| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নীল-দর্পণ
নগণ্য একজন মানুষ। পছন্দ করি গল্পের বই পড়তে, রান্না করতে। খুব ইচ্ছে করে ঘুরে বেড়াতে। ইচ্ছে আছে সারা বাংলাদেশ চষে বেড়ানোর।
বিয়ের পর পর যখন সৌদি আরব গিয়েছিলাম নতুন বউ হিসেবে দারুন ওয়েলকাম পেয়েছিলাম যা কল্পনার বাইরে। ১০ দিনে মক্কা-মদিনা-তায়েফ-মক্কা জিয়ারাহ, ঘোরাফেরা এবং টুকটাক শপিং শেষে মক্কা থেকে জেদ্দা গাড়ীতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভাবীর বাড়ীতে পৌছার পর ভেবেছিলাম এই বুঝি শেষ হল , কিন্তু শরীর না কুলালেও রাত ১টায় যেতে হল খালা শ্বাশুড়ীর বাড়ীতে কারন সন্ধ্যা থেকে সবাই নাকি আমাদের জন্যে অপেক্ষায় আছেন। সত্যিকার অর্থে জীবনে যতবার সারপ্রাইজড হয়েছি ওটা ছিল অন্যতম! এত আয়োজনের বিন্দুমাত্র আমার ধারনায় ছিল না।
আনন্দঘন এক পরিবেশে পারিবারিক মিলনমেলা বসেছিল সেদিন। স্বাস্থ্যবান লম্বা একজন মানুষ জোব্বা পড়ে ভাগ্নেদের সাথে নাচছেন, নিজেকে আরেকটু স্মার্ট দেখানোর জন্যে ভাগ্নেদের সানগ্লাস নিয়ে চোখে দিয়ে নাচলেন। ভিন্ন জেলায় বিয়ে হয়ে ভিন্ন সংস্কৃতির ফলে অনেক নেতিবাচক পরিস্থিতির সম্মুখীন এখন পর্যন্ত হতে হলেও সেদিনের সকল মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অকৃত্রিম ভালোবাসা আমৃত্যু আমি যতনে রাখবো।
যার কথা বলছিলাম, তিনি আমার মামা শ্বশুর। আজীবন প্রবাসে কাটিয়ে, সকলের চাহিদা পূরণের মেশিন ছিলেন তাইতো তার যে নিজের একটা জীবন হওয়া দরকার, পরিবার হওয়া দরকার বড় ভাইবোনরা এই চিন্তাই করেননি। নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরলে কেউ আর রইলেন না পাশে। ৫০+ বছরেও সংসার হল না। অসুস্থ শরীরে একাকী জীবন টেনে নিয়ে গেছেন। চার মাস আগে যখন দেখা হল মামার সাথে আমার কন্যাদের কী রেখে কী দেবেন, আমাদের কী দিয়ে আপ্যায়ন করবেন দিশা পাচ্ছিলেন না। ব্যস্ত হতে নিষেধ করলেও শুনলেন না। 'আম্মু' এবং 'আপনি' ছাড়া আমাকে সম্বোধন করতেন না।
ভাগ্নেদের বিষয়সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ মেটাতে আসতেন। একজনের ঘরে গেলে তার মত সে বুঝিয়ে পাঠাতো, আবার অপরপক্ষ থেকে উল্টো বুঝ দিয়ে পাঠাতো। অথচ এই সহজ সরল মানুষটি নিজের বিষয় সম্পত্তিই বুঝে পাননি ঠিক মত, সেই শালিস নিয়ে মনে হয় না কারো কাছে যেতে পেরেছেন।
আমাদের দেখতে আসলেন, যেতে চাইলে বললাম মামা রাত থেকে যান। উত্তর দিলেন , "আম্মু ছুটো ছুটো মুরগীর বাচ্চা আছে তো, ইঁদুরে নিয়ে যাবে। আমি বাড়ীতে না থাকলে গ্যাসের টাংকিটা (সিলিন্ডার) চুরে নিয়ে যাবে যে…"। যতবার দেখা হয়েছে অত্যন্ত আন্তরিকতা দিয়ে বলেছেন "আমার বেয়াই বেয়ানীকে সালাম দিবেন, আমি বেড়াতে যাবো বেয়াই এর কাছে।" হঠাৎ শুনি সেই মানুষটা আর এই দুনিয়ায় নাই! মামা , মুরগীর বাচ্চাগুলো ইঁদুরে নিয়ে গেলে কিংবা গ্যাসের টাংকিটা চোরে নিলেও আর দেখার কেউ নাই।
একটি অধ্যায়ের শেষ হয়ে গেল, যার জন্যে দশটি টাকা সাদাকাহ করার কেউ রইল না কিংবা ঈদে কোরবানে কবর জিয়ারত এর টানে কেউ যাবে না। নিঃস্ব এক গাংচিল এর জীবনাবসান হল!
