নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সময় সীমাহীন

হুমায়রা হারুন

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু প্রযুক্তিতে নয়, বরং মননের বিনিময়ে। ব্লগে যোগাযোগের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রকাশ ঘটে। আপনি যখন লেখেন, মন্তব্য করেন, কিংবা অন্যের ভাবনা পড়েন — আপনি তখন মানব প্রজাতির মননে অংশ গ্রহন করেন।

হুমায়রা হারুন › বিস্তারিত পোস্টঃ

কালপুরুষদা, সবসময় আপনাকে মিস করব

১২ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৫১


যাবার যখন সময় হয় সবাইকে যেতে হয়। গতকাল রাতে শুনলাম কালপুরুষ দা চলে গেছেন। মানে বাংলাদেশ সময় ৯ই মার্চ ২০২৬ রাতে। একেক জন মানুষ আসেন পৃথিবীতে, তাদের কাজ শেষ হলে চলে যান । বেঁচে থাকা কালীন অনেকের সাথে দেখা হয় আবার অনেকের সাথে দেখা হবার কোন সুযোগই ছিল না, তবুও পরিচয় হয়ে যায়। এভাবে সামহোয়্যারইন ব্লগের লেখকদের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে । সামনা সামনি কারো সাথেই দেখা হয়নি তবুও পরিচিত হয়েছি। একটা পরিবারের মতন সবাই সবাইকে পেয়েছি।
এইতো জীবন।
সামু ব্লগ থেকে লেখা নিয়েই ২০০৭ থেকে আমি সাহিত্য ম্যাগাজিন 'নব আলোকে বাংলা' সম্পাদনা করতাম। এই ব্লগের কারণেই প্রতিভাবান মানুষদের মণি মানিক্যের মত লেখাগুলো এক জায়গায় জড়ো করতে পেরেছিলাম। আমার ম্যাগাজিন যেন তাদের প্রতিভার স্পর্শে একটা স্বর্ণখনিতে পরিণত হয়েছিল।
তার মাঝে কাল্পুরুষদা-র অসম্ভব সুন্দর লেখা 'আমার রক্তের ইতিহাস' কালপুরুষ-আমার রক্তের ইতিহাস সামু ব্লগকে এবং আমার ম্যাগাজিকে সমৃদ্ধি শালী করেছিল।

গত বছর ৩১শে মার্চ ২০২৫ এর ফেসবুক পোস্টে দেখলাম দাদার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। দেরীতে দেখেছি পোস্ট টা। ২০২৫ এর ২৬শে এপ্রিলে, তাঁর অসুস্থতার কথা শুনে আমার গ্রুপে লিখেছিলামঃ
'দাদা,আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি । ব্লগের হাত ধরে আমাদের সকলের সেই কতদিনের পথচলা।'
আর আজ ১১ই মার্চ, ২০২৬- এ লিখছিঃ
'কালপুরুষদা, সবসময় আপনাকে মিস করব। আপনি কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডলীর মতোই চিরকাল দীপ্তিমান ও উজ্জ্বল থাকবেন।'

আজ পর্যন্ত যারা চলে গেছেন তাদের প্রতি আমরা সবাই আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:০১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



কালপুরুষদা স্মরণে এই পোস্ট দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনার বিষয়েও এ সুযোগে কিছু জানা হল ।
নব আলোকে বাংলা‌-এর মত ম্যগাজিন সম্পাদনা সে যে বিষম দুরুহ কাজ তা আমি বুঝি,
কেননা কলেজে পাঠকালে নির্বাচিত ছাত্র সংসদের ম্যগাজিন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে
হয়েছিল বলে ।

আপনার পোস্টের লিংক ফলো করে কবি(সামু ব্লগের গর্বিত ব্লগার) কালপুরুষ রচিত মুল্যবান কবিতা
আমার রক্তের ইতিহাস “
মন্ত্রমুগ্ধের মত পাঠ করে এসেছি । শুধু এসেছি নয় কবিতাটিকেও সযতনে বুকে করে নিয়ে এসেছি এখানে।
আগে কবিতাটির বিষয়ে কিছু কথা,কবিতাটির মাত্র কয়েকটি চরণ তুলে ধরে বলে নিই । তারপর নীচে
কালপুরুষের মুল্যবান কবিতাটির পুরাটাই এখানে দিব তুলে।

কবি কালপুরুষ-এর আমার রক্তের ইতিহাস এই কবিতা শুধু একটি রচনা নয়; এটি যেন
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এর রক্তাক্ত ইতিহাসের এক হৃদয়বিদারক প্রতিধ্বনি।মাত্র কিছুদিন আগে তাঁর
মহাপ্রয়াণ এই কবিতাকে আরও গভীর বেদনার আবরণে ঢেকে দিয়েছে। নিচে কবিতার প্রতিটি ভাব ও
কতক আবেগঘন দৃশ্যের রেশ ধরে কিছু কথা তুলে ধরা হলো:-

