজ করার ক্ষমতা সেই মসজিদের নেই। কত মাংস খাবি? খা তোরা!
আনন্দ ও কৃতজ্ঞতায় চোখে পানি এসে গেল।
অতি ক্ষুদ্র পরিসরে আমরা শুরু করেছিলাম। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল ক্ষুধার্তের পাতে মাংস তুলে দেয়া। আল্লাহ আমাদের সেই উদ্যোগকে কোথায় নিয়ে গেলেন! ঐ যে হাদিস আছে না, আমি আল্লাহর দিকে এক পা এগুলে তিনি দশ পা এগোন। আমি হেঁটে তাঁর দিকে রওনা হলে তিনি দৌড়ে আমার দিকে আসেন? সেটারই বাস্তব উদাহরণ দেখলাম।
হিন্দি একটি কবিতা আছে, "কে বলেছে আকাশে ছেদ করা সম্ভব না? কেউ ঠিকঠাক একটা ঢিল ছুঁড়ে দেখো!"
আমরা আকাশ ছেদ করলাম!
কিন্তু আমি যদি পলিটিশিয়ান হতাম, তাহলে নিশ্চিত করতাম ঐ বড় ট্রাক ভর্তি মাংস যেন কিছুতেই এ এলাকায় না পৌঁছে।
দেশের একটি প্রজেক্টের উদাহরণ দেই।
এক ডাক্তার বড় ভাই নিজের গ্রামের মানুষদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার উদ্যোগ নিলেন। এলাকার চেয়ারম্যান দাবি করলো ঘোষণা দিতে হবে যে চেয়ারম্যান এই উদ্যোগটা নিয়েছে। ওকে প্রধান অতিথি করতে হবে।
বিরোধীদল হুমকি দিল সেটা করলে মারামারি দাঙ্গা হাঙ্গামা লাগানো হবে। জীবন নিয়ে ফিরে যেতে দেয়া হবেনা।
ডাক্তারভাই বললেন জনসেবার গুষ্ঠি কিলাই! বেঁচে থাকাটা জরুরি।
মাঝে দিয়ে লস হলো কাদের? জনতার। এইটাই পলিটিক্স।
হঠাৎ বন্যায় দেশ ডুবে গেল। বিভিন্ন সংস্থা মানুষের প্রয়োজনে ঝাঁপিয়ে পড়লো। কেউ খাবার, আমরা চিকিৎসা, কেউ শুধু উদ্ধারকর্ম - ইত্যাদি সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সবকিছুতেই টাকার প্রয়োজন। আমি কিন্তু কাউকেই প্রতিদ্বন্দ্বী বিবেচনা করি নাই। কারন দুর্গত মানুষের সব ধরনের সাহায্যেরই প্রয়োজন আছে। যে সংগঠনেই সাহায্য পাঠান, কোন সমস্যা নেই। আপনি এগিয়েছেন কিনা সেটাই প্রশ্ন। মূল উদ্দেশ্য যেন হয় মানুষকে সাহায্য করা। কার মাধ্যমে হলো সেটা যেন বড় বিষয় না হয়। আমি খুবই খুশি হবো যদি দেখি আমার এলাকায় আমি ইমার্জেন্সি সাহায্য নিয়ে হাজির হওয়ার আগেই অন্য কেউ আমার লোকেদের উদ্ধার করে ফেলেছে। এর মানে হচ্ছে আমার এলাকায় ভাল মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এর মানে হচ্ছে, আমি এই রিসোর্স অন্য কারোর সাহায্যে ব্যবহার করতে পারবো।
কিন্তু পলিটিশিয়ানরা এখানেই নোংরামি শুরু করে। ওরা নিজেরা নিজেদের এলাকায় অন্য কোন দলকে ঢুকতে দেয় না। এলাকার মানুষ বন্যায় ডুবে যাক, আগুনে পুড়ে যাক, কোন সমস্যা নাই। কিন্তু আপনি বিএনপি-জামাত হলে আওয়ামীলীগের এলাকায় বা আওয়ামীলীগ হলে বিএনপি জামাতের এলাকায় ঢুকতে পারবেন না।
তা বড় আকারে জনতার সেবা করতে সরকারি সাহায্য, তহবিল, ক্ষমতার বিকল্প নেই - সেটা সত্য। একটা সৎ নেতা গোটা দেশ পাল্টে দিতে পারে। একটা বদমাইশ নেতা দেশের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে।
কিন্তু আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা ও দুর্ভাগ্য এই যে, যারা সেই রাজগদিতে বসতে চায়, ওগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় - ওরা ওগুলোকে নিজের বাপ দাদার সম্পত্তি ভেবে বসে। শুরু করে লুটপাট, দুর্নীতি। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা পুলিশ, RAB, DGFIকে নায়িকাদের সাথে শোয়ার কাজে ব্যবহার করে, বিশ্বাস হয়? কিন্তু সেটাই হয়।
অন্যদিকে আমাদের জনতাও খুবই ভোলাভালা। আমাদের চাহিদাও কম। আমাদের অন্ধকার রাস্তার সামনে একটা ল্যাম্পপোস্ট বানিয়ে দিলেই আমরা খুশি হয়ে যাই। ভাঙাচোরা রাস্তা পাকা করে দিলেই আনন্দে চোখে পানি চলে আসে। আমাদের এই ভোলাভালা স্বভাবেরই ভুল ফায়দা তোলে ক্ষমতায় যাওয়া নেতারা। একেকজন নির্লজ্জের মতন কোটি কোটি টাকার রাজপ্রাসাদ তৈরী করে, আমরা কিচ্ছু বলি না। ব্রিজের বাজেট পাশ করিয়ে একটা কালভার্ট তৈরী করে বাকি টাকা হজম করে ফেলে। আমরা এমন নেতাই আজীবন পেয়ে এসেছি। দোষটা আমাদেরই। আমরাই কোনদিন কোন মন্ত্রীর কাছে গিয়ে ওর অর্থের হিসাব চাই না। যে যত বড় চোর, ওকে তত বড় সালাম দেই।
ছোটবেলা থেকেই এইসব দেখে যারা বড় হয়, ওরা তখন ভাবে, একবার, শুধু একবার সাংসদ হতে পারলে চৌদ্দ পুরুষের জন্য জীবন সেট। সেজন্য মানুষ খুনের মতন জঘন্য অপরাধ করতেও এদের কলিজা কাপে না। কমন সেন্সের কথা বলি, নেতারা যদি আসলেই আমাদের সেবা করতে চাইতো, তাহলে হারতাল, গাড়ি ভাংচুর, ককটেলবাজি, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি করতো? করা সম্ভব হতো? নিজের বা নিজের পরিবারের লোকজনের বাড়িঘর গাড়ি ইত্যাদির ক্ষতি ওরা করে?
