| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইফতেখার ভূইয়া
গণতন্ত্র মুক্তি পাক, পরিবারতন্ত্র নিপাত যাক

আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন। বহু পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয় মানুষ কিংবা পরিবারের একমাত্র আয়ের অবলম্বন। তাদের হঠাৎ প্রস্থান যে ক্ষত রেখে গেছে, তা কখনোই পূরণ হবার নয়। পরিবারগুলো আর কখনোই হয়তো সেই স্বাভাবিকতায় আর ফিরে যেতে পারবে না। অনেকেই আহত হয়ে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন, অনেকের অঙ্গহানি হয়েছে, কেউ দৃষ্টি শক্তি কিংবা স্বাভাবিক চলার শক্তি হারিয়েছেন। আজকের এই দিনে তাই সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি পাশাপাশি সকল আহত ব্যক্তির সুস্থতা ও সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি। প্রত্যাশা এবং দাবি থাকবে বর্তমান সরকার যেন ঐসব শহীদ ও আহত ব্যক্তি তথা পরিবারে প্রতি সহযোগিতার হাত সুপ্রসারিত করে এগিয়ে আসে এবং তাদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে আরো যত্নবান হয়।
দু'বছর পেরিয়ে গেলেও দেশ পূর্ণরূপে আবারো তার স্বাভাবিকতায় এখনো ফিরে আসে নি। অর্ন্তবর্তী সরকারের পর, এবছরের নির্বাচনে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার এলেও জুলাইয়ের অনেক প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। যদিও একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ থেকে এসে একটি নতুন সরকারের কাছ থেকে সহসাই সবকিছুর সমাধান প্রত্যাশা করাটা নিছক বোকামি তদুপরি কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারের প্রচেষ্টায় কিছুটা শিথিলতা দেখা যাচ্ছে, এটা নিতান্তই দুঃখজনক। এ অঞ্চলের অভ্যন্তরীন ভূ-রাজনীতিও একটা ক্রান্তিকালের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন গণ-আন্দোলন এটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে যে জনগণের সাথে নিজ নিজ দেশের সরকার তথা প্রশাসনের একটা প্রকাশ্য দূরত্ব তৈরী হয়েছে যা প্রায়ই গণরোষে পরিণত হচ্ছে। সরকার এবং জনগণের মাঝে এই দূরত্ব কমাতে না পারলে এবং জনবান্ধব প্রশাসন দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে না পারলে এ ধরনের ঘটনা এ অঞ্চলে আগামীতে আরো ঘটবে যা হয়তো দেশের জন্য মঙ্গলজনক কিছু বয়ে আনবে না। এর সরাসারি প্রভাব দেশের সর্বস্তরে প্রতিফলিত হবে এবং হচ্ছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও সামগ্রিক সমাজ ব্যবস্থায় যে অবক্ষয় ও অধঃপতন দেখা যাচ্ছে তা ক্রমেই গভীর থেকে গভীরতর ক্ষততে পরিবর্তিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আশু সংস্কার প্রয়োজন। বিগত ১৬/১৭ বছরে দেশের যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যে শূন্যতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে তার সুষ্ঠু সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে না পারলে দেশ আরো গভীর সমস্যায় নিমজ্জ্বিত হবে। প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার ইতিহাস বাংলাদেশে বেশ পুরোনো। তদুপরি বেশ কিছু সময় ধরে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা চলছে। অথচ তাদের কাজের গুণগত মান উন্নয়নের ব্যাপারে কারো ভ্রক্ষেপ নেই। সরকারি অফিসে এইসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সেবার মান উন্নয়ন এবং প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা স্বৈরাচারীর দোসরদের ব্যাপারে শক্ত পদক্ষেপ না নেয়া হলে, সার্বিকভাবে প্রশাসনের তাদের উন্নয়ণমূলক প্রচেষ্টার কোন সুফল জনগণ পাবে বলে আমি মনে করি না।
দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে চাকুরীর বাজার তৈরীর উদ্যোগে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ক্রমবর্ধমান কর্মক্ষম জনশক্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থা করতে না পারলে, দেশে পুনরায় অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরীর পরিবেশ থেকেই যাবে। বুঝতে পারি, সরকারের পক্ষে এককভাবে সবার জন্য চাকুরির ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রচেষ্টা জনগণের দিক থেকেও থাকতে হবে। তবে তার আগে সরকারকে জনগণের জান-মাল তথা বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ তৈরী করার পেছনে বলিষ্ঠ ভূমিকা প্রয়োজন। চলমান আর্ন্তজাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এ সরকারের পক্ষেও সবকিছু সামাল দিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী জ্বালানী ব্যবস্থা এ মুহূর্তে বেশ সংকটময় সময় অতিবাহিত করছে। তারপরেও বলবো, বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরীর জন্য, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানী সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরী, সেই সাথে প্রয়োজন প্রশাসনিক সহযোগিতা। এ ব্যাপারে সরকারের আরো জোরালো, বাস্তবমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ভুলে গেলে চলবে না যে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। তাই প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সবাইকে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আরো বেশী সচেতন হতে হবে এবং সেই সাথে বক্তব্য দেয়ার আগে সঠিক শব-চয়নে মনযোগী হওয়ার অনুরোধ থাকবে। মনে রাখা জরুরী যে, অতীতে একজন বেফাস কথা বলে তার গদি হারিয়েছে, এ সরকারের একজন মন্ত্রীও ইতোমধ্যে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করেছেন যা মোটেই শোভন নয়। জনগণ সরকারকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, দেশ সুষ্ঠুভাবে পারিচলনার জন্য, জনগণকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সুরে সম্বোধন করার জন্য নয়। আশা করছি আগামীতে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিগণ এ ধরনের অযাচিত শব্দ ব্যবহারে বিরত থাকবেন।
সবশেষে বলবো, এদেশ আমার আপনার, আমাদের সবার। দিন শেষে বাংলাদেশ ভালো থাকলেই সবার ভালো থাকা হবে। একদিন কল-কারখানা বন্ধ থাকা, রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম সবই দেশের জন্য ক্ষতিকারক। আর দেশের ক্ষতি মানেই সবার ক্ষতি। ১৮ কোটি মানুষের বহু মত থাকাটাই স্বাভাবিক। সেখানে আলোচনা-সমালোচনা থাকবে, মত-দ্বিমত থাকবে, দিন শেষে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য। দেশের জন্য ক্ষতিকারক কাজ থেকে যেন আমরা সবাই দূরে থাকি। কোন রাজনৈতিক দলের বা নেতার পদলেহন না করে, তাদেরকে প্রশ্ন করুন, তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করুন, সে যে-ই হোক না কেন। আগামীর সুন্দর বাংলাদেশের জন্য জবাবদিহিমূলক সরকারের পাশাপাশি সচতেন নাগরিক গড়ে তোলাই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য। জুলাইয়ে শহীদ ও আহত সবার প্রতি আবারো শ্রদ্ধা জানাই।
ছবি কপিরাইট: বিপ্লব
০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৩৩
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। দেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসতে পারাটা জরুরী, সেটা সবার পক্ষে এক জীবনে হয়ে ওঠেনা হয়তো। ধন্যবাদ।
২|
০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জুলাই মাসে আন্দোলনের সময় আপনি কি প্রত্যাশা করেছিলেন ? আমার প্রত্যাশা ছিলো কোটা প্রথা বাতিল হওয়া । শুধু শেখ হাসিনার পতন চেয়েছিলেন নাকি নতুন সমাজ ব্যবস্থা ? তারপর কে ক্ষমতায় আসবে বা যারা ক্ষমতায় আসতে পারে তাদের অতীত নিয়ে মনে সংশয় ছিলো নাকি আরেকটা বার সুযোগ দিয়ে দেখি এমনটা ভেবে ছিলেন ?
০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫৩
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: বহু বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় ভর্তির জন্য বাবার কাছে গিয়েছিলাম একটা ফরম নিয়ে তার একটা স্বাক্ষরের জন্য। তিনি স্বাক্ষর করেন নি। তার ভাষ্যের সারাংশ ছিলো এমন, "আমি এসবে স্বাক্ষর করবো না। পারলে নিজের যোগ্যতায় ভর্তি হও। এসব সুবিধা পাওয়ার জন্য আমরা যুদ্ধ করিনি।" সত্যি বলতে কি বাবার ভাষ্যটা সেদিন ভালো লাগে নি। রাগের মাথায় না বুঝে বাবাকে নিয়ে কিছু কটু বাক্যও উচ্চারণ করেছিলাম মায়ের কাছে। যার জন্য আমি আজও অনুতপ্ত। যদিও বাবা গত হওয়ার আগেই আমি তার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলাম ২০১৮ সালের দিকে।
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জুলাই মাসে আন্দোলনের সময় আপনি কি প্রত্যাশা করেছিলেন?
