| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইফতেখার ভূইয়া
গণতন্ত্র মুক্তি পাক, পরিবারতন্ত্র নিপাত যাক

ঢাকায় এসেছি বেশ ক'মাস হলো। পরিবারের সাথে সময় কাটছে, অনেকটাই পারিবারিক জীবনে থিতু হয়ে এসেছি। ছেলে স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে, মেয়ে মা-বাবার কোলে, বিছানায় ঘুমিয়ে দিব্যি দিনাতিপাত করছে। গত বছরে কন্যা'র রাজকীয় আগমনেই, নিউ ইয়র্ক ছেড়ে আসা। কম-বেশী নিউ ইয়র্ক যে মিস করছি না তাও নয়। তবে আমার রাজকন্যার আগমনে ওসব অনেকটাই এখন মলিন। মহান সৃষ্টিকর্তার অসীম কৃপায় কন্যার এই সান্নিধ্য বেশ উপভোগ করছি।
কন্যা কোন কিছুই বলতে পারে না তবে তার উচ্চারিত আবোল-তাবোল শব্দের মানে গবেষণা করতে করতে আমার দিন পেরিয়ে রাত চলে আসছে। দু'একটা শব্দের মর্মাথ বের করতে পারলে আমি গিন্নীকে বা গিন্নী আমাকে শিখিয়ে দিচ্ছে। মনে হচ্ছে কন্যার সুবাদে নতুন শব্দ ও ভাষা সেখাও হয়ে যাবে। সে এক বিরাট অধ্যায়, এক উপন্যাসসম বই লিখেও শেষ করা যাবে না।
ক'দিন ধরেই ঢাকার আকাশ বেশ মেঘলা, শুনেছি বৃষ্টিবলয়ের আগমন ঘটেছে বাংলাদেশে। বিষয়টি আমার জন্য খুশির হলেও বেশীরভাগ খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক তথা অনেকের জন্যেই ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন আমি ঢাকায় ঝুম বৃষ্টি দেখিনি। খুব সম্ববত ঢাকায় আবহাওয়াও অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। সেই টানা ৩/৪/৫ দিনের বৃষ্টি আর এখন দেখা যায় না। ঢাকায় যখনই বৃষ্টি হয়, বাসায় থাকলে আমি জানালার পাশে কিংবা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই। কখনো কখনো জানালার বাইরে হাত দিয়ে বৃষ্টি উপভোগ করার চেষ্টা করি। বাইরে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভেজার সুযোগ বা ইচ্ছে কোনটাই এখন আর হয় না। পাছে, ঠান্ড-জ্বরে আবার বিছানা বন্দী হয়ে যাই সেই ভয়ে।
আমাদের বাড়ির আগে বা পেছনে এখনো কোন বাড়ি হয়নি তাই আমাদের এপার্টমেন্টের উত্তর-দিক্ষণ দিকটা বেশ খোলা-মেলা। বৃষ্টির শব্দ, ফুরফুরে বাতাস, সবুজের ঘ্রাণ অনেকটাই উপভোগ করতে পারি। অবশ্য খুব বেশী জোরে বৃষ্টি হলে দরজা-জানাল সব বন্ধ করে দিতে হয়। জানালার গায়ে গড়িয়ে পড়া বৃষ্টির ফোঁটা দেখার মাঝেও বেশ আনন্দ পাই। আমি কাঁচ ছুঁয়ে দেখি কিন্তু পানি আমাকে ছুঁতে পারে না। রাস্তায় ভিজতে ভিজতে রিকশাওয়ালাদের পরিশ্রম চোখে পড়ে। ক'দিন আগে বৃষ্টির সময় রিকশায় চড়তে গিয়ে খানিকটা অসুস্থ মানুষকেও রিকশা চালাতে দেখেছি। আরেকজনতো বৃষ্টি দেখে, রিকশা চালানো বন্ধ করে আমাকে রিকশায় বসিয়ে রেখে রিকশাওয়ালা অন্য একটা বাসায় গেইটের নিচে গিয়ে দাঁড়ালো। আমি কিছু বলিনি কারন ওকে দেখেই খানিকটা অসুস্থ মনে হয়েছে। পাঁচ/দশ মিনিট দেরী হলে আমার কোন সমস্যা নেই তবে রিকশাওয়ালা অসুস্থ হয়ে গেলে তার কিছু সমস্যা অবশ্যই আছে।
