| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মহিউদ্দিন হায়দার
শব্দে আমার আশ্রয়, লেখায় আমার মুক্তি। এখানে আমি লিখি, ভেবে দেখি, আর খুঁজি মানুষের মনের গল্প।

আজকের সমাজে আমরা নীতি-নৈতিকতার বুলি শুনি অনেক, কিন্তু তার প্রয়োগ দেখি ঠিক বিপরীত জায়গায়। শিক্ষিকা বিউটি পালকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়া ও জনপরিসরে যে অশালীন, নোংরা ও কুরুচিপূর্ণ সাইবার আক্রমণ চলছে, তা কোনো বিবেকবান মানুষের পক্ষে সহ্য করা কঠিন। ধর্মকে ঢাল বানিয়ে, কোনো নারীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা কিংবা হেয় করার মধ্যে কোন ধার্মিকতা বা নৈতিকতা লুকিয়ে থাকে, তা বোধগম্য নয়। চরম সত্য হলো—অন্যের চরিত্রে কালিমা লেপন করার আগে নিজেদের বিবেক ও মানসিকতার পচন যাচাই করা জরুরি।
আমাদের সমাজের দ্বিমুখী আচরণ আজ মারাত্মক ব্যধিতে পরিণত হয়েছে। যখন কোনো ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশুরা নির্যাতনের শিকার হয়, কিংবা মাদ্রাসায় ছাত্রীরা কোনো বিপথগামী শিক্ষকের হাতে নিপীড়িত হয়—তখন এই নীতিবাগীশদের নীরবতা কেন ভাঙতে দেখা যায় না? যখন কোনো বয়োবৃদ্ধ প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা কিশোরীকে অনৈতিক সুবিধা বা প্রলোভন দেখিয়ে ধরা পড়ে, তখন কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তাদের পক্ষে অন্ধ সাফাই গাওয়া শুরু হয়। এমনকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিন ও গাজার হাজার হাজার নিরীহ মানুষের ওপর নিপীড়ন চললেও ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা বা গদি হারানোর ভয়ে অনেক তথাকথিত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অনুসারী টু শব্দ পর্যন্ত করেন না। এই যে সুবিধাবাদী নীরবতা এবং সুবিধাজনক জায়গায় অন্যায্য সোচ্চার হওয়া—এটাই কি প্রকৃত ধর্মানুরাগ?
সংস্কৃত ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে দেখা যায়, কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন:
"মানুষেরে ঘৃণা করি’
ও কাহার পূজা করে মসজিদ মন্দিরে গির্জায়?"
বিশ্বের অন্যতম মহান শিক্ষা হলো—ধর্ম কখনো হিংসা, বিদ্বেষ বা নারীর প্রতি কুৎসিত আক্রমণের লাইসেন্স দেয় না। ইসলাম শান্তি, ইনসাফ ও মানবিক শ্রদ্ধাবোধের ধর্ম। যে মানুষ নিজের ধর্মের মাহাত্ম্য তুলে ধরতে গিয়ে অন্য মানুষকে অসম্মান করে, সে মূলত নিজের ধর্মকেই খাটো করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে ভার্চুয়াল ট্রোল বা আক্রমণ করা বীরত্ব নয়, বরং তা এক ধরনের নৈতিক দেউলিয়াত্ব। অন্যায়ের প্রতিবাদ সব জায়গায় সমান হওয়া উচিত—নির্যাতক নিজের দলের বা ধর্মের লোক হলেও তার বিরোধিতা করতে হবে, আবার ভিন্ন ধর্ম বা আদর্শের মানুষ হলেও তার আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে হবে।
অন্যায়কারী নিজের সম্পর্কের লোক হলে চুপ থাকা আর দুর্বলকে আক্রমণ করা—এটি ধর্ম নয়, শুধুই চরম ভণ্ডামি। সমাজে মানবিকতা ও সুস্থ মানসিকতা ফিরিয়ে আনতে আমাদের নিজেদের দিকে তাকানো জরুরি।
মানবিকতা ও সত্যের পক্ষে এই দ্বিমুখী আচরণের বিরুদ্ধে আপনার মতামত কী? কমেন্টে জানাতে পারেন।
২৮ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৬
মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: একদম খাঁটি কথা! আইন-কানুন শিকেয় তুলে যেখানে ‘মব জাস্টিস’ আর গণপিটুনিই রাষ্ট্রের প্রধান বিনোদন, সেখানে থিওডোর রুজভেল্টের ভাষায় বলতে হয়—"অন্যায় যখন আইন হয়, তখন প্রতিরোধই ধর্ম"; কিন্তু আফসোস, রাজত্বটা এখন 'পাগলা রাজা' আর মোসাহেবদেরই নিয়ন্ত্রণে! সুকুমার রায়ের ‘একুশে আইন’-এর মতো পঁচিশ টাকা জরিমানা এড়াতে হলে এই তামাশা চুপচাপ সহ্য করা ছাড়া সভ্য মানুষের আর যাওয়ারই বা জায়গা কোথায়?