দুইরাত চোখের পানিকে বাঁধ মানাতে পারিনি মামা আপনার শেষ দিনগুলোর কথা ভেবে। আপনার যত কষ্ট না পাওয়া সব যেন দুনিয়াতেই থেকে যায়। আল্লাহ আপনাকে জান্নাত নসিব করুন।
৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪
নীল-দর্পণ বলেছেন: : আমি বুঝিনা মানুষ কীভাবে অন্যের হক মেরে খায়, আমানতের খেয়ানত করে! একবার ও মনে হয়না যে এসবের হিসাব একদিন দিতে হবে! আমার খুব আশ্চর্য লাগে
২|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৫৪
খায়রুল আহসান বলেছেন: খুব ভালো লাগল আপনার এই স্মৃতিচারণ তথা শ্রদ্ধাঞ্জলি পড়ে। আপনার মামা শ্বশুরের মাগফিরাত কামনা করছি। ওনার সারা জীবনের নিঃসঙ্গতা ও শেষ জীবনের নিঃস্বতার কথা ভেবে মনটা একটু খারাপও হলো। এ ধরনের মানুষেরা আজীবন পরার্থকামী হয়ে থাকে, নিজেদের কথা ভাবার কোন সময়ই তাদের নেই।
এ রকমের একজন মমতাবান মানুষের বিদায়ে মুরগীটাও বাচ্চাসহ ইঁদুরের সম্ভাব্য আক্রমণের মুখে অসহায় হয়ে পড়লো!
৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩৬
নীল-দর্পণ বলেছেন: মনটা সত্যিই খুব ভারাক্রান্ত হয়ে আছে । অনেকেই বলবে মামা শ্বশুড়ের জন্যে কেন এত এমন শোক। আমি নতুন পরিবেশে গিয়ে হাতেগোনা যে কয়জনকে পেয়েছি আন্তরিকতায় যাদের কৃত্রিমতা ছিল না, তিনি ছিলেন তাদের মাঝে একজন।
৩|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:১৮
নতুন নকিব বলেছেন:
আল্লাহ তাআ'লা আপনার মামাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আপনার এই লেখায় তার যে নীরব ত্যাগ, একাকীত্ব আর নিঃস্ব ভালোবাসার গল্প উঠে এসেছে, তা সত্যিই হৃদয় বিদারক। এমন পরোপকারী মানুষরা বেঁচে থাকেন মূলত অন্যদের জন্য, আর এরা চলেও যান এভাবেই, সবার অলক্ষে, হয়তো ঝড়ো বাতাসের মতই আচমকা, অনেকটা নিভৃতে ঘটে এদের নীরব প্রস্থান।
আহ! কি কষ্টের বাস্তবতা, সংসার পরিবার কোন কিছুই আর হয়ে উঠলো না তার, রইল না তার জন্য দোয়া করারও কেউ, এমনকি তার কবরের পাশে দাঁড়ানোরও কাউকে তিনি রেখে যেতে পারলেন না। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানাচ্ছি, তিনি যেন তাঁর সকল ভুল ত্রুটি ক্ষমা করে দেন। তাকে স্থান দান করেন চির সুখের কান্তিময় জান্নাতে।
পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনের জন্য প্রবাসে নিজেকে তিলে তিলে উজাড় করে দেওয়া এই নিঃস্বার্থ মানুষটির জন্য আপনার “নিঃসঙ্গ এক গাংচিল” উপাধিটি সত্যিই যথার্থ।
অন্তর ছুয়ে যাওয়া পোস্টটিতে +
৪|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩
শায়মা বলেছেন: আল্লাহ মামাকে জান্নাতে নসীব করুন।
সহজ সরল মানুষটাকে যেন চোখের সামনেই দেখতে পেলাম!
৫|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৪
সৈয়দ মোজাদ্দাদ আল হাসানাত বলেছেন: আল্লাহ মামা কে জান্নাতুল ফিরদৌস নসিব করুন।
৬|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৮
আলামিন১০৪ বলেছেন: আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুক
৭|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:১৮
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন।
©somewhere in net ltd.
১|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫০
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আপনার যত কষ্ট না পাওয়া সব যেন দুনিয়াতেই থেকে যায়।
............................................................................................
এ ধরনে র মানুষ কখনোই নিজ সুখ বিবেচনা করেনা ,
আর আমরা অকৃতজ্ঞ বাঙালী চোখের আড়াল হলেই সব ভূলে যাই ।