নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সালাউদ্দিন রাব্বী

রাবব১৯৭১

সালাউদ্দিন রাব্বী

রাবব১৯৭১ › বিস্তারিত পোস্টঃ

৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ সম্ভ্রমহারা নারী: ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাড়াও

২২ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৬:১৪

৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ সম্ভ্রমহারা নারী: ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাড়াও
======================================================
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতির অস্তিত্ব, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার ইতিহাস। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসররা যে গণহত্যা, নির্যাতন ও নারী নির্যাতন চালিয়েছিল, তা বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও একটি গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা, নির্যাতনের মাত্রা এবং পাকিস্তানি বাহিনীর অপরাধকে খাটো করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ৩০ লক্ষ শহীদ এবং ২ লক্ষ নির্যাতিত নারীর কথা জাতির সামনে তুলে ধরেন। দীর্ঘদিন ধরে এই সংখ্যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বর্ণনা, স্মৃতিচর্চা ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তবে কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই সংখ্যাগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতাকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করে।

এখানে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে মুক্তিযুদ্ধে নিহত মানুষের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে বিভিন্ন মত ও গবেষণা থাকতে পারে। ইতিহাসে গণহত্যার সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা প্রায়ই কঠিন হয়। কিন্তু সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে পাকিস্তানি বাহিনীর সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও মানবতাবিরোধী অপরাধকে অস্বীকার বা খাটো করার চেষ্টা ইতিহাসের প্রতি অন্যায়।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা, সাংবাদিকদের প্রতিবেদন এবং মানবাধিকার সংস্থার নথিতে ১৯৭১ সালের ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ ও নারী নির্যাতনের ব্যাপকতার প্রমাণ পাওয়া যায়। বিশ্বের বহু দেশ ও সংস্থা পাকিস্তানি বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি সমর্থন করেছে। ১৯৭১ সালের অপরাধের জন্য পাকিস্তান রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবিও বহুবার উত্থাপিত হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বাংলাদেশের ভেতর থেকেই যখন কেউ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা বা নির্যাতিত নারীদের দুর্ভোগ নিয়ে বিদ্রূপ করে বা তা অস্বীকার করার চেষ্টা করে, তখন তা কেবল একটি পরিসংখ্যানগত বিতর্ক থাকে না; বরং শহীদদের আত্মত্যাগ ও নির্যাতিত মানুষের স্মৃতির প্রতি অসম্মান হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা অবশ্যই হতে পারে, নতুন তথ্যও সামনে আসতে পারে। কিন্তু সেই গবেষণার উদ্দেশ্য হতে হবে সত্য অনুসন্ধান, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গণহত্যাকে খাটো করা নয়। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং নির্যাতিত নারী-পুরুষের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ সম্ভ্রমহারা নারী কেবল একটি সংখ্যা নয়; এগুলো বাঙালি জাতির রক্ত, অশ্রু, ত্যাগ এবং স্বাধীনতার মূল্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ইতিহাস বিকৃতির যে কোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সত্য, গবেষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দিয়েই আমাদের অবস্থান নিতে হবে।
-- সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন।

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:৪৭

নতুন বলেছেন: বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ৩০ লক্ষ শহীদ এবং ২ লক্ষ নির্যাতিত নারীর কথা জাতির সামনে তুলে ধরেন। দীর্ঘদিন ধরে এই সংখ্যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বর্ণনা, স্মৃতিচর্চা ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তবে কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই সংখ্যাগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতাকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করে।

সমস্যাটা সৃস্টিকরেছে মূর্খ কিছু আয়ামী দালালেরা।

৩০লক্ষ শহীদ, ২ লক্ষ বীরাঙ্গানা এটা একটা প্রতিকি সংখ্যা এটা নিয়ে কিছু র্মূর্খ এতো চকলাইছে যে অনেকে এই সংখ্যা কে ভূল প্রমানের চেস্টা করছে। লেবু বেশি চকলাইলে যেমনটা হয় ।

বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে ১০শে জানুয়ারী ভাষনে ৩০ লক্ষ শহীদের কথা বলেছিলেন। হয়তো তার আগেও বিদেশী পত্রিকার সাক্ষাকারে বলেছিলেন।

এখন আপনি যদি বলেন যুদ্ধ শেষের যুক্তিতে সাক্ষরের ২৫ দিনের মাথাই ৩০লক্ষ শহীদের সংখ্যা ততকালীন বাংলাদেশের সরকারের মানুষ হিসাব করে গুনেই বঙ্গবন্ধুকে দিয়েছিলো তবে সেটাই সঠিক।