গিন্নী আজ গরুর মাংস রান্না করেছে। ভাবছিলাম সাথে ভূনা খিচুড়ী করতে বলবো তার আগেই দেখলাম চুলোতে সে ভাত বসিয়ে দিয়েছে। ঘরের অনেক সিদ্ধান্তই এখন উনার ইচ্ছেতেই হয়। তবে আমাকে যে একেবারেই জিজ্ঞেস করেনা তাও নয়। খিচুড়ী আমার বেশ পছন্দের, সাথে নানা পদের ভর্তা হলেতো কথাই নেই। কালো জিরা ভর্তা, বেগুন, আলু, ধনেপাতা, কাঁচা কলা, বরবটি ভর্তা আর হ্যাঁ ডিম ভাজিও থাকতে হবে। বোনাস হিসেবে খাওয়ার পর কোন কোল্ড ড্রিংঙ্কস হলে ষোলোকলা পূর্ণ হয়। সাদা ভাত আমার পছন্দের খাবার নয় তবে রুটি চলে ৩৬৫ দিনই। তাতে আমার মোটেও সমস্যা হয় না।
ছুটির দিনে ছেলেটার মন খারাপ। দু'দিন বাসায় বসে থেকে থেকে সে বোর হয়ে গেছে। বেরুতেও পারছে না, কোথাও খেলতেও যেতে পারছে না। বিকেল থেকে অনুরোধ আসছে আমি যেন ছেলেকে নিয়ে বাইরে থেকে ঘুরে আসি। যদিও আমি বাসা থেকে খুব একটা বের হই না। রাত জেগে টুকটাক কাজ করা আর দিনের বেলায় মূলত ঘুমানোই আমার প্রাতিহ্যিক কর্মকান্ড। সন্ধ্যে বেলাম মাগরিব নামাজ পড়ে আমি প্রায়ই চা খেতে বের হই। রেস্টুরেন্টটা বাসা থেকে খানিকটা দূরে। ত্রিশ টাকা চা খেতে গিয়ে ১০০/১২০ টাকা ভাড়া গুণছি আজ প্রায় দু'বছরের বেশী সময় ধরে। যে টাকা রিকশা ভাড়ায় খরচ হয়েছে তাতে একটা ছোটখাটো বাইক কেনা সম্ভব ছিলো হয়তো। কোন একদিন ধুপ করে কিনেও ফেলতে পারি, বলা মুশকিল।
আসরের নামাজের পর থেকেই ছেলে অল ড্রেসড-আপ হয়ে বসে আছে। মাগরিব পর্যন্ত অপেক্ষা করিনি, আকাশ মেঘলা, আবার কখন বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। বাপ-ব্যাটা রিকশায় চড়ে বসলাম, যাচ্ছি সেই রেস্টুরেন্টে, কিছু টুকটাক কেনা কাটাও আছে। ছেলে আমার সাথে বসে চা খাচ্ছে, সাথে গরম গরম বাটার নান। বেশ তৃপ্তি নিয়ে খেলো। আসার পথে মেয়ের জন্য ডায়পার কেনার ফরমায়েশ ছিলো। বার বার এগুলো কেনা একটা বিরক্তির একটা ব্যাপার বলে মনে হয়। ৫০ পিসের একটা ব্যাগ আমাকে মাসে ২/৩ বার কিনতে হয়। চেক আউট করতে যাবো ওমনি ছেলের আবদার এলো চিপসের, দাম ৪০০টাকা। সে এই চিপস আগেও খেয়েছে তবে আজ আর তার আবদার রাখতে ইচ্ছে হলো না, দেখিয়ে দিতেই সে চুইংগাম নিয়ে নিলো। আমাল থেকে গিন্নী শেমাই নিয়ে আসতে বলেছিলো, সেটা চেক আউট করার আগেই আবার ছেলের আবদার ডোনাট খাবে। ডোনাট স্বাস্থের জন্য ভালো নয় বলেও কিনে দিতে হলো। কথা আর না বাড়িয়ে বাড়ির পথে রওনা হলাম। আকাশ গুড় গুড় করছে, মাঝে মধ্যে ফোঁটা, ফোঁটা বৃষ্টিও গায়ে পড়ছে। রিকশা চলেছে, সাথে সুন্দর ঠান্ডা বাতাস গা জড়িয়ে যাচ্ছে, আমরা বাড়ি ফিরছি পেছনে ফেলে একটা দিনের বহু স্মৃতি।
ছবি: এ.আই.
০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:৫৩
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: কন্যার চন্দ্রমুখ দেখতে আসার ব্যাকুল ইচ্ছে এড়িয়ে যাওয়ার মতো ক্ষমতা পৃথিবীতের কোন বাবার আছে বলে মনে হয় না। সুমধুর না হলেও মধুর তো বটেই। সময় নিয়ে মন্তব্য করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন।
২|
০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০৩
ইন্দ্রনীলা বলেছেন: আজকাল আর সময় নেই আমাদের হাতে! বড় ব্যস্ত জীবন। কন্যার চন্দ্রমুখ দেখে বাবার আনন্দ যে কতখানি বুঝাই যাচ্ছে। কন্যার জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা!!!
