| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।
আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...
২০১০, এক-এগারোর পর থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত- যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, যারা গুম, নির্যাতন, কারাবাস, মামলা, চাকরি হারানো, পরিবার ভেঙে যাওয়া- সবকিছুর মূল্য দিয়েছে, তাদের অনেকেই আজ নিঃস্ব। শুধু অর্থে নয়, স্বীকৃতিতেও।
তখন আমাদের হাতে স্মার্টফোন ছিল না। প্রতিটি মুহূর্ত ভিডিও করে রাখার সুযোগ ছিল না। নিজের রক্ত, নিজের কান্না, নিজের ত্যাগ- সবকিছুর সাক্ষী ছিল কেবল সময় আর কয়েকজন সহযোদ্ধা। তাই আজ প্রমাণ চাওয়া হলে দেখানোর মতো ছবিও নেই, ভিডিওও নেই।
আজ সময় বদলেছে। ক্ষমতার কাছাকাছি যারা, আলো তাদের ওপরই পড়ে। অনেকেই আজ ইতিহাসের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন, অথচ সবচেয়ে কঠিন সময়ে তাদের দেখা যায়নি। তবুও সব কৃতিত্ব যেন তাদেরই।
All the credit goes to those who were nowhere to be found during the darkest days.
আর আমরা?
আমরা ইতিহাসের সেই ছিন্নপত্র, যা কোনো পাঠ্যবইয়ে জায়গা পায় না; কোনো প্রদর্শনীতে টাঙানো হয় না; কোনো পদক বা সংবর্ধনার তালিকায় লেখা থাকে না।
তবুও একটি বিশ্বাস বুকে লালন করি- মানুষের লেখা ইতিহাস অনেক সময় পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে, কিন্তু সময়ের ইতিহাস কখনো মিথ্যা বলে না। একদিন হয়তো আমাদের নাম কেউ মনে রাখবে না, কিন্তু এই দেশের স্বাধীনচেতা মানুষের সংগ্রামের ইতিহাসে আমাদের অদেখা পদচিহ্ন রয়ে যাবে- আমরাও ছিলায়....
০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩
জুল ভার্ন বলেছেন: প্রিয় তপন ভাই,
আপনার কথাগুলো গভীরভাবে ছুঁয়ে গেল।
সব সংগ্রামের ইতিহাসেই এমন অসংখ্য মানুষ থাকেন, যাদের ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন অধ্যায় শুরু হয়, অথচ সময়ের স্রোতে তাদের নাম ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। স্বীকৃতি না পাওয়ার কষ্ট হয়তো ক্ষতকে আরও গভীর করে, কিন্তু ত্যাগের মূল্য শুধু পদক, পদ বা প্রচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
আমি বিশ্বাস করি, ক্ষমতা, ইতিহাস কিংবা রাজনীতি- সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানুষের বিবেক একদিন সত্যকে খুঁজে নেয়। যারা নিঃস্বার্থভাবে আদর্শের জন্য মূল্য দিয়েছেন, তারা হয়তো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন না, কিন্তু ইতিহাসের নীরব ভিত্তিপ্রস্তর হয়ে থাকেন।
আমার কষ্ট কোনো ব্যক্তিগত স্বীকৃতি না পাওয়ার জন্য নয়; কষ্ট হলো সেইসব নীরব সহযোদ্ধাদের জন্য, যাদের ঘাম, রক্ত, অশ্রু আর আত্মত্যাগের কথা আজ খুব কম মানুষই স্মরণ করে। হয়তো আমাদের নাম ইতিহাসের মোটা বইয়ে লেখা থাকবে না, কিন্তু যদি আপনাদের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সত্য জানে- সেটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
যারা ঝড়ের রাতে প্রদীপ হয়ে জ্বলে,
ভোরের উৎসবে তাদের নামই থাকে না।
তবু ইতিহাসের নীরব পাতায় রক্তের যে স্বাক্ষর,
সময়ের কোনো ঝড় তা কখনো মুছে দিতে পারে না।
২|
০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে একমত; তিনি বলেছিলেন শেখ হাসিনার পতনকে যেন এক অলৌকিক ঘটনা বলে মনে হচ্ছিল। আমি যে সময়ের কথা বলছি, সেই সময়ের কথা একবার মনে করার চেষ্টা করুন: সাধারণ মানুষ তখন কী করছিল? ঢাকায় ঢোকার প্রতিটি পথ যেন নিঝুম, সুনসান নীরবতায় ছেয়ে ছিল। মানুষ বারবার টিভিতে খবরের দিকে চোখ রাখছিল। দুপুর ২টার দিকে মানুষ একজোট হয়ে আস্তে আস্তে জমায়েত হতে শুরু করে এবং বিকেল ৪টার মধ্যে তা এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ২টা থেকে ৪টার মধ্যবর্তী এই সময়টুকু প্রচণ্ড উত্তেজনাকর ও উদ্বেগের এক মুহূর্ত ছিল।
০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩১
জুল ভার্ন বলেছেন: ৩০ জুলাই থেকে আমি আমাদের সহযোদ্ধাদের সাথে একটানা ঘরের বাইরে। গ্রেফতার এড়িয়ে সময়ে অসময়ে খাওয়ার নামে কখনো একটা কলা, ছোট একটা পাউরুটি কিম্বা এক প্যাকেট খিচুড়ি-তেহারি কয়েকজনে ভাগ করে খাওয়া, শাওয়ার ঘুমের চিন্তারও বাইরে। তিন তারিখ অসুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে জনসমুদ্রে যোগ দেই..।রাতে ওরা বাসায় ফিরে যায়। আমি রাজপথেই থেকে যাই..পাঁচ তারিখ দুইটার সময়ও জানতাম না কি হবে৷ আমাদের সামনে একটাই উদ্দেশ্য ছিল- মৃত্যুর পরোয়া করিনা- শেষ পর্যন্ত মাঠেই থাকবো....
৩|
০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৮
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: প্রকৃত যোদ্ধারা কখনোই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখানোর জন্য যুদ্ধ করে নি। তারা নিভৃতে তাদের কাজটুকু করে যায়। সময় একদিন অবশ্যই তাদের মূল্যায়ন করে। শুভ কামনা থাকছে।
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৩
শেরজা তপন বলেছেন: হয়তোবা ইতিহাসে তোমাদের নাম লেখা রবে না
বড় বড় মানুষের ভীড়ে - জ্ঞানী আর গুণীদের আসরে তোমাদের কথা কেউ কবে না
তবু হে বিজয়ী বীর মুক্তি সেনা
তোমাদের এই ঋন কোন্দিন শোধ হবে না।।
বাঙ্গালীর ইতিহাসে এর থেকে সত্য তিক্ত কথা দিয়ে আর কোন গান লেখা হয়নি।
ভাই এরকমই হবার কথা ছিল। তাওতো ব্লগে আপনার কিছু কষ্টের কথা লিখে রেখে যেতে পেরেছেন।
জাতীয়তাবাদ মুলত ক্ষমতাবানদের একটা মোক্ষম অস্ত্র যা লক্ষ লক্ষ তরুনদের ধর্ম দেশ পতাকা দেশের সীমানাকে পুঁজি করে কবিতা গান সাহিত্য শিল্প আর তথাকতিথ নেতাদের জ্বালাময়ী ভাষন দিয়ে টগবগে আবেগকে স্যালাইন দিয়ে গুলিয়ে রক্ত দিয়ে জীবন উতস্বর্গ করার আহ্বান করা।