১. “মাগো, একটু হাসো-- দেখি তোমায় দুচোখ ভরে” এ যেন অন্ধকারের ভেতর মায়ের মুখ।
কবিতার শুরুতেই এক মৃত্যুপথযাত্রী মুক্তিযোদ্ধার আকুল আহ্বান মায়ের হাসি দেখার জন্য। চারপাশে যুদ্ধের
অন্ধকার, আকাশে চাঁদ নেই, প্রকৃতি যেন থমকে গেছে। এই অন্ধকার শুধু রাতের নয়; এটি দখলদারিত্বের,
অত্যাচারের, অনিশ্চয়তার অন্ধকার। আহত মুক্তিযোদ্ধা তার রক্তে ভেজা শরীর লুকাতে চায় মায়ের আঁচলে
যেন মায়ের স্নেহই শেষ আশ্রয়। সেই রক্তই আগামীকালের পতাকার লাল রং হয়ে উঠবে এই ভাবনাই তাকে
মৃত্যুর মুখেও গর্বিত করে তোলে।

২. মাগো, একটু আদর করো--বুকটা কেমন খা খা করে ওঠেএযেন মায়ের ত্যাগ ও সন্তানের বিদায়ের
করুন সুর।
এখানে ফুটে ওঠে এক নিঃসঙ্গ সংসারের গল্প। বাবা নেই, মা-ই ছিলেন একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হলে
সন্তানের রক্তে জেগে ওঠে দেশের ডাক। মায়ের বুক ভেঙে দিয়ে সে চলে যায় যুদ্ধে। এখন ফিরে এসেছে কিন্তু
বিজয়ের পাশে, মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। প্রকৃতির নিস্তব্ধতা যেন মায়ের নীরব কান্নার প্রতিধ্বনি,পাতা নড়ে না, বাতাস
থেমে যায়, পেঁচার ডাক যেন অশুভ সংকেত হয়ে বাজে।

৩. “মাগো, একটু গান করো আজ শুনি” এ যেন যুদ্ধের নীরবতা ও মৃত্যুর পূর্বাভাস।
যুদ্ধের ভয়াবহতা এখানে এক গভীর নিস্তব্ধতার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। গুলির শব্দে রাতের শান্তি ছিন্নভিন্ন
হয়েছে, পাখিরা উড়ে গেছে, ভোরের গান থেমে গেছে। জোনাকির আলো যেন অদ্ভুতভাবে জ্বলে ওঠে ,যেন
মৃত্যুর আগে প্রকৃতি নিজেই এক অদ্ভুত আলোকসজ্জা করছে। আহত যোদ্ধার মনে প্রশ্ন এ কি শ্মশানের
নিকটবর্তীতা? তার চিতা কি শিগগিরই জ্বলবে?

৪. “মাগো, কাঁদছো কেন বলো--- খোকা তোমার এসেছে আজ ফিরে” এযে শহীদের গর্ব।
এখানে বেদনার মধ্যেও এক অদম্য গর্ব ফুটে ওঠেছে। সন্তানের মৃত্যু মায়ের কোলে এ যেন এক অনন্য সম্মান।
একটি গুলি তার বুক ভেদ করলেও সে বিশ্বাস করে স্বাধীনতার ফসল একদিন ফলবেই। শত্রুরা যতই শক্তিশালী
হোক, সাত কোটির মানুষের ঐক্য তাদের পরাজিত করবে। মাতৃভাষা, স্বাধীনতা ও মানুষের মর্যাদা সবকিছুই
একদিন রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হবে।

৫. “মাগো, আর যে সময় নেই--- ঘুম যে আসে জলোচ্ছ্বাসের মতো” এ যেন একজন মুক্তিযোদ্ধার
আত্মত্যাগের শেষ মুহূর্ত।

শেষ অংশে মৃত্যুর মুহূর্ত এসে দাঁড়ায়। ক্লান্ত শরীর ঘুমের দিকে ঝুঁকে পড়ে, কিন্তু তার মনে একটাই আকাঙ্ক্ষা
মায়ের আঁচল যেন হয়ে ওঠে স্বাধীনতার পতাকা। সে চায় সবাই যেন জানে, এই পতাকার লাল রং তার মতো
অসংখ্য শহীদের রক্তে আঁকা। নিজের মৃত্যুকে সে পরাজয় মনে করে না; বরং এটিকে দেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের
বেঁচে থাকার অধিকার হিসেবে।

এই কবিতায় মা ও সন্তানের সম্পর্কের ভেতর দিয়ে আসলে পুরো জাতির ইতিহাস কথা বলে। মায়ের আঁচল
এখানে মাতৃভূমির প্রতীক, আর সন্তানের রক্ত স্বাধীনতার মূল্য। কবি কালপুরুষ যেন স্মরণ করিয়ে দেন স্বাধীনতা
কেবল একটি রাজনৈতিক অর্জন নয়; এটি অসংখ্য মায়ের কান্না, অসংখ্য সন্তানের আত্মত্যাগ, আর এক অমর
ইতিহাসের ফল।

