| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।
গত ২৫ এবং ২৬ এপ্রিল ২০২৬ এ মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এবং World Organization Against Torture (OMCT) এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and OPCAT” শীর্ষক কনফারেন্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের আইনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে, সরকার এবং বিরোধী দলের সাংসদ, বিচারপতি, নির্যাতন বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের স্পেশ্যাল র্যাপোর্টিয়ার ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, জাতিসঙ্ঘের কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক এবং দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য, সাবেক আইজিপি, আইনজীবী, সাংবাদিক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমন্বয়ে কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিন Victims of enforced disappearances পার্সন দুইজন বক্তার মধ্যে আমি ছিলাম- দ্বিতীয় বক্তা। বাংলা-ইংরেজী মিলিয়ে আমার দেওয়া বক্তব্য শেয়ার করছি-
সম্মানিত সভাপতি,
মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিগণ,
এবং উপস্থিত সকল সম্মানিত অতিথিবৃন্দ-
আপনাদের সকলকে জানাই আমার গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
★ সম্মানিত সুধীমহল, কিছু বলার আগে বিনীতভাবে একটি বিষয় জানাতে চাই- আমি বর্তমানে ডিমেনশিয়া আক্রান্ত। কথা বলতে গিয়ে অনেক সময় বিষয় ভুলে যাই, কথা জড়িয়ে যায় বা এলোমেলো হয়ে যায়। তাই আমার বক্তব্যের ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হলে বিষয়টি আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন- এই অনুরোধ করছি।
★ আজ আমি এখানে দাঁড়িয়েছি জীবন থেকে নেয়া এক কঠিন বাস্তবতা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে-
একটি অন্ধকার বাস্তবতা, যেখানে একজন নাগরিক তার নিজের রাষ্ট্রের কাছেই নিরাপদ নয়।
I am a victim of disappearance and torture.
আমাকে বলার জন্য ১৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যে বিষয়ে আমাকে বলতে বলা হয়েছে- সেটা আরব্যোপন্যাস- "আলিফ লায়লা"র সহস্র এক রজনীর মতো দীর্ঘ না হলেও "বিষাদসিন্ধু" সম হৃদয়বিদারক- তা আমি কিভাবে ১৫ মিনিটে শেষ করবো! আজকের প্রোগ্রামের মডারেটর Taskin Fahmina আপা, আপনি আমাকে একটু বেশী সময় বাড়িয়ে দিন- যাতে আমি আমার বক্তব্য শেষ করতে পারি।
Dear All, I have been invited to this program today to speak about the torture I endured during my enforced disappearance. However, it is not easy for me to describe those experiences.
Yet, if I do not speak, it would be impossible for you to fully understand the cruelty and brutality that were inflicted upon me. It is to share that truth with you- and through you, with the world- that I have come here today, despite my physical condition.
সম্মানিত সুধীমহল, আমি একা গুমের শিকার নই- অজস্র মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। অনলাইন এক্টিভিস্ট হিসাবে আমার চেনাজানা সহযোদ্ধাদের মধ্যে গুম হয়েছেন- বর্ষীয়ান Iqbal Chowdhury Zaman M Zaman ভাই। আমার মতো র্যাবের একই অফিসারের হাতে অনলাইন এক্টিভিস্ট গুমের শিকার S M Sagor Fatama Khanom Rajon Bapari আরজান ইভান Wasim Iftekharul Haque Rezwanul Haque Shovan ফসিউল আলম Zahid Hassan Muhammad Wahid Un Nabi Nasimul Gani Khan Enamul Haque Mony আল আমীন সহ আরও অনেকে- আমি তাদেরও প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার মতো আরও অসংখ্য মানুষ আছে যারা স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে গুম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যাদের অনেকেই আজ আর বেঁচে নেই, আমি বেঁচে ফিরে এসেছি- এ আমার পরম সৌভাগ্য।
★ ★ কি আমার “অপরাধ” ছিল?