০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৭
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: আসলেই তাই, ব্যস্ততায় সকাল হচ্ছে, দুপুর গড়িয়ে বিকেল সন্ধ্যা-রাত্রি। ঠিক বুঝে উঠার আগেই আগামী দিনের অনেক আয়োজন। কন্যার মায়া বড় বেশী পোড়ায়। আপনার জন্যেও অনেক অনেক শুভকামনা রইলো। ধন্যবাদ।
৩|
০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:১৪
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
ঢাকার কিছু আবাসিক এলাকাতে এই একটা অসুবিধা। এক কাপ চা খাইতে ও ৫০ টাকা খরচ করে মেইন রোডে যাওয়া লাগে। এই দিক থেকে ধানমন্ডি একদম বেষ্ট। হাতের কাছে ওয়াকিং ডিসট্রেসে সব। আবাসিক এলাকা গুলোতে ৭/১১ এর মতো convenient স্টোর গুলোর ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো।
আর দেশে এসে পরিবারের সাথে এতো সুন্দর বৃষ্টিমুখর একটি দিন কাটানোর পর আপনার অনুভূতি আর লেখায় আনন্দের অনুপস্থিত লক্ষ করলাম।
০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:০৪
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে "আবাসিক এলাকা" বলতে যেটা বোঝায় বা উন্নত বিশ্বে আমি যেমনটা দেখেছি তেমনটা নেই। এখানে আবাসিক এলাকাতেও অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, প্রচুর বাইরের মানুষের আনাগোনা, অব্যবস্থাপনা রয়েছে। আসলে বাঙালী কোন কিছুই ঠিক মতো করতে পারে না। কিছু একটা রেখে যায় যা বুঝিয়ে দেয় যে এটা বাঙালীর কাজ। বিষয়টি আসলেই দুঃখজনক।
আনন্দের ঘাটতি নেই, তবে কিছু ক্ষেত্রে আবেগের চেয়ে বিবেক ব্যবহার জরুরী। বাঙালী সুযোগ পেলে মাথায় চড়ে বসে, এটা বন্ধ করতে গেলেই আর আনন্দ থাকে না। কিছু কিছু জিনিস আমাদের ছোটবেলা থেকে শেখানো হয় নি, যেগুলো শেখানোর প্রয়োজন ছিলো। আর আনন্দ, দুঃখ-কষ্ট মিলেইতো জীবন, তাই না! শুধু আনন্দ আর আনন্দ হলে তো জীবন পানসে হয়ে যাবে। ধন্যবাদ।
৪|
০৪ ঠা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭
রাজীব নুর বলেছেন: আজ দুপুরে আমি সম্পূর্ন অপ্রত্যাশিত ভাবে গরুর মাংস আর খিচুড়ি খেয়েছি। সাথে তেহারিও ছিলো। খাইনি।
সহজ সরল সুন্দর দিন লিপি।
আপনার কন্যার গল্প পড়ে, মনে পড়লো আমি অনেকদিন আমার কন্যা ফারাজাকে নিয়ে কিছু লিখি নাই।
ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।
দেশেই থেকে যান।
০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১১
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: দেশে স্থায়ীভাবে থাকার ইচ্ছে নেই। আমি বাংলাদেশের ছেলে হলেও জীবনের অর্ধেকের বেশী সময় কেটেছে প্রবাসে। এখন বাংলাদেশে এসে অনেক কিছুতেই সমস্যা মনে হয়। বুক ভরে বাতাস নেয়ারও জো নেই, শুধু ধুলো আর ধুলো। আমেরিকার বাসায় সাপ্লাই-এর পানিও পান করা যায়, কখনো কোন পানিবাহিত সমস্যা হয় নি। বাংলাদেশে থাকলে প্রতি মাসে ফ্রেশ কোম্পানীর আট লিটারের ত্রিশটি বোতল লাগছে শুধু পান করার জন্য। মাঝে গোসলের পানিতেও সমস্যা দেখা দিয়েছিলো। বৃষ্টি-বাদল হলে কাঁদা, রিকশা না পাওয়া, অনেক বেশী ভাড়া চাওয়া। যখন-তখন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ইন্টারনেটের তার ছিঁড়ে যাওয়া এসব নাটক এখন আর ভালো লাগে না। জীবনের প্রাতিহ্যিক রুটিনের ছন্দপতন বরাবরই বিরক্তির কারন হয়। হয়তো বেড়াতে আসা হবে, কিছুদিন বা মাস অথবা বছর। দিনশেষে যেতে হয়, চলে যাই জীবনের প্রয়োজনে। ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৩
ইন্দ্রনীলা বলেছেন: বাহ!!
কত সুন্দর বৃষ্টি দিনের গল্প!!
ঢাকায় আসা তাহলে সুমধুর হলো!