চেয়েছিলাম শুধু কোটাটা উঠিয়ে দিক। যুদ্ধ বাবা করেছিলেন, সুবিধা পেলে তারা পেতে পারেন। আমরা এমন কিছু করিনি দেশের জন্য যে আমাদেরও সুবিধা বা কোটা দিতে হবে।
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ... শুধু শেখ হাসিনার পতন চেয়েছিলেন নাকি নতুন সমাজ ব্যবস্থা?
ছাত্রদের উপর ঐরকম নির্যাতন আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। তিনি চাইলেই সবকিছু সমাধান করতে পারতেন সহজেই। কিন্তু অধিক ক্ষমতা হলে মানুষের যা হয় তারও তাই হয়েছিলো। তার অহমিকা আর ক্ষমতার জোর তাকে অন্ধ ও একগুয়ে বানিয়ে দিয়েছিলো। তিনি ভুলে গিয়েছিলেন যে জনগণই সকল ক্ষমতা উৎস। তাকে সেটা মনে করিয়ে দেয়া জরুরী ছিলো। তার পতন ও নতুন ব্যবস্থা চেয়েছি।
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ... তারপর কে ক্ষমতায় আসবে বা যারা ক্ষমতায় আসতে পারে তাদের অতীত নিয়ে মনে সংশয় ছিলো নাকি আরেকটা বার সুযোগ দিয়ে দেখি এমনটা ভেবে ছিলেন?
আমি জানতাম কারা আসতে পারে এবং তাদের অতীত নিয়েও সংশয় অবশ্যই ছিলো এবং এখনো আছে। কিন্তু ফিরে দেখার কোন অপশন তিনিই রাখেন নি। ছাত্র হত্যা তথা জনগণের উপর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে তিনি ভুল কাজটিই করেছেন। আমার ধারনা ভবিষ্যতে এর মূল্যও তাকে ও তার পরিবারকে চুকাতে হতে পারে। কারন যে প্রজন্ম রাস্তায় নেমেছিলো তারা আমাদের মত (পূর্ববর্তী প্রজন্ম) নয়। ওরা আমাদের চেয়েও অনেক বেশী প্রগ্রেসিভ ও এ্যাগ্রেসিভ।
৩|
০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৫
বিষাদ সময় বলেছেন: বহু বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় ভর্তির জন্য বাবার কাছে গিয়েছিলাম একটা ফরম নিয়ে তার একটা স্বাক্ষরের জন্য। তিনি স্বাক্ষর করেন নি। তার ভাষ্যের সারাংশ ছিলো এমন, "আমি এসবে স্বাক্ষর করবো না। পারলে নিজের যোগ্যতায় ভর্তি হও। এসব সুবিধা পাওয়ার জন্য আমরা যুদ্ধ করিনি।" সত্যি বলতে কি বাবার ভাষ্যটা সেদিন ভালো লাগে নি। রাগের মাথায় না বুঝে বাবাকে নিয়ে কিছু কটু বাক্যও উচ্চারণ করেছিলাম মায়ের কাছে। যার জন্য আমি আজও অনুতপ্ত। যদিও বাবা গত হওয়ার আগেই আমি তার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলাম ২০১৮ সালের দিকে।
আপনার এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জানতে ইচ্ছা করছে - তাহলে জুলাই যোদ্ধা এবং তার পিতাদের আদর্শ আচরণ কি রকম হওয়া উচিত? তারা কি সে রকম আচরণই করছেন? ধন্যবাদ।
০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১১
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: আমার পিতার আচরণটা প্রাসঙ্গিক মনে হওয়াতে উল্লেখ করেছি আর ছাত্ররা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে, যেটা আমি আপনি আমাদের পিতা-মাতা র্নিবিশেষে সবারই করা উচিত। ধন্যবাদ।
৪|
০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:২২
বিষাদ সময় বলেছেন: দুঃখিত আমি আপনাকে বিষয়টি বোঝাতে পারিনি। আসলে আমি ৫ আগষ্টের পরবর্তী কর্মকাণ্ডের কথা বুঝাতে চেয়েছি। যেমন- কোটা প্রথা বাতিল চেয়ে নতুন করে কোটা প্রবর্তন, আয়করের ক্ষেত্রে জুলাই যোদ্ধাদের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সমান সুবিধা গ্রহন এছাড়াও বৈষম্যহীন সমাজ চেয়ে সমাজে চরম বৈষম্য সৃষ্টি করা ইত্যাদি।।
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭
রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: জাতি সুযোগের অভাবে চরিত্রবান। পরিবর্তন হবে কেমনে?