তবে আমি মনে করি বঙ্গবন্ধু বিদেশি পত্রিকাকে বলার সময় 3 Millions বলেছিলেন এবং পরে সেটাই যুদ্ধে শহীদের প্রতিকী সংখ্যা হিসেবে আমরা বলে থাকি।

২| ২২ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

রাজীব নুর বলেছেন: পড়লাম।

৩| ২৪ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫

ধুলো মেঘ বলেছেন: কোন একটা সংখ্যা বললেই তো হবেনা - সংখ্যাটা বাস্তবসম্মত হতে হবে। যুদ্ধ চলেছে ৯ মাস। এর মধ্যে টানা বর্ষার কারণে জুন জুলাই মাসে যুদ্ধ প্রায় হয়নি বললেই চলে। তাহলে গোলাগুলি চলেছে নেট ৭ মাস মানে ২১০ দিন। এই ২১০ দিন যদি সমানতালে যুদ্ধ চলে, তাহলে প্রতিদিন খুন হয়েছে ১৪,২৮৬ জন। এটা হচ্ছে এক পক্ষের। অন্য পক্ষেরটা হিসাবেই আনলাম না।

এখন বলুন দেখি, পারমাণবিক অস্ত্র বা ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার না করে কেবল বন্দুক পিস্তল আর মেশিনগান ব্যবহার করে কোন যুক্তিতে সারা দেশে দিনে ১৪ হাজার করে মানুষ মারা সম্ভব? আপনি মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত দলিলপত্র এক করে একটা হিসাব করুন রাফ - কোন গ্রামে কবে কবে হানাদার বাহিনীর অভিযান হয়েছিল এবং কোন অভিযানে কত মানুষ মারা গিয়েছে! আমি নিশ্চিত আপনি এক লাখের হিসাবও মেলাতে পারবেন না।

এই সংখ্যাটা আসলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মত একটা সিরিয়াস বিষয়কে ঠাট্টা তামাশার ইস্যু বানানোর একটা উদ্দেশ্যমূলক প্রোপাগান্ডা।

৪| ২৪ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪১

মাথা পাগলা বলেছেন: @ধুলো মেঘ

বন্দুক পিস্তল দিয়ে দিনে কতজন মানুষ মারা সম্ভব বলে আপনার মনে হয়? ইতিহাস দালিলিক প্রমানের থেইক্যা আপনাগো বা-ছাল হাইপোথ্যাটিকাল যুক্তি বেশি গ্রহনযোগ্য? আপনাগো মতো পাবলিকের জন্য আমার কোন এম্প্যাথি কাজ করে না।

৫| ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

নতুন বলেছেন: মাথা পাগলা বলেছেন: @ধুলো মেঘ

বন্দুক পিস্তল দিয়ে দিনে কতজন মানুষ মারা সম্ভব বলে আপনার মনে হয়? ইতিহাস দালিলিক প্রমানের থেইক্যা আপনাগো বা-ছাল হাইপোথ্যাটিকাল যুক্তি বেশি গ্রহনযোগ্য? আপনাগো মতো পাবলিকের জন্য আমার কোন এম্প্যাথি কাজ করে না।


সমস্যাটা এমন কথা বাত্রা থেকেই শুরু হয়।

৩০লক্ষ সংখ্যাটা প্রতীকি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ শেষ হবার কতদিন পরে বলেছিলেন সেটা আপনার সম্ভবত জানা নাই। তাহলে বুঝতেন এই সংখ্যাটা তিনি পরিসংক্ষান রিপোটের ডাটা থেকে পড়ে বলেন নাই। বরং এটা তিনি তার নেতাদের মুখে আলোচনা থেকে বলেছিলন। যখন আপনি এই সংখ্যটাকে দলিল হিসেবে প্রমান করতে চাইবেন এবং যারা এটা নিয়ে প্রশ্ন করে তাদের আক্রমন করবেন তখনই তারা খাতা কলম নিয়ে বসবে।

যারা এই ৩০ লক্ষ শহীদ এবং ২ লক্ষ বীরাঙ্গনার সংখ্যা নিয়ে তেনা পেচায় তাদের উদ্দেশ্য অবশ্যই ভালো না। কারন যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তারা এটাকে প্রতীকি সংখ্যা হিসেবে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সকল ত্যাগের চেতনাকেই সন্মান জানাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.