নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

জুল ভার্ন

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।

জুল ভার্ন › বিস্তারিত পোস্টঃ

চামড়ার দাম নেই, কিন্তু চামড়ার জুতার দাম আকাশচুম্বী- এই রহস্যের নাম কী?

৩১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

চামড়ার দাম নেই, কিন্তু চামড়ার জুতার দাম আকাশচুম্বী- এই রহস্যের নাম কী?

কোরবানির ঈদ এলেই বলা হয়- "চামড়া জাতীয় সম্পদ, চামড়া দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত, চামড়া রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়"।

কিন্তু বাস্তবতা কী?
মাত্র এক দশক আগে ৫০ হাজার টাকা দামের একটি গরুর চামড়ার মূল্য ছিল প্রায় ৫০০ টাকা। আজ সেই গরুর দাম বেড়ে দেড় লাখ টাকা। তখন এক কেজি গোশতের দাম ছিলো ৪০০/-, যা এখন দ্বিগুণেরও বেশি! কিন্তু চামড়ার দাম নেমে এসেছে এক দেড়শো টাকায়। কোথাও কোথাও ক্রেতাই নেই!

প্রশ্ন হলো- চামড়া যদি এতটাই মূল্যহীন হয়, তাহলে বাজারে চামড়ার জুতা, স্যান্ডেল, ব্যাগ, বেল্ট, ওয়ালেটের দাম আকাশচুম্বী কেন?
এক জোড়া সাধারণ চামড়ার স্যান্ডেল ১০০০-২০০০ টাকার নিচে পাওয়া কঠিন। মাঝারি মানের জুতার দাম ২০০০-৫০০০ টাকা। বিদেশি নামী ব্র্যান্ডের জুতা যেহেতু কিনি না তাই সেগুলোর দাম নিয়ে কথা নাই। কাঁচামালের দাম তলানিতে, কিন্তু প্রস্তুত পণ্যের দাম আকাশে- এই বৈপরীত্যের ব্যাখ্যা কী?


আসলে এটা শুধু চামড়ার সংকট নয়, এটা বাজার ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা, নীতিনির্ধারণের ব্যর্থতা এবং এক শ্রেণির সিন্ডিকেটভিত্তিক অর্থনীতির নগ্ন উদাহরণ।
যে খাত একসময় তৈরি পোশাক শিল্পের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচিত হতো, সেই খাত আজ দিশেহারা। হাজার হাজার কোটি টাকার শিল্প কার্যত অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, নীতিহীনতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে ধুঁকছে।

সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত কারা?
★কোরবানিদাতা সাধারণ মানুষ।

★যে দেশে কোরবানির চামড়া একসময় এতিমের হক ছিল, সেই দেশে আজ চামড়া মাটিচাপা দিতে হয়। এতিমখানা, মাদ্রাসা ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো, যারা একসময় চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে বছরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় নির্বাহ করত।

★দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি সম্ভাবনাময় খাত।

অথচ প্রতি বছর একই নাটক মঞ্চস্থ হয়- সরকার দাম নির্ধারণ করে, ব্যবসায়ীরা তা মানে না, মাঠপর্যায়ে ক্রেতা পাওয়া যায় না, চামড়া নষ্ট হয়, তারপর সবাই দায় এড়িয়ে যায়!

কিন্তু একটি প্রশ্নের উত্তর কেউ দেয় না-
যদি চামড়ার প্রকৃত মূল্য না থাকে, তাহলে শতকোটি, হাজার কোটি টাকার চামড়াজাত পণ্যের বাজার টিকে আছে কীভাবে?
আর যদি মূল্য থাকে, তাহলে সেই মূল্য থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে কেন?

অর্থনীতির সহজ সূত্রঃ- উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়েই যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে মাঝখানে কেউ না কেউ অস্বাভাবিকভাবে লাভবান হচ্ছে।
সেই "কেউ" কারা?


