| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।
বেকার গ্র্যাজুয়েটের ২০ হাজার, গার্মেন্টস শ্রমিকের ৩০ হাজার- অর্থনীতির এই বৈপরীত্যের জবাব কে দেবে?
দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে, সীমিত আয়ে সংসার চালানো অসম্ভব- এ বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দেশে শিক্ষিত বেকারত্বও ভয়াবহ। একজন গ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স কিংবা এমবিএ ডিগ্রিধারী তরুণ মাসের পর মাস চাকরি খুঁজে ২৫-৩০ হাজার টাকার একটি চাকরি পেলে সেটাকেই জীবনের বিরাট অর্জন মনে করেন।
অথচ প্রায় একই সময়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিকে কেন্দ্র করে এমন উত্তেজনা ও সহিংসতার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা সাধারণ শ্রমিক আন্দোলনের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির দাবি অবশ্যই থাকবে। কিন্তু সেই দাবি আদায়ের নামে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোনো বৈধতা থাকতে পারে কি?
আরেকটি বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই- যে দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণের শ্রমবাজারে মূল্যায়ন এত কম, সেখানে মজুরি কাঠামো, উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে রাষ্ট্রের পরিকল্পনা কোথায়?
শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি যেমন অধিকার, তেমনি অন্যের কর্মসংস্থান, শিল্পকারখানা ও জীবিকার নিরাপত্তাও অধিকার।
আমরা এমন কোনো শ্রমিক আন্দোলন চাই না, যেখানে এক শ্রেণির ন্যায্যতার দাবির আড়ালে অন্য শ্রেণির জীবন-জীবিকা বিপন্ন হয়। আবার শ্রমিকের দুর্দশাকে অস্বীকার করেও সমস্যার সমাধান হবে না।
রাষ্ট্রকে আবেগ, চাপ কিংবা সহিংসতার কাছে নতি স্বীকার না করে বাস্তবসম্মত মজুরি, কর্মসংস্থান ও শিল্পের সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
একজন শ্রমিকের ঘাম যেমন মূল্যবান, একজন বেকার শিক্ষিত তরুণের সার্টিফিকেটের পেছনের শ্রমও তেমনি মূল্যবান। রাষ্ট্রের দায়িত্ব কাউকে কারও প্রতিপক্ষ বানানো নয়; উভয়ের মর্যাদা ও জীবিকার নিশ্চয়তা দেওয়া।
©somewhere in net ltd.