কবির মৃত্যুর পর এই কবিতাটি যেন আরও গভীরভাবে প্রতিধ্বনিত হয় । যেন তিনি নিজেই সেই শহীদ
মুক্তিযোদ্বার কণ্ঠে বলে যাচ্ছেন স্বাধীনতার পতাকার লাল রং কখনোই ভুলে যেও না এটি রক্তে লেখা ইতিহাস।
কবি কালপুরুষ এই কবিতার মাধ্যমে যেন স্মরণ করিয়ে দেন স্বাধীনতার ইতিহাস শুধু রাজনীতি নয়; এটি মায়ের
কান্না, সন্তানের রক্ত, আর এক জাতির আত্মমর্যাদার গল্প।

আমাদের সামু ব্লগের গর্ব এই কবি কালপুরুষের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী ।



এখন হুমাইরা হারুনের এই পোস্টের লিংক ধরে সেই ম্যগাজিনে থাকা কবি কালপুষ রচিত “ আমার রক্তের“ইতিহাস
সকলের পাঠের সুবিধার জন্য এখানে তুলে দিলাম ।

আমার রক্তের ইতিহাস
------কালপুরুষ

মাগো, একটু হাসো-
দেখি তোমায় দুচোখ ভরে।
বেহায় এই অন্ধকার আজ যাচ্ছে না কেন সরে,
চাঁদটা কেন ওঠেনি আজ জেগে,
আকাশ কেন অন্ধকারে ঢাকে?
রক্তে ভেজা শরীর আমার ঢাকবো ক্যামন করে?
বুকে আমায় চেপে ধরো মাগো,
রক্তে রাঙাই শারীর আঁচল জমাট বাঁধার আগে।
পতাকা আমার কেমন হলো লাল, দেখবে সবাই ওড়াবে যখন কাল।
বলতে পারো মাগো, এতো মেঘ কেন আজ আকাশ জুড়ে?
তুমি হাসোনি বলে কি তাই!

মাগো, একটু আদর করো-
বুকটা কেমন খা খা করে ওঠে।
বাবাতো সেই কবেই গেছে চলে,
আগলে তুমি রেখেছিলে অনেক কষ্ট সয়ে।
পারলে না তাও- পালিয়ে গেলাম, যুদ্ধ যেদিন শুরু;
বলেছিলাম আসব ফিরে, এলাম তোমার কাছে।
মাগো, গাছের পাতা শান্ত কেন আজ?
বাতাস কেন বহেনা আজ জোড়ে?
উফ্! অলুক্ষণে পেঁচাটা কেন ডাকে?
হাসি কেন দেখিনা তোমার ঠোঁটে?
রাতভর কেঁদেছো বলে কি তাই!

মাগো, একটু গান করো আজ শুনি-
কানদুটো কেমন অসাড় হয়ে আছে।
নিঃশব্দের প্রহর কেটে গুলি যখন ছোটে,
ঝাঁঝড়া হলো নিঝুম ঘুমের রাত;
উড়াল দিল পাখীরা সব মেঘে।
চাঁদটা কেন ঢাকলো গোপন বেশে?
থামলো কেন ভোরের পাখীর গান?
মাগো এতো জোনাক কেন জ্বলে?
শশ্মানটা কি ধারে কাছে কোথাও?
চিতা আমার জ্বলবে বলে কি তাই!

মাগো, কাঁদছো কেন বলো-
খোকা তোমার এসেছে আজ ফিরে।
ভাগ্য আমার এতই ভাল ছিল,
শহীদ হব আপন মায়ের কোলে।
বিঁধলো না হয় একটা গুলি বুকে,
স্বাধীনতার ফলবে ফসল দেখো-
কতই আর ঝড়াবে ওরা রক্ত এক এক করে!
আমি, তুমি আমরা সবাই সাত কোটিতো কম নই!
পারবে কি আর শেয়াল-শকুন, হায়েনার দল জোট বেঁধে?
নিত্যনতুন ফলবে ফসল আমারি ক্ষেত জুড়ে,
বলবে কথা মায়ের ভাষায় সবাই একই স্বরে।
জানবে সেদিন আমার কথা,
রক্তে রাঙ্গা বীর শহীদদের করুণ মৃত্যু গাঁথা।
মাগো তুমি দেখে নিও, আগাছা সব এক এক করে
খাবলে নেবে ওরা।
নেংটি ইঁদুর শত্রু সবার যাবেই এদেশ ছেড়ে।
শুধু তুমি চাইবে বলে তাই!

মাগো, আর যে সময় নেই-
ঘুম যে আসে জলোচ্ছাসের মতো,
যেতেই হবে এবার আমি জানি;
পাহাড়সম কষ্ট তোমায় দিলাম হাতে তুলে।
মৃত্যু আমার রইলো জমা আমার মায়ের নামে।
বলবো কথা সবাইকে আজ সময় হাতে নেই-
মৃত্যু আমার এক জনমের বাঁচার অধিকার,
পতাকা হয়ে উড়লো নাহয় তোমার শাড়ীর আঁচল।
একটু শুধু খেয়াল রেখো সবাই যেন দেখতে পায়,
স্বাধীনতার সেই পতাকা আমি এঁকেছি রক্ত দিয়ে,
তোমার ছেলে শহীদ হলো তাই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.