| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু
লেখালেখির মাধ্যমে আমি নতুন ভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল প্রকাশ খুঁজে পাই। আমার লেখার লক্ষ্য পাঠকদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি অর্থবহ আলোচনা তৈরি করা।
২০১৬ সাল। জীবনের প্রথম বাইক রানার ডায়াং বুলেট ১০০ সিসি হাতে আসা। সেই যে শুরু হলো বাতাসের বিপরীতে পথ চলা, তার নেশা আজও কাটেনি। প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটারের পথ চলায় এই বাইকটি ছিল আমার বিশ্বস্ত সঙ্গী। স্ত্রীকে পেছনে নিয়ে ঢাকা-খুলনা-ঢাকা কিংবা যমুনা সেতুর সেই লং ট্যুরগুলো আজও স্মৃতির পাতায় রঙিন হয়ে আছে। সেই বাইকটি ছিল শক্তিশালী, ছিল গতির উন্মাদনা।
কিন্তু জীবন সবসময় সোজা পথে চলে না। ২০২১ আর ২০২২—আমার রাইডিং জীবনের অন্ধকার দুটি বছর। পরপর দুটি বড় এক্সিডেন্ট আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল। সেই ট্রমা থেকে প্রিয় বাইকটিকে স্ক্র্যাপ হিসেবে দান করে দিয়ে ভেবেছিলাম, হয়তো দুই চাকার সাথে আমার সম্পর্ক এখানেই শেষ।
কিন্তু রক্তে যার অ্যাডভেঞ্চার, তাকে কি ঘরে আটকে রাখা যায়?
দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরলাম। তবে এবার ভিন্ন এক রূপে, ভিন্ন এক দর্শনে। গ্যারেজে এলো Honda Dream 110। রানার বুলেটের মতো অতটা শক্তিশালী না হলেও, এর স্মুথনেস আমাকে নতুন করে প্রেমে ফেলেছে। এখন আমার কাছে রাইডিং মানে কেবল গতি নয়, বরং রাইডিং মানে এক পরম প্রশান্তি।
আগে যেখানে খুঁজতাম পাওয়ার, এখন সেখানে খুঁজি ইঞ্জিনের মসৃণতা এবং জ্বালানি সাশ্রয়। বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, এই বাইকে আমি ৭০ কিমি/লিটার পর্যন্ত মাইলেজ পাচ্ছি! এখন প্রতিটি রাইড মানেই এক নতুন চ্যালেঞ্জ—কীভাবে বাইকটিকে আরও যত্নে রাখা যায়। সাপ্তাহিক চেইন লুব, এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা আর ভালো মানের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা এখন আমার নেশার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খুব শীঘ্রই আমার নতুন সঙ্গীকে নিয়ে আবার বের হবো। গন্তব্য—পদ্মা সেতু হয়ে সেই চিরচেনা খুলনা। ঝকঝকে এক্সপ্রেসওয়ে আর হোন্ডার স্মুথ রাইড—ভাবতেই এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ অনুভব করছি!
দুর্ঘটনা আমাদের থামিয়ে দিতে পারে না, বরং আমাদের আরও সচেতন হতে শেখায়। গতিতে নয়, রাইডিংয়ের আসল আনন্দ লুকিয়ে আছে ইঞ্জিনের গুঞ্জনে আর মাইলেজের নিখুঁত হিসেবে।
আবার দেখা হবে হাইওয়েতে! নিরাপদ রাইড করুন, অ্যাডভেঞ্চার উপভোগ করুন।
২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৪১
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আপনার মতামতের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি—বাইক অবশ্যই একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাহন, এ নিয়ে দ্বিমত করার কোনো সুযোগ নেই। তবে নিয়ম মেনে আর সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে রাইড করার যে তৃপ্তি, তা অন্য কোনো বাহনে পাওয়া কঠিন।
আমার নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে আমি একটি তিতকুটে সত্য উপলব্ধি করেছি—রাস্তায় একজন রাইডার নিজের দোষে যতটা না দুর্ঘটনার শিকার হন, তার চেয়ে অনেক বেশি বিপদে পড়েন অন্যের অসচেতনতা বা খামখেয়ালিপনার কারণে। তবুও, সেই ট্রমা কাটিয়ে দুই চাকায় ফেরার কারণ একটাই—সাবধানে রাইড করলে এর যে স্বাধীনতা আর রোমাঞ্চ, তা সত্যিই অনন্য। নিরাপদ রাইডিং গিয়ার আর সচেতনতাই হতে পারে আমাদের প্রধান সুরক্ষা।
২|
২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:২২
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: জীবন সবসময় সোজা পথে চলে না।
..................................................................
জীবন বৈচিত্র খোঁজে,
তাই রাইডে রোমান্চ আসে সত্য,
কিন্ত নীরবে ভয়ংকর দূর্ঘটনাও অপেক্ষা করে ।
এখন আর আপনি একা নন, পরিবার আছে;
সুতরাং অ্যাডভেঞ্চার বয়স পেরিয়ে গেছে
এবার দ্বায়িত্বশীল হউন, জীবনকে নূতন আঙ্গিনায়
উপভোগ করুন ।
৩|
২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯
রাজীব নুর বলেছেন: আমার মন্তব্যের উত্তর দেওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০৪
রাজীব নুর বলেছেন: বাইক খুব খারাপ জিনিস।
প্রতিদিন দূর্ঘটনা হচ্ছে। মাওয়া রোডে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০টা দূর্ঘটনা ঘটে।
আমার বাইক সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। অথচ আমি বাইক থেকে দূরে থাকি।