২|
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪২
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
পড়ে ভালো লাগলো। মাংশ ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যাপারটি খুবই প্রশংসনীয়।
৩|
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৯
ক্লোন রাফা বলেছেন: সবকিছু সত্য/ কিন্তু এই অজুহাত খুব ভালো দৃষ্টান্ত না । রাজনীতি এবং রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বকে ঘৃণা করার! সবাই এরিয়ে গেলে পরিবর্তন হবেনা কখনোই। খারাপ মানুষের অংশগ্রহণ বন্ধ করতে হোলে ভালো মানুষের অনেক বেশি রাজনীতিতে আসা উচিত।
©somewhere in net ltd.
১|
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
। রাজনীতি পছন্দের জায়গাটা কি এখন আর আছে?
রাজনীতি পছন্দ করেন না , সঠিক কথাটাই বলেছেন
ভারতবর্ষের বঙ্গদেশ অংশে শেষ স্বাধীন রাজা হিসেবে সাধারণভাবে ধরা হয় লক্ষ্মণ সেনকে(সেন রাজবংশ)।
বার শতকের প্রথম দিকে মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি লক্ষণ সেনের প্রাসাদ আক্রমণ করলে লক্ষ্মণ সেন পূর্ববঙ্গে
(বিক্রমপুর) সরে যান। এরপর থেকে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়।
এরপর পর্যায়ক্রমে শাসকদের উপাধি তুর্কি/দিল্লি সুলতানদের অধীনে শুরু হয় । সেসময় উপাধি ছিল
ইখতিয়ারউদ্দিন, মালিক, আমির ইত্যাদি তাঁরা ছিলেন দিল্লি সুলতানের প্রতিনিধি।বাংলা মুলুকে সুলতান
উপাধি শুরু হয় পঞ্চদশ শতকে। উল্লেখযোগ্য সুলতান ছিলেন শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ, আলাউদ্দিন
হোসেন শাহ প্রমুখ।বলা হয়ে থাকে এই সময় বাংলা একটি স্বাধীন সুলতানাত ছিল।
মুঘল শাসনামলে (১৬শ শতকের শেষ থেকে ১৮শ শতকের মাঝামাঝি) শাসকদের উপাধি ছিল সম্রাট । দিল্লির
মুঘল বাদশাহর বাংলায় প্রতিনিধির উপাধি ছিল সুবাহদার (প্রাদেশিক গভর্নর) পরে কার্যত স্বাধীন শাসকদের
উপাধি হয়: নবাব(যেমন মুর্শিদ কুলি খান, সিরাজউদ্দৌলা)।
ব্রিটিশ শাসনামলে (১৭৫৭–১৯৪৭) উপাধি প্রথমে গভর্নর, পরে গভর্নর-জেনারেল, এবং ব্রিটিশ সম্রাট/সম্রাজ্ঞী
ছিলেন সর্বোচ্চ শাসক। ১৮৫৮ সালের পর ব্রিটিশ ক্রাউন শাসন বড় লাট , ছোট লাট শুরু হয়।
পাকিস্তান পর্বে (১৯৪৭–১৯৭১)পূর্ববঙ্গ/পূর্ব পাকিস্তানের শাসকের উপাধি ছিল গভর্নর (প্রাদেশিক),
কেন্দ্রীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি ।
সর্বশেষ স্বাধীন বাংলাদেশে (১৯৭১–বর্তমান) শাসকের উপাদি হয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ।
তাই পছন্দ যদি করতেই হয়, তাহলে রাজনীতি নয়, তা হবে রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রী নীতি!!!!!!
যাহোক, পোস্টের শেষাংসের লেখাটি যথাযথ হযেছে ও ভাল লেগেছে ।
শুভেচ্ছা রইল