২|
২৭ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৩৭
গহীনে রক্তক্ষরণ বলেছেন: এই অবস্থা তৈরী হয়েছে কেন ? এই দেশের সমাজ ব্যবস্থা আগে কি এরকম ছিল কোনদিন ? আমরা ছেলেবেলায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে গলায় গলায় মিলে মিশে বড় হয়েছি। আমাদের সময় ধার্মিক মানুষ ( তিনি যে ধর্মেরই হোন ) প্রকৃতপক্ষেই ধার্মিক ছিলেন ( ব্যতিক্রম ব্যতিত)। প্রত্যেক মানুষ মানুষকে সম্মান করত । বড়দের সালাম-আদাব দিত । ছোটদের স্নেহ করতেন বড়রা । আর জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নারীদের শালীনতার কালচার সকল ধর্মের মানুষদের মধ্যে ছিল প্রায় একই রকম । হিন্দু নারীরাও শালিন পোষাক পরতেন । মাথায় ঘোমটা টেনে চলতেন, মুসলিমরাতো সেটা বাধ্যতামূলক মানতেন (ব্যতিক্রম ব্যতিত) । সেটাই ছিল আমাদের দেশের পারিবারিক, সামাজিক সৌন্দর্য । উন্নততর সভ্যতা । এই সুন্দর ব্যবস্থাকে নষ্ট করেছে কে ? দেশ স্বাধীন হবার পর থেকেই স্খলন শুরু হয় । তারই ধারাবাহিকতায় এই রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতায় যারাই ছিল এই দেশটাকে উদার সাংস্কৃতিক উৎকর্ষের নামে নষ্টামী-ভন্ডামীকে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে । যার যা খুশী ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতার নামে করে আসছে, তা যতই নিন্দনীয় হোক, যেন কারো কিছুই যায় আসে না । এতটা ধ্বংসের পরও পরিবারে মায়ের কোল থেকে যারা নৈতিকতা শিক্ষা নিয়ে বড় হয়েছেন, তাদের মধ্যে এখনো নম্রতা, ভদ্রতা, অন্যকে সম্মান করার কালচার দেখা যায় (কম হলেও ) । কিন্তু এই অবস্থাটাও গত ১৬ বছরে এমনভাবে ধ্বংস করা হয়েছে যে, রাষ্ট্র ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিরোধী মতের কোন মানুষকে দমনের নামে মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর বিষয়ও প্রকাশ্যে প্রচার করে মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করার বদ রাজনীতি করা হয়েছে । এই ধ্বংসাত্মক কাজ যদি রাষ্ট্র না করত, তাহলে সমাজের মানুষ এতটা জঘন্ন কাজ করার ধৃষ্টতা দেখাতে সাহস পেত না । আমরা রোগের মূলে হাত দিচ্ছি না । অন্য উপসর্গ নিয়ে তোলপাড় করছি । আর এসব নোংরামী এই রাষ্ট্রের চালিকাশক্তির মধ্যে যারা এখনো সেই ফ্যাসিবাদের দোষররা ঘাপটি মেরে বসে আছে, তারা প্রশ্রয় দিচ্ছে । তাদের নোংরা খেলা এখনো চলছে নানা ডানা ডাইমেনশনে । কিন্তু আমরা কেউই সে বিষয়ে মুখ খুলছি না । বলবেন, প্রমাণ কি ? প্রমাণ হচ্ছে এইসব ব্যক্তিগত আক্রমণ রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে । রাজনীতিতে রয়েছে বলেই সেই সুযোগে ব্যক্তি পর্যায়ে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে যাচ্ছে নিত্য । এ বদ কালচার থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের মোনাফেকী ছাড়তে হবে । আমি কি সঠিক কাজ করছি ? প্রত্যেক ব্যক্তিকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে হবে । না হলে এসব লিখে সমাজের কোন পরিবর্তন হবে না ।
২৮ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২৩
মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: অতীতের ঘোমটা আর পারিবারিক শালীনতার দোহাই দিয়ে এক হিন্দু শিক্ষিকাকে হেনস্তা করা ও সাইবার বুলিংয়ের চরম নোংরামিককে "বিগত ১৬ বছরের রাষ্ট্রীয় ফসল" বানিয়ে রাজনীতি টেনে আনাটা এক অসুস্থ মানসিকতার পরিচয়! অপরাধীর অপরাধকে 'বিগত সরকারের পাপ' আর ভিকটিমের আত্মসম্মানকে 'উদার নষ্টামি' বলে ঢাকার যে কুৎসিত ট্রিকস আপনি খাটাচ্ছেন, তাতে বোঝা যায়—আপনার স্মৃতিশক্তি বড্ড সুবিধাবাদী! ইতিহাস সাক্ষী, নব্বইয়ের দশকেও রাজনীতিতে বেগম জিয়াকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্টার বা প্রতিপক্ষকে হেয় করার চর্চা রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রশ্রয়েই হতো, আর ১৯৯২ বা ২০০১-এর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় শালীনতার রূপকথা কোথায় গিয়ে জমেছিল? আসলে ১৬ বছরের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে নিজের ভেতরের ধর্মান্ধ ও পুরুষতান্ত্রিক রূপটি ঢাকাই আপনার আসল 'মোনাফেকী', তাই অন্যকে আয়না না দেখিয়ে আগে নিজের মানসিকতার আয়নাটা একটু পরিষ্কার করুন!
৩|
২৭ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৪৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এটা একটা বেহুদা হাউকাউ ; হেডম থাকলে প্রতিবাদ করুক কেন প্রাথমিকের কমিটিতে মাদরাসা বেকগ্রাউন্ডের লোক নিয়োগ দেয়া বাধ্যতামুলক করেছে সরকার। মাদরাসা ওয়ালাদের প্রাথমিক শিক্ষায় কি কাজ ?
২৮ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২৪
মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: আসল জায়গায় মাথা না খাটিয়ে হঠকারী মন্তব্য করাটা এখন অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে! প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করে নিয়োগ পাওয়ার বিধান বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় বহু আগে থেকেই রয়েছে; যা কোনো বিশেষ ব্যাকগ্রাউন্ডকে আলাদা সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা দেয় না। আর মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যে সাধারণ শিক্ষায় অবদান রাখতে পারেন না—এই অন্ধ ধারণাটা পরিহার করুন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ থেকে শুরু করে এ দেশের বহু প্রথাবিরোধী পণ্ডিটাই কিন্তু মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকেই উঠে এসেছিলেন। শিক্ষিকা বিউটি পালের ওপর সাইবার বুলিংয়ের মতো অপরাধ ঢাকতে গিয়ে নীতিমালার ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া আর মূল আলোচনা ঘোরানোটা শুধু তথ্যহীনতাই নয়, চরম হাস্যকর এক ভণ্ডামি!
©somewhere in net ltd.
১|
২৭ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০১
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: "মানুষেরে ঘৃণা করি’
ও কাহার পূজা করে মসজিদ মন্দিরে গির্জায়?"
........................................................................
মগের দেশে বাস করছি,
মব কালচার চলছে !
দেখে ভালো লাগলে উপভোগ করুন,
নতুবা, পাগলা রাজার দেশে চলে যান !!!