চামড়া শিল্পকে ধ্বংস হওয়া মানে শুধু একটি শিল্পকে হারানো নয়; এর অর্থ কর্মসংস্থান হারানো, রপ্তানি বাজার হারানো এবং জাতীয় সম্পদের অপচয়।
কোরবানির চামড়া যদি প্রতি বছর রাস্তায় পড়ে থাকে, আর চামড়াজাত পণ্যের বাজার যদি সমানতালে ফুলে-ফেঁপে ওঠে, তাহলে সমস্যাটা চামড়ায় নয়- সমস্যাটা পুরো ব্যবস্থাপনায়। বুঝতে হবে- কোথাও না কোথাও একটি শক্তিশালী স্বার্থগোষ্ঠী পুরো ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
এবং সেই ব্যর্থতার দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই।

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৩৭

রিফাত হোসেন বলেছেন: চামড়ার কেমিকেলের দাম গত ১০ বছরে গড়ে ২–৫ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে, কিন্তু সব কেমিকেলের বৃদ্ধি একরকম নয়। কিছু কেমিকেল দ্বিগুণ হয়েছে, কিছু আবার ৪–৫ গুণ পর্যন্ত লাফিয়েছে।
একটি সাময়িক রাসায়নিক ব্যবসায় পরোক্ষভাবে পর্যবেক্ষণের কারণে বলতে পারছি। + বেশিরভাগ কেমিকেল আমদানি-নির্ভর, তাই ডলার–মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি দাম বাড়িয়েছে। + শ্রম খরচ বৃদ্ধি ও চাহিদা-যোগানের ভারসাম্যহীন হয়ে যাওয়া রয়েছে।

তবে বাজার সিন্ডিকেট, সংরক্ষণ পদ্ধতি, দাম নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানির সঠিক পদ্ধতির অভাব রয়েছে।

৩১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৫

জুল ভার্ন বলেছেন: অত্যন্ত বাস্তব স্মমত মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ক্যামিকেল দরকার চামড়া প্রক্রিয়াজাত অর্থাৎ ফিনিশ প্রোডাক্ট করতে। শুধু ক্যামিকেল এর দাম বাড়েনি- পশু খাদ্যের দাম বেড়েছে, শ্রমিকের মজুরী বেড়েছে- শুধু গরুর চামড়ার দাম কমেছে! সব চাইতে বেড়েছে- সিন্ডিকেটের দৌরাত্ব যা পুঁজিবাদী বাজার ব্যবস্থায় ভাংগা মোটেই সহজ নয়। কারণ, আপনার টাকা আছে, শিল্প কারখানা আছে- কিন্তু আপনি কম বিনিয়োগে সর্বচ্চ প্রোফিট করার রসদ আপনার হাতেই। সেক্ষেত্রে চামড়া না কিনে- ফেলে দেওয়া চামড়াও টোকাইদের থেকে নামমাত্র মূল্যে সংগ্রহ করে আপনার ফ্যাক্টরী চালাতে পারবেন। কাজেই পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে দাম নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে থাকেনা।

২| ৩১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: এটা সরকারের ব্যর্থতা,
অবশ্যই সরকারকে ন্যায্য দামে কিনে
নেওয়া উচিৎ ছিলো ।

৩১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

জুল ভার্ন বলেছেন: সরকার চামড়া কিনে কি করবে- সরকারতো ব্যবসায়ী না। সরকার ব্যবসায়ীদের ঋণ সুবিধা দিচ্ছে, ট্যাক্স হলিডে দিচ্ছে, রপ্তানীতে ক্যাশ ইনসেটিভ দিচ্ছে- যা সরকারের ব্যবসায়ীক প্রোনোদনা মূলক কাজ।

৩| ৩১ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

কাঁউটাল বলেছেন: আপনারা সরকারে আছেন, দেখেন কিছু করতে পারেন কি না।

৩১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১০

জুল ভার্ন বলেছেন: আমি দলের একজন তৃণমূল কর্মী মাত্র। আমরা শুধু আমাদের ন্যয্য দাবীগুলো তুলে ধরতে পারি এবং সেটাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে তুলে ধরতে চেষ্টা করছি।

৪| ৩১ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

জ্যাক স্মিথ বলেছেন: অথচ এই চামড়া নিয়ে এক সময় মানুষ মারামারি করতো।

৩১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১১

জুল ভার্ন বলেছেন: হা ঠিক বলেছেন- ১৫ বছর আগেও মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা ভয়ংকর ভাবে মারামারি করতো- চামড়ার ব্যবসা নিয়ন্ত্রনের জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.