আমার অপরাধ ছিল- ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আমি আমার মতপ্রকাশের অধিকার ব্যবহার করেছিলাম। আমি বিশ্বাস করতাম- একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, আইনের শাসন থাকবে, মানবিক মর্যাদা থাকবে। কিন্তু সেই বিশ্বাসই আমাকে নিয়ে যায় এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার দিকে।
আমি একজন ব্লগার, অনলাইন এক্টিভিস্ট, রাজনীতিবিদ নই, তবে রাজনৈতিক সচেতন নাগরিক। আমি আমার দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের পক্ষে লিখেছি। রাষ্ট্রযন্ত্রের অন্যায় অবিচার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখেছি। বাকস্বাধীনতা এবং ভোটের অধিকারের পক্ষে লিখেছি।
★★ গুম হওয়ার বর্ননাঃ
২০১৮ সালের ২৭ অক্টোবর। আমি ঢাকা থেকে ষ্টীমার যোগে পিরোজপুর যাচ্ছিলাম। ষ্টীমার ছাড়ার আগে অন্যান্য যাত্রীদের সাথে লাউঞ্জে বসে কফি খেতে খেতে পরস্পরের সাথে সৌজন্য বিনিময় করছিলাম। জাহাজ ছাড়ার ৮/১০ মিনিট আগে হঠাৎ ১ জন সাদা পোশাকদারী লোক আমার নাম ধরে ডাকে। আমি উঠে দাঁড়াতেই আরও ৪ জন লোক আমাকে ঘিরে ধরে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই
একজন আমার কোমড়ের বেল্ট শক্ত করে ধরে। একজন পাঁজরে, অন্য একজন আমার ঘাড়ে পিস্তল ঠেকিয়ে জোর করে আমাকে ষ্টীমার থেকে নামিয়ে নেয়। তারা কারা, কি তাদের পরিচয়- জানতাম না।
ষ্টীমার থেকে নামিয়ে টার্মিনাল পার্কিং-এ একটা মাইক্রোবাসে তুলে দুইহাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে দেয়। ভেজা গামছা দিয়ে আমার চোখ বেঁধে এমন এক অজানা স্থানে নিয়ে যায়-
যেখানে সময়ের কোনো ধারণা নেই, যেখানে দিন-রাতের কোনো পার্থক্য নেই, শুধু আছে ভয়, নিঃসঙ্গতা, আর অনিশ্চয়তা। টানা দশদিন আমার চোখ বেঁধে রাখা হয়। আমাকে যেখানে বন্দী করে রাখা হয়েছিল- সেটা গুহা সদৃশ্য কুঠুরি। আমার উচ্চতা ৫'-১০"। গুহা সদৃশ্য রুমের উচ্চতা- ৫', দৈর্ঘ্য- ৫' এবং প্রস্থে-৪'! বুঝতেই পারছেন- সেখানে আমি কিভাবে ছিলাম!
আমি জানতাম না আমাকে কারা ধরে নিয়ে এসেছে। আমি কোথায়, আমি বাঁচবো কি না, আমার পরিবার জানেনা আমি বেঁচে আছি- না মরে গিয়েছি।
★ আমার চোখ বাঁধা, দুই হাত পেছনে হ্যান্ডকাফ লাগানো অবস্থায় প্রথমেই লাথি দিয়ে আমার দাঁত ভেংগে দিয়েছে। মেরে নাক থেতলে দিয়েছে। মুখের ভিতরে গাল এবং জিহবা কেটে গভীর খঁত হয়ে যাওয়ায় আমি বহুদিন যাবত খেতে পারতাম না। আমার চোখ বাঁধা অবস্থায় ওরা আমাকে হা করতে বলতো। আমি হা করলে- মুখের ভিতরে কিছু খাবার ঢুকিয়ে দিতো। পানি খেতে চাইলে আমাকে হা করতে বলতো। বোতল থেকে আমার মুখে পানি ঢেলে দিতো- যার সামান্যই আমার মুখে পড়তো- বাকীটা আমার বুক ভিজিয়ে দিতো। পিটিয়ে আমার সারা শরীরে রক্তাক্ত জখম করে দেওয়া হয়েছিল। আমার মুখে দেওয়া পানি আমার শরীর ভিজিয়ে দিতো। জখমের যায়গায় পানি লাগলে যন্ত্রণায় ছটফট করতাম।
★ আমার কানে, আমার শরীরের সংবেদনশীল স্থানে ইলেক্ট্রিক শক দেওয়া হয়েছে। কানে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার জন্য আমার শ্রবণশক্তি কমে গিয়েছে। কারোর মুখের দিকে না তাকিয়ে অর্থাৎ "লীফ রিডিং" ছাড়া কারোর কথা সহজে বুঝতে পারিনা।
★ শরীরের সংবেদনশীল স্থানে ইলেক্ট্রিক শক দেওয়ায় দুইপাশে পুড়ে যায়। প্রস্রাবের সময় প্রচন্ড বার্নিং হতো এবং প্রস্রাবের সঙ্গে ব্লাড বের হতো। প্রস্রাবের বার্নিং হবে তাই পানি খেতাম না। ১০ দিনে আমি দুই লিটার পানি শেষ করতে পারিনি।
★ আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে সুঁই/ পেরেক ঢুকানো হয়েছে। হীপে একাধিক বার পেরেক ঢোকানোর ফলে- সেই সব যায়গায় শক্ত গোটার মতো হয়ে গিয়েছে। যার কারণে আমি আজও শক্ত যায়গায় বসতে পারিনা। আমার আংগুলের নখের ভেতর সুঁই ঢোকানো হয়েছে। নখ প্লাস দিয়ে তুলে ফেলা হয়েছে।
★ আমার এক পায়ে দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে পিটিয়েছে। ঝুলিয়ে রাখায় আমার নাক-মুখ থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়তো....
