নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিষ্পেষিত কাব্য

মেহেদী হাসান শোভন

নিজের ঢোল নিজে আর কি পিটাবো? নিজের সম্পর্কে নিজে বিশেষ কিছু লিখতে চাই না। লেখা ভাল লাগলে পাঠকরা লেখার মধ্যেই আমাকে খুজে পাবে।

মেহেদী হাসান শোভন › বিস্তারিত পোস্টঃ

**আতংকের নাম সুন্নি-ওহাবী **

০২ রা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:০০

আসসালামুলাইকুম,
অনেক দিন যাবতই এই বিষয় নিয়ে লেখবো লেখবো করে সময়ের অভাবে লেখা হচ্ছে না।আজ লেখছি আমার নিজ চোখে দেখা আমাদের গ্রামের এক চরম অসঙ্গতির কথা।
ইতোমধ্যে অনেকেই হয়তো ‘সুন্নি-ওহাবী’ শব্দ দুটোর সাথে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। তাই এই বিষয়ে কথা না বলে মূল ঘটনায় যাই।
প্রায় বছরখানেক আগের ঘটনা।আমার পাশের বাড়ির এক দাদা মারা গেছেন।সকাল ১১ টার সময় জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।মুসল্লিরা সবাই সময়মত উপস্থিত হতে শুরু করলো। জানাজাও যথা সময়ে পড়া হল।কিন্তু যত বিপত্তি জানাজার মোনাজাতকে ঘিরেই।একদল বলছে জানাজার পর পর কোন দোয়া নাই,দোয়া করতে হলে গোরস্থানে চলেন,সেখানে কবরস্থ করার পর দোয়া করা হবে।এই বলেই তারা ৪ জন লাশ এর খাট কাধে নিয়ে ফেলল এবং গোরস্থানের দিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিল।অপরদিকে অন্যপক্ষের কয়েকজন লাশের খাট ধরে রাখলো এবং বলল,তারা দোয়া না করে এই লাশ কিছুতেই এখান থেকে নিতে দিবে না।
হতভম্ভের হত দাঁড়িয়ে থেকে লাশের খাট নিয়ে দুই পক্ষের ব্যাপক টানাটানি প্রত্যক্ষ করলাম। দুই একজনকে বুঝানোর চেষ্টা করি নাই তাও কিন্তু না। বললাম আপনারা যেটা করছেন সেটা মোটেও ঠিক না।ভূলে যাইয়েন না যে আজ বাদে কাল আপনিও মরবেন আর আপনার লাশের সাথেও এমনটা হতে পারে।কিন্তু কে শুনে কার কথা তারা আপন গতিতে নিজেদের বুঝটাকে প্রাধান্য দিয়ে লড়তে লাগলেন(ও ভাল কথা ওনারা এটাকে জিহাদ বলেন)।সংখ্যাগরিষ্ঠতায় একদল বেশি হওয়ায় তারা সব বাধা-বিপত্তি এড়িয়ে লাশের খাট নিয়ে গোরস্থানের দিকে রওনা হলেন।আরেকদল লাঠিসোটা নিয়ে দাড়িয়ে রইলেন অপর দলের ফেরার অপেক্ষায়,আসলেই মেরে কুপোকাত করবেন।
এখন আসি আমার একান্ত কিছু মতামতেঃ
জানাজায় মোনাজাতকে কেন্দ্র করে যখন এত ঝামেলা তবে সবাই হয় মোনাজাত অংশগ্রহন করেন না হয় সবাই ছেড়ে দেন।(যদিও এটা কখনই সম্ভব না বরং আমি বলতে গেলে আমার ও জানাজা ঐ দিন হওয়ার সম্ভাবনা আছে :p)।
আরেক সমাধানের পথ এমন হতে পারে যে,যার ইচ্ছা হয় সে মোনাজাত করবে আর যার ইচ্ছা না হয় সে করবে না।
কিন্তু এখানেও অনেকের বিপত্তি।কারন তাদের পীররা নাকি-
-মোনাজাত করতেই বলেছেন(কথিত সুন্নিদের ক্ষেত্রে)
-কোন ক্রমেই মোনাজাত করা যাবে না বলেছেন(কথিত ওহাবীদের ক্ষেত্রে)।
এবার আসি পীর কি জিনিস সেইখানেঃ
পীর শব্দটি ফার্সি। পীর শব্দের অর্থ হল জ্ঞানবৃদ্ধ। আরবীতে বলা হয় মুরশীদ। মুরশীদ শব্দের অর্থ হল পথপ্রদর্শক। যিনি আল্লাহর আদেশ নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার প্রশিক্ষণ দেন তার নাম মুরশীদ বা পথপ্রদর্শক। এ ব্যাখ্যা থেকে একথা স্পষ্ট হল যে, পীর হবেন শরীয়তের আদেশ নিষেধ পালন করার প্রশিক্ষণদাতা।
এখন প্রশ্ন হল আপনার পীর/মুরশীদ বা পথপ্রদর্শক কি আদৌ বলেছেন যে, ধর্মীয় ব্যাপারে আপনার অভিমত অন্যকেউ না মানলে মারামারি করে হলেও মানাতে হবে?
-যদি আপনার উত্তর না হয় তবে আপনি কেন ধর্মের নামে অধর্ম করছেন?
-আর যদি আপনার উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে তো আপনার গোঁড়ায়ই গণ্ডগোল। পথ প্রদর্শক সহ আগে নিজে শুধরান।তারপর আরেকজনকে শুধরাতে আইসেন।

দেশে ইসলাম আজ অসম্ভব বিপর্যয়ের মুখে।এদেশের ৯২% মানুষ মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় ধর্ম থেকে ইসলামের নাম মুছে ফেলার চরম চক্রান্ত চলছে।এমন সঙ্কটাপন্ন মুহূর্তে নিজেদের মধ্যে খোঁচাখুঁচি না করে ইসলামের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে হাতে হাত রাখুন।আপনার পরিচয় আপনি মুসলিম।কবরে আপনাকে প্রশ্ন করা হবে,আপনার দ্বীন কি ছিল ?-আপনি উত্তর দিবেন ইসলাম,সুন্নি কিংবা ওহাবী না। তাই সময় থাকতেই নিজের দৃষ্টভঙ্গি বদলান। তাতে আপনারই সার্বিক মঙ্গল।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.