★ আমার দুই হাঁটু, ঘাড় এবং কোমরের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
★ আমার দুই পা বেঁধে উপরে তুলে পায়ের তালুতে পিটিয়েছে। এলোপাথাড়ি লাথি মেরেই ক্ষান্ত হয়নি- আমার পা থেকে কোমড় পর্যন্ত এবং হাতের আংগুলগুলো বুট দিয়ে পিষে থেতলে দিয়েছে।
★ বন্দী অবস্থায় শারীরিক নির্যাতনে প্রথম দিকে চিতকার করে কান্না করতাম। পরবর্তীতে কান্নায় আমার চোখ থেকে পানি বের হতো না। "কেনো আমার চোখ থেকে পানি বের হয়না"- সেজন্য আরও বেশী পেটাতো। এমনসব প্রশ্ন করতো যেসব প্রশ্নের জবাব নাই। প্রশ্নের জবাব না দিলেও পেটাতো, জবাব দিলেও পেটাতো।
বন্দী অবস্থায় আমি দিন-রাতের পার্থক্য বুঝতে পারিনি। যেদিন আমাকে ক্রস ফায়ারে মেরে ফেলার কথা বলেছিল- সেদিন আমি ফজরের আজানের মৃদু শব্দ শুনেছি। আমাকে অযু করিয়ে তওবা পড়িয়ে ক্রসফায়ার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আমি সেই নির্দেশনা শুনে খুশী হলাম- আমি সকল নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তি পাবো ভেবে। তখন আমি আমি একটুও ভয় পাইনি- সেই একদিনই আমি সকল ভয়কে জয় করেছিলাম। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আমাকে ক্রস ফায়ারে মেরে ফেলেনি।
সম্মানিত সুধীমন্ডলী, আমার নির্দিষ্ট সময় শেষ! ৫ মিনিট সময় বৃদ্ধি করে স্লিপ পাঠিয়েছেন.... ধন্যবাদ।
যা বলছিলাম- নির্যাতনের ফলে-
আজ আমি কানে শুনতে পাই না। প্রস্রাবের চাপ বেড়ে গেলেই ভয়ংকর যন্ত্রণা হয়। আমি স্বাভাবিক ভাবে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারিনা। হাঁটতে পারিনা। ঘুমাতে পারিনা। চোখের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে।
This is not an accident. This is a planned, systematic torture - one that I will have to live with for the rest of my life.
নির্যাতন শুধু শরীরে সীমাবদ্ধ থাকে না-
এটা পরিবারকে ভেঙে দেয়, মানসিকভাবে ধ্বংস করে দেয়। আমার পরিবার জানতো না আমি বেঁচে আছি কি না।
আমার প্রিয়জনেরা প্রতিদিন এক অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল।
আজও সেই ট্রমা শেষ হয়নি।
Dear distinguished audience,
In today’s program segment titled “Torture: Its Impacts & Consequences,” the discussion focused on the long-term physical and psychological effects faced by victims of enforced disappearance and torture.
In this session, two internationally renowned trauma specialists and researchers Dr. Professor Dr. Kai Li Chung, The University of Nottingham, Malaysia & Dr. Marie Brasholt, Denmark, a psychologist shared their insights.
Their professional expertise and depth of experience truly deserve appreciation. What they described closely reflects the ongoing reality of my own life. I would like to express my sincere gratitude to both of them.
Dear representatives of human rights organizations and members of the diplomatic community, both from home and abroad,
Seeing your emotional response to my suffering, I have felt that you stand with me- and with all victims like us.
Today, through you, I wish to raise some questions to the state:
Can a state subject its own citizens to enforced disappearance?
Can a state use torture as a tool?
And can those who commit such grave crimes against humanity be allowed to enjoy impunity?
Like many other victims of enforced disappearance, I remain uncertain about whether justice will truly be achieved.
Therefore, I appeal to the international community:
Please do not only listen- take action.
Ensure that those responsible for human rights violations are not granted impunity. No excuses, no concessions, no conspiracy.
আমাদের উপর যে অন্যায় অবিচার করা হয়েছে- তার ন্যায় বিচার করতে হবে।
ধন্যবাদ সবাইকে।
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২১
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আজও সেই ট্রমা শেষ হয়নি।
..........................................................
আমি অত্যন্ত ব্যথিত ও বাক রুদ্ধ
এমন নির্যাতনের নির্দিষ্ট গুরুতর অভিযোগ না থাকলে
অমানুষ হয় কি করে ?
.........................................................................
ঐ সকল পশুদের জীবন যেন জাহান্নামের আগুনে পুড়ে
পুড়ে ছাই হয় শত সহস্র বার !!!